স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা

লেখক

উপন্যাস

লেখক

আকবর হোসেন

২৭ মার্চ, ২০২১ , ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ

আনওয়ারুল ইসলাম রাজু

১৭ মার্চ, ২০২১ , ১২:০১ অপরাহ্ণ

বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন

‘ধন্য সেই পুরুষ/ যাঁর নামের ওপর পতাকার মতো/দুলতে থাকে স্বাধীনতা/

ধন্য সেই পুরুষ/ যাঁর নামের ওপর ঝরে/মুক্তিযোদ্ধাদের জয়ধ্বনি।’-

তিনি বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীন বাংলাদেশ স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই মহান নেতার রাজনৈতিক দর্শন গভীর প্রজ্ঞাময় ও দূর দৃষ্টিসম্পন্ন। বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য ও ঘটনাবহুল রাজনৈতিক জীবনের কর্মকান্ডের মধ্যদিয়েই আমরা তাঁর রাজনৈতিক দর্শন উপলব্ধি করতে পারি।

বঙ্গবন্ধুর সুনির্দিষ্ট কিছু আদর্শ ছিল, মূল্যবোধ ছিল, লক্ষ্য ছিল এবং সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য তিনি আজীবন একনিষ্ঠভাবে এবং নিরলস কাজ করেছেন। বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীর শুরুতেই তাঁর একটি উদ্ধৃতি রয়েছে :

‘একজন মানুষ হিসাবে সমগ্র মানবজাতি নিয়েই আমি ভাবি। একজন বাঙালি হিসাবে যা কিছু বাঙালিদের সঙ্গে সম্পর্কিত তাই আমাকে গভীরভাবে ভাবায়। এই নিরন্তর সম্প্রীতির উৎস ভালোবাসা, অক্ষয় ভালোবাসা যে ভালোবাসা আমার রাজনীতি এবং অস্তিত্বকে অর্থবহ করে তোলে’।- এই উদ্ধৃতির মাত্র তিনটি বাক্যেই বঙ্গবন্ধু তাঁর আত্মপরিচিতি, মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক দর্শন পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছেন। এথেকে এটা স্পষ্ট যে, বঙ্গবন্ধু নিজেকে একাধারে মানুষ এবং তার সঙ্গে বাঙালি হিসেবে আত্মপরিচয়ের স্বীকৃতি দিচ্ছেন। তাঁর কর্মপ্রেরণার উৎস হিসেবে চিহ্নিত করছেন বাঙালি এবং মানব সম্প্রদায়ের জন্য তাঁর ভালোবাসা। এই আত্মপরিচয় থেকেই আমরা উপলব্ধি করতে পারি তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের চারটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য : বাঙালি জাতিসত্তা, জনসম্প্রীতি, অসাম্প্রদায়িকতা এবং সমাজতন্ত্র। অবশ্য তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের আরও অনেক বৈশিষ্ট্য প্রত্যক্ষ করা যায়।

বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন বুঝতে হলে প্রথমেই আমাদের মনে রাখা দরকার বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের বেশির ভাগ অংশই কেটেছে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাইরে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর খুবই অল্প সময়ের জন্য সাড়ে তিন বছর তিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিলেন। জীবনের বেশির ভাগ সময়ই তিনি ব্যয় করেছেন ঔপনিবেশিক ও অগণতান্ত্রিক রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে। প্রথমে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক এবং তারপর পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে তিনি বহুদিন সংগ্রাম করেছেন বাংলার মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার আদায়ের জন্য।

আর তাই বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন এদেশের সোঁদা মাটির গন্ধ আর বাঙালি জাতির হাজার বছরের ভাষা-সংস্কৃতি, ইতিহাস-ঐতিহ্য, সর্বোপরি স্বাধীনতার জন্য লালিত স্বপ্ন-আকাঙ্খা, সংগ্রাম-সাধনার ভিত্তিতে অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ, শোষণ-বঞ্চনামুক্ত স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা এবং একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ উপহার দেওয়ার প্রত্যয়ে প্রোথিত ছিল।

বাঙালির জাতীয়জীবনের সুদীর্ঘ সময় কেটেছে পরাধীনতার নাগপাশে আবদ্ধ থেকে। নানা আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যদিয়ে এ থেকে মুক্তির পথ খুঁজেছে বাঙালি। কিন্তু কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। বঙ্গবন্ধু তাঁর দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাজনৈতিক দর্শন এবং সুযোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে স্বাধীনতার জন্য বাঙালি জাতিকে একটি প্রত্যয়ে ঐক্যবদ্ধ করে তুলেছিলেন এবং তাঁর নির্দেশেই রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের মধ্যদিয়ে জাতির দীর্ঘ দিনের লালিত ‘স্বাধীনতার স্বপ্ন’ পূরণ সম্ভব হয়েছিল।

বঙ্গবন্ধু ছিলেন মনে-প্রাণে বাঙালি। শৈশবেই বঙ্গবন্ধুর মানস-চেতনায় বাঙালি জাতির শৃঙ্খলমুক্তির আকাঙ্খা এবং রাজনৈতিক চেতনার বীজ প্রোথিত হয়েছিল। গুরুসদয় দত্তের ব্রতচারী আন্দোলন কিশোর মুজিবের মানসচেতনায় রোপণ করেছিল বাঙালিয়ানার বীজ। ১৯৩৯ সালে গোপালঞ্জ মিশনারীর স্কুলে ৮ম শ্রেণিতে ভর্তির পর তিনি এ আন্দোলনে যুক্ত হন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকে বেগবান করতে ও বাঙালির মধ্যে জ্ঞান, শ্রম, একতা ও দেশপ্রেমের দীক্ষাদানের জন্য ১৯৩১ সালে গুরুসদয় দত্ত ব্রতচারী আন্দোলনের সূচনা করেন। গুরুসদয় দত্তের বাঙালিয়ানার মন্ত্র – ‘ষোলো আনা বাঙালি হ’/ বিশ্ব মানব হবি যদি/ শাশ্বত বাঙালি হ’- শোণিতে ধারণ করেই শেখ মুজিব হয়ে উঠেছিলেন বঙ্গবন্ধু- বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা, স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি । ব্রতচারী আন্দোলনের স্বদেশপ্রেম ও বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা হৃদয়ে লালন করেই শেখ মুজিব প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে যোগদেন এবং বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের পুরোটা সময় ‘ষোলআনা বাঙালি’ হওয়ার স্বপ্ন পূরণের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন।

স্কুলজীবনেই নানা সমাজসেবামূলক কর্মকা- ও রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন তিনি। ১৯৩৮ সালে গোপালগঞ্জ সফররে আগত তৎকালীন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এবং শ্রমমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে পরিচয় ঘটে। উপমহাদেশের প্রখ্যাত এ দুজন রাজনীতিবিদসহ বাঙালিয়ানার মন্ত্রে উজ্জীবিত সমসাময়িক অন্যান্য রাজনৈতিক নেতার কর্ম ও আদর্শ তার রাজনৈতিক দর্শনের ভিত্তিকে সুদৃঢ় রূপ দেয়।

১৯৪৭ এর দেশবিভাগের পূর্বে মুসলিমলীগের হয়ে পাকিস্তান আন্দোলেনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন শেখ মুজিব। তবে এক্ষেত্রেও বঙ্গবন্ধুর বাঙালি আত্মপরিচয়, স্বকীয়তা এবং তা নিয়ে গর্ববোধের পরিচয় পাওয়া যায়। আত্মজীবনীতে তিনি লিখেছেন, সে সময় জনসভায় পাকিস্তান আন্দোলনকে তিনি উত্থাপিত করতেন লাহোর প্রস্তাবের ধারণায়, দুটি মুসলমান প্রধান সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে :

‘পাকিস্তান দুইটা হবে, লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে। একটা বাংলা ও আসাম নিয়ে পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র; আর একটা পশ্চিম পাকিস্তান স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হবে, পাঞ্জাব, বেলুচিস্তান, সীমান্ত ও সিন্ধু প্রদেশ নিয়ে।’

কিন্তু মিস্টার জিন্নাহর ধর্মভিত্তিক দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে লাহোর প্রস্তাবের বাস্তব রূপায়ন সম্ভব হয়নি।

বাঙালির ভাষা, সংস্কৃতি এবং নিজস্ব আবাসভূমির দাবিতে তিনি বরাবরাই ছিলেন সোচ্চারকণ্ঠ। দেশভাগের পর বাংলাকে বাদ দিয়ে একমাত্র উর্দ্দুকে পকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার অপচেষ্টাসহ বাঙালির প্রতি পশ্চিমা শাসকদের বৈষম্যমূলক আচরণে ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে বাঙালি। শুরু হয় রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন। ভাষা আন্দোলনসহ বাঙালির অধিকার আদায়ের সকল আন্দোলন-সংগ্রামের পুরোভাগে ছিলেন শেখ মুজিব।

১৯৪৮ সালের ১৬ মার্চ রাষ্ট্রভাষার দাবিতে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের আমতলায় সাধারণ ছাত্রসভায় প্রথম সভাপতিত্ব করেন তিনি। এবছরই রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য তিনি কারাবরণ করেন। ১৯৫২-এর ২১ শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনকারীদের গুলি করে হত্যার ঘটনার দিন শেখ মুজিব জেলে ছিলেন। ২৬শে ফেব্রুযারি মুক্তি পেয়ে ভাষা আন্দোলনে আরও সক্রিয় হন। ভাষা-আন্দোলনের ফলে তাঁর মধ্যে যে চেতনা জাগ্রত হয় এবং এর মাধ্যমে তিনি যে নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করেন, তা তাঁকে স্বাধিকার সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানের শক্তি দান করে এবং তাঁকে অবতীর্ণ করে ইতিহাসের মহানায়কের ভূমিকায়।

ঔপনিবেশবাদী পাকিস্তানী শাসকদের বিভিন্ন শোষণের হাত থেকে বাঙালি জাতিকে মুক্ত করা এবং তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ছিল তার রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম লক্ষ্য।

আত্মজীবনীতে তিনি লিখেছেন: ‘পূর্ব বাংলার সম্পদ কেড়ে নিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানকে কত তাড়াতাড়ি গড়া যায় একদল পশ্চিমা নেতা ও বড় বড় সরকারি কর্মচারীরা গোপনে সে কাজ করে চলেছিল।… শ্রমিক কৃষক মেহনতি মানুষ যে আশা নিয়ে স্বাধীনতা আন্দোলন, যে পাকিস্তান আন্দোলনে শরিক হয়ে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে তাদের অর্থনৈতিক মুক্তির দিকে কোনো নজর দেওয়াই তারা দরকার মনে করল না।’

এই বৈষম্য ও শোষণ বঞ্ছনা থেকে মুক্ত করে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্টার লক্ষ্যে শেখ মুজিব ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে সম্মিলিত বিরোধী দলের কনভেনশনে ‘আমাদের বাঁচার দাবি’ শিরোনামে বাঙালির মুক্তিসনদ ‘ছয় দফা’ দাবি ঘোষণা করেন।

ছয় দফার দাবিগুলো ছিল :

এক : সরকারের বৈশিষ্ট হবে ঋবফবৎধষ বা যৌথরাষ্ট্রীয় ও সংসদীয় পদ্ধতির; তাতে যৌথরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলো থেকে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপক সভার নির্বাচন হবে প্রত্যক্ষ এবং সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে। কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপক সভার প্রতিনিধি নির্বাচন জনসংখ্যারভিত্তিতে হবে।

দুই : কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব থাকবে কেবল প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক বিষয় এবং তৃতীয় দফায় বর্ণিত শর্তসাপেক্ষ বিষয়।

তিন : পুর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য দুটি পৃথক মুদ্রা-ব্যবস্থা চালু করতে হবে, যা পারস্পরিকভাবে কিংবা অবাধে উভয় অঞ্চলে বিনিময় করা চলবে। অথবা এর বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে একটি মুদ্রা-ব্যবস্থা চালু থাকতে পারে এই শর্তে যে, একটি কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যার অধীনে দুই অঞ্চলে দুটি রিজার্ভ ব্যাংক থাকবে। তাতে এমন বিধান থাকতে হবে যেন এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে সম্পদ হস্তান্তর কিংবা মূলধন পাচার হতে না পারে।

চার : রাজস্ব ধার্য ও আদায়ের ক্ষমতা থাকবে অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে। প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক বিষয়ের ব্যয় নির্বাহের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রয়োজনীয় রাজস্বের যোগান দেয়া হবে। সংবিধানে নির্দেশিত বিধানের বলে রাজস্বের এই নির্ধারিত অংশ স্বাভাবিকভাবেই কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে জমা হয়ে যাবে। এহেন সাংবিধানিক বিধানে এমন নিশ্চয়তা থাকবে যে, কেন্দ্রীয় সরকারের রাজস্বের প্রয়োজন মেটানোর ব্যাপারটি এমন একটি লক্ষ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হতে হবে যেন রাজস্বনীতির উপর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নিশ্চিতভাবে অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে থাকে।

পাঁচ : যৌথরাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গরাজ্য যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করবে, সেই অঙ্গরাজ্যের সরকার যাতে স্বীয় নিয়ন্ত্রনাধীনে তার পৃথক হিসাব রাখতে পারে, সংবিধানে সেরূপ বিধান থাকতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হবে, সংবিধান নির্দেশিত বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত অনুপাতের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যগুলো থেকে তা আদায়করা হবে। সংবিধান নির্দেশিত বিধানানুযায়ী দেশের বৈদেশিক নীতির কাঠামোর মধ্যে, যার দায়িত্ব থাকবে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে, বৈদেশিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক সাহায্য সম্পর্কে চুক্তি সম্পাদনের ক্ষমতা আঞ্চলিক বা প্রাদেশিক সরকারগুলোর হাতে থাকবে।

ছয় : ফলপ্রসূভাবে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার কাজে সাহায্যের জন্য অঙ্গরাজ্যগুলোকে মিলিশিয়া বা আধা-সামরিক বাহিনী গঠনের ক্ষমতা দিতে হবে।

বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শনের সুবর্ণফসল বাঙালির মহামুক্তির সনদ এই ছয়দফা। যার ভিত্তিতে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পথ বেয়ে ১৯৭০এর নির্বাচনে বাঙালির নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন এবং ১৯৭১-এ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।

ছয় দফার আন্দোলন পশ্চিমা শাসক গোষ্ঠীর ভিত কাঁপিয়ে দেয়। ১৯৬৮ সালে ১ জানুয়ারি আইয়ুব খান শেখ মুজিব ও তাঁর সঙ্গীদের নামে ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। শেখ মুজিবকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করার ষড়যন্ত্র চলে। এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় গোটা বাঙালি জাতি। যার অনিবার্য পরিণতি ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান। দুর্বার গণঅভ্যুত্তানের মুখে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে আইয়ুব খান ২২শে ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবকে মুক্তিদান এবং ১৯৭০-এ সাধারণ নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। পরদিন রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবকে সংবর্ধনা জানিয়ে বাঙালি জাতি এই মহান নেতাকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করে। সেদিন থেকে তিনি আর শেখ মুজিব বা নেতা-কর্মীদের মুজিব ভাই নন। হয়ে ওঠেন বাঙালির প্রাণের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব।

১৯৭০-এ সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও বাঙালির হাতে ক্ষমতা ছেড়ে না দেয়ার হীন ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে পাকিস্তানী সামরিক জান্তা। ১৯৭১-এর ১ মার্চ অনির্দিষ্ট কালের জন্য জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করে ইয়াহিয়া খান। বঙ্গবন্ধু তাদের দূরভিসন্ধি বুঝতে পেরে পূর্ববাংলার স্বাধীনতার জন্য চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছানোর প্রত্যয়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে তোলেন। ১৯৭১-এর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালি জাতি উপনীত হয় মুক্তি মহামোহনায়। এদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে অসীম সাহসিকতার সাথে রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার উদ্দেশে বলিষ্ঠ কণ্ঠে ঘোষনা করেন : ‘‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম-এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’’। সেদিন বঙ্গবন্ধু কেবল স্বাধীনতার চূড়ান্ত আহ্বানটি দিয়েই ক্ষান্ত হননি, স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের রূপরেখাও দিয়েছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর এ ঘোষণা মুক্তিকামী মানুষের কাছে লাল-সবুজ পতাকাকে মূর্তিমান করে তোলে। আর এরই মাধ্যমে বাঙালির ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা হয়। এই ঐতিহাসিক ভাষণের ধারাবাহিকতায় ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে পাকিস্তানী বাহিনীর হাতে বন্দী হওয়ার অব্যবহিত পূর্বে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঘোষণাটি দিয়ে যান ।

শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি করে শপথ নেয় স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার। ‘জয়বাংলা’ বলে বঙ্গবন্ধুর নামে পরিচালিত হয় মুক্তিযুদ্ধ। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহীদের এক সাগর রক্তের বিনিময়ে ১৯৭৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় বিজয়।

পাকিস্তানের কারাগারে বঙ্গবন্ধুকে মৃত্যুদ- দেয়ার অপচেষ্টা করে কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ১৯৭২-এর ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় পরাজিত পাকিস্তান সরকার।

এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে যেকোন মূল্যে সমুন্নত রাখার সুদৃঢ় প্রত্যয় বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফেরার পথে লন্ডনে বিবিসি বাংলাকে দেয়া প্রথম সাক্ষাৎকারেই বঙ্গবন্ধু বলেন :

“সাহায্যের প্রয়োজন আছে দুনিয়ার কাছ থেকে। কিন্তু এমন সাহায্য আমি চাইনা, যার দ্বারা আমার স্বাধীনতার উপর কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারে। আমার দেশের স্বাধীনতা বিক্রি করে আমি কোন সাহায্য চাইনা।”)

১৯৭২এর ১০ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলার মাটিতে ফিরে রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার সমাবেশে অশ্রুসিক্ত চোখে জাতির উদ্দেশ্যে যে আবেগঘণ ভাষণ দেন বঙ্গবন্ধু তার মধ্যদিয়েও ফুটে ওঠে তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের মূল লক্ষ্য ক্ষুধা-দারিদ্র, শোষণ-বঞ্চনা মুক্ত সোনারবাংলা গড়ে তোলার উদাত্ত্ব আহ্বান।

“নতুন করে গড়ে উঠবে এই বাংলা, বাংলার মানুষ হাসবে বাংলার মানুষ খেলবে বাংলার মানুষ মুক্ত হয়ে বাস করবে বাংলার মানুষ পেট ভরে ভাত খাবে এই আমার সাধনা এই আমার জীবনের কাম্য আমি যেন এই কথা চিন্তা করেই মরতে পারি এই আশীর্বাদ এই দোয়া আপনার আমাকে করবেন।”

১৯৭১-এর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটি যেমন ছিল স্বাধীনতার সুস্পষ্ট রূপরেখা, ঠিক তেমনি ৯ মাস পর ১৯৭২ এর ১০ জানুয়ারি স্বাধীন দেশে প্রত্যাবর্তনের পর রেসকোর্সে দেয়া তাঁর ভাষণটি ছিল ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের একটি রূপকল্প। ওই ভাষণে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ পুনর্গঠনের কাজের প্রতিই তিনি সবিশেষ গুরুত্বারোপ করেছিলেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে সম্মিলিত উদ্যোগে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছিলেন বারবার। দৃপ্তকণ্ঠে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, বাংলাদেশের পুনর্গঠন কাজ পরিচালিত হবে শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে।

এ লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু স্বাধীন দেশের একটি সংবিধান প্রণয়ন এবং যুদ্ধবিদ্বস্ত দেশ পুণর্গঠনে সর্বতোভাবে আত্মনিয়োগ করেন।

বঙ্গবন্ধু মাটি ও মানুষের সুপ্ত শক্তি ও স্বপ্ন এবং আশা-আকাঙ্খাকে অবলম্বন করে শোষণ-বঞ্চনামুক্ত, অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ সোনারবাংলা গড়ে তোলা এবং একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ উপহার দেওয়ার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অতি অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্বমানের একটি সংবিধান জাতিকে উপহার দেন। ১৯৭২ সালের ১৪ই ডিসেম্বর বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানে শেখ মুজিব স্বাক্ষর করেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধ নিছক একটি ভূখ- লাভ কিংবা পতাকা বদলের জন্য হয়নি। নয় মাসব্যাপী এই যুদ্ধ ছিল প্রকৃত অর্থেই মুক্তিযুদ্ধ। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে দেশের কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষ এই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন সার্বিক মুক্তির আশায়। জনগণের এই আকাঙ্খা তথা বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন মূর্ত হয়েছিল ১৯৭২-এর সংবিধানে।

এই সংবিধানে রাষ্ট্রের চার মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয় জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে। বাংলাদেশের মূল সংবিধানে বর্ণিত রাষ্ট্রের এই চার মূলনীতিই মূলত: মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তথা বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন, যা অর্জিত হয়েছে তিরিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে।

বঙ্গবন্ধু তাঁর এই রাজনৈতিক দর্শনের ভিত্তিতেই স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার প্রত্যয়ে যখন এগিয়ে যাচ্ছিলেন ঠিক তখনই মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তির হীন ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট শাহাদতবরণ করেন। এরপর ১৯৭২এর সংবিধান তথা বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শনকে ভূলুন্ঠিত করে পাকিস্তানী কায়দায় দেশ পরিচালনার অপচেষ্টা চলে । বাঙালি জাতির অগ্রযাত্রার ইতিহাসে সূচিত হয় এক কারো অধ্যায়ের।

কিন্তু বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিকম আদর্শে উজ্জীবিত বাংলাদেশে এই অপচেষ্টা বেশিদূর এগুতে পারেনি। ইতিহাসের এই কালো অধ্যায় মুছে দিয়ে জাতির জীবনে আলোর দিশারি হয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সংগ্রামের হাল ধরেন তাঁর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা। নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে আবারও শুরু হয় বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার নিরন্তর সংগ্রাম। অব্যাহত উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। এরই ধারাবাহিকতায় জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজযন্তীর প্রাক্কালে বঙ্গবন্ধুকন্যার সুযোগ্য নেতৃত্বে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের চূড়ান্ত স্বীকৃতি লাভে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ।

বঙ্গবন্ধু আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্ত তার কর্মময় জীবন ও রাজনৈতিক দর্শনে উজ্জীবিত হয়ে উত্তরোত্তর উন্নতির সুউচ্চু শিখরে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। বিনম্র শ্রদ্ধা এই মহান নেতার প্রতি ।#

বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন - আনওয়ারুল ইসলাম রাজু

প্রমথ রায়

১৪ মার্চ, ২০২১ , ১২:০২ অপরাহ্ণ

প্রমথ রায়ের দুটি কবিতা

কবি আমি অপভ্রংশ

আমি জিন্স পাঞ্জাবি পড়ে কবিতা লেখা শিখে গেছি 

ক্ষয়ে যাওয়া স্যান্ডেল শব্দ তৈরি করে না

                 বরং বেদনাকে জাগিয়ে তোলে,

ডাইরির ভাঁজপাতায় লুকিয়ে রাখা লুকোচুরি 

ভুলে যাওয়া সংখ্যার মতো আর্তনাদ করে

তোমার জমিয়ে রাখা জলসা ঘর শ্যাওলা বন্দি,

আমি রাত জেগে জেগে ভাবি তোমার ইনবক্সের ইতিহাস

তবু একমুঠো রাত আমাকে দিও

আমি সাইকেলের বেলের শব্দ শুনে ভাবি

রাস্তা এখনও রাতের প্রহরীদের প্রলাপ শোনে,

আমি রাতের কারফিউ জেনে ভেবেছিলাম

আবার কি দুমুঠো শব্দে ফুঁ দিয়ে ভাবতে হবে

সব কথা পকেটের ভাঁজে জমা থাকে না

কেউ কেউ অকারণে ভালোবাসে

                                     রাত নয় আমাকে

আমি রাত হতে চাই, অন্ধকারে লুকিয়ে রাখা জোনাকি

তবুও তোমার দেওয়া শর্তমালা বিনাশর্তে চুরি হলে ভাবি

এসব কবিতা নয়, বরং চুরিরই এক অনভ্যেস গাঁথা ।

——————————————————————

শহর নামক ছেঁড়া  পাতা

শহর নামক ছেঁড়া পাতা আমার বাতুলতার মূল্যহ্রাস

আমি কাঠগোলাপ দিয়ে কিনতে চেয়েছি

তোমার হাত বদলানোর ভুভুজেলা

হর্ষধ্বনি হ্রাস করো, আমিও জুতোর রং বদলে নিয়েছি

চামড়া কাটতে কাটতে আমি এখন চামড়াজাত বস্তু

এ কথা লিখে রাখো রাতের নিয়ন বাতির বিলবোর্ডে

আমিও জোনাকীর আলো জমিয়ে রেখে ভেবেছি

তোমার কাছে ছিড়ে নিবো এক টুকরো শহর

তারপর……

তারপর আমরা এ শহরেরই আদিম অ্যাডাম এবং ঈভ।

প্রমথ রায়ের দুটি কবিতা 15

মুগ্ধতা প্রতিবেদক

১৪ মার্চ, ২০২১ , ৬:১৫ পূর্বাহ্ণ

এম এ হানিফ এর উপন্যাসের প্রকাশনা অনুষ্ঠান


এম এ হানিফ এর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস আবছায়ার প্রকাশনা অনুষ্ঠান শনিবার সন্ধ্যায় বইবাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভাগীয় লেখক পরিষদের সভাপতিও রংপুর পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান আলহাজ কাজী মো. জুননুন এতে সভাপতিত্ব করেন। বক্তব্য রাখেন, সাংস্কৃতিক ব‍্যক্তিত্ব ডা. মফিজুল ইসলাম মান্টু, কবি ও সাংবাদিক মাহবুবুল ইসলাম, আফতাব হোসেন, লেখক এএসএম হাবিবুর রহমান, এটিএম মোর্শেদ, নাহিদা ইয়াসমিন, মমিনুল পথিক, মাহবুবা লাভীন, মারুফ হোসেন মাহবুব প্রমুখ।
উপস্থিত ছিলেন, সূত্রপাত সম্পাদক শামসুজ্জামান সোহাগ, ছড়াকার শরিফুল আলম অপু, মোনালিসা রহমান, এসএম ইতি, ফিরেদেখা সম্পাদক সাকিল মাসুদ, জীবন আহমেদ, শামিউল ইসলাম প্রমুখ।
পুরো প্রকাশনা অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন লেখক ও সংগঠক জাকির আহমদ।
আবছায়া এম এ হানিফ এর প্রথম উপন্যাস। সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে লেখা উপন্যাসটি প্রকাশ করেছে কাকলী প্রকাশনী।

এম এ হানিফ এর উপন্যাসের প্রকাশনা অনুষ্ঠান 16

মুহাম্মদ খালিদ সাইফুল্লাহ্

১৩ মার্চ, ২০২১ , ১১:৩৫ অপরাহ্ণ

তরুণ তুর্কি: শ্যামলী বিনতে আমজাদ

শ্যামলী বিনতে আমজাদ। এই প্রতিভাবান তরুণ তুর্কির জন্ম আগস্টের ২৭ তারিখে রংপুর জেলার গংগাচড়া উপজেলার গজঘন্টা ইউনিয়নের জয়দেব মধ্যপাড়া গ্রামে। বাবা মো. আমজাদ হোসেন একজন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। মা মোছা: মোসলেমা বেগম। যিনি পুরো পরিবারকে আগলে রেখেছেন পরম যত্নে।
প্রথম লেখা প্রকাশ হয় সপ্তম শ্রেণিতে পড়াকালীন স্কুল পাঠাগারের দেয়ালিকায়। ২০১২ সালে রংপুরের জনপ্রিয় এবং শীর্ষ পত্রিকা দৈনিক যুগের আলোতে একটি কবিতা প্রকাশের মাধ্যমে লেখালেখিতে গতি আসে। নিজের প্রতিষ্ঠিত পাঠাগার নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটে তার।
সংগঠনের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন-

সংগঠন ব্যাক্তিকে সংগঠিত করে, আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। আমার বেড়ে উঠা অভিযাত্রিক সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংসদ এবং বিভাগীয় লেখক পরিষদের সাথে। লেখালেখির জন্য সংগঠন যে খুব গুরুত্বপূর্ণ, ব্যাপারটি সেরকম নয়। ভালো লেখার জন্য আগে ভালো পাঠক হতে হবে এবং কল্পনাশক্তির বিকল্প কিছু নেই।


‘তরুণ তুর্কি’ তে আজ প্রকাশিত হচ্ছে শ্যামলী বিনতে আমজাদের পছন্দ-অপছন্দের বিষয়গুলো।

প্রিয় বই:
প্রিয় শব্দটি বইয়ের ক্ষেত্রে কন্সট্যান্ট নয়। কারণ পঠিত বইয়ের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে বৃদ্ধি পেতে থাকে প্রিয় বইয়ের সংখ্যা। ব্রাজিলীয় ঔপন্যাসিক পাওলো কোয়েলহোর দ্য এলকেমিস্ট, আহমদ ছফার গাভী বৃত্তান্ত প্রিয় তালিকার শীর্ষ দুটি বই।

প্রিয় লেখক:
নির্দিষ্ট করে একজন লেখক কখনও প্রিয় হতে পারে না। অনেক লেখকের লেখাই আমার ভালো লাগে।
আহমদ ছফা, হুমায়ুন আহমেদ, সমরেশ মজুমদার, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কথাসাহিত্য, আল-মাহমুদ, শামসুর রাহমান এবং পূর্ণেন্দু পত্রীর কবিতা ভীষণ প্রিয়।

প্রিয় খাবার:
ভর্তা জাতীয় যেমন টাকি মাছের ভর্তা, আলু ভর্তা, শুটকি এবং সিদল ভর্তা সাথে পাট শাকের শোল্কা জাতীয় খাবার ও মোটা চালের ভাত।

প্রিয় মানুষ:
মা-বাবা, যারা নিঃস্বার্থে আমাকে লালন পালন করে চলেছেন।


আদর্শ মানুষ:
হযরত মুহাম্মদ(স:), পৃথিবীর প্রায় প্রত্যেকটি মানুষের কাছে যিনি আদর্শ।

প্রিয় স্থান:
কদমের তল। শৈশবের একটি প্রিয় জায়গা। খেয়ে না খেয়ে দিনের অধিকাংশ সময় যেখানে কাটিয়েছি, খেলেছি- মার্বেল, বৌচি, গোল্লাছুট, ফুটবল, চ্যাংটুপেন্টি, ক্রিকেট, ঘুড়ি ওড়ানো, কানামাছি, গাদম, লুকোচুরি, কানামাছি এবং গাছধরা।

প্রিয় মুহূর্ত:
মা-বাবাকে উপহার দেবার মুহূর্তটি ভীষণ প্রিয়। এই মুহূর্ত বারবার যেন ফিরে আসে।

প্রিয় কবিতা:
আমি কিংবদন্তির কথা বলছি- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ। উফ, এমন প্রশ্নের উত্তর দেয়া বেশ কঠিন। আমারতো অনেক কবিতাই প্রিয়। যেমন: রবীন্দ্রনাথের -প্রাক্তন, নজরুলের-বিদ্রোহী, জীবনানন্দের বনলতা সেন আরো অনেক।

প্রিয় বাক্য/উক্তি:
মানুষ মানুষের জন্য
জীবন জীবনের জন্য- ভুপেন হাজারিকা।

যেমন মানুষ হতে চাই:
একজন মানবিক মানুষ হতে চাই।

যে বিষয়টি পীড়া দেয়:
কিশোর- তরুণদের মাদকাসক্তি। গতকালই দেখলাম ১২-১৩ বছর বয়সী এক কিশোর প্রকাশ্যে বুক ফুলিয়ে সিগারেট খেয়ে বেড়াচ্ছে, চোখজোড়া টকটকে লাল। কয়েকজন যুবক গোল হয়ে বসে আগুন জ্বালিয়ে গাঁজা টানছে।
মাদকতা হ্রাস করতে না পারলে এ জাতির ধ্বংস অনিবার্য।

আগামীর পরিকল্পনা:
গ্রামে বাবার নামে একটি পাঠাগার (আলহাজ্ব আমজাদ হোসেন জ্ঞানদ্বীপ পাঠাগার) প্রতিষ্ঠা করেছি ২০১৯ সালে। সেটিকে আরও বড় এবং আরও সমৃদ্ধ করবার স্বপ্ন দেখি। বর্তমান পাঠক সংখ্যা ২৬০ জনের মত। হাজার হাজার পাঠক তৈরি এবং বই পড়ার আন্দোলনে কাজ করছি এবং করতে চাই। সিলেবাসভিত্তিক পড়াশোনার বাইরে আমাদের ছেলেমেয়েরা যেন বই পড়ার সুযোগ পায় এবং আলোকিত মানবিক মানুষ হয়ে গড়ে উঠতে পারে। তাদের চিন্তার জগৎকে যেন আরো বিস্তৃত করতে পারে।
সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের শিক্ষার জন্য বৃহৎ পরিকল্পনা আছে। কখনও সামর্থ্য হয়ে গেলে বাস্তবায়ন হবে ইনশাআল্লাহ।

নিজের লেখা বাছাইকৃত একটি ছড়া:

মজুর ছেলে

শ্যামলী বিনতে আমজাদ

শিমুল তুলোর বালিশ ছাড়া
ঘুম আসে না তোর?
ইটের বালিশ মাথায় দিয়ে
রাত করিতো ভোর!

নরম তোশক, ন্যাপথালিনের
গন্ধ মাখা কাঁথা,
দু’চোখ তবু নিদ্রাহীন আর
মন ভাবে তোর যা তা?

শয্যা ইটের, লজ্জা ফেলে
একটু আজার পেলে,
ঘুমাই সুখে দুঃখ ভুলে
আমরা মজুর ছেলে।

তরুণ তুর্কি: শ্যামলী বিনতে আমজাদ 17

মজনুর রহমান

১০ মার্চ, ২০২১ , ১০:৪৭ অপরাহ্ণ

ক্যাডেট কলেজ ভর্তি: শেষ মুহূর্তের ভাইভা প্রস্তুতি


২০২১ সালের ক্যাডেট ভর্তি পরীক্ষার লিখিত পর্বে যারা কৃতকার্য হয়েছ তাদের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।
এখন সামনে ভাইভা। আজ আমরা জানতে চেষ্টা করব কী করে একজন পরীক্ষার্থী মৌখিক পরীক্ষার জন্য তার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিতে পারবে।

মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব, উপস্থিত বুদ্ধি, চাল-চলন, আচার-আচরণ ইত্যাদি যাচাই করা হয়ে থাকে। সাধারণত মৌখিক পরীক্ষার পূর্বে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় প্রার্থীর উচ্চতা, ওজন, চোখের দৃষ্টি শক্তি, বুকের মাপ, শরীরে আভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক রোগ ইত্যাদি পরীক্ষা করা হয়।
এখন আসি প্রস্তুতি নিয়ে।

যা পড়তে হবে:

১. মৌখিক পরীক্ষার কোনো সিলেবাস থাকে না। তবে পরীক্ষার উদ্দেশ্য, শিক্ষার্থীর বয়স ও জানার পরিধি বিবেচনা করেই প্রশ্ন করা হয়। অর্থাৎ তোমরা যে শ্রেণিতে পড় বা পড়তে যাচ্ছ এসবের প্রেক্ষাপটেই প্রশ্ন করা হবে।


২. ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা, ইরেজি, গণিত, সামাজিক বিজ্ঞান ও সাধারণ বিজ্ঞান থেকে প্রশ্ন করা হতে পারে।


৩. সপ্তম শ্রেণির বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সামাজিক বিজ্ঞান ও সাধারণ বিজ্ঞানের প্রথম ২/৩ টি অধ্যায় আয়ত্ত্ব করবে। যেহেতু তোমরা ইতোমধ্যে নতুন ক্লাসে উঠেছ তাই এখানকার শুরুর কিছু অধ্যায় থেকে প্রশ্ন করতেই পারে।


৪. লিখিত পরীক্ষায় যে প্রশ্নগুলো এসেছিল সেগুলো মনে করে আবার সেগুলোর সঠিক উত্তর অনুশীলন করবে এবং সেগুলোর সাথে প্রাসঙ্গিক অন্য তথ্য জেনে নেবে।


৫. ইংরেজির জন্য About yourself, Spelling, Synonym, Antonym ইত্যাদি পড়তে হবে। English for today বইটি সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখতে হবে।
৫. বীজগণিতের বর্গের সূত্রাবলী, পরিমাপের সূত্রাবলী, মানসাংক, জ্যামিতির সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলী, উপপাদ্যের সিদ্ধান্ত ইত্যাদি চর্চা করতে হবে।


৬. বাংলা সাহিত্যের (বিশেষ করে চারুপাঠের) লেখক ও কবি পরিচিতি, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর, ব্যাকরণের খুঁটিনাটি বিষয়সমূহ চর্চা করতে থাকবে।


৭. কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স থেকে পড়বে, প্রতিদিন বাসায় জাতীয় পত্রিকা রাখবে। প্রতিদিন পত্রিকা পড়বে, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ নোট করবে এবং পত্রিকার সম্পাদকের নাম জেনে রাখবে। বর্তমান বিশ্বের আলোচিত দেশ ও ঘটনাসমূহ, বিভিন্ন দেশের সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে জ্ঞান রাখবে। বিশ্বের বিভিন্ন মহাদেশ, দেশ, রাজধানী, মুদ্রা, ভাষা, সরকার প্রধান, রাষ্ট্র প্রধান, রাজা, বাদশাহ, সুলতান, পররাষ্ট মন্ত্রীদের নাম, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের প্রধানের নাম, আলোচিত রাষ্ট্রসমূহের রাষ্ট্র প্রধান ও সরকার প্রধানের নাম, বাংলাদেশের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য এবং তিন বাহিনীর প্রধানের নাম শিখবে। বিশ্ব মানচিত্রে বিভিন্ন দেশের অবস্থান, সাগর, মহাসাগর, অক্ষরেখা, দ্রাঘিমা রেখা সম্পর্কিত বিষয়- বিশেষ করে সার্ক ভূক্ত রাষ্ট্র সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখবে।


৮. নিজের নামের অর্থ, নিজ নামের সাথে মিল আছে এমন বিখ্যাত কোন ব্যক্তি, তাঁর কৃতিত্ব, নিজ জেলার অবস্থান, জেলা কেন বিখ্যাত, কোন নদীর তীরে অবস্থিত, নিজ জেলার বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব ও তাঁদের অবদান সম্বন্ধে বিস্তারিত জানবে। বিশেষ করে বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে জেনে নিবে।


৯. পরীক্ষার দিনের বাংলা, ইংরেজি, হিজরী সালসহ তারিখ এবং তোমার জন্মদিন বাংলা সনসহ তারিখ জেনে রাখবে।


১০. সর্বশেষ আলোচিত সিনেমা, চরিত্র, পুরষ্কার, বিশেষ করে নোবেল পুরষ্কার, একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, স্বাধীনতা পুরষ্কার ইত্যাদি জেনে নিবে।


১১. খেলাধুলা সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখতে হবে। তোমার প্রিয় খেলা, প্রিয় খেলোয়াড়ের বিস্তারিত তথ্য, বাংলাদেশ ও বিশ্বের উল্লেখযোগ্য খেলোয়াড় এবং তাঁদের রেকর্ডসমূহ জেনে নিবে। ক্রিকেটের খুটিনাটি বিষয় ভালোভাবে আয়ত্ত্ব করবে। বিশেষ করে সর্বশেষ খেলা সম্পর্কে জেনে নিবে। যে খেলোয়াড়কে প্রিয় খেলোয়াড় বলবে তার সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেবে। একইভাবে প্রিয় গায়ক, প্রিয় শখ যখন যেটা বলবে তার সম্বন্ধে বিস্তারিত বলতে হতে পারে।


১২. তুমি কেন ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হতে চাও, কোন ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হতে চাও, ক্যাডেট কলেজ সমূহের বিভিন্ন তথ্য যেমন- স্থাপনকাল, কোনটি প্রথম, কোনটি শেষ ইত্যাদি বিষয়ে প্রশ্ন করা হতে পারে। তোমার জীবনের লক্ষ্য ও শখ এবং তা নির্ধারণের কারণ কী ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতে পার।

পরীক্ষার আগের রাতে ও সকালে:

পরীক্ষার আগের রাতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে রাখবে যাতে পরীক্ষার দিন সকাল বেলা কোনো কিছু খোঁজাখুঁজি করতে না হয়। পরীক্ষার দিনের প্রধান দৈনিক পত্রিকার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো দেখে নিবে।

ভাইভাকক্ষে প্রবেশ:

ভাইভা কক্ষে প্রবেশের সময় যথাসম্ভব কম শব্দ করে অনুমতি নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে হবে। প্রবেশ করার পর সালাম দিয়ে আস্তে করে দরজা বন্ধ করে দিবে। ধীরে ধীরে তোমার জন্য নির্ধারিত চেয়ারের কাছে যাবে। জুতার মচমচ শব্দ করা থেকে বিরত থাকবে এবং ডানে বাঁয়ে সামনে পিছনে ঝুঁকে হাঁটবে না। বসতে না বললে চেয়ারের পাশে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে। বসতে বললে ধন্যবাদ জানিয়ে চেয়ারে সোজা হয়ে বসবে, হেলান দিয়ে কিংবা পায়ের উপর পা তুলে বসবে না। হাঁটুর উপর হাত রাখবে, টেবিল বা চেয়ারের হাতলের উপর হাত রাখবে না। পরীক্ষকের প্রশ্ন ভালোভাবে শুনে শান্ত ভাবে আত্মবিশ্বাসের সাথে এক এক করে উত্তর দিবে।

প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে:

ক. যে ভাষায় প্রশ্ন করা হবে সে ভাষায় জবাব দিবে।


খ. প্রশ্নকর্তার দিকে তাকিয়ে উত্তর দিবে।


গ. উত্তর হতে হবে সুস্পষ্ট ও সহজবোধ্য।


ঘ. ভালোভাবে না শুনে কোনো প্রশ্নের উত্তর দেবে না, প্রশ্নকর্তা কী বলেন সেদিকে মনোযোগ সহকারে খেয়াল রাখতে হবে এবং কোনো প্রশ্ন বুঝতে অসুবিধে হলে বিনয়ের সঙ্গে পুনরায় জেনে দিতে হবে। যেমন- দুঃখিত স্যার, বুঝতে পারিনি, আরেকবার বললে ভালো হয়।


ঙ. তুমি তোমার বক্তব্যে স্থির ও অটল থাকবে তবে স্যারদের সাথে তর্কে জড়াবে না। বিনয়ের সাথে বলবে, স্যার আমার জানামতে এটাই সঠিক। দু’তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারলে তেমন কিছু যায় আসে না। তাই না ঘাবড়ে মনোবল অটুট রাখবে । বোর্ড তোমার উপস্থিত বুদ্ধি যাচাই করার জন্য কটাক্ষ করেও কিছু প্রশ্ন করতে পারেন, তাই বলে তুমি রাগান্বিত বা বিরক্ত হবে না। শান্ত হয়ে বসে থাকবে।


চ. উত্তর জানা না থাকলে বিনয়ের সাথে স্বীকার করবে আমতা আমতা করবে না। Sorry sir বা দুঃখিত স্যার, আমার এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না এই প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই- এমন বলবে।


ছ. শুদ্ধ উচ্চারণের প্রতি লক্ষ্য রাখবে এবং হাসি মুখে উত্তর দিবে। কৃত্রিমতা পরিহার করবে।


জ. কন্ঠস্বর স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা করবে। উচ্চস্বরে বা মিনমিন করে অতি নিম্মস্বরে উত্তর দেবে না। উপস্থিত সকল পরীক্ষক যেন তোমার উত্তর শুনতে এবং বুঝতে পারেন সেভাবে উত্তর দিবে।


ঝ. উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগাবে। প্রশ্নের গুরুত্ব অনুধাবন করে চিন্তাশীল ও যথাযথ উত্তর দিতে চেষ্টা করবে। আমতা আমতা করে উত্তর না জেনে জানার ভান করবে না। ‘তুমি সবকিছু জানো’ এই রকম ভাব পোষণ করবে না। ভুল তথ্য দিয়ে পরীক্ষকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে না।

ঞ. হাত নেড়ে কথা বলবে না, টেবিলের উপর হাত রাখবে না, দুই হাত হাঁটুর উপর রেখে স্বাভাবিক ভাবে বসবে, এক হাত দিয়ে অন্য হাত খোঁটাখোঁটি বা আঙ্গুল মটকাবে না । নিচের দিকে তাকিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিবে না। তোমার যদি মুদ্রাদোষ বা বদ অভ্যাস যেমন – পা নাচানো, মাথা চুলকানো, এক কথা কয়েকবার বলা, মানে মানে শব্দের অতিরিক্ত ব্যবহার করা প্রভৃতি থাকলে তা পরিহার করবে।


ট. প্রশ্ন করা শেষ হলে প্রশ্নকর্তা তোমাকে চলে যেতে অনুরোধ করবে। তুমি সালাম দিয়ে, শব্দ না করে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে সহজ ভঙ্গিতে বেরিয়ে আসবে। বেরিয়ে আসার সময় দরজা আবার আস্তে বন্ধ করে রাখবে। হাঁটার সময় যেন জুতার কোন বিরক্তিকর আওয়াজ না হয়। মনে রাখবে ভাইভা বোর্ডে প্রবেশ করা থেকে শুরু করে বের হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক ক্ষেত্রে মার্কিং এর ব্যবস্থা রয়েছে। তাই প্রত্যেক ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
সর্বোপরি মনে রাখবে, মৌখিক পরীক্ষায় সাফল্যের মূল সূত্র হলো মাথা ঠাণ্ডা রাখা, চোখ কান খোলা রেখে প্রশ্ন শোনা ও উত্তর করা, ঘাবড়ে না যাওয়া।
তোমার সাফল্যে উদ্ভাসিত হোক পরিবার ও দেশ- এই দোয়া রইল।

মজনুর রহমান
বি.এ (সম্মান), এম. এ (বাংলা)
পরিচালক: বাংলাবাড়ি, রংপুর।
শিক্ষক: ভেনাস ক্যাডেট কোচিং, রংপুর।
ফোন: ০১৭২৮-৭৫৩৫৭৬/ ০১৮৯০-২৭৭৪৭১

ক্যাডেট কলেজ ভর্তি: শেষ মুহূর্তের ভাইভা প্রস্তুতি 18