আদিল ফকিরের ৫টি কবিতা

মুগ্ধতা.কম

২৭ জুন, ২০২০ , ৮:২৩ অপরাহ্ণ ; 1064 Views

আদিল ফকিরের ৫টি কবিতা

নারী

আমার মাথায় হাজার নারীর গহনা – কারণ আমি একজন ফেরিওয়ালা!

ত্রিশের ঘরের জোড়া সংখ্যা বারবার-আমাকে শুনতে হয়-

কারণ আমি একজন ছোট কাপড় বিক্রেতা!

সেইদিন বাহিরের খোলা দরজায় এক নারীপ্রেম তাকিয়েছিল! ভাবছি তাকে একটা উপহার দিব-

আমি বলেছিলাম- বত্রিশ?

তিনি বলেছিলেন- না!

আমি বলেছিলাম-চৌত্রিশ?

তিনি বলেছিলেন-না!

আমি বলেছিলাম-ছত্রিশ?

তিনি বলেছিলেন- না!

আমি বলেছিলাম-আটত্রিশ?

তিনি বলেছিলেন-

আমি একজন ধর্ষিতা নারী-

আমার জীবনে কোন সংখ্যা এবং গহনার প্রয়োজন নেই!

কমলার খোসা

তোমার রেখে যাওয়া কমলার খোসায় ঠোঁটের ঘ্রাণ

মেহগনির বাকলে ফিরে পায় যৌবন…

উথলে ওঠে- মাটির কাসা –

উচ্চস্বরে বাবুদের নামতা মুখস্থ করা

স্কুল ঘণ্টার ঢং ঢং ঢং

ছুটি দিলাম আজ থেকে তোমার ভালবাসা-

অবশেষে আসলে আসিও-

শুকিয়ে রাখবো পৃথিবীর সব কমলার খোসা।

 

জুতোজোড়া!

বয়স যখন আট-১

ছোটবেলা! টং টং- এই বুঝি কটকটি-ওয়ালা এলো।ছেড়াজুতো,লোহা,প্লাস্টিক এর বিনিময়ে কটকটি দিতো । বাড়ির আনাচে-কানাচেতে খুজতুম। অবশেষে ভালো জুতোর ফিতে কাটতুম-! এই ফিতা কাটায় এক ঢেলে দুই পাখি মারতুম- একদিকে কটকটি- অন্য দিকে বাবা বাজারে নিয়ে যেতেন- নতুন ফিতা কেনবার জন্য!

বয়স যখন আঠারো -২

ছাত্র জীবনে- ক্যাম্পাসে বড় দুই দলের এপাশ- ওপাশ সমাবেশ। এরই ফাকে দু-চারজন জাসদ ছেলের মিছিলে ছিলুম- হঠাৎ বড় দুই দলের সংঘর্ষ- ফাঁক থেকেই আমি ভো দৌড়- এদিকে এসে দেখি- আমার জুতোজোড়া নেই

বয়স যখন আটাশ -৩

বেকারত্ব নিয়ে আটাশ বছরে বিয়ে করতে গেলুম- কবুল শেষে মঞ্চ থেকে উঠে দেখলুম -আমার জুতোজোড়া নেই! বিয়ের বাড়ি হৈ হৈ – বরের জুতো নেই।

বয়স যখন আটত্রিশ -৪

জুতোজোড়া রেখে সিজদা দিতে ছিলুম । প্রথম সিজদায় আড়চোখে তাকিয়েছিলুম- জুতোজোড়া যেন- না হারিয়ে যায়। দ্বিতীয় সিজদাতে ভাবতে ছিলুম – এই আড়চোখ- আমার ঈমানের অভাব কি? না, অর্থের অভাব! না, মানসিকতার অভাব। না! সচেতনতা!

বয়স যখন আটচল্লিশ -৫

এখনো আমার বয়স আটচল্লিশ এর ঘরে যায় নি। মে- বি, পরিবেশ পরিপ্রেক্ষিতে অনুমান করছি- আমার একজোড়া জুতোর একটা থাকবে তোমার পায়ে, তোমার একটা থাকবে- আমার পায়ে। কারণ খাদ্যে ভেজাল।

 

আশ্চর্য পুরুষ

পেয়ারার কামড়ে নিকোটিনের গন্ধ! আশ্চর্য পুরুষ, পেয়ারা খায়- নিকোটিনও খায়।

অথচ পেয়ারাটাহাতে নিয়ে ভাবছি- ফরমালিনের কথা!

আশ্চর্য পুরুষ, কত্-তো বড় আকাশ-
তবুও দেখছি না।

অথচ, দুই তিন ইঞ্চি ভিটে নিয়ে কত্-তো ফ্যাসাদ।

এই যে পুরুষ – আমি কিন্তু নিজে হাসতে পারি- এইতো হাসির ডিব্বা।

নিজে হাসতে পারি বলেই- তো – আমি হাসচ্ছি না। সকলে হাসতে জানে না, কেউবা জানে!

বলুন তো আমার প্রয়োজন কি? সবে-তো আছে।

সবুজ পাতা আছে।শোনাল ফুলের নোলক আছে-

কাচা ধানের গন্ধ আছে। সরিষা ফুলের ঘ্রাণ আছে।

আশ্চর্য পুরুষ – তবুও খোঁজে, দু তিন ইঞ্চি ভিটের গন্ধ।

শুনুন, সেদিন তাঁর অফিসে গেলাম- বুকটা কেন জানি পিন্ পিন্ করলো।

মনে পড়লো একটা রাত- সেই ভিটের কথা মনে হলো। সেই ভিটেতে একটা বিল্ডিং এর স্বপ্ন ছিলো- পরে শুনলাম, এ ভিটে নাকি সিকস্তি -ভিটে।

আশ্চর্য পুরুষ! আমার ভিতর একটা পৌরুষ্য।

যে পৌরুষ্য- কুকুর-এর ও আছে-

তারা- বোঝে না- সিকস্তি ও পয়স্তি ভিটে-

আশ্চর্য কুকুর- তারও ছিলো, আমার মতন নাকি দুইটি পা !

কুকুর-তো, মুখে লালা থাকতেই পারে।

আশ্চর্য পুরুষ!

 

আমার বেঁচে থাকা খুঁজে পাই!

এইতো একটা বিকাল, এইতো একটা দীঘি- আমি হাঁটছি, আবার হাঁটছি-

ঘুরেফিরে গোল্ডেন কালারের ফড়িংটার উড়াউড়ি দেখছি! ফড়িং উড়ে-

এক ঝাঁক পাখি উড়ে, খুবই সাধারণ কথা- এক ঝাঁক পাখি উড়ে, এক ঝাঁক পাখি উড়ে। পাখিরা-তো উড়তেই পারে- এতে নতুন করে বলবার কী আছে?

আছে,

বলবার – আছে। এই উড়াউড়িতে আমার কাব্য আছে, এই কাব্যতে আমার সুখ আছে, এই সুখতে আমার নদী আছে, এই নদীতে আমার এবং তোমার গোটা পৃথিবী আছে।

দীঘির পাড়ের পেঁপে গাছটা নুয়ে আছে, পাকা পেঁপেটা পাখি ঠুকরে ঠুকরে খাচ্ছে- এখানেই একটা সুখ। এখানেই আমার একটা বেঁচে থাকা- জীবনের খুঁজে পাওয়া।

আপনি আসুন, আমার পাশে বসুন- একটা গল্প শুনবার সময় হবে?

আর একটু বসুন, হোক না- সায়াহ্ন, আর একটু গভীর হোক- চাঁদ দেখুন। চাঁদ যে শুধু উপরে দেখবেন- এমনটা নয়, নিচেও দেখা যায়-

দীঘির জলে দেখুন- এবার একটা ঢিল ফেলুন- এইযে ছোটছোট বৃত্ত জলের খেলা, চাঁদ মামাটার আলো খেলা। এখানেই আমি আমার বেঁচে থাকা খুঁজে পাই।

কি ঘুমোতে যাবেন! ও, অফিসে যাবেন- । শুনুন- আর একটা গল্প। গল্প না শুনলেও একটা প্রশ্ন শুনুন- বলুন তো – ইনি সুতায় গাঁথা কাঠি গুনছে- বৃদ্ধা ও তর্জনীতে, উনি আবার জিহ্বার থু থু-তে গুনছে- সেখানেও আছে বৃদ্ধা ও তর্জনী- কেন? ক,দিন থেকে আমি গুনতে পারছি না- ঐ যে দীঘির পূর্ব কোণে গোলাপ চারাটা, পরি চর্যা করতেই- এই তর্জনীতে একটা কাটা বিধছে। অথচ তিনি বৃদ্ধা ছাড়াই – তর্জনীতে আঁকলেন বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশেই আমি খুঁজে পাই – আমার বেঁচে থাকা।

ও! ঘুমোতে যাবেন- যান, কারণ কাল্ থেকে আপনার জুন ক্লোজিং- তাই না!
আজব পৃথিবী- কেউ কেউ বেঁচে থেকেই বেঁচে আছে, কেউ কেউ বেঁচে থেকে মরে গেছে।

ইস্! মেয়েটার বড্ডই ইচ্ছে ছিলো- হলুদ প্রজাপতি দেখবে, আর দেখা হলো না- !

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •