মুগ্ধতা.কম

১৫ মে, ২০২১ , ১১:১০ অপরাহ্ণ ; 462 Views

তরুণ তুর্কি: অনিরুদ্ধ সরকার

তরুণ তুর্কি - অনিরুদ্ধ সরকার

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই প্রতিভাবান তরুণ তুর্কির জন্ম ৬ ডিসেম্বর ২০০২ তারিখে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে মামার বাড়িতে। বাবা তপন সরকার একজন শিক্ষক এবং ব্যবসায়ী।মা শুক্লা সরকার গৃহিণী। প্রথম লেখা প্রকাশ হয় মুহাম্মদ খালিদ সাইফুল্লাহ্ সম্পাদিত তারুণ্যের পদাবলি কবিতাপত্রে ।

‘তরুণ তুর্কি’ তে আজ প্রকাশিত হচ্ছে অনিরুদ্ধ সরকার এর পছন্দ-অপছন্দের বিষয়গুলো।

প্রিয় বইঃ দেখুন সত্যি বলতে তর্কের জন্য, জানার জন্য এবং সময় কাটানোর জন্য আমি খুঁজে খুঁজে অখ্যাত, বিখ্যাত, জনপ্রিয় সব লেখকের বইয়েই চোখ বুলিয়েছি। ধরুন চায়ের দোকানের বল্টু একটা বই লিখল। আমি যদি ওর বইটা উলটে পালটে না পড়ি তাহলে তো ওর বই নিয়ে মন্তব্য করার অধিকার আমার নেই। তাই লেখকের জাত, ধর্ম, আদর্শ নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই। আমার অনেক অপছন্দের লেখকেরও বই আমি পড়ি। তবে প্রিয় বই তো অবশ্যই আছে। ক্লাস ফাইভে সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা আমার মনে, কল্পনায় যে দাগ কেটেছিল সেটা এখনো মোছেনি। আবার শরদিন্দুর ব্যোমকেশ। সুনীলের ক্রাচে ভর দিয়ে পাহাড় দাপিয়ে বেড়ানো কাকাবাবু কিংবা  শীর্ষেন্দুর গোয়েন্দা শবর আমার অভ্যাস। আসলে বইয়ে আমার প্রিয়জনেরা হচ্ছে গোয়েন্দা গল্প। সেক্ষেত্রে আমার প্রিয় বইয়ের তালিকায় থাকবে – ফেলুদা সমগ্র,ব্যোমকেশ সমগ্র, রহস্য সমগ্র, কাকাবাবু সমগ্র।

প্রিয় লেখক: এই উত্তর আমার মুখে সবসময়ই তৈরি থাকে! আমার প্রিয় লেখকের তালিকাটা খুব বেশি বড় নয়। তবে বেছে বেছে নেয়া। প্রবন্ধের জন্য অবশ্যই হুমায়ূন আজাদ। গল্পে আমি সত্যজিৎ, সুনীল, শরদিন্দু এবং শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের বই চিপ্স/চানাচুরের কৌটো পাশে নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা পড়ে যেতে পারি।

প্রিয় খাবার: উমম, প্রিয় খাবার? আমার প্রিয় খাবারের তালিকা বিশাল তো। হাহা! তবে এ মুহূর্তে যদি বলি তাহলে বলব, বাড়িতে মায়ের হাতের খাসির মাংসের ভুনা আর তার সাথে ভারী মসুর ডাল। বাইরে  ক্যাফের ফাস্টফুড এবং নানরুটি দিয়ে চিকেন গ্রিল। চিকেন গ্রিল আমার কাছে নেশার মতো। পেট জ্বললেও প্রচণ্ড ভালো লাগে।

প্রিয় মানুষ: বাবা। পৃথিবীতে এই একটা মানুষকে আমি ভীষণ ভালোবাসি! মানুষের অদ্ভুত মনস্তাত্বিক একটা ব্যাপার হচ্ছে, সে যাকে সব থেকে বেশি ভালোবাসে, তাকে নিয়ে সবথেকে বেশি সংবেদনশীলও হয়। আমিও যেহেতু মানুষের দলে তাই অনেকটা অভিমান আর রাগ মিশিয়ে আমি আমার বাবাকে ভালোবাসি। এই ভদ্রলোক আমাকে জন্ম না দিলেও কোনোদিন সাক্ষাৎ হলে তাকে পছন্দ করতাম। গল্প করতে করতে একটা রাতকে বিজ্ঞাপন বিরতির মতো মনে হয়।

আদর্শ মানুষ: আমার জীবনের একেকটা অংশে আমি একেকজন মানুষকে আদর্শ মানি। ধরুন ক্যামেরা হাতে নিলে আমার সত্যজিৎ রায় হতে ইচ্ছে করে। যখন ভাবি কবিতা লিখে কী করবো? কী লাভ হবে? তখন আমার মগজে জীবনানন্দ ভর্ৎসনা করে হাসে! আবার আমি যখন মানুষ জমাতে চাই তখন আমার বাবাকে আদর্শ মনে হয়। এই আরকি। নির্দিষ্ট করে একজন মানুষকেই আদর্শ মানতে পারি না।

প্রিয় স্থান: মিঠাপুকুর ইকোপার্ক। দারুণ জায়গা।বন্ধুবান্ধবেরা মিলে প্রায়ই যাই। নির্মল বাতাস ফ্রিতে পাওয়া যায়। আবার আমাদের স্কুলের পিছনে পুস্করনির পাড়। স্কুলে পড়ার সময় ওই একটা জায়গাই স্বর্গ ছিল। রংপুরে টাউন হল চত্বর আমাকে অনেক দিয়েছে। ওই স্থানও আমি ভালোবাসি। এর বাইরে পার্বত্য চট্টগ্রাম আমার ভালো লাগে। বছর দুয়েক আগে একবারই গিয়েছি। নীলগিরি পাহাড়ের সাপের মতো রাস্তাটা চোখে ভাসে। সুযোগ হলে আবার যাব।

প্রিয় মুহূর্ত: পিএসসি, জেএসসি, এসএসসির রেজাল্ট ফোনের স্ক্রিনে দেখা! আরেকটা স্মরণীয় এবং প্রিয় মুহুর্ত আছে। এখানে বললে পরিচিত বড় মানুষদের সামনে লজ্জায় পড়ে যাব। ওটা থাক।

প্রিয় কবিতা: কবিগুরুর ‘শেষের কবিতা’র শেষ অংশ, অর্থাৎ ‘বিদায়’ কবিতা। ঘরের আলো নিভিয়ে সৌমিত্রবাবুর দরাজ কন্ঠে যখন এই কবিতার অডিও ক্লিপ চালাই, আমার শরীর ঠাণ্ডা হয়ে আসে।

প্রিয় বাক্য/উক্তি: এখানেও কবিগুরুকে উপেক্ষা করতে পারিনি।

“রক্তের অক্ষরে দেখিলাম

আপনার রূপ,

চিনিলাম আপনারে

আঘাতে আঘাতে

বেদনায় বেদনায়;

সত্য যে কঠিন,

কঠিনেরে ভালোবাসিলাম”

আবার আমার বাবা কথায় কথায়  আমাকে প্রায়ই বলেন, “কক্ষনো করবো না এই কথাও কক্ষনো বলবা না! মানুষ কোনোদিনই জানতে পারে না দশ বছ পর সে কী করবে! সময়,পরিস্থিতি এবং অবস্থান অনেক কিছু করিয়ে নিতে পারে!”

যেমন মানুষ হতে চাই: অনিরুদ্ধ সরকার প্রথমকেই ভেঙেচূড়ে গড়ব। অনিরুদ্ধ সরকার প্রথমই হতে চাই।

যে বিষয়টি পীড়া দেয়: আমার অতি ব্যক্তিগত ব্যাপারে কারও হস্তক্ষেপ আমি সহ্য করতে পারি না।আমি বিশ্বাস করি সব ছাপিয়ে মানুষের একটা ব্যক্তিগত ভুবন থাকে। যেখানে বাকি সবার জন্য জিরো টলারেন্স জারি আছে। এর বাইরে মেধাশ্রম দিয়ে কিছু লেখার পর সেই লেখা চুরি করে কেউ যখন দিব্যচিত্তে প্রশংসা কুড়ায়। এই ব্যাপারটাও অনেকটা পীড়াদায়ক। তবে চুরি করেই বা আর কয়দিন সম্মান কুড়াবে? এটা ভাবলেই হাসি দিয়ে সব ভুলে যাই।

আগামীর পরিকল্পনা: আগে বাঁচার মতো বাঁচব।এরপর একটা একটা সিঁড়ি ভেঙে ভেঙে আকাশ ছোঁব।

নিজের লেখা বাছাইকৃত একটি কবিতাঃ

মুখস্থ 

মনে রেখো আমাকে-

তোমার ঋতুচক্রের তারিখ ভেবে

 

অস্পষ্ট কুয়াশার সেলাই খুলে-

পথ মনে রেখেছিলো জানুয়ারির বাইশ তারিখ

যেমন মরা ঝাউকাঁটা মনে রাখে

পোকা খাওয়া খালি পা-

কাসার গোল বাটির মতোন ডুবে যাওয়া চাঁদকে মনে রেখেছিলো বোকা টেলিস্কোপ

 

তুমিও আমাকে মনে রেখো-

তোমার মুখস্থ করা ক্লাস ওয়ানের

ইংরেজি ভাওয়েল ভেবে!

 


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •