মুগ্ধতা.কম

৩১ মে, ২০২০ , ১১:৫৯ অপরাহ্ণ ; 558 Views

নেশা

মোস্তারী বেগম মিতার গল্প - নেশা

ভীষণ রকমের গাছপাগল মেয়ে খেয়া। তার জীবনে একটাই নেশা, বাগান করা। হাতে যেটুকু টাকা আসে তার প্রায় পুরোটাই খরচ করে গাছ কিনে।শুধুই নার্সারি না, অনলাইনেও গাছ কেনে সে।কোথাও বেড়াতে গেলে তার চোখ খুঁজে বেড়ায় কোথায় কী কী গাছ আছে।

অন্যদিকে তার লেখক বরের লেখার নেশা, দিস্তায় দিস্তায় সে লিখে যায়। একটাই ইচ্ছে মনে তার নিজের লেখা বই বের হবে। পাণ্ডুলিপি নিয়ে ঘোরে প্রকাশকের পিছে পিছে। বই তো আর গাছ না যে কুমড়ো খেয়ে বীজটা পুঁতে দিলাম আর চারা বেড়িয়ে পড়লো। বই বের করতে অনেক টাকা লাগে।

নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে ভাত জোগাতে যেখানে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে বই প্রকাশনা তো এক রকমের বিলাসিতা। তার উপর তার বউ খেয়ার আবার গাছ কেনার মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়ি, আরে বাবা বলিহারি গাছ কি ভাত দেয় নাকি? গাছ না কিনে টাকাটা সে জমিয়ে অভিকে তো বই প্রকাশের জন্য দিতেই পারে নাকি? দিন নাই রাত নাই বাগানের পেছনে পড়েই আছে। আর ফেসবুকে ফুলের ছবি আপলোড করা দেখে গা টা জ্বালা করে অভির। সেইসব ছবি দেখে সবার কী নিদারুণ কমেন্ট! অথচ তার এত সাধের লেখাগুলো না পড়েই লাইক দিয়ে দেয় তারা।

এবার একুশে বইমেলায় বই বের করতে না পারলে লেখক সমাজে অভির ইজ্জতের ছানাবড়া! যে করেই হোক বই বের করতেই হবে। অভি মনে মনে এক ফন্দি আঁটে। খেয়া কিছুদিনের জন্য বাবার বাসায় বেড়াতে যেতে চাচ্ছে। এই সুযোগ। সে খেয়ার গাছগুলো নার্সারি তে বিক্রি করে দিবে, আর অনলাইনেও একটা পেজ খুলে গাছের ছবি দিয়ে ডাল আর বীজ বিক্রি করে যে টাকা পাবে তাতে তার বই প্রকাশ ঠেকায় কে?

খেয়া বাবার বাড়িতে যায়। বেড়ানো আর কোথায়, তার লক্ষ্য নার্সারি নার্সারি ঘুরে নতুন গাছ সংগ্রহ করা। হাতে কিছু  টাকা এসেছে তার। বাসায় থেকে অভির জ্বালায় গাছ কেনাই দায়।

অভি রেডি হয় বাইরে যাবে নার্সারির খোঁজে, গাছগুলো কীভাবে গছানো যায়। সাথে প্রকাশকের কাছে তার জমানো টাকা অ্যাডভান্স দিয়ে পাণ্ডুলিপিটাও দিয়ে আসবে।

কিন্তুু কোথায় তার পাণ্ডুলিপি? কোথায় তার এত বছরের লেখা দিস্তা দিস্তা কাগজ?

বাইরে কাগজওয়ালার ডাক শোনা যায়, কাগজ দিবেন কাগজ…।