প্রসঙ্গকথা : প্রতিভা নাকি সাহিত্য  সাধনা

আবু হানিফ জাকারিয়া

৩০ জুন, ২০২০ , ১১:১৮ অপরাহ্ণ ; 369 Views

প্রসঙ্গকথা : প্রতিভা নাকি সাহিত্য  সাধনা

বাংলা ভাষায় রচিত সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্য নামে পরিচিত। আনুমানিক খ্রিষ্টীয় নবম শতাব্দীতে বাংলা ভাষায় সাহিত্য  রচনার সূত্রপাত হয়। বহুবিধ রূপ পরিবর্তনের পরেও অদ্যাবধি ইহার চর্চা চলিতেছে বরং অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় সাহিত্যের প্রকাশ এক্ষণে বহুগুণ বাড়িয়াছে।

সাহিত্য বলিতে শুধু কবিতা বা ছড়া নহে। প্রবন্ধ, নিবন্ধ, গল্প, ছোটগল্প,  অনুগল্প, উপন্যাস,  নাটক, নাটিকা, প্রহসন সকল কিছুই সাহিত্যের অংশ। মিল অমিল দিয়া দু’চার খানা কবিতা বা কিছু লাইন লিখিয়া আমরা যাহারা নিজেদের অনেক বড় কবি বা সাহিত্যিক মনে করিতেছি তাহারা অত্যন্ত ভুল করিয়া ফেলিতেছি। এই ভুলের মাশুল অবশ্যই আমাদিগকে দিতে হইবে।  যখন দেখা যাইবে বাংলা ভাষাভাষী লেখকবৃন্দের কাছে আমাদের মোটেও গ্রহণযোগ্যতা নাই বা সমগ্র দেশের মানুষের নিকট আমাদের কোন পরিচিতি নাই তখন উপলব্ধি হইবে যে এতদিন ধরিয়া কবিতা লিখিয়া তাহলে কী লাভ হইল?

লাভ একটা হইবে বটে, তাহা হইল আমাদিগের আত্ম অহংকার হঠাৎ করিয়া ধুলিস্মাৎ হইয়া যাইবে এবং আমরা নিজদিগের অবস্থান জানিতে পারিব। তখন আর সাধ্য সাধনা করিবার সময় থাকিবে না। লজ্জায় মুখ ঢাকিতে ইচ্ছা করিবে কিন্তু সেই উপায়ও হয়ত থাকিবে না। তখন আফসোস না করিয়া যদি এখন হইতে আমরা সাধ্যমত সাধনা করিতে লাগিয়া যাই তাহা হইলে ঐদিন আর লজ্জা পাইতে হইবে না।

বাংলা ভাষাভাষী কিছু মানুষের কাছে কিছুটা হইলেও পরিচিতি তৈরি হইবে। হয়ত কেউ ছড়াকার, কেউ কবি, কেউ উপন্যাসিক,  কেউ নাট্যকার,  কেউ গল্পকার,  কেউ কথাসাহিত্যিক হিসাবে অল্পবিস্তর সম্মানও লাভ করিতে পারিব। সব সাধনার বড় সাধনা হইল প্রচুর পড়িতে হইবে।  সব ধরনের সাহিত্যের স্বাদ আস্বাদন করিতে হইবে।

বাংলা সাহিত্যের যে বিশাল সম্ভার তাহার সম্পর্কে বিস্তারিত না হইলেও অল্পবিস্তর ধারণা কমপক্ষে রাখিতে হইবে। নিজের সুবিধার জন্যই বাংলা একাডেমি প্রণীত অভিধান বা ডিকশনারি নিজেকেই সংগ্রহ করিয়া লইতে হইবে তাহা হইলে অনেক লজ্জাজনক পরিস্থিতির হাত হইতে নিজেকে রক্ষা করিতে পারিব।

ভাল লেখকদিগের জীবনী ও তাহাদের সংগ্রামী জীবন সম্পর্কে ধারণা রাখিতে হইবে। নিজের চর্চাটুকু অব্যাহত রাখিতে হইবে এবং অন্যের সহিত আলোচনা করিয়া নিজের ভুলগুলি সংশোধন করিবার মানসিকতা লালন করিতে হইবে। এইসব জায়গায় লজ্জাহীন হইতে পারিলে পরবর্তীকালে লজ্জায় পড়িবার সম্ভাবনা অনেকাংশেই কমিয়া যাইবে।

সাহিত্য প্রতিভা কমবেশি অনেকের ভিতরেই কিছু থাকে কারোটা প্রকাশিত হয় কারোটা তেমন একটা প্রকাশিত হয় না। ইদানীংকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সস্তা ও জনপ্রিয় হইবার কারণে মানুষের সাহিত্যিক হিসাবে নিজেদেরকে তুলিয়া ধরিবার প্রবণতা যেমন বাড়িয়াছে তেমনি অনেক সুযোগ ও আমাদের জন্য উন্মুক্ত হইয়া গিয়াছে। কিন্তু কথা হইল আমরা এই সুযোগগুলি কতখানি নিজের উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করিলাম নাকি নিজেকে শুধুই প্রদর্শনের জন্যই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করিলাম।

একটা বহুল প্রচলিত সত্য কথা হইল প্রত্যেক কর্মেরই ফল ভোগ করিতে হইবে, দুইদিন আগে অথবা দুইদিন পরে। আমি যতখানি প্রতিভার অধিকারী হইনা কেন আমার চর্চা যদি না থাকে, আমার নিজেকে মেলিয়া ধরিবার বাসনা যদি না থাকে কিংবা অন্যের ভাল লেখা পড়িবার ধৈর্য বা সময় যদি আমার না থাকে তাহা হইলে বড় সাহিত্যিক হইবার সুপ্ত বাসনা আমার তুলিয়া রাখাই সমীচীন। তথাপি প্রত্যাশা করি অন্যরা কঠোর সাধনার মাধ্যমে নিজেদেরকে বাংলাদেশের সেরা সাহিত্যিক হিসাবে প্রতিষ্ঠা করিতে সক্ষম হউক। সত্যিকারের সাহিত্যিক হিসাবে আমাদের মধ্য হইতেও কেউ কেউ পরিচিতি পাক কালজয়ী সাহিত্যিক হিসাবে।

 

প্রসঙ্গকথা : প্রতিভা নাকি সাহিত্য  সাধনা 1
Latest posts by আবু হানিফ জাকারিয়া (see all)
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •