বর্ষাদিনে

ডা.ফেরদৌস রহমান পলাশ

১৩ জুলাই, ২০২০ , ১০:৫৬ অপরাহ্ণ ; 2502 Views

ডা.ফেরদৌস রহমান পলাশের গল্প - বর্ষাদিনে

লাল পুকুরে পদ্ম নাই। মাটির রং রক্ত লাল। পুকুরে পদ্ম থাকলে তাকে পদ্মপুকুর বলা যেত। তা সম্ভব হচ্ছে না। তাহমিদের দাদাবাড়ির পুকুরের তাই কোন নাম নাই। পুকুরটি গ্রামের বাড়ির পিছনে বাঁশঝাড়ের পাশে। শখে নয়, কাজে এ পুকুরের জন্ম। মাটি খুঁড়ে ঘর বানানো হয়েছিল। যেখানকার মাটি খোঁড়া হয়েছিল তা এখন পুকুর হয়ে গেছে। গ্রীষ্মের দাবদাহে পানি শুকিয়ে খাঁ খাঁ।

বর্ষায় ভরে ওঠে কানায়-কানায়। বৃষ্টিতে পুকুরে গোসল করতো গ্রামের ছেলেমেয়েরা। টুপটাপ বৃষ্টি পড়তো পুকুরে, শরীরে। সবার সাথে ডুব দিতো তাহমিদ,পানির উপর বৃষ্টির শব্দ। কোন শব্দ শোনা যেত না পানির নীচে। উপরের পানি কেমন হিমশীতল,শরীর কাঁপন ধরে।পানির নীচে গরম।

চাচাতো ভাই কলাগাছ কেটে এনে চোখ বুজে ভেসে থাকতো, যেন ধ্যানমগ্ন ঋষি । তেমনি এক বর্ষাদিন, দুপুরবেলা। তাহমিদ পুকুরপাড়ে। এসেছে বৃষ্টি দেখবে বলে। কেউ নেই সাথিরা। শুধু পুকুরে সাঁতার কাটছে এক মেয়ে।

যে পুকুরে কোনদিন পদ্ম ফোটেনি, আজ সেই পুকুরে মেয়েটি যেন ফুটে আছে পদ্ম হয়ে। পাশের হিন্দুপাড়ার মেয়ে। ইশারায় ডাকলো। একটু ইতস্তত করে পানিতে লাফিয়ে পড়ে তাহমিদ। সাঁতার কাটে এপাড় থেকে ওপাড়। তারপর একটা কলাগাছ ধরে ভেসে থাকা ক্লান্ত হয়ে। ঘরে ফেরার সময় হয়ে যায়। কালো মেয়ে কাজল কালো চোখ তুলে বলে, আজ তবে আসি।

ডা.ফেরদৌস রহমান পলাশ
Latest posts by ডা.ফেরদৌস রহমান পলাশ (see all)

Leave a Reply

Your email address will not be published.