বিজয় দিবস সংখ্যা ২০২১

বিজয় দিবস সংখ্যা ২০২১

বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে মুগ্ধতা ডট কমের পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। আসুন দেশপ্রেমের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে এগিয়ে নিয়ে যাই প্রিয় এই দেশটাকে।

উপদেষ্টা সম্পাদক: ডা. ফেরদৌস রহমান পলাশ

সম্পাদক: মজনুর রহমান

বিশেষ সংখ্যা সম্পাদক: আহমেদ অরণ্য

অলংকরণ: রেদওয়ান শুভ

সূচিপত্র

কবিতা

পিরিতের জ্বালা || মাধব চন্দ্র স্পর্শকাতর ভাষা || সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল ইতিহাস || শাহীন মোমতাজ মুক্তির মিছিল || সোহানুর রহমান শাহীন জীবন || মুকুল রায় একজন মানুষ এসেছিলেন || বাশার ইবনে জহুর গোপন ঈশ্বরী || গোবিন্দ ধর ৭১ || শ্রাবণ বাঙালী রাজুর ফিরে আসা || ডা. ফেরদৌস রহমান পলাশ  শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের ছড়া || জাকির আহমদ বিজয় পাখি || রেজাউল করিম জীবন একটি বিজয়   || হাই হাফিজ মৃত্যুঞ্জয় || শিস খন্দকার এই দেশ || আহমেদ অরণ্য স্বাধীনতার গল্প || শ্যামলী বিনতে আমজাদ বিজয়েরই ষোলো || মনিরা পারভীন স্বদেশ প্রেম || ফিরোজ কাওসার মামুন বিজয়ের মাসে || সেলিনা সাত্তার শেলী ইনসোমনিয়া || চৌধুরী আসাদ বাংলাদেশ তুমি || রাইয়ানুল ইসলাম অভি

বিজয় দিবস সংখ্যা ২০২১

মাসুম মোরশেদের রম্যগল্প -মাসুম মোরশেদ

ডিগ্রীতে পড়ি। বয়স কুড়িমতো হইবে। দুরবিন দিয়া খুঁজিয়া সারা মুখে কতক বাদামী পশম দেখিতে পাই। আমার নাকের নিচে, ডানে বামের অনুর্বর অঞ্চলে কিছুই জন্মায় না। নিজেকে বড় নাবালক লাগে। ডিগ্রীতে পড়া ছেলেদের কারো কারো ঝাঁকড়া চুল তাহাতে আবার খোঁচা খোঁচা দাড়িতে কেতাদুরস্ত ভাব লইয়া প্যান্টের ব্যাকপকেটে ভাঁজ করা রেখা খাতা লইয়া যখন কলেজে আসে, মাঠে ঘোরে, কলেজের পুকুরপাড়ে তাসের আড্ডায় চুল ঝাঁপিয়ে ট্রাম্পকার্ড ছুঁড়ে বিপক্ষকে ঘায়েল করে কিংবা মেয়েদের দলে বসে বাদাম খুলটে ফুঁ দেয়- আমি ছেলে মানুষটা সেইসব ছেলেদের প্রেমে পড়িয়া যাই। ভাবি, আমার ইহজীবনে কিছুই হইবে না। ক্লিনশেভড মুখ আর সাথে তেমন ঝুলপি চুল যদি রাখিতে পারিতাম তবে আমার মতো সুখী মানুষ বুঝি কমই হইত। কিন্তু তেমন করিয়া রাখিতে পারিব না, কারণ বাবা তাহা পছন্দ করিবেন না। তিনি কঠিন ধাতের মানুষ। অতিবাস্তববাদী লোক। তিনি নিজে সর্বদা ক্লিন শেভ করিয়া থাকেন। তাই সেটাতে অসুবিধা হইবার কথা নহে। তাই সাবালকত্ব লাভের জন্য সেটার চিন্তা করিতেছি।

দোয়ানী বাজারের আজিজুল আমার বাল্যবন্ধু। ও যখন ক্লাশ নাইনে পড়ে তখন ওর সারামুখে ঘনকালো দৃশ্যমান দাড়ি, মোচ। আমি তখন ইন্টারমিডেয়েট সেকেন্ড ইয়ার। খুব বড়রা বাদ দিয়ে পাড়ায় কোন সিনিয়র জুনিয়র নাই। সবাই ভাইভাই, বন্ধু বা বন্ধুর মতো। কীভাবে যেন তাহার সাথে খুব ঘনিষ্ট হইলাম, জানি না। সেই স্বল্পবয়সেই তাহার মুখের দিকে চাহিয়া থাকিতাম। ঠিক সেসময়ই আফসোস করিতাম, আহা, আমার যদি এই মুখখানা হইত! শুধু হাপিত্যেস করিতাম আর ভাবিতাম, কখনো কী আমার তেমন হইবে? ডানহস্তে, বাঁহস্তে নিজের বদনখানি নাড়িচাড়ি আর ভাবি, আমি কি তবে বড় হইবো না?

সেইসবদিনে হকবাজারের বিখ্যাত ভোলা নাপিত যখন বন্ধুর চুল, দাড়ি কাটে আমি অপলক চাহিয়া থাকিতাম। অন্য চেয়ারে বসিয়া মাঝেমধ্যে প্রমানসাইজ আয়নায় আমার নিরসবদনখানি দেখিতাম আর মনে মনে প্রার্থনা করিতাম যেন দ্রুত আমারো তাহার মতো হয়।

কিন্তু যাহা তাহাই! যাহার হয় তাহারই হয়। আমার তাহা নহে।

বন্ধু আমার দুঃখ বোঝে। আমি তখন বি, এ ফার্স্ট ইয়ার। আর সে পড়ালেখা বাদ দিয়া বাড়ির সামনে মুদিখানা দিলো। বিকাল, সন্ধ্যায় তাহার দোকানে আড্ডা মারি আর তাহার সোনাবদনখানি দেখে দেখে কতশত গল্প করি। কথাচ্ছলে সে-ই একদিন বলিল, “শেভ কর্। দুই-চারিবার ক্ষুর পড়িলে প্রচুর গজাইবে।” কথাখানা একান্তই আমার মনের কথা। তাই মনে ধরিল। এই না হইলে বন্ধু কিসের! বন্ধুই তো বন্ধুর গোপন কথা, মনের ব্যথা বুঝিবে, স্বাভাবিক।

ভাবিলাম, তথাস্তু!

বন্ধু যেহেতু মুদিখানা সামলাইতে ব্যস্ত। তাহার আর আমাকে সঙ্গ দেবার সময় নাই বা অযথা ঘোরাঘুরি তাহার শোভা পায় না। তাহার সাথে প্লান প্রোগ্রাম ঠিক করিলাম বটে, কিন্তু একাই যাইতে হইবে এবং তা-ই সাব্যস্ত করিলাম।

বাড়ি হইতে তিন কিলোমিটার দূরে খানসামা হাট। সেইদিকে যাইব। শুক্কোরবার আর সোমবার হাটবার। হাট শুরু হয় দুপুরের নামায বাদ। সেই হাট জমাইয়া তুলিবার জন্য কাজকারবার শুরু হয় সকালবেলা থাকিয়া। ধোয়ামোছাসহ ইত্যকার কাজ। বাঁশের ফোল্লা (ব্যাঙ্ক) কাটিয়া লুঙ্গির খোঁটে ত্রিশ টাকা রাখিলাম। আমাদের বাজারের নাপিত চুলদাড়ি শেভ করা পাঁচ, ছয় টাকা নেয়। শুধু দাড়ি শেভ করিতে তিন টাকা লাগিত। কেউ কেউ দুই টাকাও দিয়া থাকেন। নাপিতরাও সেই টাকা কপালে ঠেকাইয়া ক্যাশবাক্সে রাখিতেন। খানসামায় যদি অনেক বেশি চায় বা নেয়, তাই অপদস্ত হইবার ভয়ে ত্রিশ টাকাই লুঙ্গির কোঁচে রাখিলাম। এখানে বলিয়া রাখি, আমাদের ছাত্রাবস্থায় গ্রামাঞ্চলে তখনো ফুলপ্যান্ট পরে ঘোরার চল শুরু হয়নি। শহরে চলে সেটা বেশ। তবে দুইএকজন, যাহারা শহরে পড়িত, হোস্টেলে বা মেসে থাকিত, সেই সময় তাহাদের কেউ কেউ গ্রামে আসিলে প্যান্ট পরিয়া বেড়াইত। অবশ্য আরামকে ভুলিয়া সেটা মেয়েদের দেখানো বা উন্নতজাতের ছাত্র হিসেবে নিজেকে তুলিয়া ধরিতে তাহা করিত। কিন্তু আমরা যাহারা নিয়মিত গ্রামে থাকি তাহারা কখনো নয়। এমনকি শহরে সিনেমা দেখিতে যাইতাম লুঙ্গি পরিয়া। অন্য আরেকটা সত্য হইল আমাদের কেহ কেহ লুঙ্গি পরেই কলেজে ক্লাশ করিত পিছনে বসিয়া।

যাইহোক, বিভিন্ন ঘোরা পথ ব্যবহার

সূচিপত্র

কবিতা

পিরিতের জ্বালা || মাধব চন্দ্র স্পর্শকাতর ভাষা || সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল ইতিহাস || শাহীন মোমতাজ মুক্তির মিছিল || সোহানুর রহমান শাহীন জীবন || মুকুল রায় একজন মানুষ এসেছিলেন || বাশার ইবনে জহুর গোপন ঈশ্বরী || গোবিন্দ ধর ৭১ || শ্রাবণ বাঙালী রাজুর ফিরে আসা || ডা. ফেরদৌস রহমান পলাশ  শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের ছড়া || জাকির আহমদ বিজয় পাখি || রেজাউল করিম জীবন একটি বিজয়   || হাই হাফিজ মৃত্যুঞ্জয় || শিস খন্দকার এই দেশ || আহমেদ অরণ্য স্বাধীনতার গল্প || শ্যামলী বিনতে আমজাদ বিজয়েরই ষোলো || মনিরা পারভীন স্বদেশ প্রেম || ফিরোজ কাওসার মামুন বিজয়ের মাসে || সেলিনা সাত্তার শেলী ইনসোমনিয়া || চৌধুরী আসাদ বাংলাদেশ তুমি || রাইয়ানুল ইসলাম অভি