বিশুদা এবং আমরা

মুহাম্মদ খালিদ সাইফুল্লাহ্

১০ আগস্ট, ২০২১ , ৯:৫৪ অপরাহ্ণ ; 125 Views

বিশুদা এবং আমরা-মুহাম্মদ খালিদ সাইফুল্লাহ্

একদিন রাত দশটার দিকে বিশুদার সাথে হাঁটতে হাঁটতে বাড়ি ফিরছিলাম। বিশুদাকে বললাম, এই আশি ছুঁইছুঁই বয়সেও আপনি আমাদের থেকেও ফিট। কোন গোপন রহস্য আছে? তিনি হাসি দিয়ে বললেন, সাইফুল্লাহ্! জ্বর সর্দি ছাড়া আলহামদুলিল্লাহ আমার জীবনে কোন জটিল রোগ হয়নি। সারাজীবন নিয়ম মেনে চলেছি আর তরকারিতে একদম ঝোল খাইনি।

বিশুদা গোছানো আর পরিপাটি থাকতেন সবসময়। পোশাক আশাক ছিলো রুচিসম্মত। তিনি অন্য সবার চেয়ে আলাদা। কাগজ দিয়ে খাম বানিয়ে সেখানে ছড়া কবিতা পিনআপ করে রাখতেন। সাহিত্যের কোন আসর অনুষ্ঠানে লিখে আনা কবিতাই পাঠ করতেন। নিজে এই বিষয়ে সচেতন ছিলেন বলেই সবাইকে বলতেন কবিতা পৃষ্ঠায় লিখে আনতে। হাস্যকর পরিবেশ তৈরি হয় যখন আমাদের তথাকথিত সাহিত্য বোদ্ধারা মঞ্চে কিংবা আসরে কবিতা পাঠ করার আগে আশেপাশের মানুষকে ছবি তোলার হুকুম জারি করে এবং মাউথপিস হাতে নিয়ে মোবাইলে কবিতা বের করতে দীর্ঘ সময় নেয়। তারপর কবিতা পাঠ করে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করে।

এরকম পঁচা পঁচা দৃশ্যগুলো দেখে আফসোস করতেন রংপুরের সাহিত্যের নিবেদিত প্রাণ একেএম শহীদুর রহমান বিশু। সাহিত্য নিয়ে তিনি সবসময় কঠোর ছিলেন। কখনো একচুল ছাড় দিতেন না। লেখা ভালো হলে বলতেন, তোমার লেখা ভালো হচ্ছে। চালিয়ে যাও কিংবা তোমার লেখার এই যায়গায় সমস্যা আছে ঠিক করে নিও। কোন আড্ডায় কেউ মোবাইল বের করলে তিনি বিরক্ত হতেন। ফোন পকেটে রাখার অনুরোধ করতেন।

বিশুদা এসব বিষয়ে কঠোর ছিলেন কিন্তু আমরা অনেকেই কঠোর হতে পারি না। ঝামেলা এড়িয়ে যাওয়ার ভান করে ছেড়ে দেই। এখন বাহ চমৎকার সুন্দর অনবদ্য অসাধারণ এই শব্দগুলোকে রেপ করে সাহিত্যের বিচার করি। আমরা সাহিত্যের মানের চেয়ে শোঅফকে প্রাধান্য দেই। লেখা যেমনই হোক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি পোস্ট করতে পারাটাকেই আনন্দ হিসেবে গ্রহণ করি।

আমরা কতদূর এগিয়ে যাবো? এই মোহের জগতে, ভার্চুয়াল জগতে গা ভাসিয়ে কতদিনই বা টিকে থাকবো?

বিশুদা বেঁচে থাকুক আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের চলার পথে। লৌকিকতা আর ভাঁড়ামোর বিদায়ে শুরু হোক সুস্থ সাহিত্য চর্চা।

বিশুদা এবং আমরা 1
Latest posts by মুহাম্মদ খালিদ সাইফুল্লাহ্ (see all)
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •