রফিকুল হক দাদুভাইয়ের মৃত্যু: প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন মহলের শোক

মুগ্ধতা প্রতিবেদক

১০ অক্টোবর, ২০২১ , ৫:২৬ অপরাহ্ণ ; 112 Views

একুশে পদকপ্রাপ্ত খ্যাতিমান শিশুসাহিত্যিক, ছড়াকার ও সাংবাদিক রফিকুল হক দাদুভাইয়ের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী আজ এক শোক বার্তায় মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। খবর বাসস।

অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকেও দাদুভাইয়ের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়েছে। শোকবার্তায় বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “রফিকুল হক ‘দাদুভাই’ এর ইন্তেকালে মরহুমের শোকাহত পরিবারবর্গের মতো আমিও গভীরভাবে সমব্যাথী। দেশের একজন প্রবীণ সাংবাদিক হিসেবে তিনি ছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয়।   এই গুণী ব্যক্তিত্ব সাংবাদিকতায় নিবিড় পেশাদারিত্বের উজ্জল স্বাক্ষর রেখেছেন। তার মৃত্যুতে দেশ একজন বরেণ্য সাংবাদিক ও শিশু সংগঠককে হারালো, এ শূন্যস্থান সহজে পূরণ হবার নয়।”
এছাড়াও বিভিন্ন মহল থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে।

১০ অক্টোবর রবিবার সকাল ১১টায় ঢাকায় নিজ বাসায় ইন্তেকাল করেন তিনি ( ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।

রফিকুল হক বাধ্যর্কজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। গত বছর পরপর দুইবার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। সুস্থ হয়ে কর্মস্থল যুগান্তরে যোগ দিলেও বার্ধক্যসহ নানা জটিলতায় প্রায় ছয় মাস আগে মুগদার বাসায় পুরোপুরি শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন তিনি। মৃত্যুর আগে তিনি স্ট্রোক করেন।

রফিকুল হকের জন্ম ১৯৩৭ সালের ৮ জানুয়ারি। তার জন্মস্থান রংপুরের কামালকাছনায়। তার দুই ছেলে এক মেয়ে। বড় ছেলে আমেরিকাপ্রবাসী।

জীবন ও কর্ম

সত্তরের দশকে গড়া শিশুকিশোরদের সংগঠন ‘চাঁদের হাটে’র প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন যুগান্তরের ফিচার এডিটর দাদুভাই।

এর আগে তার পরিকল্পনায় এবং তার তত্ত্বাবধানে দৈনিক পূর্বদেশে ‘চাদের হাট’ নামে ছোটদের একটি পাতা বের হতো। তখন থেকে তিনি ‘দাদু ভাই’ নামে পরিচিতি পান। পরে ১৯৭৪ সালে ‘চাঁদের হাট’ নামে শিশু সংগঠন গড়ে তোলেন।

১৯৭২ সাল দেশে প্রত্যাবর্তনের পর চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু লন্ডন যান। তার দেশে ফিরে আসা উপলক্ষ্যে সেই সময়ের বহুল প্রচারিত দৈনিক ‘পূর্বদেশ’ একটি বিশেষ সংখ্যা বের করে। ওই পত্রিকার প্রথম পাতায় বঙ্গবন্ধুর ছবির সঙ্গে ‘ঘরে ফিরা আইসো বন্ধু’ শিরোনামে একটি কবিতা ছাপা হয়। রফিকুল হকের লেখা ওই কবিতা খুবই আলোচিত হয়।

তিনি যুগান্তরের ফিচার এডিটর ছাড়াও ওই প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে ছিলেন। নব্বই দশকে প্রতিষ্ঠিত দৈনিক রূপালীর নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন বর্ষীয়ান এ সাংবাদিক।

এর আগে দৈনিক জনতার নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন। কাজ করেছেন দৈনিক লাল-সবুজ, আজাদ, বাংলাদেশ অবজারভারে।

সত্তর দশকে শিশুকিশোরদের জনপ্রিয় ‘কিশোর বাংলা’ নামের সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদকও ছিলেন তিনি।

আশির দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য ‘নিধুয়া পাথার কান্দে’ নামে একটি নাটক লিখেছিলেন তিনি, যা পরে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। ‘বর্গি এলো দেশে’সহ তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা সাতটি।

পুরস্কার ও সম্মাননা

বাংলা শিশুসাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য রফিকুল হক দাদুভাই ২০০৯ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একই বছর বাংলাদেশ শিশু একাডেমি পুরস্কার, অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার, চন্দ্রাবতী একাডেমি পুরস্কার, নিখিল ভারত শিশুসাহিত্য পুরস্কারসহ দেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন পুরস্কার লাভ করেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.