মুগ্ধতা.কম

২৮ এপ্রিল, ২০২০ , ৭:০২ পূর্বাহ্ণ ; 584 Views

মাঝ রাতে সাইরেন, লাউডস্পিকারের ব্যবহার: ইসলাম কী বলে?

মাঝ রাতে সাইরেন, লাউডস্পিকারের ব্যবহার ইসলাম কী বলে

حامدا و مصليا

ইসলাম শান্তি ও নিরাপত্তার কথা বলে । অপরের ক্ষতি না করা , কথায়, কাজে-কর্মে কাউকে কষ্ট না দেয়া, মুসলিম- অমুসলিমের পার্থক্য নির্ণয়ের আগে মানুষ কে মানুষ হিসেবে বিচার করা, এটাই ইসলামের শিক্ষা ।

قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ وَالْمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ مَا نَهَى اللهُ عَنْهُ.

আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু ‘আম্‌র (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

নবী সা. বলেছেনঃ প্রকৃত মুসলিম যার যবান ও হাত থেকে মুসলমান নিরাপদ থাকে। আর প্রকৃত মুহাজির সেই, আল্লাহ্‌ যা নিষেধ করেছেন, তা পরিত্যাগ করে।  (বুখারী)

، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ، أَنَّهُ وَصَفَ حُسْنَ الْخُلُقِ فَقَالَ هُوَ بَسْطُ الْوَجْهِ وَبَذْلُ الْمَعْرُوفِ وَكَفُّ الأَذَى ‏.‏

সদাচার ও উত্তম চরিত্রের বর্ণনা দিতে গিয়ে আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক (রহঃ) বলেন, তা হলো হাস্যোজ্জ্বল চেহারা, উত্তম জিনিস দান করা এবং কষ্ট দেয়া হতে বিরত থাকা। [তিরমিজি, হাদিস নং ২০০৫]

প্রত্যেকে যদি একটু উপলব্ধি করি, হাদিসে ‘মুসলিম’ শব্দটির  সজ্ঞায়িত করা হয়েছে আমরা এতে আছি কি না। আমরা অনেকে ইসলাম কে নামায, রোযা, হজ্ব, যাকাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করেছি। শিষ্টাচার সামাজিকতা ইসলামের একটি বড় অধ্যায়। নামায পড়তে গিয়েও অন্যকে কষ্ট দেই। অথচ আল্লাহর রাসুল সা. যখন তাহাজ্জুদে উঠতেন নিজের স্ত্রীও যেন ঘুমের বিঘ্নতায় কষ্ট না পান, যথেষ্ট খেয়াল রাখতেন।
আয়িশা রা. বলেন :

رَقَدْتُ، ثُمَّ انْتَعَلَ رُوَيْدًا، وَأَخَذَ رِدَاءَهُ رُوَيْدًا، ثُمَّ فَتَحَ الْبَابَ رُوَيْدًا، وَخَرَجَ وَأَجَافَهُ رُوَيْدًا، :ظِ

‘যখন তাঁর ধারণা হল আমি ঘুমিয়ে পড়েছি। তারপর আস্তে করে জুতা পড়লেন, আস্তে চাদর নিলেন, তারপর আস্তে করে দরজা খুললেন এবং আস্তে করে বের হলেন এবং আস্তে করে দরজা বন্ধ করলেন। [আন-নাসায়ী, হাদিস নং ৩৯৬৪]

হাজরে আসওয়াদ একটি গুরুত্ববহ পাথর। এখানে চুমু দেয়া মানে আল্লাহর সাথে মুসাফাহা করা। গুনাগুলো ঝরে ঝরে পড়ে যায়। রাসূল্লাহ সা. চুমু দিয়েছেন। সাহাবা কেরাম চুমু দিয়ছেন। কিন্তু  চুমু দিতে গিয়ে যদি ধাক্কাধাক্কি করে অন্যের কষ্ট হয়, তাহলে ছোয়াব তো দূরের কথা সে গুনাগার হবে।সুতরাং ইবাদত করতে গিয়ে ইসলামী শিষ্টাচার অবশ্য খেয়াল করতে হবে।

আমাদের দেশের অধিকাংশ মাসজিদে মধ্যরাতে সাইরেন অথবা লাউড স্পিকারের অপরিমিত অপব্যবহার যথেষ্ট হয়। অনেক মসজিদে দীর্ঘ সময় ইসলামি গান-গজল, কুরআন তেলাওয়াত, ওয়াজ- নসিহাত, টেপ রেকর্ডার, মোবাইল উঁচু আওয়াজে বাজানো হয়। অজান্তেই গোনাহ করছে, দেখার কেউ নেই ! জেলা শহরগুলোতে মাইক বাজিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে থাকে।

অথচ শেষ রাত দুআ কবুলের গুরুত্বপূর্ণ সময়। এসময় যে কেউ দুআ করলে আল্লাহ তা কবুল করেন। আল্লাহর প্রিয় বান্দারা এ সময় তাহাজ্জুদের সালাত আদায়, কুরআন তিলাওয়াত করেন, গুনাহ মাফের জন্য কান্নাকাটি করেন। এরুপ মূল্যবান সময়ে ইবাদাতে বিঘ্ন সৃষ্টি করা নিঃসন্দেহে গুনাহের কাজ।
এ ছাড়া রোগী, শিশু, অমুসলিম, যাদের উপর রোযা ফরজ হয়নি তাদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। শব্দ দূষণ একটি নীরব ঘাতক। অতএব, সমস্যাটিকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। ‘দংশেনি যারে বুঝিবে সে কিসে’ শব্দ দূষণের কারণে উচ্চরক্তচাপ, মাথা ধরা, অজীর্ণ, অনিদ্রা ও ফুসফুসে ক্ষতিসহ নানারকম মানসিক সমস্যার সৃষ্টি হয়।

রাসূলুল্লাহ সা. বলেন :

عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى الْمَازِنِيِّ عَنْ أَبِيْهِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا ضَرَرَ وَلَا ضِرَارَ.

‘নিজের স্বার্থে অন্যের ক্ষতি করবে না, তদ্রুপ পরস্পর কারো ক্ষতি করবে না। [ইমাম ইবনু মাজাহ ২৩৪০]

দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়ায়: মাঝ রাতে লাউড স্পিকারের অপব্যবহার কে গর্হিত কাজ এবং অন্যের উপর জুলুম আখ্যায়িত করেছে।

سحری کے وقت دو، ڈھائی بجے سے اعلانات کا سلسلہ شروع کردینا اور بآواز بلند کوئی وعظ وغیرہ سنانا امر منکر ہے اور یہ لاوٴڈ اسپیکر کا ظالمانہ استعمال ہے، اس سے برادران وطن ، وغیرہ سنانا امر منکر ہے اور یہ لاوٴڈ اسپیکر کا ظالمانہ استعمال ہے، اس سے برادران وطن ، بچے            بوڑھے اور بیمار و معذور۔۔۔۔۔۔۔۔۔۔۔۔۔۔۔۔۔۔۔۔۔۔۔۔۔۔۔۔۔۔۔۔۔۔واللہ تعالیٰ اعلم

(دارالافتاء،دارالعلوم دیوبند ) 

তাছাড়া বর্তমান সময়ে এটি অপ্রয়োজনীয়। নিজ নিজ ব্যবস্থাপনায় ঘড়ি, মোবাইলে এলার্ম দিয়েই রাখে। তারপরেও যদি আপনি ছোয়াবের জন্যে কোন ভাইয়ের ইকরাম করার প্রবল আগ্রহ রাখেন,  তাহলে যাদের প্রয়োজন তাদের নম্বর সংগ্রহে রাখতে পারেন। যথা সময়ে কল দিবেন ইনশা আল্লাহ ছোয়াবের আশা করা যায়। নচেৎ যাদের প্রয়োজন নেই তাদের ক্ষতি করে বরকতময় মাসে রমযানের ত্রিশটি দিনই কষ্ট দিলেন। অজান্তেই গুনাহের বোঝাটা বহন করতে হলো। আল্লাহ মাফ করবেন না, যদি সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তি মাফ না করেন। যেহেতু এটি বান্দার হক। আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুন।

 

আয়াতুল্লাহ রাসেল
মুফতি ও মুহাদ্দিস
জামিয়া গাফুরিয়া ইসলামপুর, মোমেনশাহী।

 

প্রতিদিনের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি জানতে ক্লিক করুন এখানে