শিশুর খাদ্যে অনিহা

ডা.ফেরদৌস রহমান পলাশ

৮ মার্চ, ২০২০ , ২:৫৮ অপরাহ্ণ ; 1146 Views

মিতুর বয়স ৩ বছর। বাবা – মায়ের একমাত্র সন্তান। মা সারাক্ষণ মিতুর খাবার নিয়ে চিন্তিত।

খাবার নিয়ে সকালবিকাল, রাত ছুটাছুটি। চোর পুলিশ খেলা। খাবারের বাটি দেখলেই মিতু পালিয়ে যায়, পিছু পিছু মিতুর মা।প্রতিদিনের রুটিন কাজ।

মিতুর না খাওয়া পরিবারে অশান্তি ডেকে এনেছে।

শুধু মিতুর মা না,বেশিরভাগ মায়েদের একই অভিযোগ, আমার বাবুটা কিছুই খায় না।

এর সমাধান করতে হলে প্রথমে আমাদের বুঝতে হবে, আমরা খাই কেন? উত্তর সহজ, ক্ষিধা লাগে তাই খাই।

তাই যদি হয় তাহলে শিশুদেরও ক্ষিধা লাগে বলেই খায়। ক্ষিধা না লাগলে খাবে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো,শিশুদের ক্ষিধে লাগার সময়টুকুও দেওয়া হয় না।

প্রতি ঘন্টায় ঘন্টায় মা শিশুকে কিছু না কিছু খাওয়াচ্ছে, এর ফলে শিশুর ক্ষিধা আর পায় না। ফলে পেট ভরে খায় না।

একবার খাওয়ানোর পর অন্যবার খাওয়ানোর জন্য ন্যুনতম ব্যবধান ৪-৬ ঘন্টা হওয়া উচিত। এতে করে শিশু আগ্রহ করে খাবে।

আর একটা বড় সমস্যা হলো জাংক ফুডের সহজলভ্যতা। এখন রাস্তার পাশে ছোট দোকানে দোকানে ঝুলছে চিপসের প্যাকেট, চানাচুর, বিস্কুট। শহরজুড়ে ফাস্ট ফুডের দোকান।

মা- বাবা, আত্মীয় স্বজনরাও খুশি মনে শিশুকে চিপস, কোল্ড ড্রিংক কিনে দিচ্ছেন। আমরাও কারো বাড়িতে বেড়াতে গেলে চিপস নিয়ে যাচ্ছি। এসব খেয়ে শিশু কিছুটা এনার্জি পেলেও পুষ্টি পাচ্ছে না। ফলে শিশুর খাদ্যে অনিহা দেখা দিচ্ছে, ফলে শিশুর স্বাস্থ্য খারাপ ও মেজাজ খিটমিটে হয়ে যাচ্ছে।

করণীয়:
১. শিশুকে পুষ্টিকর বাড়ির তৈরি হাঁড়ির খাবার খাওয়াতে হবে।

২. বাইরের চিপস, চানাচুর, বিস্কুট খাওয়ানো যাবে না।

৩. প্রতিদিন একই খাবার না খাইয়ে, একেকদিন ভিন্ন স্বাদের খাবার খাওয়াতে হবে।

৪. খাবার নিয়ে জোরাজুরি করা যাবে না।

৫. প্রতিদিন কিছু ফল খাওয়ানো অভ্যাস করুন।

৬. প্রতি ৬ মাস অন্তর অন্তর চিকিৎসকের পরামর্শমতো কৃমির ঔষধ খাওয়াবেন।

এরপরও যদি অবস্থার উন্নতি না হয় তবে শিশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

 

ডাঃ ফেরদৌস রহমান পলাশ

সহযোগী অধ্যাপক (শিশু বিভাগ), প্রাইম মেডিকেল কলেজ, রংপুর।
★ রংপুর চেম্বার: প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর। সিরিয়াল: 01723672651
★ বদরগন্জ চেম্বার: হেলথ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বদরগঞ্জ, রংপুর

ডা.ফেরদৌস রহমান পলাশ
Latest posts by ডা.ফেরদৌস রহমান পলাশ (see all)

Leave a Reply

Your email address will not be published.