সাহিত্যে নোবেল-২০২১: আবদুল রাজাক গুরনাহ

রানা মাসুদ

৭ অক্টোবর, ২০২১ , ১১:৪৮ অপরাহ্ণ ; 59 Views

সাহিত্যে নোবেল-২০২১: আবদুল রাজাক গুরনাহ 1

তৃতীয় বিশ্বে জন্ম নেয়া একজন ঔপন্যাসিকের কারণেই শুধু নয় বরং তাঁর ঔপনিবেশিকতা এবং শরনার্থীদের জীবনের প্রতি যে গভীর মমত্ব এবং সেই মমত্বের বিচ্ছুরণ তাঁর লেখার ছত্রে ছত্রে পরিস্ফুটিত হয় তাই যেন আমাদের শ্রদ্ধা-ভালোবাসার জায়গা করে নিয়েছে। এই শ্রদ্ধাবোধ বৈশ্বিক বলেই তিনি জয় করেছেন বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মান সাহিত্যে নোবেল পদক।

বলছিলাম এবারের (২০২১) সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী লেখক তানজানিয়ার আবদুল রাজাক গুরনাহ’র কথা। তানজানিয়ার কথা বলা হলেও তিনি মূলত একজন শরনার্থী। আবদুল রাজাক গুরনাহ’র জন্ম আফ্রিকার দেশ তানজানিয়ার জাঞ্জিবার দ্বীপে ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে ঠিক যখন আমরা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকতা থেকে বের হয়ে এসে নিজ পথ চলার চেষ্টা করছি। আবদুল রাজাক মাত্র ১২ বছর বয়সে ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে যুক্তরাজ্যে শরণার্থী হিসেবে যান। নাইজেরিয়াতেও কিছুদিন কেটেছে শরণার্থী জীবন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যেই থাকেন এবং বিখ্যাত কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন, তাও আবার ইংরেজি সাহিত্যে। বলা চলে সাহিত্য পরিমণ্ডলেই তাঁর চলাচল।

এ পর্যন্ত তাঁর দশটি উপন্যাস এবং ছোটগল্প ও বেশ কিছু প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে কিন্তু ক্রিটিকসদের দৃষ্টি যেমন উপন্যাস ‘প্যারাডাইস’-এর প্রতি অধিক আকৃষ্ট হয়েছে তেমনি এই ‘প্যারাডাইস’ নামের তাঁর চতুর্থ উপন্যাসটি বুকার পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিল ১৯৯৪তে। বুকার না পেলেও ভক্তদের হতশা একদম প্রশমিত হয়ে গেছে আজ বৃহস্পতিবার সাহিত্যে ১১৮তম নোবেল বিজয়ী হিসেবে রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি কর্তৃক আবদুল রাজাক গুরনাহ’র নাম ঘোষণার মাধ্যমে।
মূলত তাঁর লেখায় ঔপনিবেশিকতার দুর্দশা এবং নিজের প্রত্যক্ষদর্শনের অভিজ্ঞতা থেকে শরণার্থীদের জীবন, কষ্ট এবং অপরাপর বিষয় উঠে এসেছে। আমরা যদি ২০১৮ এর নোবেল বিজয়ী ওলগা তোকাচুকের কথা ধরি, তিনিও তাঁর জীবনের ঘাত প্রতিঘাতের অর্জিত অভিজ্ঞতার যে শৈল্পিক প্রতিচ্ছবি দর্পিত করেছেন শব্দের নিপুণতায় ঠিক তুলনা নয় অনুরূপ জীবন অভিজ্ঞতার শৈল্পিক বর্ণনা এবারের নোবেল লাভ মূলত এই ম্যাসেজ দেয়, সাহিত্যে পরাবাস্তবতার চেয়ে বাস্তব অতি বেশি মূল্যায়িত, অতি বেশি দরকারি নান্দনিকতা।

এই দূর দেশ, অচিন ভাষা এবং অতি নগন্য একজন সাহিত্যকর্মী হিসেবে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানাই শ্রদ্ধেয় আবদুল রাজাক গুরনাহকে আপনার দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন কামনা করছি সৃষ্টিকর্তার কাছে। মূলত এই বিজয় সকল ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে একটা অর্জন। আমরাও দীর্ঘদিন ঔপনিবেশিকতার শাসনে জর্জরিত হয়েছিলাম।

*রানা মাসুদ, সাহিত্যকর্মী, রংপুর।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •