মুগ্ধতা.কম

২০ এপ্রিল, ২০২০ , ৫:৩৯ অপরাহ্ণ ; 744 Views

তুই  হাল্যায় নাস্তিকের বাচ্চা

তুই  হাল্যায় নাস্তিকের বাচ্চা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

গাড়িঘোড়া চইলচে না, ইতে কী অইচে! মাশাল্লাহ মার্কান ঠ্যাঙ দুইখান রইছে না। বাঘের হাইড্ডির লাহান কী ছইক্ত আর মইজবোত। হ্যার কুনু হ্যাঁছফ্যাঁছ নাই। হ্যায় টাট্টু ঘোড়ার লাহান টগবইগে। কাইতান শাঁতায়ের লাহান পাগইল্যা। হ্যার উপর ভর কইরা ঈশ্বর তুমারে এই পৃথিবীতে পাডাইচে।

হাল্যায়, পৃথিবী অ্যাকডা ছুয়োরের বাচ্চা। হাল্যায়, ঈশ্বর অ্যাকডা বাইন…। তওবা… তওবা… তওবা। হায় কী কইতাচি! কারে গালি দিতাচি? নাউযুবিল্লাহ! আছতাগফিরুল্লাহ! হাল্যায় শ্রমিকের বাচ্চা। তর কুনু ধর্ম-কর্ম নাই। হাল্যায় নাস্তিুকের বাচ্চা। য্যামনেই হউক আইজকের মইধ্যে ঢাহা যাইতে অইবোই অইবো। ঠ্যাঙের প্যাডেলডা আরেকডু বাড়াইয়্যা দে।

আহা মাশাল্লাহ মার্কান ঠ্যাঙ দুইখান মোর…

আহা টাট্টু ঘোড়ার লাহান টগবইগে ঠ্যাঙ দুইখান মোর…

চোপ বি হাল্যায় শ্রমিকের বাচ্চা। তুই কী মানুছ! মানুছ ত অইলো গিয়্যা হ্যাই রুবানা হকেরা। হ্যাই ওবায়দুল কাদের সাবরা। অ্যাছির হাওয়া ছাড়া যাগো ঘুম আহে না। যাগো হকালের কতা বিকাল আহনের আগেই বদলায়া যায়গা ম্যাঘের লাহান। যাগোর অ্যাকডা বিবৃতিতে ছারা দ্যাশ লকডাউন অইয়া যাইবার পারে। যাগোর ব্ইুড়া আঙ্গুলির অ্যাকডা তুড়িতেই কাকের লাহান মোরা উইড়া আইবার পারি ঝাঁকে ঝাঁকে এই ঢাহা শহরোত। তুই ত  হাল্যায় শ্রমিকের বাচ্চা। মাইনছের বাচ্চাগুলো ইংরেজিতে তোগো ওয়ার্কার কইয়া ডাহে।

তুই  হাল্যায় নাস্তিকের বাচ্চা 1

তুই হাল্যায় ওয়ার্কারের বাচ্চা। ওয়ার্কারের মানে বুঝোস? বুঝোস না। হাল্যায় বুঝবা ক্যামনে মূর্খের বাচ্চা। তুই ত হ্যাগো লাহান ভার্সিটিত পড়োস নাই। লন্ডন, নিউইয়র্ক, ছিডনিতে যাইস নাই। ডোনাল্ড ট্রাম্প, নরেন্দ্র মোদির লাহান নামিদামি  মাইনছের ছাথে হাত মিলাইস নাই।

তয় হুন হাল্যায় ওয়ার্কারের বাচ্চা, ওয়ার্কার মানে অইলো, কাম কইরতে গিয়্যা তামান্না গাইরমেন্টসের আগুনে পুইড়া ঘরে ফেরা। পুঙ্গু অইয়া বাকিডা জেবন মরার লাহান বাঁইচ্যা থাহা। জেবনের ঝুঁকি লইয়া কাম কইরতে গিয়া রানা প্লাজার ইট-পাথরোত পিষ্ট হইয়া মইরা যাওয়া। বউরে বিধবা বানা। বাচ্চাদের ইতিম বানা। বাপমায়ের বুক খালি কইরা দ্যায়া। হেই মাসের মাইনে পরের মাসে লইতে লইতে বকেয়ার খাতা ভারি কইরা দ্যায়া। দোহানির ফকিরনির বাচ্চা…গরিবের বাচ্চা মার্কান গালি হুইনাও ফের বাকিবাট্টার লাগি গিয়্যা খাড়ন থাহা। ওয়ার্কার মানে অইলো, কুত্তার বাচ্চা…শুয়োরের বাচ্চা…গালি গুঁত্তা খাইয়্যাও বিশ্বস্ত কুত্তার লাহান মালিকরে প্রভুভক্ততা দেহানো।

তুই হাল্যায় শ্রমিকের বাচ্চা। তুই হাল্যায় ওয়ার্কারের বাচ্চা। তুই খালি অ্যাটোম বোমের লাহান বিশাল বিশাল কতা হুনবি অর গাধার লাহান হজম কইরবি। মাগার কুনু বমিটমি কইরতে পাইরবি না। পাগোইল্লা কুত্তার লাহান খিস্তি দিতি পাইরবি না। তুই খালি মইধ্যযুগের বাদছাহি ঘোড়াগো লাহান চাবুকের খিচুনি খাইবি মাগার খিচতে পাইরবি না। কুনু চুখ গরম কইরা খিচুনির প্রতিবাদ কইরতে পাইরবি না। মোনে কইরবি, তর কুনু চাবুক নাই। তর কাছোত কুনু চাবুক রাইখবার পাইরবি না। তুই কুনু চাবুক কিনতেও পাইরবি না, বানাইতেও পাইরবি না। মোনে কইরবি, চাবুকের মালিক হেই মাইনছের বাচ্চাগুলাই।

হুট কইরা মাইরা ফালাইলেও তর মরদেহ লইয়া মিচিল কইরতে পাইরবি না। কোর্টকাচারোত বিচার চাইবার পাইরবি না। কারণ দরিয়ার লাহান তর ম্যালা পাকস্থলি রইছে। খিদার লাহান আজব শয়তান রইচে। তৃষ্ণার লাহান নির্দয় পাপ রইচে। অভাবের লাহান পঁচা আবর্জনা রইচে।

উনাগো ঈশ্বর লাহান ঐশ্বর্য রইচে। উনাগো দেবতার লাহান দেমাগ রইচে। উনাগো ট্যাকার লাহান পুণ্য রইচে। আবর্জনার লাহান হেইসব নাই বইলাই উনারা আমগো থাইকা মহান। উনারা মাইনছের বাচ্চা। উনারা ঈশ্বর। উনারা দেবতা। উনাগো ছালাম কইরবি নি…উনাগো সেজদাহ কইরবি নি হাল্যায় শ্রমিকের বাচ্চা। হাল্যায় ওয়ার্কারের বাচ্চা।

ছ্যার, আমগো মাইনছের বাচ্চা কইয়া আপনাগো অপমান কইরেন না। হ্যার চাইতে বালা, কন শ্রমিকের বাচ্চা। ওয়ার্কারের বাচ্চা। তয় বালা হয় ছ্যার। তয় কন ছ্যার। হ ছ্যার, মোরা ত শ্রমিকের বাচ্চাই। মোরা ত ওয়ার্কারের বাচ্চাই। মাইনছের বাচ্চারা কি অ্যাদ্দুর হাঁইটা ঢাহায় আইবার পারে? হাইসা দিলিন নি ছ্যার। আপনাগো হাসন দেহিলে আমগোও হাসি পায়। মাগার মোরা হাইসবার পারি না। কারণ মোরা হাইসা দিলি নাহি পঁচা বাছির লাহান দুর্গন্ধ ছড়ায়। মাইনছের বাচ্চাগো হুন্দর পরিবেছটা নাহি নোংরা অইয়া যায়। ছ্যার গো! ও ছ্যার! মোরা ত আপনাগো লাহান হাইসতে পাইতাচি না। কিয়ামত পইরযন্ত কান্দির লাগিই নাহি আমগো জন্ম অইচে।

কী কইলেন ছ্যার, ছামাজিক দূরত্ব? হেইডা ফের কী জিনোস গো ছ্যার? খায় না মাখে? ঠ্যাঙে দ্যায় না মুখে দ্যায়? মোরা ত কুনুদিন দেহি নাই। কুনুদিন হ্যার নামডাও হুনি নাই। খালি মাইয়াডা যেইবার এসএসসি পরীক্ষায় ফেইল করছিল, হেইবার ছোমাজবিজ্ঞান নামের কুনু অ্যাকডা বিষুই হুইনাছিলাম। অর বি অ্যাকখান কতা হুইনছিলাম যে, ছোমাজবিজ্ঞানের জনকের নাম না ল্যাইখবার ফলে মাইয়্যাডা মোর পাশ কইরবার পারে নাই। কারণ অ্যাকডাই, হেই যে কইলাম, মোরা মাইনছের বাচ্চা না। মোরা শ্রমিকের বাচ্চা। মোরা ওয়ার্কারের বাচ্চা। অয়তো হেইডাও অ্যাকডা কারণ অইবার পারে বৈ কী।

মাস্ক বানা শ্রমিকের বাচ্চা। অ্যাতো ভাবোস না। হেইগুলা তর কাম না। রাষ্ট্র রইচে না। রাষ্ট্রের চিন্তুকরা রইচে না। য্যারা রাষ্ট্রবিজ্ঞান লইয়া বিশাল বিশাল কিতাব ল্যাখে। য্যারা অর্থনীতি লইয়া বড় বড় বিবৃতি দ্যায়। য্যারা মাইনছের বাচ্চা ভাবে নিজেগো। য্যারা মানুছ বইলা দাবি করে নিজেগো। হেইগুলা হ্যাগো কাম। তুই হাল্যায় শ্রমিকের বাচ্চা। তুই হাল্যায় ওয়ার্কারের বাচ্চা। তর কাম মাস্ক বানা। তর কাম ইপিপি বানা। তর কাম হ্যাগো বউদের ব্রেছিয়ার বানা। তর কাম হ্যাগো মাইয়্যাদের ব্রা বানা।

রাষ্ট্রের এহন ম্যালা মাস্ক লাইগবো। ম্যালা ইপিপি লাইগবো। ম্যালা ব্রেছিয়ার লাইগবো। ম্যালা ব্রা লাইগবো। তোর কুনু ইপিপি লাইগবো না। তুই হাল্যায় রাষ্ট্রের কুচ নেহি। আদমশুমারিতে ভুইল কইরা তোগো নাম উইডা গ্যাছে। জাতীয় পরিচয়পত্রটা খালি জাতিছংঘকে দ্যাখায়া কোটি কোটি ডলারের অনুদান লইয়া আহনের লাগি তৈরি করা অইচে। চোপ বি হাল্যায়, তুই সরকারের কুন বালছিরার আব্দুল। তুই শ্রমিক। তুই হাল্যায় শ্রমিকের বাচ্চা। তুই ওয়ার্কার। তুই হাল্যায় ওয়ার্কারের বাচ্চা। তুই হাল্যায় বাইনচোদ… মাদারচোদ…! অর কুচ হুনবি?

চোপ বি হাল্যায়। নিরামেষী হ। তর আমিষ লাইগবো না। মাছের দোহান দিয়্যা হাঁইটবি মাগার ভুইল কইরাও হ্যার দাম হাঁকাইবি না। গোছতের দোহান দিয়্যা আহনের সুমুই ভুইলেও গোছতের দাম জিগাইবি না। কারণ তুই হাল্যায় শ্রমিকের বাচ্চা। তুই হাল্যায় ওয়ার্কারের বাচ্চা। তর মাইনে মাইনছের বাচ্চার মাইনে থাইকা যৎসামান্য। মাইয়্যাডার স্কুলের মাইনে দুইডা মাস বকেয়া রইচে ত কী অইচে! আরেকডা মিথ্যা কতা কইয়া চালাইয়্যা দিবি পরের মাসডাও। মিথ্যা কইলে তর পাপ অইবো না। চোপ বি হাল্যায় শ্রমিকের বাচ্চা। তর ফের বি পাপ-পুণ্য রইচে নি।

জানোস না। হেইডা বাংলাদ্যাশ। হেই দ্যাশে জিনসের দাম বানের জলের লাহান বাড়ে। অর  বি অ্যাকবার বাইড়লে হ্যারে নামানোর লাগি কুনু রুবানা হক পাইবা না, কুনু ওবায়দুল কাদের পাইবা না। হেই দ্যাশে হেইরকম কুনু নজির নাই, কুনু নমুনা নাই। খালি খালি না খাইয়া মরনের গাদি গাদি পাতায় ভরা ইতিহাসের কিতাব পাইবা গাঁও-গেরামের পাঠাগারগুলাতে। তুই হেরাডোটাসকে চিনোস? চিনবি ক্যমনে। তুই ত হাল্যায় শ্রমিকের বাচ্চা, ওয়ার্কারের বাচ্চা।

হেই মাসের মাইনে পরের মাসে লইবি। বাছা ভাড়া বকেয়া রাইখবি। দিতি না পাইরলে বাড়িআলাগোর মাইর খাইবি। অ্যাকডু রক্তাক্ত অইবি। খুউব জোর বাছা থাইকা ঘাড় ধাক্কা খাইয়্যা ফুতপাতে দুই অ্যাকডা রাইত কাটাইবি। অ্যাকডু পুলিশের কিল গুঁত্তা খাইবি। তোর চুখের ছাইমনে নিজের বউ বাচ্চাদের বলাৎকারের ব্লু ফিলিম দেইখবি। হেইডা এমুন কী অছোমাজিক বিষুয়। না অয় কয়ডা দিন বউ বাচ্চার ছোকে কান্দিবি। কান্দিতে কান্দিতে শুইকা কাঁঠালকাঠ অইয়া যাইবি। অর বি জগদ্দল পাথর অইয়া যাইবি। হেইডা এমুন কী দুর্লভ ঘটনা। হেই দ্যাশে এইগুলা ত হরহামেশাই ঘইটা থাহে। হেইসব জানোস না হাল্যায় শ্রমিকের বাচ্চা। হাল্যায় ওয়ার্কারের বাচ্চা।

তোর কুনু ছুটি নাই। তোর কুনু ওগ নাই। তুই কাভি উগি হইবার পারোস না। তর লাগি হেই অধিকার বাংলাদ্যাশ সংবিধানে ল্যাখা বি নাই। তুই ত নাগরিক না। কাশোস ক্যালে। মুখখান চাইপা ধর। মাস্কে বালা কইরা ঢাইকা রাখ। কাশ চাইপা রাইখা কাম কর গা। জ¦রে কাপোঁস না। তর অ্যাকডু কাঁপুনিতে পৃথিবীতে ঘইটা যাইবার পারে স্মরণকালের ভয়াবহ ভূমিকম্প। জানোস ত ভূমিকম্প আইলে কি অয় মোগো? মোগো বউ বিধবা অয়। বাচ্চারা ইতিম অয়। মোগো পরিচয় থাহে না। বেওয়ারিছ লাশগো লাহান ছাড়ে তিন হাত দ্যাশ যাইতে অয়। হেইহানেও হেইসব হয় নাহি?  অই আচমানের মালিক ছাড়া হেই কতা বি মাইনছের বাচ্চারা কইবার পারে না।

কপাল অ্যামনিতেই গরম বইলা কাম চালায়া যা গা। মাস্ক বানা। ইপিপি বানা। ব্রেছিয়ার বানা। ব্রা বানা। রাষ্ট্রের এহন খুউব দুঃসময়। মাইনছের বাচ্চারা এহন খুউব বিপদে রইচে। তুই রাষ্ট্রের দুঃসময়ে হামেছা আছিলি। এহনও থাইকবি। তর কাছে রাষ্ট্র হেইটাই আশা করে। তুই মাইনছের বাচ্চার বিপদে হামেছা আছিলি। এহনও থাইকবি। মাইনছের বাচ্চারা হেইটাই প্রার্থনা করে।

মইরলে মইরবি। চিন্তা করোস ক্যালে হাল্যায় শ্রমিকের বাচ্চা। হাল্যায় ওয়ার্কারের বাচ্চা। মাইনছের বাচ্চারা রইচে না। মানুষ রইচে না। ঈশ্বর রইচে না। দেবতা রইচে। উনারাই তর বেহেশত। উনারাই তর দোজখ। উনারাই তর পাপ। উনারাই তর পুণ্য। উনারাই তর বাড়িতে পাঠাইয়া দিবে হগগোল আমলনামা। তর জমানো চওয়াবে বাচ্চাগোর খালি থালা ভইরা দিবে। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের লাহান অভাব মিটাইয়্যা দিবে। ছবই উনার ইচ্চা। উনি কেডা? য্যানি তুমারে শ্রমিকের বাচ্চা কইরা মাইনছের বাচ্চাদের কাছে পাঠাইছেন। আলহামদুল্লিাহ কইবি নি! সোবহানাল্লাহ কইবি না! তুই হাল্যায় নাস্তিকের বাচ্চা…

 

রেজাউল ইসলাম হাসু
জন্ম : ১৯৮৭ সাল, রংপুর

প্রকাশিত বই দুইটা।
এক. ওকাবোকা তেলাপোকা (২০১৬) -শিশুতোষ
দুই. এলিয়েনের দেশ পেরিয়ে (২০১৭)-শিশুতোষ

 


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •