ডা.ফেরদৌস রহমান পলাশ

Intro

সহযোগী অধ্যাপক (শিশু বিভাগ)
প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
পদাবলি
পদাবলি
পদাবলি
পদাবলি
পদাবলি
পদাবলি
পদাবলি
পদাবলি
পদাবলি

Writter

Intro

সহযোগী অধ্যাপক (শিশু বিভাগ)
প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর

ডা.ফেরদৌস রহমান পলাশ

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ , ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ

ডা.ফেরদৌস রহমান পলাশ

১৩ জুলাই, ২০২০ , ১০:৫৬ অপরাহ্ণ

বর্ষাদিনে

লাল পুকুরে পদ্ম নাই। মাটির রং রক্ত লাল। পুকুরে পদ্ম থাকলে তাকে পদ্মপুকুর বলা যেত। তা সম্ভব হচ্ছে না। তাহমিদের দাদাবাড়ির পুকুরের তাই কোন নাম নাই। পুকুরটি গ্রামের বাড়ির পিছনে বাঁশঝাড়ের পাশে। শখে নয়, কাজে এ পুকুরের জন্ম। মাটি খুঁড়ে ঘর বানানো হয়েছিল। যেখানকার মাটি খোঁড়া হয়েছিল তা এখন পুকুর হয়ে গেছে। গ্রীষ্মের দাবদাহে পানি শুকিয়ে খাঁ খাঁ।

বর্ষায় ভরে ওঠে কানায়-কানায়। বৃষ্টিতে পুকুরে গোসল করতো গ্রামের ছেলেমেয়েরা। টুপটাপ বৃষ্টি পড়তো পুকুরে, শরীরে। সবার সাথে ডুব দিতো তাহমিদ,পানির উপর বৃষ্টির শব্দ। কোন শব্দ শোনা যেত না পানির নীচে। উপরের পানি কেমন হিমশীতল,শরীর কাঁপন ধরে।পানির নীচে গরম।

চাচাতো ভাই কলাগাছ কেটে এনে চোখ বুজে ভেসে থাকতো, যেন ধ্যানমগ্ন ঋষি । তেমনি এক বর্ষাদিন, দুপুরবেলা। তাহমিদ পুকুরপাড়ে। এসেছে বৃষ্টি দেখবে বলে। কেউ নেই সাথিরা। শুধু পুকুরে সাঁতার কাটছে এক মেয়ে।

যে পুকুরে কোনদিন পদ্ম ফোটেনি, আজ সেই পুকুরে মেয়েটি যেন ফুটে আছে পদ্ম হয়ে। পাশের হিন্দুপাড়ার মেয়ে। ইশারায় ডাকলো। একটু ইতস্তত করে পানিতে লাফিয়ে পড়ে তাহমিদ। সাঁতার কাটে এপাড় থেকে ওপাড়। তারপর একটা কলাগাছ ধরে ভেসে থাকা ক্লান্ত হয়ে। ঘরে ফেরার সময় হয়ে যায়। কালো মেয়ে কাজল কালো চোখ তুলে বলে, আজ তবে আসি।

ডা.ফেরদৌস রহমান পলাশের গল্প - বর্ষাদিনে

ডা.ফেরদৌস রহমান পলাশ

৪ এপ্রিল, ২০২০ , ৮:০১ অপরাহ্ণ

শীঘ্রই আসছে করোনার ওষুধ!

ধরুন আপনার প্রিয়জনের যক্ষা কিংবা হাম অথবা ডিপথেরিয়া হয়েছে। কেমন লাগবে? আপনি কি ডিপথেরিয়ার কোন রোগীকে কখনও দেখেছেন?

লালনের যে গুটি বসন্ত হলো। সবাই পরিত্যাগ করলো। তারপর ঠাঁই হলো এক মুসলিম পরিবারে। হয়ে উঠলেন লালন।

সেই গুটি বসন্তে আক্রান্ত কোন রোগীকে এ জীবনে দেখেছেন? খাঁচার ভিতর অচিন, পাখি কেমনে আসে যায়৷ বসে ভাবি পাখি কোথা থেকে এসে, কোথা চলে যায়। কখনও কি ভেবেছেন, মরণঘাতী এ রোগগুলো কীভাবে কোথায় চলে গেল? এ মরণব্যধিগুলোকে তাড়িয়েছে টিকার আবিস্কার।

শতশত বছর আগেই বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা সাপের বিষ পান করতো বিষে বিষ ক্ষয় করার জন্য।

টিকার জনক এডওয়ার্ড জেনার প্রথম তের বছর বয়সী এক ছেলের শরীরে গরুর পক্স প্রবেশ করান গুটি বসন্তের হাত থেকে রক্ষা পাবার জন্য, সময়টা ছিল ১৭৯৬।

বৈপ্লবিক সূচনা ১৭৯৮ সালে প্রথম গুটি বসন্তের টিকা আবিস্কারের মাধ্যমে। সেই গুটি বসন্ত পৃথিবী থেকে ঝেঁটিয়ে বিদায় ১৯৭৯ সালে। এরপর কত ধরণের টিকা হাম, রুবেলা, ডিপথেরিয়া, হুপিং কফ, টিটেনাসকে শিকল পরিয়ে রাখা হয়েছে।

আর এখন করোনার আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য গবেষকরা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে টিকা আবিস্কারের। বিশ্বের নামকরা সব প্রতিষ্ঠান দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। টিকা আবিস্কার সময়ের ব্যাপার। সময় লাগবে এক থেকে দেড় বছর। এতো সময় কই সময় নষ্ট করার?

আসছে করোনার ওষুধ

তাই গবেষকরা করোনা সারানোর দাওয়াই তৈরিতে ব্যস্ত। বেইলর কলেজ অফ মেডিসিন ন্যাশনাল স্কুল অফ ট্রপিকাল মেডিসিন হাউসটন টেক্সাসের ভাইরোলজিষ্ট প্রফেসর পিটাট জে হর্টজ বলেন, কোভিক-১৯ এর জরুরী চিকিৎসা হিসেবে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর ব্যক্তির শরীরে যে এন্টিবডি পাওয়া যায় তা করোনায় আক্রান্ত অসুস্থ মানুষের শরীরে প্রয়োগ করে ফল পাওয়া যেতে পারে।

তাঁর মতে আগামী ছয় মাসের মধ্যে এন্টিভাইরাল ড্রাগ চলে আসবে। পঁচিশ বছর ধরে ইসরায়েলের রিসার্স বিভাগের প্রধান আবু লাফিয়া লাপিত বলেন, ইসরায়েল এরই মধ্যে এগারোটি ওষুধ ট্রায়াল দেবার জন্য প্রস্তুত করে রেখেছে।

সেসব ওষুধ হয় এককভাবে নয়তো কয়েকটা ওষুধ মিলে ককটেল থেরাপি হিসেবে ব্যবহৃত হবে। তবে তার আগে অনুমোদন নিতে হবে বিজ্ঞানীদের, এফডিএ সহ যারা জড়িত একাজে।

ক্যালিফোর্নিয়ার বায়োটেক কোম্পানি জিলিয়ার্ড সাইন্স পরীক্ষামূলকভাবে এন্টিভাইরাল রেমডিভিসির যা ইবোলায় আক্রান্তদের ব্যবহার করে সফলতা লাভ করেছিল তা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করোনায় আক্রান্তদের ব্যবহার শুরু করে দিয়েছে। হয়তো আগামী ছয় মাসের মধ্যেই আমরা করোনার ওষুধ হাতে পেয়ে যাব। থেমে নেই গবেষণা।

রাতদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন আমাদের জন্য গবেষকরা। মানুষের পাশে মানুষ ছাড়া বিপদে আর কেই বা দাঁড়ায় বলেন।

টিকা তৈরি আসলে কতদূর?

বিজ্ঞানীরা বলছেন, করোনারও টিকা তৈরি হবে। তবে কতদিন সময় লাগবে সেটাই হচ্ছে কথা।

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের গবেষকরা আশাবাদী:

মারাত্মক আকার ধারণ করা করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা আমেরিকার গবেষণাগুলো বলছে, এক বছরের মধ্যে লাখ লাখ টিকার তৈরি হওয়াটা উচ্চাকাঙ্ক্ষা। তবে এখানে একটি কোম্পানি মানবদেহে করোনাবিরোধী একটি ভ্যাক্সিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করেছে। তবু এর যাত্রা অনেক লম্বা। আবার যুক্তরাজ্যের গবেষকরাও বলছে মে মাসের মধ্যে নতুন কিছু করা সম্ভব না, যাতে মৃত্যুর মিছিল থামানো যাবে।

তবে মুকসাল ইনফেকশনা অ্যান্ড ইমিউনিটি বিভাগের প্রধান ড রবিন শ্যত্তকের নেতৃত্বে যুক্তরাজ্যের গবেষকরা বলছেন, তারা ইঁদুরের শরীরে সফলভাবে করোনার টিকা প্রয়োগ করেছেন এবং আগামী জুনের মধ্যে মানব শরীরে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করতে পারবেন।

এদিকে ইমপেরিয়াল কলেজ লন্ডনের সিনিয়র গবেষক ড পল মিকি বলেন, ‘আমি ভ্যাকসিন প্রয়োগের (ইঁদুরের শরীরে) এক মাস পর ফলাফল পেয়েছি এবং এটি সত্যি দারুণভাবে কাজ করেছে।’

বানরের শরীরে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নির্ধারণের জন্য দলটি প্যারিসের বিজ্ঞানীদের সাথে কাজ করছে বলেও জানান মিকি।

কানাডা:

কানাডিয়ান বিজ্ঞানীদের একটি দল সফলভাবে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের চেষ্টা করছে এবং বিশ্বে মহামারি আকার ধারণ করা করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করতে তারা কয়েক ধাপ এগিয়ে গেছে। খবর নিউইয়র্ক পোস্ট।

কানাডার করোনা আক্রান্ত রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে ইউনিভার্সিটি অব টরেন্টোর সানিব্রুক রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং ম্রাকমাস্টার ইউনিভার্সিটির গবেষকরা এ নিয়ে কাজ করছেন।

চীন:

করোনাভাইরাসের টিকা বা ভ্যাকসিন আবিষ্কারে চীনের আটটি প্রতিষ্ঠান পাঁচটি উপায়ে কাজ করছেন বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক পোস্ট। চীনের বিজ্ঞানীদের বরাত দিয়ে এতে বলা হয়, জরুরি পরিস্থিতিতে এবং ক্লিনিকালি আগামী মাসে প্রয়োগ করা হবে।

ইসরাইল:

দ্য ইকনোমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের অগ্রগতি নিয়ে কিছু দিনের মধ্যেই ঘোষণা দিতে যাচ্ছে ইসাইলের বিজ্ঞানীরা।

ইসরাইলের গণমাধ্যম হায়ের্টাজের গত বৃহস্পতিবার দেশটির মেডিকেল সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তদারকিতে ইসরাইল ইনস্টিটিউট ফর বায়োলজিক্যাল রিসার্চ করোনার টিকা আবিষ্কারের পথে তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি করেছে।

তবে করোনার এ টিকা মানব শরীরে কার্যকরভাবে প্রয়োগের আগে বেশ কয়েকটি পরীক্ষা পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। এজন্য কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের সর্বশেষ পরিসংখ্যান জানার অন্যতম ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে শনিবার পর্যন্ত ১০ লাখ ৯৮ হাজার ৪৩৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। যাদের মধ্যে ৫৯ হাজার ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

তথ্যসূত্র: জেরুজালেম পোস্ট ও ইউএনবি

 

ডা. ফেরদৌস রহমান পলাশ
সহযোগী অধ্যাপক
প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর

 

শীঘ্রই আসছে করোনার ওষুধ!

ডা.ফেরদৌস রহমান পলাশ

৩ এপ্রিল, ২০২০ , ২:০৪ অপরাহ্ণ

করোনা ভাইরাস: সংক্রমণের নতুন ও ব্যতিক্রমী কিছু লক্ষণ

শিকারি বিড়াল চেনা যায় তার গোঁফ দেখে আর রোগ চেনা যায় তার লক্ষণ দেখে। একেক রোগের একেক লক্ষণ। শ্বাসকষ্ট হলে হয় এ্যাজমা অথবা নিউমোনিয়া। পাতলা পায়খানা হলে ডায়রিয়া। তেমনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে, গলা ব্যথা, জ্বর আর শ্বাসকষ্ট। এসব কথাই আমাদের জানা কিন্তু এসব ছাড়াও কিছু অস্বাভাবিক লক্ষণ নিয়েও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীরা আসছেন চিকিৎসকের কাছে।

তার একটি হলো রুগীর স্বাদ ও গন্ধ নেবার ক্ষমতা হ্রাস পায়। এ বিষয়ে মুগ্ধতা ডট কম আগে আমার আরেকটি লেখা প্রকাশ করেছিল। রোগী খাদ্যের স্বাদ বুঝতে পারে না আবার অনেকে কোনকিছুর গন্ধ পান না।

এখন নতুন করে জানা যাচ্ছে, এই ভাইরাসের সংক্রমণে কেউকেউ মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভোগে। সময়,স্থান, নাম সঠিকভাবে বলতে পারে না। অসামঞ্জস্যপূর্ণ আচরণ করেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে এনসেফালোপ্যাথি বলে।

৭৪ বছর বয়সের একজন বৃদ্ধ জ্বর এবং কাশি নিয়ে ফ্লোরিডার এক হাসপাতালে জরুরি বিভাগে যোগাযোগ করেন। তার সমস্যা ছিল জ্বর ও কাশি। এক্সরে করার পর নিউমোনিয়ার কোন লক্ষ্মণ না পাওয়ার কারণে তাকে বাসায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। পরের দিন তাকে আবার হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার আত্মীয়রা।

দেখা গেল তার শ্বাসকষ্ট এতই বেড়েছে যে তিনিরতার নামও বলতে পারছেন না। পরে পরীক্ষা করে তার করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে।

আর একজন রোগী মাথা ব্যথা নিয়ে চিকিৎসকের চেম্বারে আসেন। তিনি তার নাম বলতে পারলেও অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। ফলে চিকিৎসক ব্রেনের সিটি স্ক্যান করালে দেখতে পান, ব্রেনের স্থানে স্থানে ফুলে গেছে এবং কিছু কোষও মারা গেছে।

হেনরী ফোর্ড হেলথ সিষ্টেমের চিকিৎসক ডা.এলিসা ফোরি বলেন, এতে প্রমাণিত হয় অনেকসময় করোনা ভাইরাস ব্রেনকেও আক্রান্ত করতে পারে।
তবে জন হফকিন্স স্কুল অফ মেডিসিনের নিউরোলজিষ্ট ডা.রবার্ট ষ্টিভেনস বলেন, কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী মানসিকভাবে কোন অসংলগ্ন আচরণ করে না। তারা জাগ্রত এবং নিউরোলজিকাল পরীক্ষায় স্বাভাবিক থাকে। আর যাদের ব্রেনের অস্বাভাবিক আচরণ পরিলক্ষিত হয় তাদের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, শ্বাসকষ্টের কারণে ব্রেনে অক্সিজেন সাপ্লাই কম হয় এবং কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যায়।

চিকিৎসা বিষয়ক জার্নাল ল্যানসেটের তথ্যমতে করোনার ১৭% রোগী অর্গান ফেইলর, ৮% তীব্র শ্বাসকষ্ট, ৩% কিডনি ফেইলর, ৪% রক্তে ইনফেকশন, ১% ভেন্টিলেটরে থাকার কারণে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়। এতদিন আমরা শুধু যেসব লক্ষণ নিয়ে কথা বলতাম এখন এসব নতুন লক্ষণের দিকেও তাদের দৃষ্টিপাত করতে হবে।

 

তথ্যসূত্রঃ গালফ নিউজ

 

ডা. ফেরদৌস রহমান পলাশ
সহযোগী অধ্যাপক
প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর

করোনা ভাইরাস: সংক্রমণের নতুন ও ব্যতিক্রমী কিছু লক্ষণ

ডা.ফেরদৌস রহমান পলাশ

৩০ মার্চ, ২০২০ , ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ

ডায়াবেটিস রোগীর জন্য করণীয়

দেখা যাচ্ছে যে, করোনার আক্রমণে যেসব রোগী হার মানছেন তাদের ৮ থেকে ৯ শতাংশ ডায়াবেটিক রোগী। এর মূল কারণ হলো, ডায়াবেটিক রোগীর সবচেয়ে বড় সমস্যা তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি কম। ফলে করোনা তাদেরকে সহজে কাবু করতে পারে। একই সমস্যায় এসব রোগীর প্রেসার, কিডনি ইত্যাদিতে প্রভাব পড়ে থাকে। কাজেই অন্য অনেক সাবধানতার মধ্যে ডায়াবেটিক রোগীর দিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে।

১. কোন অবস্থাতেই তাদের সুগার লেভেল যেন বেশি না হয় সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। ওষুধ বা ইনসুলিন অ্যাডজাস্ট করতে হবে।

২. সকাল সন্ধ্যা বাইরের হাঁটা এখন বন্ধ হলেও ঘরেই ব্যায়াম করতে হবে।

৩. দূরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশি শিষ্টাচার ঠিক রাখতে হবে।

৪. ঘরেই সুগার মাপার জন্য গ্লুকোমিটার রাখতে হবে। প্রতিদিন মেপে দেখতে হবে।

৫. হাঁচি কাশি তা সে যে কারণেই হোক (আগের অ্যালার্জিজনিত হলেও) সেটা যেন কোনভাবেই অন্যের সামনে দেয়া না হয়।

৬. হাঁচি-কাশি রোধে সব ধরণের ঠাণ্ডা খাবার পরিহার করতে হবে।

৭. বয়স্ক ডায়াবেটিস রোগীর জন্য বেশি সাবধান থাকতে হবে।

৮. বাড়িতে কোন জ্বরকাশির রোগী থাকলে তাকে প্রথমেই ডায়াবেটিস ও বয়স্ক লোকদের কাছ থেকে আলাদা করে রাখতে হবে।

৯. এসব রোগী কোন অবস্থাতেই যেন বাইরে না যান সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে।

১০. কোন ধরণের হরমোনজনিত সমস্যা থাকলে সেদিকে নজর দিতে হবে।

১১. কিডনির/ হাইপারটেনশনের সমস্যা থাকলে আগের পরামর্শ ঠিকমতো মেনে চলতে হবে।

মোট কথা কোন অবস্থাতেই ডায়াবেটিক রোগীর সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে দেয়া যাবে না।

 

ডা. মনোজ গোয়েল, বিভাগীয় প্রধান, পালমোনলোজি, ফরটিস মেমোরিয়াল রিসার্চ ইনস্টিটিউট, ভারত-এর ভিডিও সহায়তা।

 

করোনা-ভাইরাস:-ডায়াবেটিস-রোগীর-জন্য-করণীয়

ডা.ফেরদৌস রহমান পলাশ

২৭ মার্চ, ২০২০ , ৭:৩৬ পূর্বাহ্ণ

মিথ্যা তুমি দশ পিঁপড়া

ভূমিকা: লেখাটা এই শিরোনামে শুরু করেছিলাম। ভয় ছিল দশটা মিথ্যা পাওয়া যাবে তো। একদিনে সেটা ছাড়িয়ে গেছে। এই দশটা তথ্যর মধ্যে মাস্ক বিষয়ক লেখাটা নিয়ে অনেকেই কথা বলেছেন। আমিও উত্তর দিয়েছি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেয়া তথ্য অনুযায়ি। আমার মত হচ্ছে মাস্ক পরুন।যা পান তাই পরুন। মানসিক শান্তিরও দরকার আছে। মিথ্যা গুজবে দেশ গুমগুম করছে। আমারও দশটা মিথ্যা পাওয়া হয়ে গেছে। আপাতত আমি আর পিঁপড়া হয়ে আপনাদের কামড় দিব না। অনেকেই বিরক্ত হয়েছেন আবার অনেকেই উৎসাহ দিয়েছেন তাদের একজন মুগ্ধতা.কমের সম্পাদক কবি মজনুর রহমান। মানুষের প্রতি আমি উচ্চ ধারণা পোষণ করি। আমি বলিনা আপনারা মিথ্যা বলেন। আপনারা ভালো থাকবেন।

মিথ্যা তুমি দশ পিঁপড়া – ১

মিথ্যা: একটা তথ্য আকাশে- বাতাসে রসুন খেলে নাকি করোনা ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

সত্য: রসুন একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্য এবং অনেক ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে কিন্তু রসুন খেলে করোনা হয় না এমন তথ্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে নেই।

মিথ্যা তুমি দশ পিঁপড়া -২

মিথ্যা: ঘরে বসে করোনার টেস্ট করুন -বলা হচ্ছে আপনি যদি দম বন্ধ করে দশ সেকেন্ড থাকতে পারেন, আপনার বুক ব্যাথা না করে তবে বুঝা যাবে আপনি করোনায় আক্রান্ত হননি।

সত্য: বিষয়টি ডাহা মিথ্যা। জিনিসটা এতো সোজা হলে তো হতোই। বিশেষ ধরণের টেস্ট ছাড়া এ রোগ নির্ণয় সম্ভব না।

মিথ্যা তুমি দশ পিঁপড়া -৩

মিথ্যা: ফুসফুসে পৌঁছানোর আগে করোনা ভাইরাস চার দিন গলায় থাকে এবং এ সময় ব্যক্তির কাশি এবং গলায় ব্যথা শুরু হয়। যদি তিনি প্রচুর পরিমাণে পানি পান করেন এবং লবন বা ভিনেগার মিশ্রিত হালকা গরম পানি দিয়ে গলগলা করে কুলি করেন তবে তার ভাইরাস দূর হয়।

সত্য: এমন কোন তথ্য এখন পর্যন্ত প্রমাণিত হয়নি।

মিথ্যা তুমি দশ পিঁপড়া-৪

মিথ্যা: এখন যে তথ্যটি ভরে গেছে সোশাল মিডিয়ায়, সেটা হলো হাইড্রক্সি ক্লোরোকুইন এবং এ্যাজিথ্রোমাইসিন ব্যবহার করে করোনা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

সত্য: হাইড্রক্সি ক্লোরোকুইন একটি অনেক আগের ঔষধ যা ম্যালেরিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে আর এ্যাজিথ্রোমাইসিন একটি ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধক। বাস্তবে এগুলো এখুনো COVID19 এ ব্যবহার করার অনুমতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দেয়নি।

মিথ্যা তুমি দশ পিঁপড়া -৫

মিথ্যা: চৈত্র মাস। গরম পড়িপড়ি ভাব। কেউ-কেউ খুশি। অনেকের ধারণা গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় করোনা বাঁচতে পারে না।

সত্য: করোনা ভাইরাস গরম শীত সব আবহাওয়াতেই বহাল তবিয়তে থাকতে পারে। যারা গলা পুড়িয়ে গরম এবং বুক ঠাণ্ডা করে আইসক্রিম খাচ্ছেন কোন লাভ নাই। হাত ধুতেই থাকুন, ধুতেই থাকুন।

মিথ্যা তুমি দশ পিঁপড়া -৬

মিথ্যা: সেইন্ট লুইক হাসপাতালের অফিসিয়াল প্যাডে একটা লেখা খুব জনপ্রিয় হয়েছে। মদ খেলে নাকি করোনার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায় বিশেষ করে ভদকা খেলে করোনা হয় না।

সত্য: এটা একটি সর্বনাশা মিথ্যা কথা। যে কোন ধরনের নেশা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই ভদকা খেলে নেশা হবে করোনা যাবে না। সকল প্রকার নেশা কে না বলি।

মিথ্যা তুমি দশ পিঁপড়া -৭

মিথ্যা: মাস্ক পরলে করোনা ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

সত্যঃ আসলেই কি সবার মাস্ক ব্যবহার করতেই হবে? WHO কি বলে? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে আপনি যদি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন এবং সর্দিকাশি থাকে তবে আপনাকে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে যাতে করে আপনি রোগ ছড়াতে না পারেন। আর যারা স্বাস্থ্যসেবা পেশায় জড়িত যেমন ডাক্তার, নার্স তাদেরও মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। সুস্থ ব্যক্তির মাস্ক ব্যবহার করার কোন প্রয়োজন নেই। সবুজ রঙের যেসব মাস্ক এখন সবাই পরছে সেসব পরে করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি লাভ সম্ভব না। আর এসব একবার ব্যবহারের জন্য। একই মাস্ক বারবার ব্যবহার করা যাবে না। বিশেষ ধরণের মাস্ক যার কোড N 95 ব্যবহার করলে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। দেশে মাস্কের সংকট আছে তাই মাস্ক নিয়ে হৈচৈ না করাই ভালো। বরঞ্চ ঘনঘন হাত ধুবেন, জনসমাগম এড়িয়ে চলুন, হাঁচি-কাশিতে রুমাল /টিস্যু ব্যবহার করুন। সবার মঙ্গল হোক।

মিথ্যা তুমি দশ পিঁপড়া -৮

মিথ্যা: থানকুনির পাতা চিবিয়ে খেলে করোনা ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

সত্য: বাস্তবে থানকুনি পাতার কোন ক্ষমতাই নাই করোনার হাত থেকে বাঁচানোর। থানকুনি পাতার কিছু পুষ্টিগুণ আছে কিন্তু করোনাকে ঠেকিয়ে দিবে এটা সম্ভব না।

মিথ্যা তুমি দশ পিঁপড়া -৯

মিথ্যা: কালোজিরা বিষয়ক একটা পোস্ট আজ মিডিয়াতে খুব চালাচালি হচ্ছে। কালোজিরা খেলে নাকি করোনা ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

সত্য: কালোজিরা খেলে আপনার করোনা হবে না বা এটা খেলে করোনা পালাবে এমনটি এখন পর্যন্ত প্রমাণিত হয়নি। যদিও ধর্মীয় এবং বৈজ্ঞানিকভাবে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে কালোজিরা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং বুকের দুধ বাড়াতে আমরা মায়েদেরকে কালোজিরার ভর্তা খেতে বলি। আজ একটা দলকে দেখলাম গোল হয়ে বসে ২০০ গ্রাম করে কালোজিরা প্যাকেট করতেছে জনগনকে মুফতে বিলির জন্য। অতি উত্তম। কালোজিরা খান শান্তি পান তবে সত্যকেও গ্রহণ করতে শিখুন।

মিথ্যা তুমি দশ পিঁপড়া-১০

মিথ্যা: করোনা ভাইরাস শুধু বয়স্ক মানুষের হয়।

সত্য: করোনা বুড়ো, শিশু সবার হতে পারে। তবে যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির সমস্যা তাদের ক্ষেত্রে এরোগ মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

 

ডা. ফেরদৌস রহমান পলাশ
সহযোগী অধ্যাপক
প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর

 

করোনা নিয়ে সত্যাসত্য: মিথ্যা তুমি দশ পিঁপড়া

ডা.ফেরদৌস রহমান পলাশ

২৩ মার্চ, ২০২০ , ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ

করোনার নতুন লক্ষণ: গন্ধ ও স্বাদের অক্ষমতা!

আপনি কি আজকাল গন্ধ নিতে পাচ্ছেন? ফুল, পারফিউম, খাবারের গন্ধ যদি আপনি না পান- তবে সাবধান। আপনার করোনা ভাইরাস শরীরে থাকতেও পারে যদিও অন্য লক্ষণ নাও থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের দ্যা নিউইয়র্ক টাইমস তাদের ২২ মার্চ সংখ্যায় নতুন এই তথ্য দিয়েছে। এটাকে তারা বর্ণনা করেছে ‘অদ্ভুত’ লক্ষণ হিসেবে।

চিকিৎসকেরা যারা কোন গন্ধ পাচ্ছেন না তাদের আলাদা করে ফেলছেন অন্যদের থেকে। Anosmia মানে যাদের গন্ধ নেবার ক্ষমতা লোপ পায়।

নতুন তথ্য অনুসারে সাউথ কোরিয়ার ২০০০ লোক যাদের করোনা ভাইরাস পজেটিভ হয়েছে তাদের ৩০% লোকের Anosmia ছিল। অন্যদিকে Ageusia হলো স্বাদ নেবার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলা। এই লক্ষণটি কারও কারও ভেতরে দেখা দিতে পারে।

পত্রিকাটি জানায়, ব্রিটিশ রাইনোলোজিক্যাল সোসাইটির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ক্লারা হপকিন্স এবং ইএনটি ইউকে গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক নির্মল কুমার যৌথভাবে এক বিবৃতিতে এই দাবি করেছেন। এছাড়া আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব অটোল্যারিনজোলজিও তাদের ওয়েবসাইটে এই দাবি করেছে।

তাদের মতে, কোভিড-১৯ যেহেতু নাক,মুখ বা গলা দিয়ে বেশি প্রবেশ করে সেহেতু যেসব রোগী গন্ধ শুঁকতে পারছে না বা স্বাদ নিতে পারছে না তাদের দ্রুত আলাদা করে ফেলতে হবে।

তারা আরও দাবি করেন যে, চিনের উহানে অনেক নাক, কান, গলার চিকিৎসক আক্রান্ত রোগীদের সংস্পর্শে থাকায় মারাও গেছেন। যুক্তরাজ্যের টেলিগ্রাফ পত্রিকার ২২ মার্চ সংখ্যায় আরেকটি নিবন্ধে বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে জানানো হচ্ছে যে, গন্ধের অনুভুতির সাথে কারও আবার জিহ্বার স্বাদ, পেট ব্যথা অথবা চোখের প্রদাহও দেখা দিতে পারে।

প্রফেসর নির্মল কুমার স্কাই নিউজকেও করোনা আক্রান্তদের গন্ধ না পাওয়ার লক্ষণ দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছেন। এছাড়া আরও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম খবরটি এখন প্রকাশ করছে।

তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইটে করোনা ভাইরাস সনাক্তকরণের লক্ষণগুলোতে এই নতুন লক্ষণগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয় নি। কিন্তু এই সংস্থার ওয়েবসাইটে এটাও বলা আছে যে, কিছু ক্ষেত্রে করোনা আক্রান্তদের মাঝে কোন লক্ষণই নাও দেখা দিতে পারে।

বিশ্ব এই ভয়াবহ রোগের সাথে যেহেতু আগে পরিচিত ছিল না তাই নতুন- নতুন হাইপোথিসিস/ থিসিস যোগ হচ্ছে। এটাকেই অব্যর্থ পরীক্ষা বিবেচনা করার দরকার নাই। এটা সাবধানতার অংশ হিসেবে গ্রহন করা যেতে পারে আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা তো আছেই। সাঁতার না জানা মানুষ খড়কুটো ধরেও বাঁচতে চায়।

 

ডা. ফেরদৌস রহমান পলাশ
সহযোগী অধ্যাপক
প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর

 

করোনার নতুন লক্ষণ: গন্ধ ও স্বাদের অক্ষমতা!

ডা.ফেরদৌস রহমান পলাশ

৯ মার্চ, ২০২০ , ৫:৫৫ অপরাহ্ণ

করোনা ভাইরাস: রক্ষা কবচ নিজের কাছে

বর্তমানে যে রোগ নিয়ে বিশ্ব আলোড়িত তা হলো করোনা ভাইরাস, এখন যাকে বলা হচ্ছে COVID-19. চীন থেকে উৎপত্তি হয়ে এ রোগ ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপি।

বিশ্বের ১০৩ টি দেশে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসে এখন পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৭০ জনই মারা গেছে চীনে। অন্য ১০ টি দেশে এ পর্যন্ত মারা গেছে ৪২১ জন।

ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ১ লাখেরও বেশি মানুষ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা ভাইরাস সম্পর্কে উচ্চ মাত্রার সতর্কতাও জারি করেছে। দেশে দেশে হাসপাতাল, হোটেল, বিমানবন্দর এমনকি পুরো প্রদেশকে কোয়ারেন্টাইন করা হচ্ছে। অচল হয়ে পড়ছে দেশগুলো।

মিডিয়ায় বিষয়টি থাকছে লিড আইটেমর। ফলে মানুষজন দরকারের চেয়ে বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে। এরই মধ্যে আমাদের দেশে তিনজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রুগীর সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি গড়ে অন্য আড়াইজন লোককে সংক্রামিত করতে পারে।

গত বছর শেষের দিকে চীনের মধ্যাঞ্চলীয় হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে এ ভাইরাসটি ছড়িয়েছে বলে ধারণা করা হয়। চীন এ রোগ সীমাবদ্ধ রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে সাংহাই, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, মালয়েশিয়া, নেপাল, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইরান, ইতালি এবং কানাডায়। বন্য পশুপাখি আর সামুদ্রিক মাছের মাধ্যমেও এ রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।

লক্ষ্মণগুলো কী কী?

১.জ্বর ১০০ ডিগ্রি বা তার বেশি

২. কাশি

৩. সর্দি

৪. গলাব্যাথা

৫. মাংসপেশী বা গাঁটের ব্যথা

৬. মাথা ব্যথা

৭. যেসব দেশে এ রোগ দেখা দিয়েছে সেখান থেকে ১৪ দিনের মধ্যে আসার তথ্য।

৮. বয়স্ক ব্যক্তিরা এবং যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ অন্য দীর্ঘমেয়াদি রোগ আছে তাদের আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশী।

COVID-19

কীভাবে ছড়ায়?

কোভিড-১৯ করোনাভাইরাস যার শরীরে আছে অর্থাৎ রোগে আক্রান্ত তার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সুস্থ মানুষের শরীরে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি-কাশি দিলে সেই জীবাণু সুস্থ মানুষের শরীরে প্রবেশ করে।

মৃত্যুঝুঁকি কতখানি?

শিশুদের যাদের বয়স ১০ থেকে ৩৯ বছর তাদের কম মাত্র ০.২%, মধ্যবয়সে ৪০ থেকে ৪৯ বছর মাত্র ০.৪%। ৮০ বছর বা তার বেশী হলে মৃত্যঝুঁকি ১৪.৮%।

সব জ্বরই করোনা নয়

জ্বর কোন রোগ নয়। রোগের লক্ষ্মণ। সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জা জ্বর হলে সর্দিকাশি থাকবে কিন্ত করোনাভাইরাস জ্বরে সর্দি হয় না। জ্বর ১০৩ /১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট হতে পারে সাথে কাশি। শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থাগুলোর একটি হলো এই জ্বর। সাধারণত মানব শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট। এরচেয়ে বেশী তাপমাত্রাকে জ্বর বলে। যেহেতু জ্বর শরীরের রোগ প্রতিরোধের একটা অংশ তাই জ্বর আসলেই আতংকিত হবেন না।

যা করণীয়

১. ভালোভাবে ঘনঘন সাবান পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে।

২. করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে নাকে, মুখে আঙ্গুল বা হাত দেয়ার অভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে। কারণ, মানব শরীরে জীবাণু ঢোকার সদর দরজা হলো নাক-মুখ-চোখ। ৩. জনসমাগমস্থল এড়িয়ে চলতে হবে।

৪. হাঁচি-কাশির সময় টিসু পেপার বা রুমাল ব্যবহার করতে হবে।

৫. মাস্ক পরা জরুরী তবে আমরা যে পাতলা মাস্ক ব্যবহার করছি এটা দিয়ে হবে না। লাগবে বিশেষ ধরণের মাস্ক। যার কোড N95

৬. হাত মেলানো(হ্যান্ডশেক), কোলাকুলি থেকে বিরত থাকতে হবে।

৭.হাত না ধুয়ে চোখ, মুখ ও নাক স্পর্শ করা যাবে না।

চিকিৎসা কী?

ভাইরাসজনিত রোগ বলেই এর তেমন কোন চিকিৎসা নেই। জ্বর, সর্দি কাশি হলে আপনার নিকটস্থ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আতংকিত না হয়ে চিকিৎসা সেবা নিন ভালো থাকুন।

ভয় নাই, ওরে ভয় নাই

করোনাকে যতটা আত্মঘাতী বলে প্রচার করা হচ্ছে বাস্তবে তা কিন্ত নয়। এরচেয়ে প্রাণঘাতি ছিল ইবোলা ভাইরাস, নিপা ভাইরাস, মার্স ভাইরাস। আমরা কিন্তু সেসব ভাইরাসকে মোকাবেলা করেছি, অতএব অযথা আতংকিত হবেন না।

এ প্রসঙ্গে বলে রাখি, এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের প্রায় ৬২ শতাংশ মানুষ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে চলে গিয়েছে। বাকি আক্রান্ত লোকেরাও চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরার অপেক্ষায়। কথা পরিস্কার, শিশুরা এই রোগ থেকে অনেকটাই ঝুঁকিমুক্ত এবং যারা মারা গেছে তাদের প্রায় সবারই অন্য রোগের ইতিহাস ছিলো অথবা তারা বয়স্ক মানুষ। সুতরাং অযথা আতঙ্কিত না হয়ে বা গুজব না ছড়িয়ে সতর্ক হোন।

প্রয়োজনে সাহায্য নিন:

নিজের অথবা পরিবারের কারো করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ দেখা দিলে বাংলাদেশ সরকারের ‘ইনস্টিটিউট অব এপিডেমোলোজি ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড রিসার্চ’ বা আইইডিসিআরের হটলাইনে যোগাযোগ করুন।

IEEDCR

এছাড়াও প্রতিটি হাসপাতালে আলাদা আইসোলেটেড ওয়ার্ড প্রস্তুত আছে। সাধারণ জ্বর সর্দি হলে সুস্থ তো হবেনই, এমনকি করোনায়ও যদি আক্রান্ত হয়ে যান তবুও ভয়ের কিছু নেই। সাধারণ চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ শেষে বাড়ি যেতে পারবেন।

 

ডা. ফেরদৌস রহমান পলাশ

সহযোগী অধ্যাপক, প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর।

চেম্বার: প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর। সিরিয়াল: 01723672651

বদরগঞ্জ চেম্বার: হেলথ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বদরগঞ্জ, রংপুর।

 

corona virus

Writter