ডা.ফেরদৌস রহমান পলাশ

Intro

সহযোগী অধ্যাপক (শিশু বিভাগ)
প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
শেখ মুজিব জন্মশতবার্ষিকীর শ্রদ্ধাঞ্জলি

Writter

Intro

সহযোগী অধ্যাপক (শিশু বিভাগ)
প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর

ডা.ফেরদৌস রহমান পলাশ

২৭ আগস্ট, ২০২১ , ৪:৩৮ অপরাহ্ণ

একজন মজনুর রহমান

কবিতা নিয়ে তাঁর ছোটাছুটি

কোন পরিচয়ে পরিচিত হতে চান তিনি? একাধারে কবি,সম্পাদক, ইতিহাস বিষয়ক সাংবাদিকতা,ভ্রমণ কাহিনী লিপিকার। সব খানেই সমান দক্ষ। তবে গভীর জীবনবোধ থেকেই কবির জন্ম বিধায় তাঁকে আমার এ সময়ের কবি মনে হয়। একসময় কবিতা লিখেছেন, দুহাত খুলে। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় তা প্রকাশিতও হয়েছে নিয়মিত। লিখেছেন বাংলা একাডেমির পত্রিকা উত্তরাধিকারে। তবে প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ এখন পর্যন্ত একটি। মার্চ ২০১৭ সালে পাতা প্রকাশ থেকে প্রকাশিত হয়,’বেমানান বায়োস্কোপ’, রংপুরে যারা লেখালেখি করেন তাদের থেকে একটু বিপরীত স্রোতে লেখা এক কবিতার বই। প্রায় সব কবিতাই পাঠ করে আরাম। সমসাময়িক অনেকের কবিতা যখন বুঝতেই পারি না সেখানে তিনি অনেকটাই ঘরের ছেলে।

ভ্রমণ এবং চা পিপাসু ব্যক্তিটি প্রায়শই কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে বেড়িয়ে পড়েন দলবল নিয়ে। একলা না সবাইকে নিয়ে চলার দীক্ষায় দীক্ষিত কবির কাঁধে সব চাপিয়ে আমিও ভ্রমণসঙ্গী হয়েছিলাম কয়েকবার। সম্পাদনা করা একটি জটিল এবং অন্যের শত্রু হবার স্থান,সেখানেও তিনি শুরু করেছেন মুগ্ধতা ডট কম নামক অনলাইন ম্যাগাজিন। আছে বাংলাবাড়ি নামক সম্পাদনা প্রতিষ্ঠান। রংপুরের নবীন-প্রবীন লেখকদের পান্ডুলিপি সম্পাদনা করে নজর কেড়েছেন বোদ্ধাদের। তরুণ সাহিত্যিকদের মদদদাতা হিসেবেও তার নাম লোকমুখে শোনা যায়। তা মন্দ না তবে অনেকসময় অতিরিক্ত প্রশ্রয় চোখেও পড়ে। তাঁর কবিতা যে অন্যরকম তা মনোযোগ দিয়ে এ কবিতা পড়লেই বুঝবেন-

“কোথায় দাঁড়াব আমি

সবখানে নদী,

নদীর ধারে মানুষ আর মানুষের পাশে নদী,

শহরের বুকে সন্ধ্যা আর সন্ধ্যার বুকে কথা,

কোথায় দাঁড়াব একা

সবখানে জল,

জলের বুকে জোছনা আর জোছনার মাঠে বাঁশি, কোথায় পালাব আমি জল জোছনা দুঃখের পৃথিবীতে। ”

(বেমানান বায়োস্কোপ)

বইবাড়ির পরিচালক,রংপুর বিভাগীয় লেখক পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাহিত্য সম্পাদক,কবি মজনুর রহমানের জন্মদিনে জানাই অনেক অনেক শুভেচ্ছা।

ডা.ফেরদৌস রহমান পলাশ
কবি ও চিকিৎসক

কবি মজনুর রহমান এর জন্মদিনে বিশেষ আয়োজন

ডা.ফেরদৌস রহমান পলাশ

১৩ জুলাই, ২০২০ , ১০:৫৬ অপরাহ্ণ

বর্ষাদিনে

লাল পুকুরে পদ্ম নাই। মাটির রং রক্ত লাল। পুকুরে পদ্ম থাকলে তাকে পদ্মপুকুর বলা যেত। তা সম্ভব হচ্ছে না। তাহমিদের দাদাবাড়ির পুকুরের তাই কোন নাম নাই। পুকুরটি গ্রামের বাড়ির পিছনে বাঁশঝাড়ের পাশে। শখে নয়, কাজে এ পুকুরের জন্ম। মাটি খুঁড়ে ঘর বানানো হয়েছিল। যেখানকার মাটি খোঁড়া হয়েছিল তা এখন পুকুর হয়ে গেছে। গ্রীষ্মের দাবদাহে পানি শুকিয়ে খাঁ খাঁ।

বর্ষায় ভরে ওঠে কানায়-কানায়। বৃষ্টিতে পুকুরে গোসল করতো গ্রামের ছেলেমেয়েরা। টুপটাপ বৃষ্টি পড়তো পুকুরে, শরীরে। সবার সাথে ডুব দিতো তাহমিদ,পানির উপর বৃষ্টির শব্দ। কোন শব্দ শোনা যেত না পানির নীচে। উপরের পানি কেমন হিমশীতল,শরীর কাঁপন ধরে।পানির নীচে গরম।

চাচাতো ভাই কলাগাছ কেটে এনে চোখ বুজে ভেসে থাকতো, যেন ধ্যানমগ্ন ঋষি । তেমনি এক বর্ষাদিন, দুপুরবেলা। তাহমিদ পুকুরপাড়ে। এসেছে বৃষ্টি দেখবে বলে। কেউ নেই সাথিরা। শুধু পুকুরে সাঁতার কাটছে এক মেয়ে।

যে পুকুরে কোনদিন পদ্ম ফোটেনি, আজ সেই পুকুরে মেয়েটি যেন ফুটে আছে পদ্ম হয়ে। পাশের হিন্দুপাড়ার মেয়ে। ইশারায় ডাকলো। একটু ইতস্তত করে পানিতে লাফিয়ে পড়ে তাহমিদ। সাঁতার কাটে এপাড় থেকে ওপাড়। তারপর একটা কলাগাছ ধরে ভেসে থাকা ক্লান্ত হয়ে। ঘরে ফেরার সময় হয়ে যায়। কালো মেয়ে কাজল কালো চোখ তুলে বলে, আজ তবে আসি।

ডা.ফেরদৌস রহমান পলাশের গল্প - বর্ষাদিনে

ডা.ফেরদৌস রহমান পলাশ

১৫ এপ্রিল, ২০২০ , ৫:৩৮ অপরাহ্ণ

সুমাইয়ার একদিন

এই সময়টা সুমাইয়ার দম বন্ধ হয়ে আসে। সে খেয়াল করে দেখেছে প্রতিদিন ঠিক একই সময় তার এমন লাগে।

প্রতিদিন ঠিক ৩.৪৫ মিনিটে তার এমন লাগে। সকালে একটু দেরী করে ওঠার অভ্যাস সুমাইয়ার ছোটকাল থেকেই। এজন্য কতো সমস্যা হয়েছে। সকালের প্রথম ক্লাসটা খুব কমই করা হয়েছে।

বরাবরই মেধাবী ছাত্রী সুমাইয়া। প্রথম, দ্বিতীয় না হলেও ভালোভাবেই পাশ করেছে বোর্ডের সব পরীক্ষাগুলোয়। এখন মাষ্টার্স করছে শহরের একটা নামকরা কলেজে।

কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ। বাড়িতে চলে আসতে হয়েছে।

এ শহর, এ কোলাহল ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করে না। এ শহরে প্রাণ খুলে কথা বলা যায়, ঘুরা যায় ইচ্ছে মতো। এ শহরে তার প্রেমিক থাকে।

ঘুম থেকে উঠে সংসারের টুকটাক কাজে মাকে সাহায্য করা, ভাতিজা, ভাতিজির সাথে খেলা করা তারপর গোসল করে খাওয়া। সবাই যে যার ঘরে চলে যায়।

দোতলার উত্তরের ঘরটায় আসার পর আর সময় কাটে না।

শুয়ে মোবাইলে ফেসবুক চালাতে-চালাতে ঠিক ৩.৪৫ মিনিটে দম বন্ধ হয়ে আসে। তখন জানলার পাশে দাঁড়াতে হয়।

অনেকদিন আগে তখন সুমাইয়ার বয়স নয় বছর। দাদাবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল সুমাইয়া। ঈদের ছুটি। সব চাচাতো ভাইবোনেরা দুপুরে বাড়ির পিছনে পুকুরে গেল গোসল করতে। মা কে না বলে সুমাইয়াও গিয়েছিল। সাঁতার না জানা সুমাইয়া কিছুক্ষণ পর টের পায় তার পায়ের নিচে আর মাটি নাই। একটা আতংক চেপে ধরে, মনে কোন চিন্তা নাই, চিন্তা নাই মায়ের কথা, প্রিয় জামা এসব কিছুই মাথায় আসছিল না। শুধু নিজের অজান্তে হাত- পা ছুঁড়তে থাকে। তার এমন হাত-পা ছোঁড়া দেখে চাচাতো বড়বোন লতা এগিয়ে আসে। ধাক্কা দিয়ে নিয়ে আসে পাড়ের কাছে।

৩.৪৫ মিনিটে সুমাইয়ার ঠিক একই অনুভূতি হয়। পানিতে পড়ার অনুভূতি।

ছোটবেলায় এই দমবন্ধ থেকে বাঁচানোর জন্য বড় বোন ছিলো আজ কেউ নেই। জানলার কাছে এসে দাঁড়ালে সুমাইয়ার ভালো লাগে।

জানলার ওপাশে সজনা গাছ। গাছটাতে একটা-দুটা পাখি সবসময় কিচিরমিচির করে। বড় ভালো লাগে। কিছুক্ষণ পর শ্বাসকষ্ট কমে যায়। তারপর কিছুক্ষণ গল্পের বই পড়া।

অনিকের সাথে গত কয়েকদিন ধরে মনোমালিন্য চলছে। বিষয়টা খুবই সাধারণ ছিল। যেদিন হোস্টেল বন্ধ হয়ে গেল সেদিন অনিককে সুমাইয়া বলেছিল যেন সে তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেয়। অনিক কী একটা কাজের কথা বলে আর যায়নি। বিষয়টাকে হালকা ভাবে দেখলেও চলতো কিন্তু সুমাইয়ার মন খারাপ এজন্য যে অনিকের সাথে আবার কবে দেখা হবে তার নেই ঠিক। অনিক কি পারতো না রেখে আসতে?

বিকাল হয়ে এলো। বাড়ির পাশের মসজিদ থেকে শিশু কন্ঠে আযান শোনা যাচ্ছে। হয়তো মাদ্রাসার ছাত্রের আযান দেবার হাতেখড়ি হচ্ছে। সুমাইয়া মন দিয়ে শোনে। কি কোমল আর মিষ্টি কন্ঠ! নামাজের জন্য ডাকছে কিন্তু কেউ যেতে পারছে না করোনার কারণে। সবাই ঘরে বন্দী।

কে কবে ভেবেছিল এমন হবে?

সুমাইয়ার ভালো লাগে না। রাতে মায়ের সাথে টিভি দেখার সময় ফোনটা এলো। কফিল চাচা অসুস্থ। কফিল চাচা গ্রামে থাকে। দুপুর থেকে বুকে ব্যথা। পল্লী চিকিৎসক গ্যাসের ঔষধ দিয়েছে কিন্তু একটুও কমে নি।

সন্ধ্যায় আর না থাকতে পেরে ফোন দিয়েছে শেফালি। কফিল চাচার একমাত্র সন্তান। সব শুনে সুমাইয়া কফিল চাচাকে হাসপাতালে আনতে বললো।

সন্ধ্যা ছয়টা, বাইরে বের হওয়া নিষেধ। তারপরও সুমাইয়া হাসপাতালে রওনা দিল। বাড়ি থেকে দশ মিনিটের হাঁটা পথ। সুমাইয়া এসে দেখে কফিল চাচা ভ্যানে শুয়ে আছে।

শেফালি কেঁদে কেঁদে বললো, ডাক্তার সাহেব রংপুর মেডিকেল কলেজে রেফার্ড করেছেন। হার্টের সমস্যা। দ্রুত নিয়ে যেতে হবে। সুমাইয়া কী করবে বুঝতে না পেরে মোবাইলের লক খুলে সজলকে ফোন দেয়।

সজল রংপুর মেডিকেল কলেজে ইন্টার্নি করছে। সজল সব শুনে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসতে বলে। এ্যাম্বুলেন্স নষ্ট বাধ্য হয়ে তিনগুন বেশী ভাড়ায় তারা দুই নারী আর তাদের আধিয়ার মানিক রওনা হলো মাইক্রোবাসে।

মাইক্রোবাসের সিটে কফিল চাচাকে কোনমতে শুইয়ে তারা গাদাগাদি করে বসে। মাঝপথে কফিল চাচার শ্বাসকষ্ট শুরু হলো। ড্রাইভার সাহেব আর একটু জোরে যান বলে সুমাইয়া চাতক চোখে সামনের দিকে তাকিয়ে রইলো, হায় আজ হাসপাতাল এতো দূরে কেন?

 

ডা. ফেরদৌস রহমান পলাশ
চিকিৎসক ও লেখক রংপুর।

 

এই লেখাটি #মুগ্ধতা_সাহিত্য প্রতিযোগিতার অন্তর্ভুক্ত। প্রতিযোগিতার নিয়ম জানতে ক্লিক করুন এখানে

 

গল্প - সুমাইয়ার একদিন

ডা.ফেরদৌস রহমান পলাশ

৪ এপ্রিল, ২০২০ , ৮:০১ অপরাহ্ণ

শীঘ্রই আসছে করোনার ওষুধ!

ধরুন আপনার প্রিয়জনের যক্ষা কিংবা হাম অথবা ডিপথেরিয়া হয়েছে। কেমন লাগবে? আপনি কি ডিপথেরিয়ার কোন রোগীকে কখনও দেখেছেন?

লালনের যে গুটি বসন্ত হলো। সবাই পরিত্যাগ করলো। তারপর ঠাঁই হলো এক মুসলিম পরিবারে। হয়ে উঠলেন লালন।

সেই গুটি বসন্তে আক্রান্ত কোন রোগীকে এ জীবনে দেখেছেন? খাঁচার ভিতর অচিন, পাখি কেমনে আসে যায়৷ বসে ভাবি পাখি কোথা থেকে এসে, কোথা চলে যায়। কখনও কি ভেবেছেন, মরণঘাতী এ রোগগুলো কীভাবে কোথায় চলে গেল? এ মরণব্যধিগুলোকে তাড়িয়েছে টিকার আবিস্কার।

শতশত বছর আগেই বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা সাপের বিষ পান করতো বিষে বিষ ক্ষয় করার জন্য।

টিকার জনক এডওয়ার্ড জেনার প্রথম তের বছর বয়সী এক ছেলের শরীরে গরুর পক্স প্রবেশ করান গুটি বসন্তের হাত থেকে রক্ষা পাবার জন্য, সময়টা ছিল ১৭৯৬।

বৈপ্লবিক সূচনা ১৭৯৮ সালে প্রথম গুটি বসন্তের টিকা আবিস্কারের মাধ্যমে। সেই গুটি বসন্ত পৃথিবী থেকে ঝেঁটিয়ে বিদায় ১৯৭৯ সালে। এরপর কত ধরণের টিকা হাম, রুবেলা, ডিপথেরিয়া, হুপিং কফ, টিটেনাসকে শিকল পরিয়ে রাখা হয়েছে।

আর এখন করোনার আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য গবেষকরা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে টিকা আবিস্কারের। বিশ্বের নামকরা সব প্রতিষ্ঠান দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। টিকা আবিস্কার সময়ের ব্যাপার। সময় লাগবে এক থেকে দেড় বছর। এতো সময় কই সময় নষ্ট করার?

আসছে করোনার ওষুধ

তাই গবেষকরা করোনা সারানোর দাওয়াই তৈরিতে ব্যস্ত। বেইলর কলেজ অফ মেডিসিন ন্যাশনাল স্কুল অফ ট্রপিকাল মেডিসিন হাউসটন টেক্সাসের ভাইরোলজিষ্ট প্রফেসর পিটাট জে হর্টজ বলেন, কোভিক-১৯ এর জরুরী চিকিৎসা হিসেবে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর ব্যক্তির শরীরে যে এন্টিবডি পাওয়া যায় তা করোনায় আক্রান্ত অসুস্থ মানুষের শরীরে প্রয়োগ করে ফল পাওয়া যেতে পারে।

তাঁর মতে আগামী ছয় মাসের মধ্যে এন্টিভাইরাল ড্রাগ চলে আসবে। পঁচিশ বছর ধরে ইসরায়েলের রিসার্স বিভাগের প্রধান আবু লাফিয়া লাপিত বলেন, ইসরায়েল এরই মধ্যে এগারোটি ওষুধ ট্রায়াল দেবার জন্য প্রস্তুত করে রেখেছে।

সেসব ওষুধ হয় এককভাবে নয়তো কয়েকটা ওষুধ মিলে ককটেল থেরাপি হিসেবে ব্যবহৃত হবে। তবে তার আগে অনুমোদন নিতে হবে বিজ্ঞানীদের, এফডিএ সহ যারা জড়িত একাজে।

ক্যালিফোর্নিয়ার বায়োটেক কোম্পানি জিলিয়ার্ড সাইন্স পরীক্ষামূলকভাবে এন্টিভাইরাল রেমডিভিসির যা ইবোলায় আক্রান্তদের ব্যবহার করে সফলতা লাভ করেছিল তা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে করোনায় আক্রান্তদের ব্যবহার শুরু করে দিয়েছে। হয়তো আগামী ছয় মাসের মধ্যেই আমরা করোনার ওষুধ হাতে পেয়ে যাব। থেমে নেই গবেষণা।

রাতদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন আমাদের জন্য গবেষকরা। মানুষের পাশে মানুষ ছাড়া বিপদে আর কেই বা দাঁড়ায় বলেন।

টিকা তৈরি আসলে কতদূর?

বিজ্ঞানীরা বলছেন, করোনারও টিকা তৈরি হবে। তবে কতদিন সময় লাগবে সেটাই হচ্ছে কথা।

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের গবেষকরা আশাবাদী:

মারাত্মক আকার ধারণ করা করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা আমেরিকার গবেষণাগুলো বলছে, এক বছরের মধ্যে লাখ লাখ টিকার তৈরি হওয়াটা উচ্চাকাঙ্ক্ষা। তবে এখানে একটি কোম্পানি মানবদেহে করোনাবিরোধী একটি ভ্যাক্সিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করেছে। তবু এর যাত্রা অনেক লম্বা। আবার যুক্তরাজ্যের গবেষকরাও বলছে মে মাসের মধ্যে নতুন কিছু করা সম্ভব না, যাতে মৃত্যুর মিছিল থামানো যাবে।

তবে মুকসাল ইনফেকশনা অ্যান্ড ইমিউনিটি বিভাগের প্রধান ড রবিন শ্যত্তকের নেতৃত্বে যুক্তরাজ্যের গবেষকরা বলছেন, তারা ইঁদুরের শরীরে সফলভাবে করোনার টিকা প্রয়োগ করেছেন এবং আগামী জুনের মধ্যে মানব শরীরে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করতে পারবেন।

এদিকে ইমপেরিয়াল কলেজ লন্ডনের সিনিয়র গবেষক ড পল মিকি বলেন, ‘আমি ভ্যাকসিন প্রয়োগের (ইঁদুরের শরীরে) এক মাস পর ফলাফল পেয়েছি এবং এটি সত্যি দারুণভাবে কাজ করেছে।’

বানরের শরীরে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নির্ধারণের জন্য দলটি প্যারিসের বিজ্ঞানীদের সাথে কাজ করছে বলেও জানান মিকি।

কানাডা:

কানাডিয়ান বিজ্ঞানীদের একটি দল সফলভাবে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের চেষ্টা করছে এবং বিশ্বে মহামারি আকার ধারণ করা করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করতে তারা কয়েক ধাপ এগিয়ে গেছে। খবর নিউইয়র্ক পোস্ট।

কানাডার করোনা আক্রান্ত রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে ইউনিভার্সিটি অব টরেন্টোর সানিব্রুক রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং ম্রাকমাস্টার ইউনিভার্সিটির গবেষকরা এ নিয়ে কাজ করছেন।

চীন:

করোনাভাইরাসের টিকা বা ভ্যাকসিন আবিষ্কারে চীনের আটটি প্রতিষ্ঠান পাঁচটি উপায়ে কাজ করছেন বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক পোস্ট। চীনের বিজ্ঞানীদের বরাত দিয়ে এতে বলা হয়, জরুরি পরিস্থিতিতে এবং ক্লিনিকালি আগামী মাসে প্রয়োগ করা হবে।

ইসরাইল:

দ্য ইকনোমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের অগ্রগতি নিয়ে কিছু দিনের মধ্যেই ঘোষণা দিতে যাচ্ছে ইসাইলের বিজ্ঞানীরা।

ইসরাইলের গণমাধ্যম হায়ের্টাজের গত বৃহস্পতিবার দেশটির মেডিকেল সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তদারকিতে ইসরাইল ইনস্টিটিউট ফর বায়োলজিক্যাল রিসার্চ করোনার টিকা আবিষ্কারের পথে তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি করেছে।

তবে করোনার এ টিকা মানব শরীরে কার্যকরভাবে প্রয়োগের আগে বেশ কয়েকটি পরীক্ষা পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। এজন্য কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের সর্বশেষ পরিসংখ্যান জানার অন্যতম ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে শনিবার পর্যন্ত ১০ লাখ ৯৮ হাজার ৪৩৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। যাদের মধ্যে ৫৯ হাজার ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

তথ্যসূত্র: জেরুজালেম পোস্ট ও ইউএনবি

 

ডা. ফেরদৌস রহমান পলাশ
সহযোগী অধ্যাপক
প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর

 

শীঘ্রই আসছে করোনার ওষুধ!

ডা.ফেরদৌস রহমান পলাশ

৩ এপ্রিল, ২০২০ , ২:০৪ অপরাহ্ণ

করোনা ভাইরাস: সংক্রমণের নতুন ও ব্যতিক্রমী কিছু লক্ষণ

শিকারি বিড়াল চেনা যায় তার গোঁফ দেখে আর রোগ চেনা যায় তার লক্ষণ দেখে। একেক রোগের একেক লক্ষণ। শ্বাসকষ্ট হলে হয় এ্যাজমা অথবা নিউমোনিয়া। পাতলা পায়খানা হলে ডায়রিয়া। তেমনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে, গলা ব্যথা, জ্বর আর শ্বাসকষ্ট। এসব কথাই আমাদের জানা কিন্তু এসব ছাড়াও কিছু অস্বাভাবিক লক্ষণ নিয়েও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীরা আসছেন চিকিৎসকের কাছে।

তার একটি হলো রুগীর স্বাদ ও গন্ধ নেবার ক্ষমতা হ্রাস পায়। এ বিষয়ে মুগ্ধতা ডট কম আগে আমার আরেকটি লেখা প্রকাশ করেছিল। রোগী খাদ্যের স্বাদ বুঝতে পারে না আবার অনেকে কোনকিছুর গন্ধ পান না।

এখন নতুন করে জানা যাচ্ছে, এই ভাইরাসের সংক্রমণে কেউকেউ মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভোগে। সময়,স্থান, নাম সঠিকভাবে বলতে পারে না। অসামঞ্জস্যপূর্ণ আচরণ করেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে এনসেফালোপ্যাথি বলে।

৭৪ বছর বয়সের একজন বৃদ্ধ জ্বর এবং কাশি নিয়ে ফ্লোরিডার এক হাসপাতালে জরুরি বিভাগে যোগাযোগ করেন। তার সমস্যা ছিল জ্বর ও কাশি। এক্সরে করার পর নিউমোনিয়ার কোন লক্ষ্মণ না পাওয়ার কারণে তাকে বাসায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। পরের দিন তাকে আবার হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার আত্মীয়রা।

দেখা গেল তার শ্বাসকষ্ট এতই বেড়েছে যে তিনিরতার নামও বলতে পারছেন না। পরে পরীক্ষা করে তার করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে।

আর একজন রোগী মাথা ব্যথা নিয়ে চিকিৎসকের চেম্বারে আসেন। তিনি তার নাম বলতে পারলেও অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। ফলে চিকিৎসক ব্রেনের সিটি স্ক্যান করালে দেখতে পান, ব্রেনের স্থানে স্থানে ফুলে গেছে এবং কিছু কোষও মারা গেছে।

হেনরী ফোর্ড হেলথ সিষ্টেমের চিকিৎসক ডা.এলিসা ফোরি বলেন, এতে প্রমাণিত হয় অনেকসময় করোনা ভাইরাস ব্রেনকেও আক্রান্ত করতে পারে।
তবে জন হফকিন্স স্কুল অফ মেডিসিনের নিউরোলজিষ্ট ডা.রবার্ট ষ্টিভেনস বলেন, কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী মানসিকভাবে কোন অসংলগ্ন আচরণ করে না। তারা জাগ্রত এবং নিউরোলজিকাল পরীক্ষায় স্বাভাবিক থাকে। আর যাদের ব্রেনের অস্বাভাবিক আচরণ পরিলক্ষিত হয় তাদের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, শ্বাসকষ্টের কারণে ব্রেনে অক্সিজেন সাপ্লাই কম হয় এবং কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যায়।

চিকিৎসা বিষয়ক জার্নাল ল্যানসেটের তথ্যমতে করোনার ১৭% রোগী অর্গান ফেইলর, ৮% তীব্র শ্বাসকষ্ট, ৩% কিডনি ফেইলর, ৪% রক্তে ইনফেকশন, ১% ভেন্টিলেটরে থাকার কারণে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়। এতদিন আমরা শুধু যেসব লক্ষণ নিয়ে কথা বলতাম এখন এসব নতুন লক্ষণের দিকেও তাদের দৃষ্টিপাত করতে হবে।

 

তথ্যসূত্রঃ গালফ নিউজ

 

ডা. ফেরদৌস রহমান পলাশ
সহযোগী অধ্যাপক
প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর

করোনা ভাইরাস: সংক্রমণের নতুন ও ব্যতিক্রমী কিছু লক্ষণ

ডা.ফেরদৌস রহমান পলাশ

৩০ মার্চ, ২০২০ , ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ

ডায়াবেটিস রোগীর জন্য করণীয়

দেখা যাচ্ছে যে, করোনার আক্রমণে যেসব রোগী হার মানছেন তাদের ৮ থেকে ৯ শতাংশ ডায়াবেটিক রোগী। এর মূল কারণ হলো, ডায়াবেটিক রোগীর সবচেয়ে বড় সমস্যা তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি কম। ফলে করোনা তাদেরকে সহজে কাবু করতে পারে। একই সমস্যায় এসব রোগীর প্রেসার, কিডনি ইত্যাদিতে প্রভাব পড়ে থাকে। কাজেই অন্য অনেক সাবধানতার মধ্যে ডায়াবেটিক রোগীর দিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে।

১. কোন অবস্থাতেই তাদের সুগার লেভেল যেন বেশি না হয় সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। ওষুধ বা ইনসুলিন অ্যাডজাস্ট করতে হবে।

২. সকাল সন্ধ্যা বাইরের হাঁটা এখন বন্ধ হলেও ঘরেই ব্যায়াম করতে হবে।

৩. দূরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশি শিষ্টাচার ঠিক রাখতে হবে।

৪. ঘরেই সুগার মাপার জন্য গ্লুকোমিটার রাখতে হবে। প্রতিদিন মেপে দেখতে হবে।

৫. হাঁচি কাশি তা সে যে কারণেই হোক (আগের অ্যালার্জিজনিত হলেও) সেটা যেন কোনভাবেই অন্যের সামনে দেয়া না হয়।

৬. হাঁচি-কাশি রোধে সব ধরণের ঠাণ্ডা খাবার পরিহার করতে হবে।

৭. বয়স্ক ডায়াবেটিস রোগীর জন্য বেশি সাবধান থাকতে হবে।

৮. বাড়িতে কোন জ্বরকাশির রোগী থাকলে তাকে প্রথমেই ডায়াবেটিস ও বয়স্ক লোকদের কাছ থেকে আলাদা করে রাখতে হবে।

৯. এসব রোগী কোন অবস্থাতেই যেন বাইরে না যান সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে।

১০. কোন ধরণের হরমোনজনিত সমস্যা থাকলে সেদিকে নজর দিতে হবে।

১১. কিডনির/ হাইপারটেনশনের সমস্যা থাকলে আগের পরামর্শ ঠিকমতো মেনে চলতে হবে।

মোট কথা কোন অবস্থাতেই ডায়াবেটিক রোগীর সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে দেয়া যাবে না।

 

ডা. মনোজ গোয়েল, বিভাগীয় প্রধান, পালমোনলোজি, ফরটিস মেমোরিয়াল রিসার্চ ইনস্টিটিউট, ভারত-এর ভিডিও সহায়তা।

 

করোনা-ভাইরাস:-ডায়াবেটিস-রোগীর-জন্য-করণীয়

Writter