হেলেন আরা সিডনী

Intro

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
শেখ মুজিব জন্মশতবার্ষিকীর শ্রদ্ধাঞ্জলি
শেখ মুজিব জন্মশতবার্ষিকীর শ্রদ্ধাঞ্জলি
শেখ মুজিব জন্মশতবার্ষিকীর শ্রদ্ধাঞ্জলি
শেখ মুজিব জন্মশতবার্ষিকীর শ্রদ্ধাঞ্জলি
শেখ মুজিব জন্মশতবার্ষিকীর শ্রদ্ধাঞ্জলি
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১

Writter

Intro

হেলেন আরা সিডনী

৮ আগস্ট, ২০২০ , ৮:২২ অপরাহ্ণ

পাঁজরের বাল্বগুলো

সুমি বারান্দার গ্রিলে দাঁড়িয়ে মুক্ত আকাশটাকে দেখে ভাবে কতো না বিশালতা নিয়ে জেগে আছে সে । ঝড়-বৃষ্টি-রৌদ্র, আলো-ছায়ার অপূর্ব খেলায় মাতিয়ে রাখে প্রকৃতি, মাতিয়ে রাখে জনজীবনের চলার পথ।

মানিয়ে নেওয়া আর মেনে নেওয়া জীবনে সকলে তাই অভ্যস্ত হয়ে পরে। কিন্তু সুমির চোখটা ঝাপসা হয়ে আসে। প্রশ্নের ঝাঁকুনিতে ফোঁটা ফোঁটা জল গড়িয়ে পরে চোখ বেয়ে। হাজারো প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জানতে চায়, আচ্ছা কেন কেউ বুঝতে চায় না বা পারে না যে পাঁজরের অলি-গলি, এমনকি উপগলিটাও কোনো একদিন দারুণ নির্মমতার মধ্যে দিয়ে ফাঁকা হয়ে যায়। ভালোলাগার হৃদ পাঁজরের বাল্বগুলো ঢুলুঢুলু হতে হতে একদিন ছেঁড়া তারে নষ্ট হলে কষ্টের ঝুড়িতে ফেলে দিতে হয় নিজের হাতে। এলোমেলো ঝড়ো হাওয়ায় নিবিড়তার বুকে জমাট বাঁধা রক্তকে শিথিল করে নিয়ে সরে যেতে হয়। কেউ বুঝতে চায় না এমন দুর্ভাগ্যময় ভাগ্য বাসিন্দার জীবনগল্প।

যে সংসার জীবনের জন্য একটি মানুষ তার সুখ- শান্তি-আহ্লাদ এমনকি ভালোবাসাটুকু ত্যাগ করে নাড়ি ছেঁড়া ধনের দিকে তাকিয়ে বুকে আশা আর চোখে স্বপ্ন নিয়ে মানুষ করার জন্য যখন যে কাজ পেয়েছে সেই কাজ করতে কুন্ঠা রাখেনি, কারণ সুমি জানে সৎ পথে থাকতে গেলে কষ্ট করতেই হবে। হায় কষ্ট, দাও আরো যতো পারো কষ্ট দাও। সারাটা জীবনের মতো সব সময় সুমি চাইবে সব কষ্ট, সব ত্যাগের বিনিময়ে ভালো থাক সকলে। সে কষ্ট কোনো কষ্ট না, বড় কষ্ট পেলো আজ। ওর নিঃসঙ্গ – একাকিত্বের সবটাই নাকি ছিল রং মেখে ঢং করা…বাড়িতে একাকি থাকা তাই তো সকলে চলে গেলো শুধু মাত্র আঁকড়ে পরে থাকা বাড়ির ভিটা থেকে বের হলো না বলে। না সুমি ভালো না..একটুও ভালো না। একটা মন্দ মেয়ে লোক এই তার স্বত:স্ফূর্ত প্রাপ্তি। সুমি এখন হাসে…হা..হা..করে হাসে, এতো সুন্দর পুরস্কার পাওয়ার পর আর কিছু পাওনা থাকে কি?

সুমি অবাক হয়ে ভাবে যা ঘটে যাচ্ছে তার চোখের সামনে তা রং বদলানো বিবেক বোধের নিশ্বাসে – প্রশ্বাসে বিষ ছড়ানো স্বার্থপরতার ঘৃণিত এক রূপ। তাকে ঘৃণা করে সুমি, ভীষণ ভাবে  ঘৃণা করে কারন সুমি নিজে কখনো স্বার্থের লেনদেনে জীবনের কোন সিদ্ধি লাভের কথা ভাবে নি, খুঁজেও নি সে পথ। অথচ রক্তের বিশ্বাসঘাতকতাকে তারি চোখের সামনে দেখে দেখে আজ সুমি সত্যি বড় ক্লান্ত। কোন লোভের মোহনা  টেনে নিয়ে যাচ্ছে ওর রক্তের বাঁধনকে। আর কেনো এতো তাড়াতাড়ি জীবনের সুসভ্য সামাজিক উদ্যম, নিজের ব্যক্তি সত্তা হারিয়ে ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন পতন স্রোতে ভাসিয়ে দেয় নিজের মূল্যবোধকে???

কতো না জল-কাদা, ঝড় -বৃষ্টি, মান-অপমানের প্রখর দাপটকে জীবনবাজী রেখে বুকের ভেতর ভালোবাসার শেকড়কে লুকিয়ে লুকিয়ে সামনে এগুনোর প্রবল এক চেষ্টার সময়ের প্রতীক্ষায় ছিল পথ চেয়ে থাকা। সে পথ জুড়ে যেন ঝরা পাতার মর্মরধ্বনি – প্রতিধ্বনিতে মুখরিত আজ।  নেই জীবনাস্পন্দন, নেই অন্তরাত্মার আনন্দ – উল্লাস, নেই কোনো ভালোবাসা আছে শুধু পথের বুকে শব্দহীন চিৎকার।

কতোটা দায়বোধ থেকে শূন্যতার আপনালয়ে ভালোবাসার শেকড়কে পূর্ণতার শেখরে সাজাবার স্বপ্ন আর আশায় বুক বেঁধে ছিল। মহান করুণাময় কেন এমন করলো তার ভাগ্যটাকে। তবে যা ছিল তা কি শুধুই দুঃস্বপ্ন। সুমির বুক চিড়ে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে….। বাহিরের চারদিকে ছুঁয়ে থাকা পাতলা আঁধারের সীমাহীনতা  ধীরে ধীরে চোখের গহীনে লুকিয়ে থাকা অন্ধকারকে ঘনীভূত করে সুমিকে টেনে নিয়ে যায় আগামীর দুঃসময়ের অন্ধকার গহ্বরে…..সুমি জানে না জীবনের চাওয়া – পাওয়া বিসর্জনের
অনাগত ভবিষ্যৎ তার জন্য আর কী উপহার রেখেছে…..

 

পাঁজরের বাল্বগুলো - হেলেন আরা সিডনী

হেলেন আরা সিডনী

২৮ মে, ২০২০ , ৪:৪০ অপরাহ্ণ

ঈদ কেমন কাটলো

শুকরিয়া বলতেই হয় কারণ চারদিকে এতো বিপর্যস্ততার ভিতরেও পবিত্র রমজান মাসের ত্রিশ রোজার পর ভয়ংকর মরণব্যাধী করোনার আতংক – দু:খ – কষ্টকে  বুকে নিয়েও আমরা ঘরে ঘরে ঈদানন্দকে যে যে ভাবে পেরেছি ভাগ্যবিধির শ্রেষ্ঠ উপহার মনে করে ঈদকে হাসি মুখে গ্রহণ করে নিয়েছি। এটাই লাখো শুকরিয়া…।

তবে হ্যাঁ, আমি ব্যক্তিগত অনুভূতিতে বলতে পারি – অব্যক্ত মনে একটা কষ্ট আমায় যেনো কুড়ে কুড়ে যন্ত্রণা দেয় সেটা দীর্ঘ বছর ধরে এই ঈদ সময়গুলোতে। এবার আরো বেশি আর সেটা অন্য মনে..অন্য নিঃসঙ্গতা / একাকিত্বের মানসিকতায় ঈদকে বুঝতে চেষ্টা করেছি। আহত ব্যথাগুলো চোখ জলে ফোঁটাফোঁটা হয়ে ঝরে পরে নি বললে মিথ্যে হবে। আমি যেখানে থাকি সেই জায়গাটা মেইন শ্বশুরবাড়ি ছিল যদিও সেটা আমি পরে আমার মতো করে ছোট্ট একটা এক চিলতে ঘর করে নিয়ে সেই বাসাটির নাম দিয়েছি শ্বশুর আব্বার নামে ‘ফজলার ম্যানসন’।

বিয়ের পর থেকে এই বাড়ির ঈদের নিয়ম দেখে এসেছিলাম রংপুরে অবস্হানরত যে যেখানে এই বাড়ির ছেলেরা থাক্ না কেনো সকলেই নিজ নিজ বাসায় গোসল সেরে এই বাসায় চলে আসতো এবং এক সঙ্গে নামাজ পড়তে যেতো। আবার ফিরে এসে এখানে খাওয়া – দাওয়ার আয়োজন পর্ব চলতো।

তখন আমরা ছিলাম পালপাড়া ভাড়া বাসায় এবং যথারীতি নিয়ম আমরাও মেনে চলতাম। একটা সময় সকলে গত হলেও আমি এই বাসায় যখন একাকিত্বের বসত শুরু করলাম তখনও সেই একই নিয়ম যথারীতি অটুট রাখলেন বড় ভাইয়েরা ( মানে ভাসুর-দেবর ) এবং ভাস্তারা। আমার সামর্থ্য অনুযায়ী যতোটুকু ঈদ আপ্যায়ন করতে পেরে আমিও উচ্ছ্বসিত হতাম। এটাই আমার বড় প্রাপ্তি ছিল ঈদের দিনে। এবার সেই ভালোলাগা – আনন্দ থেকে এই বড় ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় থেকে বঞ্চিত হয়েছি বলে মনটা সত্যি খুব ভারাক্রান্ত হয়ে উঠেছিল।

রাস্তার বড় দরজা খুলে দাঁড়িয়ে শুনছিলাম মাইকে নিজ নিজ নিরাপত্তা রেখে নিয়ম মেনে নিজ নিজ এলাকার মসজিদে নামাজ পড়ার আন্তরিক আহ্বান। সত্যি কিছু কিছু মানুষ সেই ডাকে সাড়া দিয়ে যখন মসজিদে যাচ্ছিল তখন আমার চোখে পানি আসছিল কারন সেই ছোট্ট বেলা থেকেই দেখেছি-বুঝেছি ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানে নতুন জামা, ঈদ মানে ঈদগাহ্ মাঠে নামাজ..বুকে বুক মেলানো কোলাকুলি, কোলাহল অথচ এবার কেমন যেনো নীরবতা – কেবলি ভয়। প্রহর গুণে গুণে মানসিক ভাবে আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ছি যেনো। কিছু মানুষ মসজিদে গেছে। চোখে পানি নিয়ে শুকরিয়া জানাই অত:পর নামাজ পড়ে রাব্বুল আল আমিনের কাছে ক্ষমা চাই। ক্ষমা চাই সারা বিশ্ববাসীর জন্য। কেনো যেনো এবার ঈদ উপলক্ষ্যে কোনো আয়োজনের অনুভূতি অনুভব করি নি হয়তো মন কোন সাড়া দেয় নি। সেটা বুঝে আমার মেজোবোনের পুরো পরিবার এসে ঈদ আয়োজনের খাবার ভর্তি টিফিন ক্যারিয়ার আমার হাতে তুলে দিয়ে বুঝিয়ে গেলো- আজ ঈদের দিন। ওরা অনুভব করেছিল আমি কিছু করবো না।

সত্যি বলতে কি আমার ঈদেরা যেনো বহুদিন আগে নিলাম হয়ে গেছে কোথায় কোনো এক কষ্ট সময়ের কাছে। এবারের ঈদ যেনো আরো গভীর ভাবে হৃদয় নিঃসঙ্গ তেষ্টায় নিমজ্জিত হয়ে গেছে। যদিও দেশ-বিদেশ থেকে বোন, আত্মীয় – স্বজন, সাংগঠনিক আলীম স্যার, মনোয়ারা আপা সকলে যখন মোবাইলে শুভেচ্ছা জানাচ্ছিল মনটাতে তখন খুব ভালো লাগছিল। বাংলার বুকের চারদিক যেনো নির্জনতার দীর্ঘশ্বাসে গোপন তেষ্টায় কম্পিত হচ্ছিল। ২০২০ সালের করোনা নিষ্ঠুর যন্ত্রনা, ঝড়ের ভয়ংকরী আঘাত এমন দুঃসময় যেনো আর কোনোদিন না আসে…এই প্রার্থনা । জীবন ক্যানভাসে আজকের এই ঈদ সময়কে আমার অভিজ্ঞতার শব্দজালে বন্দী করার প্রয়াস বা সুযোগ পেলাম আকস্মিক ভাবে মুগ্ধতা ডট কমের আয়োজনে। অনেক কৃতজ্ঞতা আন্তরিক শুভেচ্ছা মুগ্ধতা ডট কম পরিবার। ঈদ মোবারক। সকলেই ভালো থাকুন…ঘরে থাকুন।

হেলেন আরা সিডনী
কবি, রংপুর।

ঈদ কেমন কাটলো -হেলেন আরা সিডনী

Writter