মাসুদ বশীর

Intro

জন্মস্হানঃ গোমস্তা পাড়া, রংপুর।
জন্ম তারিখঃ সেপ্টেম্বর ০৪, ১৯৬৭ সাল।
রাশিঃ কন্যা।
পরিচয়ঃ কবি, গল্পকার, লেখক ও উন্নয়ন কর্মী।
লেখালেখির শুরুঃ ১৯৮০ সাল থেকে।
প্রথম প্রকাশিত লেখাঃ কবিতা(প্রতিদান), ১৯৮৪ সাল।
প্রকাশিত বইঃ প্রতীক্ষায় প্রতিদিন(কবিতা), ১৯৯০ সাল।
পুরস্কারঃ দেশব্যাপী অভিযাত্রিক সাহিত্য প্রতিযোগিতায়(১৯৯১ সাল) কবিতা বিষয়ে ১ম স্হান অর্জন।
প্রিয় ব্যক্তিত্বঃ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)।
প্রিয় কবিঃ কাজী নজরুল ইসলাম।
প্রিয় সঙ্গীতঃ আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি।
প্রিয় বিশ্বাসঃ স্বার্থহীন ভালোবাসা।
নিজের প্রিয় উক্তিঃ "মনের চেয়ে বড় গতি কিছু নেই, সুন্দর মনের চেয়ে সুন্দর কিছু নেই"
প্রিয় ফুলঃ লাল গোলাপ।
প্রিয় রংঃ সবুজ।
প্রিয় শখঃ খোলা সবুজ প্রান্তরে একাকী বসে থাকা।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
পদাবলি
পদাবলি
পদাবলি
পদাবলি
পদাবলি
পদাবলি
পদাবলি
পদাবলি
পদাবলি

Writter

Intro

জন্মস্হানঃ গোমস্তা পাড়া, রংপুর।
জন্ম তারিখঃ সেপ্টেম্বর ০৪, ১৯৬৭ সাল।
রাশিঃ কন্যা।
পরিচয়ঃ কবি, গল্পকার, লেখক ও উন্নয়ন কর্মী।
লেখালেখির শুরুঃ ১৯৮০ সাল থেকে।
প্রথম প্রকাশিত লেখাঃ কবিতা(প্রতিদান), ১৯৮৪ সাল।
প্রকাশিত বইঃ প্রতীক্ষায় প্রতিদিন(কবিতা), ১৯৯০ সাল।
পুরস্কারঃ দেশব্যাপী অভিযাত্রিক সাহিত্য প্রতিযোগিতায়(১৯৯১ সাল) কবিতা বিষয়ে ১ম স্হান অর্জন।
প্রিয় ব্যক্তিত্বঃ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)।
প্রিয় কবিঃ কাজী নজরুল ইসলাম।
প্রিয় সঙ্গীতঃ আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি।
প্রিয় বিশ্বাসঃ স্বার্থহীন ভালোবাসা।
নিজের প্রিয় উক্তিঃ "মনের চেয়ে বড় গতি কিছু নেই, সুন্দর মনের চেয়ে সুন্দর কিছু নেই"
প্রিয় ফুলঃ লাল গোলাপ।
প্রিয় রংঃ সবুজ।
প্রিয় শখঃ খোলা সবুজ প্রান্তরে একাকী বসে থাকা।

মাসুদ বশীর

২৪ আগস্ট, ২০২০ , ১:২২ অপরাহ্ণ

স্মরণ ও শ্রদ্ধাঞ্জলি: কবি ভিস্লাভা শিমবরস্কা (১৯২৩ – ২০১২)

কবি ও কবিতার এক মূর্ত প্রতিচ্ছবি নোবেলজয়ী পোলিশ কবি ভিস্লাভা শিমবরস্কা। প্রচার বিমুখ ও অন্তর্মুখি চরিত্রের কারণে বিশ্ব দরবারে তাঁর পরিচিতি তেমন একটা ব্যাপক নয়। শিমবরস্কার কবিতার বইও ইংরেজিতে তেমন একটা অনূদিত হয়নি। নোবেল কমিটি ১৯৯৬ সালে এই নিভৃতচারী কবিকেই নোবেল পুরষ্কারে পুরষ্কৃত করে।

কবি ভিস্লাভা শিমবরস্কা

কবি ভিস্লাভা শিমবরস্কা

এই আধুনিক পোলিশ কবি ভিস্লাভা শিমবরস্কা’র জন্ম পোলান্ডের পোজনান শহরের কাছে কোরনিক গ্রামে- এ্যানা মারিয়া নি রোটেরমান্ড এবং ভিনসেন্ট শিম্বোরস্কী দম্পতির ঘরে ১৯২৩ সালের ২রা জুলাই। কবি’র বয়স যখন আট তখন তিনি পরিবারের সাথে ক্রাকাউ শহরে চলে আসেন। বিশ্ববিখ্যাত জাগোলোনিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি সমাজতত্ত্ব ও পোলিশ সাহিত্য নিয়ে।

পড়াশোনা করেন। বাইশ বছর বয়সে “I seek the word” শিরোনামে তাঁর প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় ‘স্ট্রাগল’ নামক একটি পত্রিকায়। এরপর তাঁর শব্দসন্ধানের নিরন্তর সংগ্রাম আর থেমে থাকেনি। প্রথম জীবনে পূর্ব-ইউরোপীয় কবিদের মতোন তিনিও সমাজতান্ত্রিক বাস্তবতা, শান্তিবাদী, যুদ্ধবিরোধী মানবিক বোধের কবিতাই বেশি লিখতেন। তাঁর প্রকাশিত প্রথম কবিতার বইয়ের প্রায় সবগুলো কবিতাই ছিলো এই ধারার। কিন্তু আস্তে আস্তে শিমবরস্কা নিজেকে ভাঙতে থাকেন এবং নিজেকে পাল্টিয়ে ফেলেন একদম সুনিপুণভাবে, তাই দেখা যায় তাঁর প্রথম জীবনের লেখা সব কবিতাকে তিনি নির্দ্বিধায় অস্বীকার করেন এবং ১৯৭০ সালে প্রকাশিত তাঁর নির্বাচিত কবিতাগ্রন্থে প্রথম কবিতার বইয়ের একটি কবিতাও স্থান পায়নি। ভিন্ন মননে- রাজনীতি, সমাজনীতির বদলে তাঁর কবিতায় প্রবলভাবে স্থান করে নেয় মানবসম্পর্ক, স্বপ্নকল্পনাবোধ ও ভালোবাসা। সহজসরল সাবলীল ভাষায়- প্রকরণের উচ্চকন্ঠ, সহজ ভাষণের পরিবর্তে গভীর, গোপন ইঙ্গিতময় মিথকথনের অমায়িক উপস্থাপন লক্ষ্য করা যায় তাঁর লেখা পরবর্তী কবিতাগুলোতে এবং এর পূর্ণাঙ্গ প্রকাশ ঘটে ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত তাঁর “Calling out of Yeti” গ্রন্থে। এই গ্রন্থে দেখা যায় ভিস্লাভা একবারে স্বতন্ত্র ও মৌলিক।

ভিস্লাভা একজন আদ্যোপান্ত কবি। তিনি প্রথম জীবনে কিছু ছোটগল্প লিখলেও তা ছাপতে দেননি মোটেও এবং কখনো নাটক-নভেল লেখারও একদম চেষ্টা করেননি কোনদিনও। কবিতা লেখার বাইরে কবি আরও দুটো কাজ করেছেন একটি হলো অনুবাদ আর একটি গ্রন্থ সমালোচনা, অনুবাদের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র করেছেন কবিতার অনুবাদ।

ভিস্লাভার কবিতা অস্তিত্ববাদ সম্পর্কে গভীরভাবে প্রশ্ন করে থাকে, যা তার কবিতার ধরনের মধ্যে অন্যতম বৈশিষ্ট্য এবং এর শ্রেণীকরণ কোনখান থেকে ধার করা যায় না। তিনি কোনো একটি বিষয়কে প্রাণপণে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে মানুষের অস্তিত্বের গভীরতম স্থানে নিয়ে যান। তিনি বর্তমানের কোনো অভিজ্ঞতা ও উপকরণকে যন্ত্রের মতো বুনন করে রাখেন। যাকে ঘিরে  থাকে এখনকার ক্ষণস্থায়ী সময় এবং প্রতিদিনকার জীবনযাপন। চারিত্রিকভাবে তার কবিতাগুলো খুবই  সরল। তাঁর ব্যক্তিগত ভাষা ঠিক সমসাময়িক ভাষার মতোন নয় এবং কবিতায় চেতনা এবং সহানুভূতিগুলো প্রকাশিত হয় সামান্য ঘুরপাক খেয়ে। যার মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় আধ্যাত্মিক চেতনার আকর্ষণীয় সমন্বয়।

শিমবরস্কার কবিতা সর্ম্পকে The New York Times Magazine -Gi EDWARD  HIRSCH  বলেছেন, শিমবরস্কা তার কবিতায় সামগ্রিক চিন্তাভাবনার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আত্মবিশ্বাসের একটি মর্যাদাপূর্ণ বিদগ্ধ যুক্তি দৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করেছেন। সম্ভবত তার কবিতা পৃথিবীকে রক্ষা করতে পারবে না। কিন্তু শিমবরস্কার কবিতা লেখার পরে এই পৃথিবীটা ঠিক আগের অবস্থায় থাকবে না। তিনি আমাদের শেখানোর চেষ্টা করেছেন, আমরা এই পৃথিবীর যে নাম দিয়েছি তাকে কীভাবে এবং কোন কৌশলে উপেক্ষা করা যায়।’

এই মহান কবি দীর্ঘদিন ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন এবং ২০১২ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি ৮৮ বছর বয়সে পোল্যান্ডের ক্রাকোভ শহরে নিজ বাসভবনে নিদ্রারত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে পোল্যান্ডের রাষ্ট্রপতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে বলেন, ‘শিমবরস্কা ছিলেন পোল্যান্ডের জাতীয় বিবেকের অভিভাবক। তার প্রাত্যহিক জীবনের ছোট ছোট ঘটনা ও কবিতায় রয়েছে বুদ্ধিদীপ্ত উপদেশ, যা বিশ্ববাসী ধীরে ধীরে অনুভব করবে।’

এই মহান কবি’র অম্লান স্মৃতির প্রতি রইলো আমার একরাশ বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি ও অকৃত্রিম ভালোবাসা।

_______________________________________________

ভিস্লাভা শিমবরস্কা’র কয়েকটি অনুদিত কবিতা

অনুবাদঃ আলম খোরশেদ 

ভোর চারটেয়

রাত ও দিনের সন্ধিক্ষণ,

এপাশ থেকে ওপাশ ফেরার মুহূর্ত।

ত্রিশোত্তরের সময়।

 

কাকের কর্কশ চিৎকারে দীর্ণ,

পৃথিবীর প্রতারণার কাল।

নির্বাপিত নক্ষত্র থেকে হাওয়া আসে।

মনে হয় এর-পর-আর-কিছুই-নেই।

 

ফাঁপা বেলা।

শূন্য, ফাঁকা।

আর সব ঘন্টার তলানি।

 

ভোর চারটেয় কেউ ভালো থাকে না।

পিঁপড়েরা যদি ভালো বোধ করে ভোর চারটেয়

তবে তাদের জন্য তিন উল্লাস।আমাদের যদি বাঁচতে হয়

তবে ঘড়িতে পাঁচটা বাজুক।

অপ্রত্যাশিত সাক্ষাৎ

আমরা খুব ভালো ব্যবহার করি পরস্পরের সঙ্গে।

জোর দিয়ে বলি এত বছর বাদে দেখা হয়ে কী ভালোই না লাগছে।

 

আমাদের বাঘেরা দুধ পান করে।

আমাদের শকুনেরা মাটিতে হাঁটে।

আমাদের হাঙ্গরেরা নদীতে ডোবে।

আমাদের নেকড়েরা খোলা খাঁচার সামনে বসে হাই তোলে।

 

আমাদের সর্পেরা বিদ্যুচ্চমক খসিয়ে দিয়েছে,

বানরের প্রেরণা আর ময়ূরেরা পালক।

অনেক দিন হয় বাদুড়েরা উড়ে গেছে আমাদের চুল থেকে।

 

আমরা বাক্যের মাঝে চুপ হয়ে যাই,

হাসি পরিত্রাণের অতীত।

আমাদের লোকদের

কিছুই বলার নেই আর।

ভিয়েতনাম

কী নাম তোমার নারী?___বলতে পারি না।

কোথায় তোমার বাড়ি, জন্মেছিলে কবে?___বলতে পারি না।

মাটিতে খুঁড়েছ কেন এই গর্ত?___বলতে পারি না।

এখানে লুকিয়ে আছ কত দিন?___বলতে পারি না।

মিত্রের হাত কেন কামড়ে দিয়েছিলে তুমি?___বলতে পারি না।

আমরা তোমার কোনো ক্ষতি করব না, জানতে না তুমি?___না।

তুমি কার দলে?___বলতে পারি না।

লড়াই চলছে, পক্ষ বেছে নিতে হবেই তোমাকে।___বলতে পারি না।

তোমার গ্রামের কী খবর, টিকে আছে আজো?___বলতে পারি না।

এরা কি তোমার ছেলেমেয়ে?___হ্যাঁ।

প্রত্যাবর্তন

সে বাড়ি ফেরে। কথা বলে না কোনো।

নিশ্চিত খারাপ কিছু ঘটেছে।

সে জামাজুতো নিয়েই শুয়ে পড়ে।

মাথা গুঁজে দেয় কম্বলের নিচে।

পা দুটো কুঁকড়ে নেয়।

বয়স তার চল্লিশ, যদিও এ মুহূর্তে নয়।

এখন তার অবস্থান মাতৃজরায়ুর

সপ্তম আবরণের এলাকার সুরক্ষিত অন্ধকারে।

কাল সে মহাকাশ নিয়ে বক্তৃতা দেবে।

 

আত্মসমালোচনার সমর্থনে

শকুন তার নিজের দোষ দেখে না।

কৃঞ্চচিতার কাছে বিবেক অপরিচিত।

সারমেয় তার কাজের ঔচিত্যকে সন্দেহ করে না।

ঘুঙুর সাপ বিনা ভাবনায় নিজেকে অনুমোদন করে।

 

আত্মসন্দিহান শৃগালের কোন অস্তিত্ব নেই।

কুমির, পঙ্গপাল, ঘাসফড়িং, ক্যাঙ্গারু

নিজের খুশিমতো বাঁচে এবং বেঁচে খুশি থাকে।

 

ঘাতক তিমির হৃৎপিণ্ডের ওজন এক শ’ মন,

তবে অন্য বিবেচনায় তা নিছকই হালকা।

 

সূর্যবলয়ের এই তৃতীয় গ্রহে

পরিচ্ছন্ন বিবেকের চেয়ে

পশুসুলভ আর কিছু নেই।

 

স্মরণ ও শ্রদ্ধাঞ্জলি - কবি ভিস্লাভা শিমবরস্কা

মাসুদ বশীর

১৩ জুলাই, ২০২০ , ১০:১৩ অপরাহ্ণ

এক ভরা বরষার অন্ধকার রাতে…

বৃষ্টি। বাংলা এই শব্দটির ভেতরে একটা অমায়িক সুন্দর দ্যোতনা ও ঝংকার বহমান। শব্দটি কানে এলেই তা যেন মস্তিষ্কের গভীরে একটা রিমঝিম দোলায় আপনাআপনিই খেলা করতে থাকে। আবার টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ সে-তো আরও বেশি রোমাঞ্চকর। বৃষ্টি, বর্ষাকাল নিয়ে- গান, কবিতা, ছড়া, গল্প, উপন্যাস বিশ্ব সাহিত্যসহ বাংলা সাহিত্যেও একটা বিশেষ স্থান দখল করে আছে। পৃথিবীতে এমন কোন লেখক খুঁজে পাওয়া যাবেনা যিনি এই বৃষ্টি নিয়ে জীবনে অন্তত দু’চার লাইন লেখা লিখেন নি।

বৃষ্টি নিয়ে স্মৃতির ক্যানভাসে অনেক সুন্দর ছবিই আমার মনোজগতে বিচরণ করে। কোন স্মৃতিই অমলিন নয়, সব স্মৃতিই যেন বারবার মনকে আন্দোলিত করে এবং আমাকে নিয়ে যায় সেইসব সোনালি মধুর দিনগুলোতে।
প্রায় বছর বারো আগেকার সেরকমই একটি মজার সোনালি স্মৃতিকথা, মুগ্ধতার সম্মানিত পাঠকদের সাথে আজ আমি শেয়ার করছি।

আমার শ্বশুরালয় রংপুর শহর থেকে প্রায় ২২কি.মি. দূরে পাগলাপীর বাজার ছেড়ে পরের স্টপেজ সালেয়াশাহ বাজার। আমার পরদাদা শ্বশুরের নামে এই বাজারের নামকরণ করা হয়েছে- “সালেয়াশাহ বাজার”। সে যাক, তখন আমি কেয়ার বাংলাদেশের একটি প্রকল্পে ‘এমএন্ডই অফিসার’- পদে কর্মরত। আমার পোস্টিং বা কর্ম এলাকা ছিলো নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর। প্রতিদিন আমার নিজস্ব বাইকে করে আমি অফিস করতাম। যেহেতু অফিস যাওয়া-আসার পথে পরতো আমার শ্বশুরালয়, তাই মাঝে-মধ্যেই ফেরার পথে সেখানে আমি ঢুঁ মারতাম। কিন্তু সেদিন আবহাওয়া বিপরীত দেখে শ্বশুরালয়ের সকলের চাওয়ায় সেখানেই আমি রাত্রি যাপন করলাম। তখন ছিলো একদম ভরা বর্ষাকাল এবং আমের সিজন, বলতে গেলে মধুমাস। প্রতিটি আমগাছে তখন আমের বিপুল সমাহার। সেইরাতে আকাশ ভেঙ্গে তুমুল ঝড় উঠলো, দমকা হাওয়াসহ ঝমঝমিয়ে শুরু হয়ে গেলো প্রবল বৃষ্টি। মাঝে-মাঝেই প্রকট আওয়াজে বাঁজ পড়ছে, বিজলি চমকাচ্ছে এবং অনবরত চলছে গুরুগম্ভীর মেঘের গর্জন। তার মাঝেই থেকে থেকে কানে ভেসে আসছে আমগাছ থেকে আম পড়ার শব্দ। হঠাৎ, কি জানি কি মনে হলো, মনের খেয়ালে তখনই একটু আনন্দ উপভোগের অভিপ্রায়ে এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা নেয়ার মানসে সেই গভীর রাতেই (যখন মহল্লার সকলেই ঝমঝমিয়ে বৃষ্টির আনন্দ দোলায় গভীর নিদ্রায় নিদ্রিত) আমি, আমার সহধর্মিণী ও ছোট দুই শালিকাদ্বয়কে সাথে নিয়ে নেমে পড়লাম ঘুটঘুটে অন্ধকারে আম কুড়ানোর প্রমত্ত উন্মত্ত নেশায়। ইতোমধ্যে বিদ্যুৎও চলে গেলো। প্রথমে আমরা ছাতা মাথায়, হাতে মোবাইল ও টর্চের আলোতে কুড়াতে থাকলাম আম, কিন্তু পরবর্তীতে এমনই আম পেতে লাগলাম যে, যার কারণে আম কুড়ানোর আরও গভীর নেশায় যেন পেয়ে বসলো আমাদের সকলকে। তখন আম রাখার মতো আর কোন পাত্রই হাতের কাছে না পেয়ে, সকলেই যে যার ছাতার ভেতরেই গলাতে শুরু করলাম আম। এমনিতেই আমি মেঘের গর্জন, বিজলি চমকানোকে ভীষণ ভয় পাই, বুকটা ধরাস করে স্থবির হয়ে যায়! কিন্তু সেরাতে ওই অন্ধকারেও আমার যেন তা নিয়ে কোন মাথা ব্যথা নেই, কোন ভয়ই যেন আর আমার মধ্যে কাজ করলো না। আসলে মানুষ যখন কোন বিষয়ের একদম গভীরে অবগাহন করে তখন অন্যান্য পারিপার্শ্বিক বিষয়াদি তাতে তেমন কোনই প্রভাব ফেলতে পারেনা। আম কুড়ানো শেষে, অবশেষে আমরা ঘরে ফিরলাম। তখনও ঘুটঘুটে অন্ধকার চারদিক, তবুও মোবাইল ও টর্চের আলোতে আমরা অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখতে লাগলাম অগণিত আম! কতো ধরনের যে আম কুড়িয়েছি আমরা, যা বলে শেষ করা যাবেনা- পাঁকা-কাঁচা, ছোট-বড়, বিভিন্ন রকমের আম। এদিকে সকলের শরীর তো একদম বৃষ্টির জলে ভিজে-ভিজেই সারা, ঠিক যেন একটা একাকার অবস্হা সবার! সে রাতের অমন রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কথা আজও মনে পড়লে, তা আমাকে মনের গভীরে ভীষনভাবে আনন্দের দোলা দেয় এবং বাংলার অপূর্ব সুন্দর সবুজে-শ্যামল চিরায়ত শাশ্বত রূপটি চোখের সামনে অকপটে নিদারুন ছবি আঁকতেই থাকে সারাক্ষণ। সত্যিই, আমার প্রিয় মাতৃভূমির মতো এতো সুন্দর অপরূপ সাবলীল অপূর্ব সৌন্দর্য পৃথিবীর আর কোথাও কখনোই খুঁজে পাওয়া যায়না, যাবেনা এবং একদম নেইও।

তাইতো পল্লী কবি জসীমউদ্দিন তার ‘মামার বাড়ি’ কবিতায়- বাংলার চিরায়ত অপরূপ রূপটি নিপূণ সুন্দরভাবে এঁকেছেন এভাবেইঃ

মামার বাড়ি

জসীমউদদীন 

আয় ছেলেরা , আয় মেয়েরা

ফুল তুলিতে যাই,

ফুলের মালা গলায় দিয়ে

মামার বাড়ি যাই।

ঝড়ের দিনে মামার দেশে

আম কুড়াতে সুখ,

পাকা জামের মধুর রসে

রঙিন করি মুখ।

এক ভরা বরষার অন্ধকার রাতে

মাসুদ বশীর

৩০ মে, ২০২০ , ১০:২৬ অপরাহ্ণ

প্রাণহীন এবারের আমার ঈদের দিন

ঈদ মুবারক। এবারের রমজান মাসটা যে কি করে নিশ্চুপে ইতি টানলো বুঝতেই পারলাম না। প্রতিবছর রমজানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটা অন্যরকম আমেজ মনের মধ্যে দোলা দেয়, কিন্তু এবারের রমজানটা শুধু আতংক, ভয়, উদ্বিগ্নতা, উৎকন্ঠার ভেতরেই কাটলো এবং রমজান পরবর্তী সময় এখনো ওভাবেই কাটছে। আমার তো মনে হয় এখন সারা পৃথিবীর সবার মাঝে একটি কথাই বিরাজ করছে যে, এই বিরুদ্ধ সময়ের ইতি কোথায়? আর কতদিন ঘরে থাকতে হবে? কবে ভ্যাকসিন আবিষ্কার হবে? কে দেবে এই অশুভ থাবা থেকে বাঁচতে সত্যিকারের উপায়?

আসলেই- কেউ নেই, কেউ ছিল না এবং কেউ থাকবে না! একমাত্র অসীম আকাশের পানে চেয়ে চেয়ে প্রার্থনা করা ছাড়া কারো মাঝেই আজ এর সঠিক কোন যেন সমাধান জানা নেই। তাইতো বেশিরভাগ মানুষই আজ ভুলে গেছেন দিন, মাস, বছর গণনার হিসেব এবং এর ব্যতিক্রম আমিও নই।

আমার উনিরে প্রায়শই এখন জিজ্ঞেস করি আজ কী বার, মাসের কত তারিখ, ইত্যাদি ইত্যাদি, সে-ও সবসময় উত্তর দিতে পারেনা তখন মোবাইল স্ক্রিনে দেখে এর সমাধান দেয়। এমন কি এই সেদিন আমার মা’কেও জিজ্ঞেস করলাম আজ কত রোজা মা? কিন্তু চট করে মা-ও আমার উত্তর দিতে পারেননি। বয়োবৃদ্ধরা সবসময় রোজার হিসেব রাখেন, অথচ আতঙ্কগ্রস্থ মা আমার এবার যেন রোজার হিসেব ভুলেই বসে আছেন।

আমিতো নিজেই এখন বার গণনা ভুলে গেছি, কেমন যেন প্রতিটা দিনকেই এখন আমার শুধু শুক্রবার শুক্রবার মনে হয়! মসজিদে যাওয়া বন্ধ তাই জুম্মাবার আবার কি জিনিস তা-ও ভুলে গেছি? ছোটদের মতো বড়মনে এখন সেই ছোট্টটিই লাগছে একদম নিজেকে, কী অদ্ভুত ব্যাপার-স্যাপার! সেদিন মসজিদের মাইকে আজান হতে শুনে ভাবলাম- কী ব্যাপার বেলা একটা কি বাজতে চললো, ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি তখন বেলা বারোটা, সেকেন্ড খানেক সম্বিতে হুঁশ ফিরলো ও… আজ মনে হয় শুক্রবার, কি একটা অবস্থা! মনে হয়, মানে এখন যেন আমি স্কুল জীবনের বীজগণিত করছি! যাক এভাবেই বরকতময় মহামূল্যবান মাসটি ইতি টানলো চলে আসলো খুশির ঈদ!

ঈদের সাথে খুশির একটা কমপ্যাক্ট বিষয় জড়িত কিন্তু জীবনে এই প্রথম মনে কোনরকম খুশি অনুভব হয়নি আমার, কেমন যেন প্রাণহীন প্রাণহীন ঈদের দিন! এমনকি এবারে ঈদের নামাজটাও পড়া হয়নি আমার, মানে- আমি মন থেকে একটু পরিচ্ছন্ন থাকার চেষ্টা করি তাই বাড়িতে ঈদের নামাজ পড়িনি, যে বিষয়টা সম্পর্কে আমার যথাযথ জ্ঞান নেই সে বিষয় আমি সহজে চর্চা করিনা, করতে ভালোবাসি না, আর মসজিদে তো যাবোই না কারণ আমি সবক্ষেত্রেই একটু অতি সাবধানতা অবলম্বন করে চলি কিনা। এভাবে বাসাতেই ঈদের সকালটা পার করলাম, যথারীতি গোসল সেরে মাকে সালাম করলাম, আমার উনিসহ বাড়ির সকল ছোট সদস্যরা আমার কাছে সালামি আদায় করলো, দুপুরে যথারীতি ঈদের মধ্যাহ্নভোজ সেরে বিছানায় গা এলিয়ে এন্ড্রয়েডে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ে কেটে গেল আমার এবারের প্রাণহীন  ঈদ।

সেই ছোট্ট বেলা থেকে- একটু পড়া, লেখালেখি চর্চা ও ঈশ্বর প্রার্থনায় ব্রত থাকা আমার সহজাত স্বভাব, তাই এই অবাধ্য দুঃসময়ে তা যেন আরো জোরালো হয়ে উঠছে দিনদিন। কী পাব? কী পেলাম? এবং, কিন্তু, বরং- এসব ভাবনা আমাকে তেমন স্পর্শ করে না। আমি আমার মতো, তবে এবারের ঈদটা ‘আমার মতো’ করে পালন করা হয়নি আমার, হয়তো আমার মতো অনেকরই এবারের ঈদটা চাঁদের মাঝেই এভাবেই সীমাবদ্ধ ছিলোঃ

রমজান চলে গেল

ঈদ কি দেখা পেল?

চাঁদেতে ঝরছে ঈদ

ধরাতে দুখের নিদ…

ঘরে থাকুন, ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, সকলকে নিরাপদ রাখুন এই প্রত্যাশায় পুনশ্চ ঈদ মুবারক।

 

মাসুদ বশীর
কবি, রংপুর

 

প্রাণহীন এবারের আমার ঈদের দিন

Writter