মুগ্ধতা.কম

Intro

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
শেখ মুজিব জন্মশতবার্ষিকীর শ্রদ্ধাঞ্জলি

Writter

Intro

মুগ্ধতা.কম

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ , ৮:০২ অপরাহ্ণ

দারাজের গিফটের নামে ছড়াচ্ছে ম্যালওয়ার

জনপ্রিয় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম দারাজের নাম ব্যবহার করে গিফট দেওয়ার লিংক সমৃদ্ধ একটি ম্যালওয়্যার বা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইনজুড়ে। বিশেষত মেসেঞ্জার অ্যাপ্লিকেশনে বিভ্রান্তি তৈরি করছে এটি। এটির বিশেষত্ব হলো লিংকে কেউ ক্লিক করলেই তার বন্ধুতালিকায় থাকা অন্য অনেকের ইনবক্সে চলে যাচ্ছে লিংকটি। সেখানে “দারেজ” (Darez) নামের “ম্যালওয়্যার” বা ভাইরাসযুক্ত একটি সফটওয়্যার দেখা যায়।

“গিভিং গিফটস টু দারাজ সাপোর্টারস- ফ্রি গিফট ফর এভরিওয়ান” বা “দারেজ সমর্থকদের জন্য বিনামূল্যে উপহার” শিরোনামসহ এই বিভ্রান্তিকর লি দারাজের প্রকৃত গ্রাহকদের ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবারসহ অন্যান্য মেসেজিং অ্যাপগুলোর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

এতে একবার ক্লিক করলেই তা সরাসরি হ্যাকারদের ওই ব্যক্তির ডিভাইসে অনুপ্রবেশ করতে এবং তার ছবি, পরিচিতি এবং ব্যক্তিগত সকল গোপনীয় তথ্য হাতিয়ে নিতে সাহায্য করছে। আর এই পুরো ঘটনাটি ঘটছে “দারাজ” এর পরিবর্তে “দারেজ” ব্র্যান্ডের পরিবর্তিত নাম ব্যবহার করে।

(more…)

দারাজের গিফটের নামে ছড়াচ্ছে ম্যালওয়ার 4

মুগ্ধতা.কম

৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ , ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ

বায়জীদ বোস্তামী বাপ্পীর যুগল কবিতা

জোড়া শালিক

দুটো ভেঙে যাওয়া মানুষ জোড়া লাগে-

কাছে রাখা অতীত ভুলে, এঁটে বসে শরীরে;

গন্ধ ভুলে যায়, বসন্ত ছিঁড়ে খায় মগজ-

বৈরী মন, খোলা চাবুকের ছেঁকা হয় ।

 

সমুদ্র স্নান, চোখে ভাসা রোদ্দুর শহর,

শয্যাশায়ী প্রাক্তন, বিছানায় রোজকার ক্লান্তি-

অসুখের বারান্দায় ঝুপড়ি খেলাঘর সব

মুখ বুজে সয়ে যাওয়া খেয়ালি বায়না।

 

কুড়ি বছরের জমে যাওয়া ভুতুড়ে শরীর-

মেঝে-করিডোরে খেলা করে সুখ উল্লাসে।

ছায়ানীড়ে ভরা যৌবন স্মৃতি, সাড়া দেয়;

ভিজে যায় দুটো ভেঙে যাওয়া মানুষ।

পুরনো সংসার, সাজানো বাগান বিলাস-

নিমিষেই, ঘুনে ধরা নিছক স্বপ্ন লাগে।

লিখে রাখা ডায়রির পাতা খসে পড়ে জানালায়-

ক্লান্ত পথিক খুঁজে নিয়েছে ঠিকানা।

 

অসুস্থ আহ্লাদী, নালা-নর্দমায় ভেসে যায়-

পানির কলে নতুন রিংটোন বাজে, মাঝ রাতে;

পাড়ার গলি-গতরে লাল-নীল বাতি জ্বলে

ভ্রমর জুটেছে-গো জোড়া শালিকের দলে।

কবিও খোরাক হয় কবিতার

কবির খেয়ালি খোরাক হয় ‘কবিতা’

না না সে কবিতার কথা বলিনি;

কেউ কবি হয়, কেউ ‘কবিতা’!

 

কখনও শরীর হইনি কারোর-

শরীরী উম্মাদনা লোভ দেখায় কবিতার,

অশরীরী কবিতার!

 

বেঁচে থাকা হয় ডিম-কুসুমের খোলসে

বেঁচে থাকাটাই কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কবি শরীরে খোয়া যেতে পারে না,

আলগা সুখ দুয়ারে কাঁটা হয়।

 

যা ছিল তা শরীরী ‘কবিতায়’ অস্ত যায়-

কবিও খোরাক হয় ‘কবিতার’।

বায়জীদ বোস্তামী বাপ্পীর যুগল কবিতা 5

মুগ্ধতা.কম

২৭ আগস্ট, ২০২১ , ১২:৪৮ অপরাহ্ণ

কবি মজনুর রহমান এর জন্মদিনে বিশেষ আয়োজন

কবি মজনুর রহমান। সমসাময়িক সময়ে আধুনিক কবিতায় যাদের লেখা পাঠকে আবিষ্ট করে রাখে তাদের মধ্যে অন্যতম তিনি। “বেমানান বায়োস্কোপ” তার একমাত্র কাব্যগ্রন্থ।

কবির জন্ম ১৯৮৪ সালে নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলায়।  বাবা মকসুদার রহমান, মা মরিয়ম বেগম। সহধর্মিনী ঘুমাইয়া আক্তার সুমী এবং পুত্র আয়ান ইশরাক আল মু’আজকে নিয়ে তাদের সুখের সংসার।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর করা এই কবি সম্পাদনা করেছেন চর্চাপদ। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সম্পাদনা করছেন ওয়েব ম্যাগাজিন মুগ্ধতা ডট কম। বাংলা চর্চাকে প্রসারিত করার জন্য  প্রতিষ্ঠা করেছেন বাংলাবাড়ি। পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা ছাড়াও ক্লাস নিচ্ছেন অনলাইন এবং অফলাইনে। বন্ধুদের সাথে সম্মিলিত ভাবে প্রতিষ্ঠা করেছেন বইবাড়ি যা উত্তরবঙ্গের লেখক ও পাঠকদের মিলনমেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

আজকে কবির জন্মদিন। জন্মদিন উপলক্ষে তার কবিতা, প্রিয়জনদের শুভেচ্ছা এবং তার পুরোনো স্মৃতিকে ছবির মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো।

বিশেষ এই সংখ্যাটির তত্ত্বাবধানে ছিলেন উপদেষ্টা সম্পাদক ফেরদৌস রহমান পলাশ। সম্পাদনায় সহকারী সম্পাদক মুহাম্মদ খালিদ সাইফুল্লাহ্ এবং নির্বাহী সম্পাদক রেদওয়ান শুভ।

একজন মজনুর রহমান

কবিতা নিয়ে তাঁর ছোটাছুটি

একজন মজনুর রহমান

কোন পরিচয়ে পরিচিত হতে চান তিনি? একাধারে কবি,সম্পাদক, ইতিহাস বিষয়ক সাংবাদিকতা,ভ্রমণ কাহিনী লিপিকার। সব খানেই সমান দক্ষ। তবে গভীর জীবনবোধ থেকেই কবির জন্ম বিধায় তাঁকে আমার এ সময়ের কবি মনে হয়। একসময় কবিতা লিখেছেন, দুহাত খুলে। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় তা প্রকাশিতও হয়েছে নিয়মিত। লিখেছেন বাংলা একাডেমির পত্রিকা উত্তরাধিকারে। তবে প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ এখন পর্যন্ত একটি। মার্চ ২০১৭ সালে পাতা প্রকাশ থেকে প্রকাশিত হয়,’বেমানান বায়োস্কোপ’, রংপুরে যারা লেখালেখি করেন তাদের থেকে একটু বিপরীত স্রোতে লেখা এক কবিতার বই। প্রায় সব কবিতাই পাঠ করে আরাম। সমসাময়িক অনেকের কবিতা যখন বুঝতেই পারি না সেখানে তিনি অনেকটাই ঘরের ছেলে।ভ্রমণ এবং চা পিপাসু ব্যক্তিটি প্রায়শই কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে বেড়িয়ে পড়েন দলবল নিয়ে। একলা না সবাইকে নিয়ে চলার দীক্ষায় দীক্ষিত কবির কাঁধে সব চাপিয়ে আমিও ভ্রমণসঙ্গী হয়েছিলাম কয়েকবার। সম্পাদনা করা একটি জটিল এবং অন্যের শত্রু হবার স্থান,সেখানেও তিনি শুরু করেছেন মুগ্ধতা ডট কম নামক অনলাইন ম্যাগাজিন। আছে বাংলাবাড়ি নামক সম্পাদনা প্রতিষ্ঠান। রংপুরের নবীন-প্রবীন লেখকদের পান্ডুলিপি সম্পাদনা করে নজর কেড়েছেন বোদ্ধাদের। তরুণ সাহিত্যিকদের মদদদাতা হিসেবেও তার নাম লোকমুখে শোনা যায়। তা মন্দ না তবে অনেকসময় অতিরিক্ত প্রশ্রয় চোখেও পড়ে। তাঁর কবিতা যে অন্যরকম তা মনোযোগ দিয়ে এ কবিতা পড়লেই বুঝবেন-

“কোথায় দাঁড়াব আমি

সবখানে নদী,

নদীর ধারে মানুষ আর মানুষের পাশে নদী,

শহরের বুকে সন্ধ্যা আর সন্ধ্যার বুকে কথা,

কোথায় দাঁড়াব একা

সবখানে জল,

জলের বুকে জোছনা আর জোছনার মাঠে বাঁশি, কোথায় পালাব আমি জল জোছনা দুঃখের পৃথিবীতে। ”

(বেমানান বায়োস্কোপ)

বইবাড়ির পরিচালক,রংপুর বিভাগীয় লেখক পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাহিত্য সম্পাদক,কবি মজনুর রহমানের জন্মদিনে জানাই অনেক অনেক শুভেচ্ছা।

ডা.ফেরদৌস রহমান পলাশ
কবি ও চিকিৎসক

নির্বাচিত কবিতা

মানুষটা

পাখির পরে পাখি সাজাতে সাজাতে মানুষটা অসুস্থ হয়ে পড়েছে-

একদিকে সাজিয়ে রাখছে অন্যদিকে উড়ে যাচ্ছে,

দেখতে ভালো লাগছে অথচ বড়ো ক্লান্ত লাগছে,

মানুষটা সুস্থ হয়ে উঠতে চাইছে, ওদিকে পাখিগুলো থাকছে না।

 

আগে মেঘ সাজাতে গেলেও ভেঙে পড়ত,

ঘরের দুয়ারে আগত ফেরিওয়ালাকেও আটকে রাখা যেত না

একদিকে সদাই করলে অন্যদিকে দোকানি পালিয়ে যেত-

নানাদিকে চেষ্টা করে কিছুই যখন করতে পারা যাচ্ছে না

তখন মানুষটা অশ্রু সাজাতে বসছে।

ব্যক্তিত্ব ফেটে পড়া

কোনও এক অজ্ঞাত কারণে ব্যক্তিত্ব ফেটে গেছে। সকালের নরম রোদে এই ঘটনা ঘটে। অন্য দশদিনের মতোই মন দিয়ে সংসার করছিলাম। সংসার করা শেষে অফিসে যাচ্ছিলাম। অফিসে যাবার পথে রাস্তায় হাঁটছিলাম। মাঝে মধ্যে রিকসার সাথে দরদাম করছিলাম। তারপর বাসে ঝুলে অফিসে পৌঁছেছিলাম। বসের রুমে যাবার পথে দেখি ফেটে বেরিয়ে আছে ব্যক্তিত্ব। টসটসে ডালিমের মতো আকর্ষণীয় কিন্তু চৌচির। কখন ফেটেছে বুঝতে পারি না। সংসারে রাস্তায় বাসে নাকি অফিসে ফেটেছে তাও জানি না। এমনকি সেই সকালে রোদও ছিল বড় নরম।

এরপর ফেটে পড়া ব্যক্তিত্ব নিয়েই আমি বসের রুমে যেতে থাকি।

জাদুকর

একদিন এক জাদুর আসরে দাঁড়িয়ে  ছিলাম। জাদুকর একটা ফুঁ দিয়ে আমার হাতে থাকা গোলাপকে কাঁটা বানিয়ে দিলো। প্রথম প্রথম খুব মুগ্ধ হলাম। আশ্চর্য, একটা ফুঁয়েই আস্ত গোলাপ কাঁটা! এরপর সেই আসরেই দম বন্ধ হয়ে জাদুকর মরে গেলো। গোলাপ ফিরিয়ে আনার মন্ত্র আর জানা হলো না। শহরসুদ্ধ মানুষ আমার দিকে করুণার চোখে তাকায়, আহা, লোকটার বুকের মধ্যে কাঁটা!

সাতটি বছর, মরে যাওয়া জাদুকর আমার কাছেই ঋণী।

এই শহরে-৫

এই শহরের কুয়াশারা ঢের হয়েছে অনেক জমা,

হঠাৎ আমায় ডেকে পাঠায় এক টিকেটে দুই সিনেমা

মারবেলে আর কী বা ছিল ঘুরে ঘুরে একই ছায়া,

ফের দিয়েছে চায়ের দোকান টাউন হলের বকুল ভায়া।

আসতে হবে জ্যাম গলিয়ে মনদমোহন আবার পড়া

এই শহরের কিশোরীরা আবার দেখো কাটছে ছড়া,

 

জুতোর ফিতে বাঁধতে গিয়ে আড়চোখে সে তাকাচ্ছে ফের

আবার চলো ঘুরে আসি ভ্রমণ-গমন হলোই তো ঢের।

বাবার জ্বর

যদিও বাবা সেদিন মদ-টদ খেয়ে এসে আম্মাকে মেরেছেন। আমরা কেঁদেছি বলে আমাদেরও থাপ্পড়ে লাল করেছেন। যদিও তাঁর চিৎকারে সেদিন সমস্ত পাড়া ঘেন্নায় ছি ছি করে উঠেছিল। তবুও সেদিন বাবার গায়ে জ্বর ছিল। আমরা বাবার জ্বর নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলাম।

জ্বরগ্রস্ত পিতা আর বৃষ্টিভেজা গ্রামকে বাড়িতে রেখে রঙিন শহরে চলে এসেছি। এই শহরে আমি বহুদিন বৃষ্টিতে ভিজেছি। তবু পরীক্ষায় না আসা মুখস্থ রচনার মতো শহর আমাকে বারবার গ্রামে পাঠিয়ে দেয়। শহর আমার মুখস্থ ‘বর্ষাকাল’, গ্রাম হলো আব্বার জ্বর।

আব্বার সাইকেল

আমার আব্বার একটা হিরো বাইসাইকেল ছিলো। হিরো সাইকেল আর এভারেডি টর্চ থাকা তখন মর্যাদার ব্যাপার ছিলো। আব্বার মতো মর্যাদায় উঠতে গিয়ে আমি অবশ্য রাস্তায় পড়ে যেতাম। কেননা অত উঁচু মর্যাদার উপর থেকে প্যাডেল ধরা যেত না। ফলে মর্যাদাসহ উল্টে থাকতাম। তখন লোকেরা ধরাধরি করে মর্যাদার ভিতর থেকে আমাকে উদ্ধার করতো। আব্বা পরে একটা চড় দিয়ে বলতো, অত বড় সাইকেল তুই চালাতে পারিস? তোকে আরও বড় হওয়া লাগবে না?

মা

বেনোজলে ভেসে গেছে সমস্তটা ক্ষেত

এইবারও থেকে গেল সব ধার-দেনা

জঠরে যাতনা বড় কী যে হবে কেনা

দরোজাতে ঝুলে আছে অভাবের প্রেত।

বাবার ব্যবসা আর বোনেদের পাঠ

পড়েছে কঠিন দায়ে চলেই না আর

ছিঁড়েছে গায়ের জামা-কঠিন সংসার

বেনোজলে সুখ গেছে, চুকিয়েছে পাট।

 

এসেছে মায়ের চিঠি, বাবা ভালো আছি

সবকিছু ঠিক আছে খুব বাঁচা বাঁচি,

চাকুরি জোটেনি বলে হয়ো না হতাশ

খুব যদি ব্যথা বাজে দেখিও আকাশ,

কিছু টাকা পাঠালাম যতটুকু ছিলো

বাঁচতে বাঁচাতে শিখো, খুব থেকো ভালো।

টেলিফোন

আপনাকে বলা হচ্ছে না

আপনি ভুল করে বৃষ্টি ফেলে গেছেন আমাদের বাড়িতে,

ফেরত দেবো দেবো করেও ওদিকে যাওয়া হচ্ছে না।

বাড়িতে অনেক কাজ,

পোষা মেঘগুলো বাচ্চা দিতে শুরু করেছে

গ্রাম থেকে অসুস্থ ঝড়েরা আসে ডাক্তার দেখাতে

দুটো অসুস্থ নদী বিছানায় পড়ে আছে

তাদের সবাইকে সামলাতে হয় একা।

 

এদিকে আমাদের বুড়ো পাহাড়টা প্রতিবেশীর চাঁদকে আছাড় মেরেছে

সেই প্রতিবেশী মামলা করেছে

মামলার কাজে মাঝে মাঝে আকাশে ছুটতে হয়।

 

তবু সময় করে আপনার বৃষ্টিকে নাওয়া-খাওয়া করাচ্ছি

উঠানে ছেড়ে দিলে ওরা মেঘের বাচ্চাদের সাথে খেলে,

দেখতে বড় ভালো লাগে

একেক সময় মনে হয়, রেখে দিই।

উপহার

তার হাতে চাঁদ সূর্যসহ একটা আকাশ তুলে দেবো বলে আকাশে আকাশে ঘুরি। সামান্য একটা আকাশ ছাড়া আমার কাছে আর কিছুই চায়নি সে। প্রতিটি বিষণ্ন বিকেলে আকাশের দিকে তাকিয়ে সে আমাকে ডাকে। তাকে আকাশ দেবো বলে আমি আকাশে আকাশে ঘুরি।

রান্নাঘর

রান্নার সামগ্রী নিয়ে একদম ভাববেন না,

আপনার দরজায় হাজির হয়েছি আমি

আমার ভেতরে খুঁজে দেখুন-

লবণ আছে দুই চোখের ভেতরে

বুকের বাম দিকে ছুরি, চাকু এইসব,

পেটের দিকটায় রাখা আছে থালা আর বাটি।

হাতের আঙুলে কাঁটাচামুচ সাজানো, দেখুন

মুখের ভেতরে আছে ফুড কালার।

 

আরও কিছু লাগবে?

মস্তিষ্কের ডানে আছে রান্নার রেসিপি

আপনার চুলাটি সাজানো আছে বুকের ভেতর,

শুধু আগুন হাতে এগিয়ে আসুন

আমাকে কাটুন, থরে থরে সাজানো আছি আমি

দরকারি জিনিসটি নিন,

আমাকে রেঁধে ফেলুন ঝটপট।

ভয়

রাত বাড়ে আর বাড়ে আমার

বুড়ো হবার ভয়

চক্ষু আমার আটকে রাখে

হাজার রকম ক্ষয়।

 

একটা ক্ষয়ে তারা ফোটে

অন্যটাতে জ্বর

আকাশজুড়ে ফুটছে এখন

মুহুর্মুহু ঝড়।

 

ঝড়ের পরে ঝড়ের আগে

নয়ন ভেজায় কে

ওই যে দেখো আকাশ থেকে

খবর এসেছে।

ফেরিঅলা

সাইকেলে করে সমুদ্র এসেছে

লবণের ফেরিঅলা,

আমাদের লবণ লাগবে কি না

দরজার কাছে দাঁড়িয়ে জানতে চায়।

 

আজকাল ফেরিঅলার উপদ্রব বেড়েছে,

মেঘ আসছে পানি বেচতে

চাঁদ আসছে আলো নিয়ে,

যখন তখন বাড়ির কাছে এসে হাঁক ছাড়ে।

 

গতকাল এক মরুভূমি এসেছিল বালু বেচতে

মাকে জিজ্ঞেস করলাম লাগবে কি না,

মা জানালেন, এগুলো হাইব্রিড বালু

চোখে দিলে ব্যথা বেশি হয়।

মন খারাপ

প্রখর রোদেও দুপুরের যানজটের ভেতর থেকে

বেরিয়ে আসছে একেকটা মন খারাপ,

ওরা কী করে পারে কে জানে।

 

এত ব্যস্ততা এতটা ছোটাছুটি

তবু ঘাস থেকে শিশির খসলেই

ভেঙে যাচ্ছে চোখের সামনে আয়না,

 

দোকান বন্ধ করছি শাটারের শব্দ

বাইরে গাড়ির হর্ণ, পাশের দোকানে আইটেম গান

সব ছাপিয়ে মড়াৎ করে উঠছে অতীত ভাঙার শব্দ।

 

হাতের ভেতরে স্থির হয়ে আছে সংসারের বরফ

তবু ছলকে উঠছে চোখের তরল, কোথাও মা কাঁদছে

কোথাও স্ত্রী হাঁপাচ্ছে, সন্তান বাবা বলে দৌড়াচ্ছে-

 

ওরা কী করে এতটা পারে কে জানে

কাউকে বলে কয়ে আসে না, বিদায় নিয়ে যায় না

এক ফাঁকে ঘরে ঢুকে ভাঙা কাচ মুখে পুরে নেয়।

ঋণ

ঋণ বলতে আমি অর্থঋণকেই বোঝাচ্ছি

এর পাশে বৃষ্টির দিকে সিথান করে শোবো এমন ঋণ নাই।

একেকটা সিথানের নিচে জমে আছে দেনার খাতা,

গন্ধ আসছে পুড়ে যাচ্ছে চুলসহ মাথা

দরোজার কড়া নড়ছে

কেঁপে উঠছে দেনাদার হৃৎপিণ্ড-

এসবই আক্ষরিক ঋণের শব্দ ঘোড়ার ক্ষুরের মতো।

 

এছাড়া বৃষ্টির কাছে আমি কিছু ধার করি নি

যার জন্যে ভিখারির মতো হাত পেতে রইবো জানালার পাশে।

মহৎ কবিতা

একটা মহৎ কবিতা রাস্তায় পড়ে আছে

দেহের বিভিন্ন অংশ খুঁটে খেয়ে গেছে কারা,

গড়ানো রক্ত শুকিয়ে মানচিত্রের মত হয়েছে

দেহ থেকে অচেনা গন্ধ বাতাসে ছড়াচ্ছে।

 

সকালে পুলিশ এসে দেহটাকে নিয়ে গেল

রক্তের জায়গাটাকে ঘিরে দিয়ে গেল,

বলে গেল কাটা দেহটা আবার কাটা হবে

যে মরেছে তার দেহেই লেখা আছে মৃত্যুর কারণ,

 

তখন আমরা জানলাম, মহৎ কবিতা মরে গেছে,

কেন মরেছে সেটা পুলিশ আমাদের জানিয়ে দেবে।

তারুণদের শুভেচ্ছা বার্তা

তরুণদের মনে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং কৃতজ্ঞতা বোধের জায়গাটা সবসময়ই তুঙ্গে থাকে।  নির্মোহ এই ভালোবাসা জানিয়ে সাজানো হয়েছে তারুণ্যের শুভেচ্ছা বার্তা।

 

যার কবিতা পড়ে অবাক হই, তাঁর নাম কবি মজনুর রহমান!

শুভ জন্মদিন প্রিয় কবি

মিকদাদ মুগ্ধ 

 

ভাই,

জীবন,দর্শন আর মৃত্যু যখন কালো অক্ষর হয়ে সাদা কাগজে হাসে-

আমি তখন মজনুর রহমানকে পড়তে পারি।

অনিরুদ্ধ সরকার প্রথম

 

মজনুর ভাই আপনাকে শুভ জন্মদিনের শুভেচ্ছা।

আপনি আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা_  আর আপনার বায়স্কোপ এর নেশায় আমায় ছাড়ে না।

আহসান লাবিব 

 

‘ম” তে মিষ্টি ‘ম’ তে মুগ্ধতা!ভাবছেন এমন দুই “ম’কই পাবেন!

এই রহস‍্যের সমাধানে আপনার দারস্থ হতে হবে অন‍্য আর এক ‘ম’এর কাছে!

‘ম’তেই নাম তার!হুম

ঠিকই ধরেছেন তিনি আমাদের মজনুর ভাই!

খুবই সাধারণ একজন অথচ অসাধারণ!সিম্পেলের মধ‍্যে গর্জিয়াসের যেন চলন্ত উদাহরণ!

জন্মতারিখে বলতে চাই সুখে থাকুন মজনুর ভাই!অবশ‍্য আপনি না চাইলে ও সুখ আপনাকে ছাড়বে না!আপনি যে নিজেই অনেকগুলোর মুখের হাসির কারণ!

তানভির তাকি 

 

বইবাড়ির সৌজন্যে যাদের সাথে পরিচয় হবার পর সম্পর্ক গভীর হয়েছে তাদের অন্যতম কবি ও সম্পাদক মজনুর রহমান ভাই। কবির আন্তরিকতা, স্নেহ এবং খুব অল্প সময়ের মাঝেই ঘনিষ্ঠ হতে পেরেছি। এতে যেমন লেখালেখির  বিষয়ে সুবিধা হয়েছে তেমনই বড় ভাই হিসেবে আবদার করবার অধিকারও অর্জন হয়েছে।

স্বকীয়তা এবং বৈচিত্র্যময় লেখা যেমন সুনিপুণ অবয়বে ফুটিয়ে তুলেন তেমনিভাবে কবিতার গভীরতা মুগ্ধ করে পাঠকমন কে। সেজন্য তিনি অন্যদের চেয়ে আলাদা। বেমানান বায়স্কোপ তারই প্রতিফলন।বইতে বইমেলায় খুঁজে না পেলেও বইবাড়িতে গিয়ে ঠিকই খুঁজে পেয়েছিলাম।

কবিতার পাশাপাশি কোনকিছুর নাম, শ্লোগান দেয়ার বিষয়ে তিনি খুব পটু। সেইসাথে সম্পদনার কাজটাও খুব ধৈর্য আর খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে স্বচ্ছতার সাথে করে থাকেন।

ব্যক্তি মজনুর রহমান খুব মিশুক মনের মানুষ। তাই ওনার অগ্রজ এবং অনুজরা খুব পছন্দ করে থাকেন।এটাও একটা সফলতা মানুষের জীবনে।

কবি মজনুর রহমান ভাইয়ের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি। জন্মদিনের শুভেচ্ছা ও শুভকামনা রইলো। আরো সুন্দর সুন্দর কবিতা উপহারের মাধ্যমে বেঁচে থাকুন আমাদের মাঝে।

মুহাম্মদ খালিদ সাইফুল্লাহ্

স্মৃতিচিত্র

কবি মজনুর রহমান এর জন্মদিনে বিশেষ আয়োজন
কবি মজনুর রহমান এর জন্মদিনে বিশেষ আয়োজন
কবি মজনুর রহমান এর জন্মদিনে বিশেষ আয়োজন
কবি মজনুর রহমান এর জন্মদিনে বিশেষ আয়োজন
কবি মজনুর রহমান এর জন্মদিনে বিশেষ আয়োজন
কবি মজনুর রহমান এর জন্মদিনে বিশেষ আয়োজন
কবি মজনুর রহমান এর জন্মদিনে বিশেষ আয়োজন
কবি মজনুর রহমান এর জন্মদিনে বিশেষ আয়োজন
কবি মজনুর রহমান এর জন্মদিনে বিশেষ আয়োজন
কবি মজনুর রহমান এর জন্মদিনে বিশেষ আয়োজন
কবি মজনুর রহমান এর জন্মদিনে বিশেষ আয়োজন
কবি মজনুর রহমান এর জন্মদিনে বিশেষ আয়োজন
কবি মজনুর রহমান এর জন্মদিনে বিশেষ আয়োজন

কবি মজনুর রহমান এর জন্মদিনে বিশেষ আয়োজন

মুগ্ধতা.কম

১৮ আগস্ট, ২০২১ , ১০:৪৯ অপরাহ্ণ

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী কবি ও সাংবাদিক জাকির আহমদ


বাংলাদেশের রংপুরের কবি, সংগঠক ও সাংবাদিক জাকির আহমদের জন্মদিনে কোলকাতা থেকে লিখেছেন আরেকজন কবি ও সাংবাদিক শুভদীপ রায়

নম্র, মৃদুভাষী এবং সুসংগঠক কবি ও সাংবাদিক জাকির আহমদ আরও একটি বসন্ত সংযুক্ত করলেন জীবন পাণ্ডুলিপিতে । অতিমারির এই করালগ্রাসে থমকে থাকা স্বাভাবিক জীবনের ছন্দ, ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে তার জন্মদিন পালন না করতে পেরে সামাজিক মাধ্যমে আফসোস প্রকাশ করেছেন শুভাকাঙ্ক্ষী গুণমুগ্ধরা।

সংগঠক হিসাবে তিনি আন্তরিক এবং সময়নিষ্ঠ, দায়িত্বপরায়ণ। তার সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত এবং কর্মসহযোগী মনোভাব বারবার বিশেষ বার্তা বহন করে। নম্র থাকতেই হয় তার হৃদয় আহ্বানে। একাধিক গঠনমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগ রয়েছে তার। বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে তৈরি করেছেন রংপুর বুক মিউজিয়াম। রংপুর সাহিত্য পরিষৎ এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসাবেও দায়িত্বের সঙ্গে প্রসার করে চলেছেন বাংলা ভাষা এবং সাহিত্যকে।

বইবাড়ি নামক বিশেষ বই সংক্রান্ত কর্মশালার পরিচালক হিসেবেও ধারাবাহিক কাজ করে চলেছেন জাকির আহমদ। সাহিত্যাঙ্গনে দুই বাংলায় তরুণ প্রজন্মের সৃজন চর্যায় বিশেষ মুখ হিসাবেও পরিচিতি লাভ করেছেন তিনি । কবিতা, ছড়া এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে তার কাব্যিক চলন নন্দিত করে চলেছে গুণীজন মহলে। ছোট পত্রিকার স্বার্থে লিটলম্যাগ আন্দোলনেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছেন।

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী কবি ও সাংবাদিক জাকির আহমদ 6

ভারতে একটি সাহিত্য অনুষ্ঠানে অন্যান্য লেখকদের সাথে জাকির আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

সমাজসেবা মূলক কর্মেও তার নিবেদন অনস্বীকার্য, বিশেষ করে রক্তদান পরিষেবা, বই বিতরণ, দুস্থ ব্যক্তিদের সহায়তা করার বিষয়েও কবি এবং সম্পাদক জাকির আহমেদ নিরলস নিজেকে নিযুক্ত রেখেছেন।

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী কবি ও সাংবাদিক জাকির আহমদ 7

ভারত ভ্রমণের সময় অন্যান্য লেখক বন্ধুদের সাথে জাকির আহমদ। ছবি: সংগৃহীত।

সামাজিক মাধ্যমে তার গুণমুগ্ধরা শুভেচ্ছা এবং মঙ্গল বার্তা জানিয়েছেন। শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, সাংবাদিক, কবি, সাহিত্যিক গুণীজন। পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট সমাজকর্মী, কবি এবং সাংবাদিক সুশান্ত নন্দী জাকির আহমেদের সুস্থ এবং দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন। মুগ্ধতা ডট কমের সম্পাদক মজনুর রহমান কথাসূত্রে জানিয়েছেন – তরুণ প্রভিভা এবং সৃজন জগতে আগামীতে বহুমুখী কাজে নিযুক্ত জাকির আহমেদের মত প্রতিভার বিচ্ছুরণ বিশেষ দরকার।

কাব্যময়তা সহ🌱

@শুভদীপ রায়
কবি, সাংবাদিক, প্রকাশনা অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ
কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী কবি ও সাংবাদিক জাকির আহমদ 8

মুগ্ধতা.কম

১৫ আগস্ট, ২০২১ , ৩:৪৫ অপরাহ্ণ

বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড: প্রথম প্রতিবাদী কবিতা ও সংকলন

‘তেরোশ’ বিরাশি সন, মেঘার্ত শ্রাবণ, শেষ রাত।

অকস্মাৎ ! বৃষ্টি নয়, ঘটে গেলো রাষ্ট্র স্বপ্ন থেকে রক্তপাত।

ছাপ্পান্ন হাজার বর্গ মাইলের মতো ব্যাপ্ত ছিল যার বুকÑ

জাতির পিতার বুকে বিদ্ধ হল উত্তপ্ত বুলেটে।

দেহ শধু দেহ নয়, ইতিহাস, মূল্যবোধ, আশ্রয়

ভেসে গেলো বাংলাদেশ রক্তের প্লাবনে- অন্তিম শ্রাবণে।’

(আমি স্বাক্ষী : সৈয়দ শামসুল হক)

১৩৮২ বঙ্গাব্দ, অন্তিম শ্রাবণের (১৫ই আগস্ট,১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দ) মেঘার্ত কালরাতে জাতি হারিয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতিরপিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। সেই রাতে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির ঘৃণ্য চক্রান্তে সংঘটিত হয় ইতিহাসের বর্বরতম হত্যাকাÐ। ঘাতকচক্রের নির্মম বুলেটে স্বপরিবারের শাহাদতবরণ করেন ইতিহাসের মহানায়ক বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই বর্বরোচিত হত্যাকাÐে থমকে গিয়েছিল সমগ্র জাতি। পিতাকে হারাবার শোকে-বেদনায় মূহ্যমান জাতি গুমরে গুমরে কেঁদে মরলেও ইতিহাসের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে তাৎক্ষণিকভাবে সেই শোক প্রকাশের বা এই হত্যাকাণ্ডের  প্রকাশ্য প্রতিবাদ জানানোর সাহস কেউ পায়নি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর শাসকগোষ্ঠী সচেতনভাবে ইতিহাসের পাতা থেকে, এমনকি শিল্প-সাহিত্য থেকেও বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে দিতে চেয়েছিল। ফলে এ সময়ে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা লেখাও সহজ কাজ ছিল না। কিন্তু তবু নিঃশ্চুপ থাকতে পারেননি এদেশের কবি-সাহিত্যিকরা। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের  পর নিদারুণ বৈরী পরিবেশে প্রথম প্রতিবাদ ও শোকগাথা উচ্চারিত হয়েছিল বাংলাদেশের কবি-সাহিত্যিকদের কবিতার শব্দ-ছন্দেই ।

এ প্রসঙ্গে প্রথম যার নাম উল্লেখ করতে হয় তিনি হলেন, বঙ্গবন্ধুর বাল্যবন্ধু আরবি শিক্ষক মৌলভী শেখ আবদুল হালিম। নৃসংশভাবে হত্যা করার পর কড়া সামরিক প্রহরায় বঙ্গবন্ধুর লাশ অত্যন্ত দীনহীনভাবে টুঙ্গিপাড়ার মাটিতে সমাধিস্থ করার মর্মবেদনা ও ক্ষোভ থেকে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে আরবি ভাষায় একটি কবিতা রচনা করেন। পরে তিনি নিজেই এটি বাংলায় অনুবাদ করেন। বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবরণের পর এটিই প্রথম কবিতা বলে মনে করা হয়। দৈনিক কালের কণ্ঠ, ১৭জুন ২০১১ সংখ্যায় “শহীদ বঙ্গবন্ধুর ওপর রচিত প্রথম আরবি কবিতা” শিরোণামে প্রকাশিত প্রবন্ধের লেখক মাওলানা এম. এ রহমান ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার দলিল’-এর বরাত দিয়ে কবিতাটির সেই বাংলা অনুবাদ উদ্ধৃত করেন –

“হে মহান, যার অস্থি-মজ্জা, চর্বি ও মাংস এই কবরে প্রোথিত

যাঁর আলোতে সারা হিন্দুস্থান, বিশেষ করে বাংলাদেশ আলোকিত হয়েছিল

আমি আমার নিজেকে তোমার কবরের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করিতেছি, যে তুমি কবরে শায়িত

আমি তোমার মধ্যে তিনটি গুণের সমাবেশ দেখেছি, ক্ষমা, দয়া ও দানশীলতা-

নিশ্চয়ই তুমি জগতে বিশ্বের উৎপীড়িত এবং নিপীড়িতদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছিলে

সেহেতু অত্যাচারীরা তোমাকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছে-

আমি, আমরা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির কাছে তাদের বিচারের প্রার্থনা জানাই,

যারা তোমাকে বিনা বিচারে হত্যা করেছে।”

দৈনিক যুগান্তর, ০৩ আগস্ট ২০২১ সংখ্যায় “শব্দে ছন্দে পিতার মুখ” শিরোণামে লেখক ইকবাল খোরশেদ রচিত প্রবন্ধে এই কবিতাটির বাংলা অনুবাদে কিছুটা পাঠান্তর লক্ষ্য করা যায়। সেখানে কবিতাটির ‘সেহেতু অত্যাচারীরা তোমাকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছে-’ চরণটির পর নীচের এই চরণ দুটি যুক্ত করা হয়েছে-

“আমরা মহান আল্লাহর নিকট তোমার আখিরাতের মঙ্গল কামনা করি।

বিদায়! বিদায়! বিদায়! হে মহান জাতির জনক।”

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর দ্বিতীয় ও তৃতীয় কবিতাও রচিত হয়েছিল উর্দুতে। দুটি কবিতাই রচনা করেন বাংলাদেশের উর্দুভাষার শীর্ষস্থানীয় কবি নওশাদ নূরী। ‘উত্থান-উৎস’ শীর্ষক তার প্রথম কবিতায় তিনি লেখেন-

‘সে আছে, সে আছে-

সর্বদা হাজির সে যে, অফুরান শক্তি হয়ে সে আছে,

সে আছে সে অমর, মৃত্যুঞ্জয়ী, মৃত্যুনেই তার।’

(অনুবাদ: কবি আসাদ চৌধুরী)

১৯৭৫-এর ১৭ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর দাফনের পর তিনি ‘নজম টুঙ্গিপাড়া’ (জন্ম টুঙ্গিপাড়া) শীর্ষক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তার দ্বিতীয় কবিতাটি লেখেন। এ কবিতায় তিনি বলেন-

‘তোমরা কি জানো? তোমরা কী জানো?

পথের শুরুটা হয়েছিল এইখানে,

পথ খোয়া গেল, হায়, সেও এইখানে।’

(অনুবাদ: কবি আসাদ চৌধুরী)

জাতিরপিতাকে হারাবার মর্মবেদনায় রচিত চতুর্থ কবিতা তথা বাংলায় প্রথম কবিতাটি লেখেন প্রখ্যাত সাংবাদিক-কবি সন্তোষ গুপ্ত। ‘রক্তাক্ত প্রচ্ছদের কাহিনী’ শিরোণামে এই কবিতাটি ১৯৭৫ সালেই রচিত হয়। এই কবিতায় তিনি লেখেন-

‘একটি নামের মধ্যে উঠে আসে বাংলাদেশ

স্বপ্নের পাখির সুর, নিসর্গের কোমল গান্ধার

মৃদৃকন্ঠে ভালোবাসা সাজানো বাগান;

আবার ককনো সেই নাম থেকে পেয়ে গেছি

মাটির ঠিকানা, দেখেছি পদ্মার বেগ

ভাঙনের উত্তাল মিয়রে থরোথরো

গ্রামগ-বন্দরের সুখ-দুঃখ ব্রথার ণিঃমম্বাস

শস্যের হরিৎ ক্ষেত বুকে নিয়ে কৃসকের ¤্রম

জেগে থাকে আরও সাথে নক্ষত্রের বিশাল আকাশ।

এক রাতে সবই নিহত হলো সপরিবারে

নিসর্গ পাখি ফুল ভারোবাসা নদীর নারীর গান।’

কিন্তু এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের  পরেও নিঃশ্চুপ নির্বিকার জাতিকে ধিক্কার জানিয়ে তিনি বলেন-

‘এই বৃহন্নলা বেশ খুলে ফেরো বীর্যবান

পতার সন্তান। অজ্ঞাতবাসের কাল শেষ হোক

মৃত্যুর সারথি যারা পদে পদেসুকৌশলে ফাঁদ পাতে

কেবলি তাদের কাছে হাত পাতো, এ কেমন পিতৃবক্তি তব

বিদ্রোহী নকবির কাছে দীক্সা আছে, তবু অগ্নিবীণা রেখে

খহ্জনী বাজিয়ে কেন দ্বারে দ্বারে ভিক্ষাবৃত্তি;

রক্তে নাহি বাজে ধিক্ ধিক্

শহীদ হয়েছে যারা সেই সব উজ্জ্বল প্রেমিক

রক্তের সম্পর্ক যদি রেখে থাকে তোমার শরীরে।’

তবে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর ১৯৭৭ সালে সেনাশাসিত বাংলাদেশে প্রথম প্রকাশ্যে বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ করে কবিতা লেখেন কবি নির্মলেন্দু গুণ- ‘আজ আমি কারো রক্ত চাইতে আসিনি’ । এই কবিতায় তিনি বলেন-

‘সমবেত সকলের মতো আমিও গোলাপ ফুল খুব ভালোবাসি,

রেসকোর্স পার হয়ে যেতে সেইসব গোলাপের একটি গোলাপ

গতকাল আমাকে বলেছে, আমি যেন কবিতায় শেখ মুজিবের কথা বলি।

আমি তাঁর কথা বলতে এসেছি।

শহীদ মিনার থেকে খসেপড়া একটি রক্তাক্ত ইট

গতকাল আমাকে বলেছে,

আমি যেন কবিতায় শেখ মুজিবের কথা বলি।

আমি তাঁর কথা বলতে এসেছি।

 

এই বসন্তের বটমূলে সমবেত ব্যথিত মানুষগুলো স্বাক্ষী থাককু,

না-ফোটা কৃষ্ণচ‚ড়ার শুস্ক-ভগ্ন অপ্রস্তুত প্রাণের ঐ গোপন মঞ্জুরিগুলো

কান পেতে শুনুক, আসন্ন সন্ধ্যার এই কালো কোকিলটি জেনে যাক;

আমার পায়ের তলার পুণ্য মাটি ছুঁয়ে

আমি আজ সেই গোলাপের কথা রাখলাম

আমি আজ সেই পলাশের কথা রাখলাম

আমি আজ সেই স্বপ্নের কথা রাখলাম।

আমি আজ কারও রক্ত চাইতে আসিনি,

আমি আমার ভালবাসার কথা বলতে এসেছিলাম।’

বঙ্গবন্ধু হত্যার পর প্রথম প্রকাশ্যে পঠিত কবিতাও এটি। এই কবিতাটি তিনি ১৯৭৭ সালে একুশের সকালে বাংলা একাডেমির কবিতা পাঠের আসরে পাঠ করেন অসীম সাহস নিয়ে।

নির্মলেন্দু গুণ বঙ্গবন্ধুর প্রতি এই ভালবাসার কথা, দায়বদ্ধতার কথা তাঁর আরও অনেক কবিতায় তুলে ধরেছেন। বস্তুত: নির্মলেন্দু গুণের কবিতাতেই সবচেয়ে বেশিবার বঙ্গবন্ধু এসেছেন ঘুরেফিরে নানা মাত্রিকতায়। কবির ২০১২ সালে প্রকাশিত কবির ‘মুজিবমঙ্গল’ কাব্যগ্রন্থে সংকলিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা ত্রিশটির মতো কবিতা।

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের  পর প্রথম প্রতিবাদী কবিতার একটি সংকলন প্রকাশিত হয় ১৯৭৮ সালে ‘এ লাশ আমরা রাখব কোথায়’ শিরোণামে । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অজ্ঞাত সংগঠন ‘সূর্য তরুণ গোষ্ঠী’র নামে এই কবিতা-সংকলনটি প্রকাশিত হয় কয়েকজন প্রতিবাদী তরুণের উদ্যোগে । এ দুঃসাহসিক সংকলনের পরিকল্পনা করেছিলেন ছড়াকার আলতাফ আলী হাসু। সংকলনে মোট ত্রিশটি কবিতা ছাপা হয়েছিল এবং সম্পাদক হিসাবে কারও নাম প্রকাশ করা হয়নি।

‘এ লাশ আমরা রাখবো কোথায়’ সংকলনটি যখন প্রকাশিত হয়, তখন ঢাকাসহ সারা বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ করার মতো মানুষ ছিল হাতেগোনা। এই সংকলনে তরুণ কবি কামাল চৌধুরী ‘টুঙ্গিপাড়া গ্রাম থেকে’ শিরোনামে অনন্যসাধারণ এক কবিতা প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে অবশ্য তিনি ‘টুঙ্গিপাড়া গ্রাম থেকে’ শিরোনামে বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত কবিতার একটি বই প্রকাশ করেন। ‘টুঙ্গিপাড়া গ্রাম থেকে’ কবিতায় তিনি বলেন-

‘কবরের নির্জন প্রবাসে

তোমার আত্মার মাগফেরাতের জন্য

যেসব বৃদ্ধেরা কাঁদে

আমাদের যে-সব বোনেরা

পিতা, ভাই, সন্তানের মতো

তোমার পবিত্র নাম

ভালোবেসে হৃদয়ে রেখেছে

যে-সব সাহসী লোক

বঙ্গোপসাগরের সব দুরন্ত মাঝির মতো

শোষিতের বৈঠা ধরে আছে

হে আমার স্বাধীনতার মহান স্থপতি

মহান প্রভুর নামে আমার শপথ

সেইসব বৃদ্ধদের প্রতি আমার শপথ

সেইসব ভাই-বোন লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রতি আমার শপথ

আমি প্রতিশোধ নেব

আমার রক্ত ও শ্রম দিয়ে

এই বিশ্বের মাটি ও মানুষের দেখা

সবচেয়ে মর্মস্পর্শী জঘন্য হত্যার আমি প্রতিশোধ নেব।’

‘এ লাশ আমরা রাখবো কোথায়’ সংকলনটির সা¤প্রতিক সংস্করণের ভূমিকায় আমিনুল ইসলাম বেদু জানান, ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি মতো একটি তরুণ এসে আমাকে বাসস অফিসে বলল আপনি আমাকে চিনেন না, আমি আইনশাস্ত্রে লেখাপড়া করি। আমরা কয়জন ঠিক করেছি, আমরা বঙ্গবন্ধুর উপর একটি ছোট্ট কবিতার সংকলন বের করে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করবো।’ তাঁরই উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ক্লাস কক্ষে বেশ কয়েকজন কবি বসেন। সেদিন বৈঠকে আমিনুল ইসলাম বেদু ও আলতাফ আলী হাসুসহ উপস্থিত ছিলেন, দিলওয়ার, হায়াৎ মামুদ, রাহাত খান, মাশুক চৌধুরী, ফরিদুর রহমান বাবুল, সুকুমার বড়ুয়া, মোহাম্মদ মোস্তফা, মাহমুদুল হক, নির্মলেন্দু গুণ, তুষার কর, মোহাম্মদ রফিক, আবদুল আজিজ, শান্তিময় বিশ্বাস, আখতার হুসেন, ভীষ্মদেব চৌধুরী, জিয়াউদ্দিন আহমদ, জাহিদুল হক, ইউসুফ আলী এটম, সিরাজুল ফরিদ, ফজলুল হক সরকার, মহাদেব সাহা, জাফর ওয়াজেদ, লুৎফর রহমান রিটন, নূর উদদীন শেখ, ওয়াহিদ রেজা, কামাল চৌধুরী ও খালেক বিন জয়েনউদ্দিন। এঁরা সকলে একটি করে কবিতা তিন দিনের ভেতর আলতাফ আলী হাসুর কাছে জমা দেন। এঁদের কবিতা নিয়ে সংকলনটি প্রকাশিত হয়। লক্ষ্য করার বিষয়, সংকলনে স্থান পাওয়া লেখকদের অনেকে আজ খ্যাতনামা কবি, কেউ কেউ কথাসাহিত্যিক-প্রাবন্ধিক, অনেকে আর কবিতা লেখেননি। যেমন আমিনুল ইসলাম বেদুর এটিই প্রথম এবং শেষ কবিতা। কিন্তু সেসময় আমাদের সাহিত্যে অনেক অগ্রগণ্য কবি ছিলেন, যারা তখন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা লেখার সাহস দেখাতে পারেননি। যাঁরা লিখেছেন তাঁদের পাশেও কোনো কোনো কবি দাঁড়াননি। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের  পর তাঁকে নিয়ে কবিতা লেখার কারণে রমনা থানা হাজতে নির্মলেন্দু গুণ সাতদিন ছিলেন। তখন অন্য লেখকদের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে গুণ বলছেন, ‘মহাদেব (সাহা) গেছিল আমার ছোটভাইকে নিয়ে দৈনিক বাংলায়, তখন শামসুর রাহমান, আহসান হাবীব, হাসান হাফিজুর রহমান তখন দৈনিক বাংলার সাথে যারা যুক্ত, তারা মহাদেবকে ডিসকারেজ করলো যে নির্মলকে নিয়ে তুমিও প্রবলেমে পড়বা। বিবৃতি দেয়াতো দূরের কথা, তারা মহাদেবকে নিবৃত করেছিল আমার ইস্যুটা নিয়ে মুভ না করার জন্য। আমার মুক্তির জন্য কেউ দাবী জানায় নাই।’ (রাজু আলাউদ্দিন গৃহীত নির্মলেন্দু গুণের সাক্ষাৎকার, বিডিআর্টস, ১৫ আগস্ট, ২০১৫)। কিন্তু আমরা জানি, তাঁদের অনেকে পরে রাজনৈতিক অবস্থা অনুকূলে এলে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বাংলাদেশের প্রায় সব কবিই অসংখ্য কবিতা লিখেছেন কবিতা লিখেছেন। নিঃসন্দেহে তাঁদের কলম থেকে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অনেক কালোত্তীর্ণ কবিতার জন্ম হয়েছে । পাঠকনন্দিতও হয়েছে সেসব কবিতা। । কিন্তু কবিতার মান বিবেচনায় নয়, রচনার প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ‘এ লাশ আমরা রাখবো কোথায়’ সংকলন এবং এর কবিরা অবশ্যই ইতিহাসে বিশেষ মর্যাদার দাবিদার।

পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যাঁরা কবিতা লিখেছেন এই তালিকায় কবি শামসুর রাহমান, সুফিয়া কামাল, রোকনুজ্জামান খান, শওকত ওসমান, হাসান হাফিজুর রহমান, সিকান্দার আবু জাফর, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, কায়সুল হক, সৈয়দ শামসুল হক, আসাদ চৌধুরী, সিকদার আমিনুল হক, রফিক আজাদ, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ, আবদুল গাফফার চৌধুরী, আবুবকর সিদ্দিক, বেলাল চৌধুরী, শহীদ কাদরী, অসীম সাহা, রবিউল হুসাইন, হেলাল হাফিজ, মুহম্মদ নূরুল হুদা, হাবীবুল্লাহ সিরাজী, মোহাম্মদ সাদিক, আসলাম সানী, আনিসুল হক, আনোয়ারা সৈয়দ হক, তিতাশ চৌধুরী, নাসির আহমেদ, রবীন্দ্র গোপ, হুমায়ুন আজাদসহ বাংলা ভাষার প্রবীন-নবীন আরও অনেক কবির নাম উল্লেখ করা যেতে পারে। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তাদের রচিত কবিতার তালিকাও হাজার ছাড়িয়ে যাবে। মূলত: বঙ্গবন্ধু সবার জন্য এক অনন্ত প্রেরণার অফুরন্ত উৎস। তাঁকে নিয়ে কবিরা প্রতিনিয়ত কবিতা লিখছেন এবং আগামী দিনেও লিখবেন। তাঁদের কবিতা নিয়ে পৃথকভাবে আলোচনা করার আশা রইলো। #

 তথ্যসূত্র :

১. প্রবন্ধ- শহীদ বঙ্গবন্ধুর ওপর রচিত প্রথম আরবি কবিতা, মাওলানা এম এ রহমান, দৈনিক কালের কণ্ঠ, ১৭জুন ২০১১ ।

২. প্রবন্ধ- শব্দে ও ছন্দে পিতার মুখ : ইকবাল খোরশেদ , দৈনিক যুগান্তর, ০৩ আগস্ট ২০২১।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড প্রথম প্রতিবাদী কবিতা ও সংকলন

মুগ্ধতা.কম

১৪ জুলাই, ২০২১ , ১১:০৬ অপরাহ্ণ

ডায়াবেটিস সংখ্যা

‘পারিবারিক স্বাস্থ্যসেবা’ সিরিজের প্রথম সংখ্যা ‘ডায়াবেটিস: কারণ, প্রতিকার ও অন্যান্য’ প্রকাশ করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। আশা করি ডায়াবেটিক রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য একটি চমৎকার সংগ্রহ হিসেবে কাজে লাগবে। রোগ হোক তা কেউই চায় না। তবে রোগ যাতে না হয় অথবা হলে যাতে পর্যাপ্ত জ্ঞান নিয়ে তার মোকাবেলার চেষ্টা করা যায় তার জন্য আমাদের এই প্রচেষ্টা। এতে লেখা ও বিজ্ঞাপন দিয়ে যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা।শীঘ্রই হয়তো দেখা যাবে আরেকটি এমন সংখ্যা। আশা করি সবাই আমাদের সাথেই থাকবেন। সবাই সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন।–সম্পাদক।

উপদেষ্টা সম্পাদক: ডা. ফেরদৌস রহমান পলাশ, সম্পাদক: মজনুর রহমান, নির্বাহী সম্পাদক: রেদওয়ান শুভ, সহকারী সম্পাদক: মুহাম্মদ খালিদ সাইফুল্লাহ

ডায়াবেটিসঃ কারণ, প্রতিকার ও অন্যান্য

Writter