প্রমথ রায়

Intro

লেখক ও শিক্ষক, নীলফামারী

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
শেখ মুজিব জন্মশতবার্ষিকীর শ্রদ্ধাঞ্জলি
শেখ মুজিব জন্মশতবার্ষিকীর শ্রদ্ধাঞ্জলি
শেখ মুজিব জন্মশতবার্ষিকীর শ্রদ্ধাঞ্জলি
শেখ মুজিব জন্মশতবার্ষিকীর শ্রদ্ধাঞ্জলি
শেখ মুজিব জন্মশতবার্ষিকীর শ্রদ্ধাঞ্জলি
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১

Writter

Intro

লেখক ও শিক্ষক, নীলফামারী

প্রমথ রায়

১৪ মার্চ, ২০২১ , ১২:০২ অপরাহ্ণ

প্রমথ রায়ের দুটি কবিতা

কবি আমি অপভ্রংশ

আমি জিন্স পাঞ্জাবি পড়ে কবিতা লেখা শিখে গেছি 

ক্ষয়ে যাওয়া স্যান্ডেল শব্দ তৈরি করে না

                 বরং বেদনাকে জাগিয়ে তোলে,

ডাইরির ভাঁজপাতায় লুকিয়ে রাখা লুকোচুরি 

ভুলে যাওয়া সংখ্যার মতো আর্তনাদ করে

তোমার জমিয়ে রাখা জলসা ঘর শ্যাওলা বন্দি,

আমি রাত জেগে জেগে ভাবি তোমার ইনবক্সের ইতিহাস

তবু একমুঠো রাত আমাকে দিও

আমি সাইকেলের বেলের শব্দ শুনে ভাবি

রাস্তা এখনও রাতের প্রহরীদের প্রলাপ শোনে,

আমি রাতের কারফিউ জেনে ভেবেছিলাম

আবার কি দুমুঠো শব্দে ফুঁ দিয়ে ভাবতে হবে

সব কথা পকেটের ভাঁজে জমা থাকে না

কেউ কেউ অকারণে ভালোবাসে

                                     রাত নয় আমাকে

আমি রাত হতে চাই, অন্ধকারে লুকিয়ে রাখা জোনাকি

তবুও তোমার দেওয়া শর্তমালা বিনাশর্তে চুরি হলে ভাবি

এসব কবিতা নয়, বরং চুরিরই এক অনভ্যেস গাঁথা ।

——————————————————————

শহর নামক ছেঁড়া  পাতা

শহর নামক ছেঁড়া পাতা আমার বাতুলতার মূল্যহ্রাস

আমি কাঠগোলাপ দিয়ে কিনতে চেয়েছি

তোমার হাত বদলানোর ভুভুজেলা

হর্ষধ্বনি হ্রাস করো, আমিও জুতোর রং বদলে নিয়েছি

চামড়া কাটতে কাটতে আমি এখন চামড়াজাত বস্তু

এ কথা লিখে রাখো রাতের নিয়ন বাতির বিলবোর্ডে

আমিও জোনাকীর আলো জমিয়ে রেখে ভেবেছি

তোমার কাছে ছিড়ে নিবো এক টুকরো শহর

তারপর……

তারপর আমরা এ শহরেরই আদিম অ্যাডাম এবং ঈভ।

প্রমথ রায়ের দুটি কবিতা 3

প্রমথ রায়

১৩ জুলাই, ২০২০ , ১১:৪৭ অপরাহ্ণ

বাবা এবং বর্ষাকাল   

আমাদের বর্ষাকাল বলতে কদমফুল বোঝায় না। বরং আমরা বুঝি কচি ধানের আগা, মানপাতা কিংবা কলাপাতা। যদিও এই তিন বস্তুই এখন বর্ষাকালের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত নয়; কিন্তু বর্ষাকাল বলতে আমার সামনে বয়ঃসন্ধিকালের সময়টাই ভেসে ওঠে। তখনও এখনকার মতো সারাদিন বৃষ্টি হতো। অভাবি সংসারে মানুষ, পশু কারোরই খাবার থাকতো না। আমার পরিবারও সেরকম হওয়ায় আমার মা ধান সেদ্ধ করে রোদে শুকোতে না পারায় সে ধান আবার ভেজে চাল করে ভাত খেতাম। পশু বলতে গরু ছাগল; টানা বৃষ্টির কারনে তারাও গৃহবন্দি। এখনকার মতো তখন এতো ফিড বের হয়নি। আমার পরিবারে ছাগল ছিলো। আমার বাবা বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে দোগাছি ধানের কচি ডগাগুলো কেটে নিয়ে আসতো। বর্ষার কথা আসলেই এই দৃশ্যপটটি সবসময় চোখের সামনে ভেসে ওঠে।

এক বর্ষায় বাবাসহ আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ফিরছিলাম। তখন সবার হাতে ছাতা থাকতো না। আমাদের হাতেও ছিলো না। হঠাৎ করে ঝুম বৃষ্টি এসে গেলো। তখন বাবা নিজে ভিজে একটি মানকচুর পাতা দিয়ে আমাকে ভেজা থেকে রক্ষার চেষ্টা করছিলো। বাবার অনেক স্নেহ আমাকে আবর্তিত করে রাখলেও এই স্নেহের ঘটনাটি আমার জীবনে বিশেষ কিছু। তারপর বাবা আমাকে একটি বাঁশের ছাতা বানিয়ে দিলো। তারপর কিনে দিলো কাঠের হাতলওয়াল, টিনের হাতলওয়াল অতঃপর ফোল্ডিং ছাতা। পরে আমি নিজেও অনেক ফোল্ডিং ছাতা কিনেছি। বর্তমানে আমি রেইনকোট ব্যবহার করি। বর্ষা উপভোগ করার জন্য আমার একটি শখের গোলাপি রঙের ডাবল ফোল্ডিং ছাতা আছে। চীন হতে আমদানিকৃত। আমি আগে যে স্কুলে চাকরি করতাম, সে স্কুলের মালিক গিফট করেছে। এতদিন ছাতাটির যত্ন নিইনি; এ লেখা লিখতে গিয়ে মনে হলো ছাতাটির যত্ন নেয়া দরকার।

কলাপাতার বিষয়টিও মানকচু পাতার মতো। আমরা কলাপাতা কিংবা প্লাস্টিকের বস্তা উল্টে ভাজ করে স্কুলে যেতাম। এটার মধ্যেও মুগ্ধতা থাকতো।

অবশেষে আমার সাঁতার কাটতে পারার অর্জনটিও এই বর্ষাকালেই। যদিও এসময় পুকুরে অনেক জল থাকতো, তবুও অন্যান্য জলপাগল বাচ্চাদের মতো আমিও বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে পুকুরে চলে যেতাম। দু ঢোক ঘোলা পানি গেলার পরে আমার এই অমিয় সাধনটি সফল হয়েছে। অন্যান্য মায়ের মতো আমার মাও আমার সফলতাকে গুরুত্ব না দিয়ে,পানি খেলাম কেন, সেটাকে ইস্যু করে দীর্ঘ সময় ব্যাপী প্রহার করেছিলো। যাহোক বর্ষা সবসময় আমার কাছে একটি আবেগের ঋতু। যদিও এটা অনেক কিছুর জন্য বিরক্তিকর; কিন্তু আমার কাছে মনে হয়, এটাই আমার প্রিয় ঋতু। যখন টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ শুনি, তখন এমনি এমনি আমার মাথায় কবিতার লাইন চলে আসে।

হে বৃষ্টি, তুমি আমার শিরায় উপশিরায় রও

হে বৃষ্টি, তুমি আমার নক্ষত্র জমিন হও।

 

বাবা এবং বর্ষাকাল    4

Writter