রিয়াদ আনোয়ার শুভ

Intro

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা
শেখ মুজিব জন্মশতবার্ষিকীর শ্রদ্ধাঞ্জলি

Writter

Intro

রিয়াদ আনোয়ার শুভ

২৪ মার্চ, ২০২০ , ৫:০০ পূর্বাহ্ণ

২৪ মার্চ, ১৯৭১ পাক সেনা অফিসার হত্যার মধ্য দিয়ে রংপুরবাসীর মুক্তিযুদ্ধ শুরু

বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা করেন ৭১’র ২৬ মার্চ, আর পাকিস্তান সেনা বাহিনীর ট্যাংক ডিভিশনের পাঞ্জাবী সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট আব্বাসীসহ তিন জন জওয়ানকে হত্যার মধ্য দিয়ে তার দুই দিন আগে ২৪ মার্চই স্বাধীনতার যুদ্ধ আরম্ভ করে রংপুর জেলার সাবেক সাতগাড়া ইউনিয়নের (এখন সিটি কর্পোরেশনে) দামোদরপুরের সাধারণ, অনাহারী, জীর্ণশীর্ণ মানুষ। রচিত হয় ইতিহাস। এক গর্বের ইতিহাস।

তাই ২৪ মার্চ শুধু রংপুর নয়, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন।

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে বলেছিলেন ‘‘ভাতে মারবো, পানিতে মারবো’’। সেই কথাই যেন অক্ষরে অক্ষরে পালন করে রংপুরের বীর জনতা। সেনানিবাসে সকল প্রকার খাদ্য সামগ্রী সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে সেনানিবাসে খাদ্য সংকট দেখা দেয়। বাধ্য হয়ে ২৪ মার্চ সেনাবাহিনীর একটি জীপ সেনানিবাসের পশ্চিম দিকে দিয়ে বের হয়ে নিসবেতগঞ্জ হাটে উপস্থিত হয় খাদ্য (মুরগী ও ডিম) সংগ্রহের উদ্দেশ্যে। সেনা সদস্যদের দেখে গ্রাম বাসী হতচকিত হয়ে যায়।

জানা যায় জীপের ড্রাইভার বাঙ্গালী। মুক্তির নেশায় মরিয়া হয়ে উঠেছে মানুষ, কয়েকজন সিদ্ধান্ত নেন আক্রমণের, চলতে থাকে প্রস্তুতি।

সেনা সদস্যদের দেখে যুবক শাহেদ আলী (পেশায় কসাই) সাইকেল চেপে আগেই নিজ গ্রামে চলে যান। দ্রুতই এই খবরটি ছড়িয়ে পরে সম্মানীপুর, দামোদরপুর, বড়বাড়ি, মনোহরপুর গ্রামের মানুষদের কাছে। শত শত গ্রামবাসী দা, বল্লম, কুড়াল, বটি, খুন্তিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাঁশের ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে জীপের জন্য।

অবশেষে জীপটি যখন দামোদরপুর বড় ময়দান এলাকায় আসে তখন যুবক শাহেদ আলী এগিয়ে যান এবং জানতে চান তাদের গ্রামের আসার কারণ। গাড়িতে পাকিস্তান সেনা বাহিনীর ট্যাংক ডিভিশনের পাঞ্জাবী লেফটেন্যান্ট আব্বাসীসহ এলএমজি হাতে তিন জওয়ান। এর মধ্যেই বাদশা, সালাম, রফিকুলসহ তিন চার জন গাড়ির কাছে চলে এসেছে।

পাক সেনারা কিছু বুঝে উঠার আগেই শাহেদ আলী জিপের বনেটে উঠে যান এবং এক টানে ছিনিয়ে নেন এলএমজি। ঘটনা এতো দ্রুত ঘটেছিল যে লেঃ আব্বাসী হতভম্ব হয়ে যায়। এই সুযোগে শাহেদ আলী খাপ্পর (বল্লম টাইপের) দিয়ে আব্বাসীকে আঘাত করলে সে লুটিয়ে পরে। অপরদিকে বাদশা, সালাম, রফিকুল তাদের হাতে থাকা দা, কুড়াল, বল্লম দিয়ে আঘাত হানে তিন সেনা সদস্যের উপরে। তিনজনই তখন মৃত্যু পথযাত্রী।

গাড়ি চালক বাঙ্গালী বিধায় সহযোগিতা করেছিল, তাই দায় মুক্তির জন্য তাঁকেও দা দিয়ে আঘাত করা হলো যেন সন্দেহ না করতে পারে। আহত বাঙ্গালী ড্রাইভার নিসবেতগঞ্জ পর্যন্ত গাড়ি চালিয়ে আনেন।

ইতোমধ্যেই খবর পৌঁছে যায় ক্যান্টনমেন্টে। আহতদের সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। কিন্তু জনতা হাসপাতালে পাক সেনাদের চিকিৎসার বিরোধিতা করলে ভীত সন্ত্রস্ত পাক সেনারা গুলি চালায়। তাদের গুলিতে পৌর বাজার (বর্তমান সিটি বাজার) এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন আব্দুর রাজ্জাক নামের একজন। এই ঘটনায় আবারও উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।

শহীদ আব্দুর রাজ্জাকের সমাধি রয়েছেন নগরীর হনুমান তলা কাজী নজরুল ইসলাম সরণীতে।

এদিকে সেনা সদস্য হত্যার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সেদিনই বিকাল বিকাল চারটার দিকে নগরীর গনেশপুর এলাকাকে ঘটনাস্থল ভেবে পুরো এলাকা জ্বালিয়ে দেয় পাক হানাদারেরা। এর ঠিক চারদিন পরেই ২৮ মার্চ সাধারণ জনগণ তীর-ধনুক, বাঁশের লাঠি, দা, কুড়াল নিয়ে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও করে আক্রমণ করে। সবার মুখে ছিল গগনবিদারী স্লোগান ‘‘এস ভাই অস্ত্র ধর, ক্যান্টনমেন্ট দখল কর’’।

 

রিয়াদ আনোয়ার শুভ
ইতিহাস গবেষক, রংপুর

 

মুক্তিযুদ্ধে রংপুর: ২৪ মার্চ, ১৯৭১ পাক সেনা অফিসার হত্যার মধ্য দিয়ে রংপুরবাসীর মুক্তিযুদ্ধ শুরু

রিয়াদ আনোয়ার শুভ

৩ মার্চ, ২০২০ , ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ

০৩ মার্চ ১৯৭১ : মুক্তিযুদ্ধে রংপুরের প্রথম শহীদ কিশোর শংকু সমজদার

মহান মুক্তিযুদ্ধে রংপুরের প্রথম শহীদ শংকু সমজদার। স্বাধীনতার ইতিহাসে, মাতৃভূমির জন্য যুদ্ধে রংপুরবাসীর ত্যাগ ও অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৭১’র ০১ মার্চ ইয়াহিয়া খান অনির্দিষ্টকালের জন্য পূর্বনির্ধারিত ৩ মার্চের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করায় ঘোষণায় বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে সারা বাংলা। সারা দেশের মতো রংপুরেও দাউ দাউ করে জ্বলে উঠলো বিদ্রোহের আগুন। দেশব্যাপী হরতালের ডাক দেন বঙ্গবন্ধু।

০৩ মার্চ সকালে রংপুরেও হরতালের সমর্থনে কাচারী বাজার এলাকা থেকে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ও রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম গোলাপ, অলক সরকার, মুকুল মুস্তাফিজ, নূর উর রসুল চৌধুরী, হারেস উদ্দিন সরকার, ইলিয়াস আহমেদ, মুসলিম উদ্দিন (মুসলিম কমিশনার), আবুল মনসুর আহমেদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে মিছিল বের হয়।

মিছিলটি শহরের তেঁতুলতলা (বর্তমান শাপলা চত্বর) এলাকায় আসতেই কলেজ রোড থেকে কারমাইকেল কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি শহীদ মুখতার ইলাহি (কয়েক মাস পরে শহীদ ), জায়েদুল আলম (প্রয়াত), জিয়াউল হক সেবুসহ অন্যান্যদের নেতৃত্বে একটি মিছিল এসে যোগ দেয় মূল মিছিলের সাথে। কথা ছিল মূল মিছিল তেঁতুলতলা থেকে ব্যাক করবে। কিন্তু কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের চাপে নেতৃবৃন্দ মিছিলটি স্টেশন অভিমুখে নিয়ে যেতে বাধ্য হন। মিছিলটি আলমনগর এলাকার অবাঙ্গালী ব্যবসায়ী সরফরাজ খানের বাসার (ছবির বাসা, ঘোড়াপীর মাজারের পাশে) সামনে যেতেই এক কিশোর ঐ বাসার দেয়ালে একটি উর্দুতে লেখা সাইনবোর্ড দেখে তা নামিয়ে ফেলতে যান সবার অলক্ষ্যে। আর তখনই বাসার ভেতর থেকে মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয়। সেখানে গুলিবিদ্ধ হন ৭ম শ্রেণীর ছাত্র কিশোর শংকু সমজদার । মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ কিশোরকে মুসলিম উদ্দিন কমিশনার পাঁজাকোলা করে নিয়ে দৌড়লেন হাসপাতালের দিকে। কিন্তু ততোক্ষণে ইতিহাস রচিত হয়ে গেছে। পথেই কিশোর শংকু মারা যান। হয়ে যান ইতিহাস। মুক্তিযুদ্ধে রংপুর অঞ্চলের প্রথম শহীদ তো সেই কিশোরই। অনেকের মতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের প্রথম শহীদ এই কিশোরই।

ইতোমধ্যে শংকুর শহীদ হওয়ার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে পুরো রংপুর। কিশোর শংকুর গুলিবিদ্ধ রক্তাক্ত দেহ দেখে জনতা উত্তেজিত হয়ে সারা শহরে অবাঙ্গালীদের দোকান ভাংচুর, সামগ্রী রাস্তায় এনে অগ্নি সংযোগ করতে থাকে। যে বাড়ি থেকে গুলি ছোড়া হয়েছিল সেই বাড়িতে অগ্নি সংযোগের চেষ্টা কালে ইপিআর বাহিনী এসে বাঁধা দান করে।

একই দিনে আরও দুইজন নিহত হয়েছেন অবাঙ্গালীদের হাতে। তাঁদের একজনের নাম আবুল কালাম আজাদ, যাকে গিনি এক্সচেঞ্জের (বাটার গলির পাশে, মেইন রোডের সাথেই, এখনকার রেইনবো প্লাজা) সামনে এক অবাঙ্গালী গুলি করে হত্যা করে। অপরজন জেনারেল বুট হাউসের (ঢাকা হোটেলের গলির পাশে, টাইম হাউস, ক্রোকারিজ মার্কেটের বিপরীতে) সামনে ছোড়ার আঘাতে মৃত্যুবরণ করেছেন। নাম ওমর আলী। বাসা শহরের মুলাটোলে। এছাড়াও সেদিন আরও দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। যাঁদের একজন শরিফুল ইসলাম মকবুল এক মাস হাসপাতালে থেকে বিনা চিকিৎসায় মারা যান। পায়ে গুলিবিদ্ধ মোঃ আলী বেঁচে যান। তিনি ছিলেন রংপুর কলেজ ছাত্র সংসদের বিশ্রামাগার সম্পাদক।

৭ মার্চ রেসকোর্সে বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণে রংপুরের ০৩ মার্চের ঘটনা উচ্চারিত হয়েছে গর্বের সাথে। আজকের এই দিন গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি শহীদ শংকু সমজদার, শহীদ ওমর আলী, শহীদ আবুল কালাম আজাদ, শহীদ শরিফুল ইসলামসহ মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মাহুতি দেয়া সকল শহীদদের।তোমরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, আমরা তোমাদের ভুলবো না।

 

 

কিশোর শংকু সমজদার

Writter