তাজনিন মেরিন লোপা

Intro

জন্ম রংপুরের এক সাহিত্যানুরাগী পরিবারে। বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র, রংপুরের জনপ্রিয় মুখ। ’যুগের আলো’ পত্রিকায় নিয়মিত লেখক হিসেবে লিখেছেন ছড়া, কবিতা, সায়েন্স ফিকশন, ছোট গল্প, লিখেছেন কলাম।

ঢাকায় ‘ছোটদের কাগজ’ এ লেখক হিসাবে সক্রিয় ছিলেন। শিশু-কিশোর সাহিত্য নিয়ে ২০১৯ একুশে বইমেলায় আত্মপ্রকাশ করছেন 'ডাইনীর ফলবাগান', ২০২০ এ 'অস্ট্রেলিয়ার রূপকথা’ বই নিয়ে।

নৃবিজ্ঞানের ছাত্রী হিসাবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে  স্নাতক আর স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। বাংলাদেশে কলেরা হাসপাতালে সামাজিক গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন অনেকদিন। খুব সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল সরকার এর অনুদানে পরিচালিত ’হিপ্পি অস্ট্রেলিয়া’ নামে একটি সংস্থায় টিউটর হিসেবে কাজ শুরু করেছেন। সংস্থাটি  মূলত তাদের নিজেদের কারিকুলামে কমিউনিটির ছোট শিশুদের মানসিক ও ইতিবাচক সামাজিক উন্নতির জন্য কাজ করে।

বর্তমান নিবাস আরমিডেল, নিউ সাউথ ওয়েলস, অস্ট্রেলিয়া।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস ২০২১
পদাবলি
পদাবলি
পদাবলি
পদাবলি
পদাবলি
পদাবলি
পদাবলি
পদাবলি
পদাবলি

Writter

Intro

জন্ম রংপুরের এক সাহিত্যানুরাগী পরিবারে। বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র, রংপুরের জনপ্রিয় মুখ। ’যুগের আলো’ পত্রিকায় নিয়মিত লেখক হিসেবে লিখেছেন ছড়া, কবিতা, সায়েন্স ফিকশন, ছোট গল্প, লিখেছেন কলাম।

ঢাকায় ‘ছোটদের কাগজ’ এ লেখক হিসাবে সক্রিয় ছিলেন। শিশু-কিশোর সাহিত্য নিয়ে ২০১৯ একুশে বইমেলায় আত্মপ্রকাশ করছেন 'ডাইনীর ফলবাগান', ২০২০ এ 'অস্ট্রেলিয়ার রূপকথা’ বই নিয়ে।

নৃবিজ্ঞানের ছাত্রী হিসাবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে  স্নাতক আর স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। বাংলাদেশে কলেরা হাসপাতালে সামাজিক গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন অনেকদিন। খুব সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল সরকার এর অনুদানে পরিচালিত ’হিপ্পি অস্ট্রেলিয়া’ নামে একটি সংস্থায় টিউটর হিসেবে কাজ শুরু করেছেন। সংস্থাটি  মূলত তাদের নিজেদের কারিকুলামে কমিউনিটির ছোট শিশুদের মানসিক ও ইতিবাচক সামাজিক উন্নতির জন্য কাজ করে।

বর্তমান নিবাস আরমিডেল, নিউ সাউথ ওয়েলস, অস্ট্রেলিয়া।

তাজনিন মেরিন লোপা

১৪ জুলাই, ২০২০ , ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ

বর্ষায় বৃষ্টি

যখন লিখছি বাইরে বৃষ্টি পড়ছে । এখানে শীতকাল; ঠান্ডা আর বৃষ্টির সখ্যতা আমাদের পছন্দ হওয়ার কথা না অবশ্য । বর্ষা মানেই আমাদের কাছে সাদা হলুদ কদম ফুল, ভুনা খিচুরি, গরম চা আর রবীন্দ্র সংগীত । পাশে রোমান্টিক বউ-স্বামী-বন্ধু থাকলে তো সাথে গরম চা-কফির মজাই আলাদা । মজার বিষয় হলো, খুব শখ করে একটু খিচুরি খাওয়া আর বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে প্রকৃতির গান শোনা ছাড়া আর কিছুই আমার জন্য না । ঠান্ডা এলার্জির কারণে বৃষ্টিতে আমার জন্য অপেক্ষায় থাকেন একমাত্র বন্ধু আমার হাঁচি-কাশি । আর আমার সুজন বৃষ্টি নিয়ে আমার পাগলামির কারণেই এর মাঝে রোমান্টিকতা খুঁজে। তা না হলে বৃষ্টি মানে হয়তো তার কাছে কাথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকা, বৃষ্টি মানে রিকসাচালক দিনমজুরদের মতো বাধ্য হয়ে বৃষ্টিতে ভিজে রিকশা চালানোর নিষ্ঠুরতা, রাস্তার পাশে, বস্তির মানুষের, গ্রামের গরীব মানুষের ভাঙ্গা চাল, ভাঙ্গা বেড়া দিয়ে বৃষ্টির পানির সাথে বাধিত সখ্যতা । বন্যা তো আছেই এর সাথে এক পানির দৈত্য হয়ে । সত্যিই তাই এইসব দিক থেকে বৃষ্টি আসলেই নিষ্ঠুর ।

কিছু মানুষ নাকি বৃষ্টি কপালি হয় । প্রায় বাইশ বছর আগে এই জুলাইয়ের এক বিকেলে বাবা আমাদের ছেড়ে চলে যান । বৃষ্টি পড়ছিল সারাটাক্ষণ ধরে । তার জন্মও নাকি হয়েছিল বৃষ্টির গান শুনে । বাবার সাথে বসে বৃষ্টির গান শোনা হয়নি কখনোও, ঝাল মুড়ির সাথে চায়ের গরম ধোয়ায় ফুঁ দিয়ে নানান আকারের দৈত্য বানানো হয়ে উঠেনি । আরও একটু সময় পেলে বুঝি ভালো হতো, অতো কম বয়সে অনুভুতিগুলো আসলে প্রখর হয় না । তাই এখন ওসব ভাবলে শুধু চোখেই বৃষ্টি আসে ।

আমার ছেলে জন্মের সময় শুধু বৃষ্টি না, ঝড়-তুফানও তান্ডব দেখালো । ব্যাথা, চিৎকার আর অস্থিরতায় যেভাবে হাসপাতাল ভরিয়ে তুলেছিলাম, তাতে বাইরের ঝড়ের কথা জানতেই পারিনি । পরিবার, আত্মীয়, বন্ধুরা খুব ঝামেলায় পড়েছিল । তবে মজার ব্যাপার হলো, ছেলেকে ডাক্তার দেখানো, ঘুরতে নিয়ে যাওয়া, যতো পরিকল্পনাই করি না কেন, বৃষ্টি বা ঝড় এরাসব সাথী হয়েই থাকে । গত বছর আমরা বাংলাদেশ থেকে এলাম, তখন এখানে গ্রীষ্মকাল । অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় বৃষ্টি খুব কম হয় । নতুন বাসায় উঠলাম, পরের দিনই বৃষ্টি এসে হাজির । আমার ছেলে আনন্দে আত্মহারা, বৃষ্টি ভীষণ পছন্দ তার । ভীষণ রোমান্টিকতা ভর করে ওনাকে ।

ভেজার খুব ইচ্ছে; কিন্তু ক্যানবেরার বৃষ্টিতে কিছু উপাদান থাকে যা এডিস এর মতো, খুব ক্ষতিকর । তাই মা-ছেলে লিকার চা হাতে নিয়ে বৃষ্টিতে হালকা একটু ছুঁয়ে দিতাম হয়তো । বছর শেষে আমাদেরকে নিউ সাউথ ওয়েলস, আরমিডেল, আমার বোনের বাসায় চলে আসার সিদ্ধান্ত নিতে হয় । এখানে বৃষ্টি কম হয়; যেটুকু হয় শীতকালে । তাই ’দাবানল’ এর তান্ডব বেশ ভয়ঙ্কর রুপেই আসে । তারপরও ছেলে যেহেতু প্রিস্কুল শুরু করবে তাই রেইনকোট কিনলাম । তা দেখে আমার বোন খুব আক্ষেপ করে বললো, এখানে বৃষ্টিরই দেখা নেই ! খুব মজার বিষয় হলো জানুয়ারিতে স্কুল শুরু হওয়ার কিছুদিন পর ঠিকই বৃষ্টি শুরু হলো ।

আমার ছেলের প্রিয় বৃষ্টি; না এসে কি আর পারে ! অস্ট্রেলিয়া তখন ‘দাবানলে’ জলছে চারিদিক । এই এড়িয়ায় মাঝে মাঝে আগুন আর ধোয়ায় শ্বাস কষ্ট হয়ে যাচ্ছিল । আর গরমও খুব বেড়ে গেছিল । কিছু কিছু এড়িয়োতে মানুষজন পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে উদ্ধারের জন্য অপেক্ষা করছিল । এই সময়ই বেশি অনুভব করেছি, বৃষ্টি আল্লাহর এক বিশেষ রহমত । চারদিকের এতো উন্নত প্রযুক্তি, এতো চেষ্টা কোনকিছুই ‘দাবানল’ শুনছিল না । সবাই প্রার্থনা করছিল বৃষ্টির । এইদিকে বৃষ্টি হলো; দাবানল এড়িয়াগুলো চোখে পড়লো তখন’ কালো ছাই শুধু মাইলের পর মাইল জুরে । অদ্ভুত শক্তি প্রকৃতির, এক দুইদিনের মধ্যে ঘাস আর গাছের পাতা বের হতে থাকলো সেই কালো ছাইয়ের মাঝ থেকেই ।

আমাদের দেশে বর্ষাকালের সময় পাল্টে যাচ্ছে ; আর এই দেশে বর্ষাকাল বলতে কোন কালই নেই । তবে বৃষ্টির প্রয়োজনীয়তা সব জায়গায় প্রায় অনেক বেশি । এখানেও ফসলের জন্য বৃষ্টিই বড় আশীবাদ হয়ে আসে । তবে আমরা বৃষ্টিকে যে রোমান্টিক জায়গায় বসিয়ে প্রিয়র সঙ্গ আর প্রিয়ার চোখে খুঁজি, এখানে সে বিষয়টা খুব অচেনা।

বর্ষায় বৃষ্টি 5

তাজনিন মেরিন লোপা

২ জুন, ২০২০ , ৮:০৯ অপরাহ্ণ

করোনা সময়ের ঈদ

গত বছর ঈদের আমেজ পেতে ক্যানবেরা থেকে ছুটে এসেছিলাম বোনের কাছে। সেই দশ ঘন্টার রাস্তা পাড়ি দেয়া। আরমিডেলে বাসিন্দারা ঈদ করে সেই ছোটবেলার মতো রঙ্গিন করে। ঈদ এর নামাজ, দেখা-সাক্ষাত, নতুন জামা পড়ে এই বাড়ি ঐ বাড়ি ঘুরে বেড়ানো। তবে এবারের চিত্র আলাদা।

কভিড-১৯, সারা বিশ্বের মতো এখানকার জীবনযাত্রায়ও প্রভাব রেখেছে। অবশ্য এখনও পরিস্থিতি বেশ ভালো। তিনটা কেসের পরে এখানে আর কোন পজেটিভ পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার পরিস্থিতির ভালোর দিকে হওয়ায় একেকটা স্টেটে ধীরে ধীরে একেকভাবে শীথিল করছে। নিউ সাউথ ওয়েলসে স্কুল, অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠার খোলা, শপিং মল খোলা, পার্কও খোলা। তবে দশজনের বেশি কোথাও সমাগম করতে পারবেন না। ঈদ এর জামাতের জন্য দশজন করে নামাজ পড়ার নির্দেশনা ছিল। কিন্তু সংখ্যাটা নিশ্চিত করা অন্য সব মিলিয়ে বাসায় নামাজ পড়ার নির্দেশনা দেয়া হলো।

আমরা বাসায় চারজন, তাই দুলাভাই দেশী-বিদেশী মিলিয়ে ছয়জনকে জামাতে নামাজের জন্য দাওয়াত দিলেন। এর মধ্যে একজন ছিলেন সাউথ আফ্রিকান; যিনি ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেন। খুতবা সহ, সকল নিয়ম মেনে আমরা বাড়িতেই ঈদ এর জামাত শেষ করলাম। আমাদের ছোট্ট নাবহানও খুব খুশি। সবাই যখন চলে যাচ্ছিল সে জিজ্ঞেস করে; “ আম্মু ঈদ  মোবারক কি শেষ?” বিদেশে থাকলে বাচ্চাদের জন্য এরকম একটা পরিবেশ খুব জরুরি। এখানকার প্রধান ধর্ম, সংস্কুতি আমাদের থেকে আলাদা। তাই শিশুরা ক্রিসমাস যতো সহজে শেখে; ঈদ হয়তো শেখে না। তাই নিজের ধর্ম, সংস্কৃতিকে সজীব-সতেজ রাখাটা খুব বেশি জরুরি হয়ে যায়।

আগের রাতেই সবাই মিলে খাবার রান্না করে রাখা হয়েছিল। দেশী ঈদ এর খাবারের বেশ প্রশাংসা পেলো ভিনদেশী বন্ধুর কাছে। অনেকেই বলছিলেন, কিন্তু কারো বাড়ি যাওয়া হয়নি; কারণ একই সময়ে দশেজনের বেশি মানুষ হয়ে গেলে আইন ভঙ্গ হয়ে যাবে। অন্যদের বেলাও তাই। সিডনিতে একই বাড়িতে ঈদ এ চব্বিশজন হওয়ার কারণে সব মিলিয়ে প্রায় সাঁইত্রিশ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে পুলিশ।

ঈদের জন্য ইউনিভার্সিটিরও আয়োজন ছিল। সেখান থেকেই সকালে বাংলাদেশী সংগঠন ঈদ এর খাবার দিয়ে গেছে বাড়ি বাড়ি। বিকেলে পার্কে শিশুদের জন্য ঈদ উপহার আর প্যাকেট খাবারের আয়োজন ছিল। তবে দশজনের বেশি একসাথে হওয়া যাবে না। তাই খাবার আর উপহার নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা গেলো না। সবাই সবাইকে দেখে আপ্লুত; কিন্তু নিয়ম তো মানতেই হবে। তাই শুভেচ্ছা বিনিময় করেই বিদায় নিতে হলো।

শেষ বিকেলে মনের ক্লান্তি মেটাতে একটু দূরে গাড়ি চালিয়ে ঘুরে এলাম সবাই। করোনার এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে তুলনা করলে অনেক ভালো ঈদ গেলো এই বিদেশের মাটিতে। কিন্তু আপনজনেরা সবাই দেশে; মনটা ঘুরেফিরে ওখানেই চলে যায়। আর বিষন্ন, ভারাক্রান্ত আর দুঃশ্চিন্তায় ভরে উঠে। প্রতিটা মূহুর্ত কাটে সব কিছুর সাথে ভালো একটা সময়ের প্রর্থনায় প্রত্যাশায়।

 

তাজনিন মেরিন লোপা

জন্ম রংপুরের এক সাহিত্যানুরাগী পরিবারে। বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র, রংপুরের জনপ্রিয় মুখ। ’যুগের আলো’ পত্রিকায় নিয়মিত লেখক হিসেবে লিখেছেন ছড়া, কবিতা, সায়েন্স ফিকশন, ছোট গল্প, লিখেছেন কলাম। ঢাকায় ‘ছোটদের কাগজ’ এ লেখক হিসাবে সক্রিয় ছিলেন। শিশু-কিশোর সাহিত্য নিয়ে ২০১৯ একুশে বইমেলায় আত্মপ্রকাশ করছেন ‘ডাইনীর ফলবাগান’, ২০২০ এ ‘অস্ট্রেলিয়ার রূপকথা’ বই নিয়ে। নৃবিজ্ঞানের ছাত্রী হিসাবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে  স্নাতক আর স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। বাংলাদেশে কলেরা হাসপাতালে সামাজিক গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন অনেকদিন। খুব সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল সরকার এর অনুদানে পরিচালিত ’হিপ্পি অস্ট্রেলিয়া’ নামে একটি সংস্থায় টিউটর হিসেবে কাজ শুরু করেছেন। সংস্থাটি  মূলত তাদের নিজেদের কারিকুলামে কমিউনিটির ছোট শিশুদের মানসিক ও ইতিবাচক সামাজিক উন্নতির জন্য কাজ করে। বর্তমান নিবাস আরমিডেল, নিউ সাউথ ওয়েলস, অস্ট্রেলিয়া ।

করোনা সময়ের ঈদ - তাজনিন মেরিন লোপা

তাজনিন মেরিন লোপা

২৫ মে, ২০২০ , ৬:৪১ অপরাহ্ণ

শুভ জন্মদিন প্রিয়তম সুজন

শুভ জন্মদিন প্রিয়তম সুজন 6

লেখক ও তার স্বামী

আকাশ ভরা মেঘ, তবুও দূরে কোথাও এক টুকরো তারার হাতছানি। ওহ আমি তো তারাই ভেবেছি ; তুমি না বললে ওটা সূর্য এর রশ্মি! কোথাও এক ফোঁটা পানিতে পড়ে ছোট্ট করে আলো ছড়িয়েছে।

দূরে প্রান্তরে এক কোকিল ডেকেই যাচ্ছিল, কি তৃষ্ণাত তার স্বর! পাহাড়ের গা ডিঙ্গিয়ে, নদী পাড় হয়ে ভেসে আসছে সে তীব্র কন্ঠ। কঠিন ভালোবাসায়ও মনে কেমন এক হাহাকার দিয়ে যায়। ভেবেছিলাম বুঝি বসন্ত আসছে; আসলে তো তা না। তুমি বললে কই আর বসন্ত তাকিয়ে দেখো শীতকালই ফুরায়নি! সত্যিই তো।

অপেক্ষা, সময়,বাস্তবতা, কিছু দীর্ঘ মূহুর্তে আমরা থমকে যাই। থেমে তো যাই না। থামতে নেই। তুমিই বললে…

দেখো, থামিনি কেউ, চলছি; চালিয়ে নিচ্ছি। কখনও অদৃশ্য তারার হাতছানিতে, কখনও প্রতারিত মিষ্টি কোকিলের কন্ঠে, কখনও ভালোবাসায় ভেসে ভেসে!

তাইতো আমাদের এক একটা জন্মদিন আসে, সময় পার হয়। আমরা শুভ করার আশা রাখি।

শুভ জন্মদিন প্রিয়তম সুজন।

তাজনিন মেরিন লোপা

শুভ জন্মদিন প্রিয়তম সুজন

তাজনিন মেরিন লোপা

১৬ মে, ২০২০ , ৮:১৭ অপরাহ্ণ

করোনা সময় অস্ট্রেলিয়া: লকডাউন ও শিথিলতা

এখন পর্যন্ত আরমিডেল নিরাপদে আছে। দুটোর পরে আর নতুন কোন পজিটিভ পাওয়া যায়নি। অনেককিছুই একটু শীথিল করে দিলো। কোভিড-১৯ এর জন্য মোবাইল অ্যাপস্ বানালো। যেখানে কোভিড-১৯ উপস্থিতি নির্ণয় করাসহ আরো নানান সহযোগিতা পাওয়া যাবে। ১১ মে এর পর থেকে একদিনের জন্য বাচ্চারা স্কুলে যাচ্ছে। যাতে করে একদিনে একই সময়ে কম সংখ্যক বাচ্চারা উপস্থিত থাকে। ২৫ মের মধ্যে সকল স্কুল খুলে দেয়ার কথা ভাবছে নিউ সাউথ ওয়েলস গভঃ। তবে বেশিরভাগ মানুষ, যে কাজগুলো সম্ভব, তারা বাসা থেকেই অফিস করবে।

রাজধানী ক্যানবেরা প্রথম দিক থেকেই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে। গত দুই মাসে নতুন কোন সংক্রমণ হয়নি। এখানে এখন শরৎকাল। খুব বেশি ঠাণ্ডা এখনও পড়েনি। বাইরে বেড়ানোর জন্য খুব ভালো একটা সময়। ক্যানবেরার পরিচিত, বন্ধু-বান্ধবরা তাই বাইরে বেশ ঘুরে বেড়াচ্ছে। স্কুল এখনও খোলেনি। সব অফিস খোলেনি। আর সবখানে সোস্যাল ডিসটেন্স মেনে চলছে সবাই। বাইরে বের হয়ে দেখি রাস্তায় কতশত গাড়ি; প্রামে, স্ট্রলারে করে বাচ্চাদের নিয়ে বেড়িয়েছে, কেউ আবার পরিবারের সবাই সাইকেল চালাচ্ছে; কেউ হাঁটতে বেড়িয়েছে।

মুসলিমদের রমজান মাস শুরু হয়ে গেছে। প্রাইম মিনিস্টার সবার উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা জানালেন। আর বললেন সবাই যেন বাড়িতে বাড়িতে তাদের রমজান পালন করেন। সোস্যাল গ্যাদারিং না করার জন্য। এই ইস্টারে সোস্যাল গ্যাদারিং সামলানো নিয়ে বেশ চিন্তায় ছিলো সবাই। তবে সবাই সবজায়গায় বেশ ভালো মেনে চলেছে । এক বন্ধুর সাথে কথা হচ্ছিল, তখন জানলাম, শুধু তাজমানিয়াতে দুটো পরিবার জরিমানা দিয়েছে । তিনজন মানুষের এক পরিবারে দুজন অতিথি আসলে; প্রতিবেশি একজন সাথে সাথে পুলিশকে খবর দেয়।

পুলিশ এসে সবার জন্য পাঁচ হাজার ডলার জরিমানা করে । এর মধ্যে একজন পনেরো বছর বয়সের নিচে ছিল বলে সবাই অনেক অনুরোধ করে। কিন্তু না পুলিশের বক্তব্য ছিল, বয়স কম বলেই তো ওকে আরও ভালো করে আইন-কানুন, জানতে এবং শিখতে হবে। আমরাও সোস্যাল ডিসটেন্স মেনেই চলছি। ছোট জায়গা, ছোট কমিউনিটি বলে আরমিডেলে বাংলাদেশীদের যোগাযোগ ভালো।

উৎসবের, আয়োজনের কোন ঘাটতি নেই। এই রমজানে সেটা আরও বেড়ে যেত। তবে এ বছর সবাই সব মেনে বাসায় বাসায় দরজায় দাঁড়িয়ে ইফতার দিয়ে, খোঁজ নেয়া হচ্ছে। মসজিদে ইফতার রেখে দিয়ে সবাইকে বলা হচ্ছে, নিয়ে যাওয়ার জন্য। পরিচিত একজনের খোঁজ নিতে গিয়েছিলাম। দরজার সামনে দূরে দাঁড়িয়ে কথা বলছি। আর এদিক ওদিক তাকাচ্ছি। পুলিশ না এসে পড়ে! যাক সেরকম কিছু হয়নি। সংক্রমণ থেকে যেমন বাঁচতে হবে; তেমন যারা বেঁচে আছি সামাজিকতাও রক্ষা করতে হবে।

শপিংমলগুলোতে প্রযোজনীয় কয়েকটা সুপারস্টোর প্রথম থেকেই খোলা। ফ্যাশন হাউজ, খাবারের দোকান, অন্যান্য দোকান বন্ধ। কে এফ সি, ম্যাকডোনাল্ড, ডমিনোজ টাইপ শপে শুধু ড্রাইভ থ্রু খোলা। মানে গাড়ি ড্রাইভ করে অর্ডার দিয়ে, পে করে খাবার নিয়ে যাবে। কেউ নামবে না, ইন্টারেকশন হবে না। তাই নিরাপদ। এখনও তাই চলছে।

দেশে আমাদের সবাই। সেখানকার পরিস্থিতি শুনেই দুঃশ্চিন্তায় পড়ে যাচ্ছি। কে কোথায় কী নিয়ন্ত্রণ করছে, তা কেউই বুঝতে পারছে না।  এখানে এরকম লকডাইনে ইস্টার পার হলো। সব ঠিক না হলে হয়তো ক্রিসমাসও চলে যাবে। কিন্তু আমাদের ঈদ পার হয় না। খুব খারাপ লাগে, আমরা বুঝি আসলেই পারি না।

এখানেও অনেক কিছুই হয়। কিন্তু তা বাড়াবাড়ির আগেই নিয়ন্ত্রণের চিন্তা আসে। সিডনিতে এক অজি ভদ্রলোক এশিয়ানদের দেখে বেশ গালিগালাজ করেছিল; এশিয়ানরাই নাকি কোভিড-১৯ নিয়ে এসেছে তাই। কিন্তু এই ঘটনার আর কোন ধরণের প্রভাব পড়েনি। এরকম আরও ঘটনা ঘটেছে অনেক জায়গাতেই। কিন্তু তারপরও এখানে কেউ অসুস্থ বোধ করলে নিজেই যাচ্ছেন টেস্ট করাতে।

আমাদের বাসার বিল্ডিং এরও একজন টেস্ট করালেন। নিজেই আমাদের জানালেন। এরপর নেগেটিভ আসলো। আর আমাদের দেশে কেউ কেউ পজিটিভ আসার পরেও লুকিয়ে রাখছেন। কেউ পালিয়ে যাচ্ছে। নিজের, নিজের আপনজন কারোও কথাই ভাবছি না আমরা। পরিবারের নাকি মান-সম্মান যাবে পজিটিভ জানলে। যেখানে জান নিয়ে টানাটানি সবার সেখানে হায়! আমরা মান-সম্মান নিয়ে কতটা চিন্তিত। এর দায়ভার হয়তো আমাদেরই। কখনোও আমরা একজন আরেকজনের জন্য জান-প্রাণ দিয়ে দেই; আবার কখনোও সামান্য কারণেই কোণঠাসা করে ফেলি।

বড় অদ্ভুত আমরা। ‍ঈদে বা প্রতিমাসে, বা প্রতিদিন আমাদের নতুন পোষাক পড়া নিয়ে আমরা যতো ভাবি; লেখাপড়া, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আমাদের ভাববার সময় কম। কিন্তু আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। অস্ট্রেলিয়াতে সরকার জুলাই পর্যন্ত লকডাউন শিথিলতাসহ, সকল প্রতিষ্ঠান খোলা, বন্ধ, ও অন্যান্য বিষয়ে বেশ গঠনমূলক পরিকল্পনা করেছে। এবং তা জনগণেকে জানিয়েছে।

প্রতিদিন নিজ নিজ স্টেটের প্রিমিয়ার ও সরকারি অন্যান্য ব্যক্তিরা সংবাদ সম্মেলনে তা নিয়ে কথা বলছেন। এরপরও এখানকার মানুষগুলো নিজে থেকে খুব সাবধান থাকার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমরা বাংলাদেশে শুধু এগিয়েই যাচ্ছি; যাচ্ছি তো যাচ্ছি; কীসের দিকে কোন দিকে তা কে জানে?

 

চলবে

 

তাজনিন মেরিন লোপা

জন্ম রংপুরের এক সাহিত্যানুরাগী পরিবারে। বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র, রংপুরের জনপ্রিয় মুখ। ’যুগের আলো’ পত্রিকায় নিয়মিত লেখক হিসেবে লিখেছেন ছড়া, কবিতা, সায়েন্স ফিকশন, ছোট গল্প, লিখেছেন কলাম। ঢাকায় ‘ছোটদের কাগজ’ এ লেখক হিসাবে সক্রিয় ছিলেন। শিশু-কিশোর সাহিত্য নিয়ে ২০১৯ একুশে বইমেলায় আত্মপ্রকাশ করছেন ‘ডাইনীর ফলবাগান’, ২০২০ এ ‘অস্ট্রেলিয়ার রূপকথা’ বই নিয়ে। নৃবিজ্ঞানের ছাত্রী হিসাবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে  স্নাতক আর স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। বাংলাদেশে কলেরা হাসপাতালে সামাজিক গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন অনেকদিন। খুব সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল সরকার এর অনুদানে পরিচালিত ’হিপ্পি অস্ট্রেলিয়া’ নামে একটি সংস্থায় টিউটর হিসেবে কাজ শুরু করেছেন। সংস্থাটি  মূলত তাদের নিজেদের কারিকুলামে কমিউনিটির ছোট শিশুদের মানসিক ও ইতিবাচক সামাজিক উন্নতির জন্য কাজ করে। বর্তমান নিবাস আরমিডেল, নিউ সাউথ ওয়েলস, অস্ট্রেলিয়া ।

 

করোনার সময় অস্ট্রেলিয়া-তাজনিন মেরিন লোপা

তাজনিন মেরিন লোপা

২২ এপ্রিল, ২০২০ , ৪:১৬ অপরাহ্ণ

করোনা সময়ে অস্ট্রেলিয়া-২

রাতে মেইল পেলাম অফিসের একজনের ব্লাড টেস্ট করতে দিয়েছে । আল্লাহর রহমতে দুদিন পরেই রেজাল্ট আসলো। নেগেটিভ । একসময় মনে হতো আমরা বাংলাদেশের মানুষ প্যানিক্ড, আতঙ্কগ্রস্ত । ব্যাপারটা তা না হলে কি আর অস্ট্রেলিয়ার নানান জায়গায় টয়লেট টিস্যু নিয়ে মারামারি কাড়াকাড়ি হয় ! আর্মিডেলেও এর প্রভাব পড়লো। কোন সুপারমলে, শপে কোন ধরণের টিস্যু নাই । আপাতত টিস্যু নিয়ে আমাদের চিন্তা নাই । টিস্যু তো আর খাওয়ার জন্য না । আর আমাদের বাঙ্গালীর ‘বদনা’ তো আছেই ।

করোনা সময়ে অস্ট্রেলিয়া-২ 7

বাংলাদেশ থেকে আসার সময় কয়েকজন কাঁথা, বালিশের সাথে বদনা নিয়ে এসেছিলেন । সেটা নিয়ে কি ভীষণ হাসাহাসি করেছি! এয়ারপোর্টে আরেকজনের ল্যগেজ থেকে বদনা বের হওয়ার পর খুব মুশকিল হয়েছিল । এনারা তো বদনা চিনেন না । কাজেই গুরুত্বও বুঝেন না । এই নিয়ে প্রায় ঘন্টাখানেক দেরি হয়েছিল তার । পরে অবশ্য বদনা সহই ছেড়ে দেয়া হয়েছিলো । অজি বন্ধুদের যখন বদনার ব্যবহার শেখানো দারকার ভাবছি, তখন একটু দুশ্চিন্তায় পড়লাম আমরাই দু’সপ্তাহ পর । স্টকের টিস্যু শেষের পথে । শুনলাম ‘কোলস’ সুপারশপে সকাল ৮ টায় লাইনে দাঁড়ালে টিস্যু কিনতে পাওয়া যায় ।

একদিন দুলাভাই, আরেকদিন ভাগনে বেচারা বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকলো; নাহ্ টিস্যু তো না ’হোয়াইট ডায়মন্ড’ শেষ। অবশ্য একটু বেশি দাম আর পরিমাণে কম হলেও পরের সপ্তাহে উলিজ সুপারশপে কাঙ্খিত হোয়াইট ডায়মন্ড পাওয়া গেল। এর পরের দু’সপ্তাহ পর টিস্যুর বাজার একটু স্বাভাবিক হলো ।

মার্চের শুরুর দিকেই সুপারশপগুলোতে নিয়ম করে ফেললো, একজন একটার বেশি পণ্য নিতে পারবেন না । এই অবস্থাতেই বাজারে চাল, আটার তাক খালি । কিছু সময় কিছু জিনিস পাওয়া যায়, কিছু সময় নাই । এদিকে অস্ট্রেলিয়ার গভ: এর পক্ষ থেকে প্রতিদিন নানান ব্রিফিং দিয়েই যাচ্ছেন । নিশ্চিত করছেন কৃষক সমিতিসহ নানান জায়গা থেকে যে, খাবার ও অন্যান্য সব কিছু সাপ্লাই নিশ্চিত করা হবে । কাজেই কেউ প্রয়োজনের বেশি স্টক না করার জন্য ।

এখানকার নিয়ম আর সংস্কৃতি যে যার মতো থাকবে । বাচ্চারা আঠারো বছর হলে নিজের মতো আলাদা থাকবে । বিয়ে করা না করা নিজেদের সিদ্ধান্ত । তবে পরিবারের দায়িত্ব ভালোবাসা অটুট থাকে । এটা তারা পারিবারিক, সামাজিকভাবেই শিখে থাকে। সময়মতো বিয়ে করে, চার/পাঁচজন বাচ্চা নিয়ে সংসারী বাবা-মা যেমন আছে, অবিবাহিত বাবা-মাও আছে । আছে অবিবাহিত বয়স্ক মানুষও । সবাই স্বনির্ভর । বয়স্ক মানুষ, যাদের সিনিয়র বলা হয় এখানে; ওনাদের জন্য বেশ কষ্ট হয়ে গেল । বাজার করার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা, এরপর প্রয়োজনীয় জিনিসের তাক খালি । তাঁদের জন্য সুপারশপে আলাদা একঘন্টা সময় বেঁধে দেয়া হলো ।

অস্ট্রেলিয়া বিশাল দেশ, তাই তার একেকটা স্টেট এর নিয়ম কানুন আলাদা । লকডাউন, সংক্রমণ পরিস্থিতি, চিকিৎসা সুবিধা, বিধিনিষেধেও অনেক পার্থক্য । প্রথমেই লকডাউন হলো ভিক্টোরিয়া । তখনও আমাদের স্কুল, কলেজ, অফিস চলছে শঙ্কা নিয়েই । এপ্রিলের প্রথম দিকে নিউ সাউথ ওয়েলস লকডাউন করলো । প্রয়োজনীয় বাজার, অফিসের কাজ, যাঁদের শারীরিক পরিস্থিতিতে হাঁটতে হবে, যেমন : ডায়বেটিস বা এরকম কিছু, জরুরি অবস্থা ছাড়া কেউ বাইরে ঘোরাঘুরি করলেই এগারো হাজার ডলার জরিমানা । মেলবোর্ন থেকে নির্দশনা আসলো বাসা থেকে অফিস করতে হবে । সপ্তাহে দু/একদিন অফিসে যাওয়ার জন্য কাজ, সময়, একই সময়ে দুজনের বেশি অফিসে যেতে পারবে না ।

আমাদের সবাই বাংলাদেশে। আমার ছেলেটার বাবাও । যা শঙ্কা করা হচ্ছিল, সেরকম অনেক কিছুই ঘটে যাচ্ছে প্রায়দিন । খুব দুশ্চিন্তা হচ্ছে সবারই । আমরা এখানে ভালো আছি; কিন্তু ভালো থেকেও যেন শান্তি, স্থিরতা নেই বাংলাদেশের চিন্তায় । এটাই স্বাভাবিক । কিন্তু প্রতিদিনের কাজ আমাদের করতে হচ্ছে । আর মনে হচ্ছে এই বন্দী হওয়াটা সবাই একসাথে থেকে বন্দী হতে পারলে হয়তো একটু স্থিরতা থাকতো । যাই হোক একসাথেতো আছি ।
নতুন নতুন নিয়মের সাথে অভ্যস্ত হওয়া; খুব অল্প সময়ের মধ্যে পৃথিবী, আশপাশ বদলে যাওয়া দেখাটা আসলে এতোটা সহজ না ।

ওষুধ কিনতে গেছি একদিন । শপের বাইরে বেশ বড় লাইন; সবাই প্রায় সিনিয়র । খরগোশের মতো বিভ্রান্তি নিয়ে মাথা ঢুকাতেই কাস্টমার কেয়ারের একটা মেয়ে হেসে বললেন; আসতে পারবে, এটি প্রেসক্রিপশনের লাইন । খুব সাধারণ কিছু ওষুধ ছাড়া বাকি সকল ওষুধ প্রেসক্রিপশন ছাড়া দেয় না । এমনকি ডক্টর সংখ্যাও লিখে দেয় । অস্ট্রেলিয়ায় শীত আসছে। আসছে ‘ফ্লু’ এর জন্য বসন্তকাল । গত বছরও সারা অস্ট্রেলিয়ায় মানুষ মারা গিয়েছে ‘ফ্লু’ তে আক্রান্ত হয়ে । ‘ফ্লু’ আর কোভিড-১৯ এর লক্ষণগুলো একই । তাই এবারের ফ্লু ভ্যাকসিন সময়টা আগেই শুরু করে দিয়েছে । সাথে অনেক ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক করে দিচ্ছে ।

ফার্মেসিগুলো এখানে সুপারশপের মতই । পারফিউম, সাবান, লোশন ধরণের কসমেটিকস সহ অনেক শুকনো খাবার, বাচ্চাদের খাবার থাকে । এতো বড় একটা এরিয়াতে ভিড় হওয়ার এটাও একটা কারণ । আমার প্রয়োজনীয় ওষুধ নিয়ে কাউন্টারে দিলাম । মেয়েটি হেসে বললো, একটু পিছিয়ে দাগের পেছনে দাঁড়াও । দেখলাম ওহ আসলেই তো দাগ দেয়া । একটু অপ্রস্তুত লাগলো । বললাম, সবই নতুন তো, আমরা সবাই অভ্যস্ত হতে পারছি না । সেও স্বীকার করলো ।

আমার বোন গেছে কে-মার্ট শপে । এটাতে যাবতীয় কাপড়, খেলনা, ইলেকট্রনিক্স থাকে । সুপারশপে ঢোকার কিছুক্ষণের মধ্যেই ওর কাশি এলো । এখন মাথায় নানান চিন্তা; কাশি দিলে আশেপাশে মানুষ না দৌড় দেয় ভয়ে । সে নিজেই তাই এক দৌড় দিয়ে চলে গেল বাথরুমে। গ্রীষ্মকাল ছাড়া বাকি সময় আমি বাইরে বের হলেই আমার হাঁচি আসে । এমনিতে হাঁচি কনুইয়ের মধ্যেই দেই। কিন্তু এখন এমন হলেই আড়াল খুঁজি, বসে পড়ি, সরে গিয়ে হাঁচি দেই ! কি যে শঙ্কায় পৃথিবী আছে । আল্লাহর কাছে শুকরিয়া বেঁচে আছি, সুস্থ আছি, ভালো আছি ।

লকডাউনের মাসখানেক পর আজকে সবাই একটু বেড়িয়েছি নানান সময়ে । অনেক মানুষই বের হতে পেরে খুশি । কাউকে কেমন আছো জিজ্ঞেস করলে বলছে, ‘বোরিং’। বাস্তবতা । সবাই একটু হালকা মানে একটু রিলাক্স ছিলাম । রাতে জানলাম, এখানকার সরকারী সার্ভিস অফিস; যেখান থেকে ড্রাইভিং, গাড়ির কাজসহ ,কমিউনিটির নানান সার্ভিস দেয়; সেখানে দুজনের পজিটিভ পেয়েছে । আর উনিশজন কোয়ারাইন্টাইনে । ওখানে একজন প্রেগনেন্ট মেয়ে আছে । আমি গেলেই ওর সাথে দেখা হতো । আর আমার ওরকম সময়টার কথা মনে হতো । জানি না ওর কথা, কেমন আছে !

চলবে

 

তাজনিন মেরিন লোপা

জন্ম রংপুরের এক সাহিত্যানুরাগী পরিবারে। বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র, রংপুরের জনপ্রিয় মুখ। ’যুগের আলো’ পত্রিকায় নিয়মিত লেখক হিসেবে লিখেছেন ছড়া, কবিতা, সায়েন্স ফিকশন, ছোট গল্প, লিখেছেন কলাম। ঢাকায় ‘ছোটদের কাগজ’ এ লেখক হিসাবে সক্রিয় ছিলেন। শিশু-কিশোর সাহিত্য নিয়ে ২০১৯ একুশে বইমেলায় আত্মপ্রকাশ করছেন ‘ডাইনীর ফলবাগান’, ২০২০ এ ‘অস্ট্রেলিয়ার রূপকথা’ বই নিয়ে।  নৃবিজ্ঞানের ছাত্রী হিসাবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে  স্নাতক আর স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। বাংলাদেশে কলেরা হাসপাতালে সামাজিক গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন অনেকদিন। খুব সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল সরকার এর অনুদানে পরিচালিত ’হিপ্পি অস্ট্রেলিয়া’ নামে একটি সংস্থায় টিউটর হিসেবে কাজ শুরু করেছেন। সংস্থাটি  মূলত তাদের নিজেদের কারিকুলামে কমিউনিটির ছোট শিশুদের মানসিক ও ইতিবাচক সামাজিক উন্নতির জন্য কাজ করে। বর্তমান নিবাস আরমিডেল, নিউ সাউথ ওয়েলস, অস্ট্রেলিয়া ।

 

করোনা সময়ে অস্ট্রেলিয়া-২

তাজনিন মেরিন লোপা

১৩ এপ্রিল, ২০২০ , ৭:৩২ পূর্বাহ্ণ

করোনা সময় অস্ট্রেলিয়া

ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ট্যাম্ওরথে ট্রেনিং ছিল আমাদের আরেকটা অফিসে । ট্যামওরথ আরমিডেল থেকে প্রায় ১১০ কি. মি দূরে ।

অস্ট্রেলিয়ার নিউ ইংল্যান্ড এর এ্যাডমিনিসট্রেটিভ সিটি । কাজেই মানুষ আর গাড়িতে গিজ গিজ করে ।

৩১৪ কি.মি এড়িয়াতে প্রায় ৬২ হাজার লোকের বাস ।

বেশ অন্যরকম একটা ভাব ছিল ট্রেনিং নিয়ে; এটা ছিল একরকম ”লেডিস ডে আউট”। আমরা বাংলাদেশের মেয়রা তো নিজেরা গাড়ি চালিয়ে অনেক দূর যাচ্ছি; এরকম অভিজ্ঞতা পাই না । দেখি মুভিতে ।

আমরা এই প্রজেক্টে চারজন টিউটর, দুজন কোঅর ডিনেটর; সবাই ভদ্রমহিলা । তিনজন বাংলাদেশী, দুজন অজি, একজন কলোম্বিয়ান ।

বাংলাদেশী সাহসী আপু অফিসের গাড়ি চালানোর দায়িত্ব নিলো ।

হাইওয়ে পার হয়ে যাওয়ার সময় কোন এক মুভির দৃশ্যই মনে হচ্ছিল । অবশ্য এতোকিছুর মাঝেও আমাদের চিন্তা ছিল, ট্রেনিং সময়মতো শেষ করে সময়মতো ফেরা । বিশেষ করে বাচ্চাদের জন্য । দেখশোনার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করতে হয়েছে যদিও । এখানে অবশ্য বিকল্প ব্যবস্থা মানে বাচ্চার মা বিকল্প বাবার, বাবা মায়ের । এছাড়া যারা নাগরিক নন, তারা বিশাল অংকের টাকা দিয়ে বেবিসিটারের কাছে রাখতে পারেন ।

আমার সাড়ে তিন বছরের বাচ্চার জন্য অবশ্য আমার বোন-দুলাভাই আছেন । শুধু আমাকে ছাড়া সে খাবারটা খায় না! এছাড়া আর কোন ঝামেলা নেই ।

সে যাই হোক ট্রেনিং শেষের তৃপ্তি নিয়ে ফেরা হলো । কিন্তু তার একদিন পরেই আমরা জানলাম, ট্যামওরথে একজন করোনা পজেটিভ পাওয়া গেছে । সেখানে সব লকডাউন । অস্ট্রেলিয়া এক মহাদেশ, আর তার নিজের দেশেরই ৬ টা স্টেট । একেকটা স্টেট একেকটা দেশের সমান বা তারচেয়েও বড় । সময় এবং আবহাওয়ার দিক থেকেও আলাদা । অস্ট্রেলিয়া সরকার তখনোও আর্ন্তজাতিক যাতায়াত সহ সকল লকডাউন নিয়ে ভাবছেন ।

সোমবার আমাদের অফিসিয়াল টিউটর ট্রেনিং থাকে । বাচ্চাকে সকালে প্রিস্কুলে দিয়ে অফিস গেলাম । ঘন্টাখানেক পরেই স্কুল থেকে ফোন । নাবহান বমি করেছে, শরীরের তাপমাত্রা ঠিক আছে। এখন খেলছে, কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতেও সামান্য অসুস্থতাকেও সবাই গুরুত্বের সাথে দেখছে । এর আগেও আমার ছেলের একবার এরকম হয়েছে: কারণ সকালে সে প্রায় কিছুই খায় না । কিন্তু ঐসময় স্কুল থেকে নিয়ে আসতে হয়নি ।

স্কুলে লাঞ্জ বক্স দেই নানান খাবার দিয়ে; তবে সে কিছুই খায় না প্রায় । স্কুলের নিজেদের বাস থাকলেও ওই মুহূর্তে সার্ভিস পাওয়া যাবে না । কিভাবে বাচ্চাকে আনি সেটা একটা দুশ্চিন্তা । দুলাভাই ইউনিভার্সটিতে, এসে ওকে নিতে সময় লাগবে । আর কাউকে অনুরোধ করলেই তো হবে না, বেবেসিটও লাগবে । এদিকে শরীর খারাপ নিয়ে সবার উদ্বিগনতা; যদিও জানি তার এটা সাধারণ ঘটনা ।

মনে পড়লো, আমার বান্ধবীর ছেলেও ওই প্রিস্কুলেই । তার গাড়িতে বেবেসিটও আছে । ফোন দিলাম, আল্লাহ্ র রহমতে সে ছেলেকে দিয়েই গাড়ি স্টার্ট দেয়ার সময় আমার কল দেখে আগে রিসিভ করেছে । স্কুলে বলতেই ওর কাছে বাচ্চা দিয়ে দিলো । বাচ্চাকে পেয়ে সেও আমাকে ফোন দিলো, চিন্তা করো না, নাবহান ভালো আছে, আমি ওকে নিয়ে আসছি অফিসে । কোঅরডিনেটর বাসায় চলে আসার পরামর্শ দিলেন, কারণ ওর বিশ্রাম জরুরি । দুপুরের দিকে প্রিস্কুল থেকে সুপারভাইজার বেক ফোন করলো । নাবহানের খোঁজ নেয়ার জন্য ।

করোনা পরিস্থিতির কারণে আগামী ৪৮ ঘন্টা একটু খেয়াল রাখতে আর স্কুলে বা বাইরে না যেতে । বেক ভীষণ ভালো আর আন্তরিক । কিন্তু কেন জানি আমার একটু হিউমেলিয়েশন, অস্বস্তি লগলো, মন আরও খারাপ করলো । ছেলেটার বাবা দেশে । এই পরিস্থিতি এমনিতেও খারাপ লাগাটা বেশিই হয়, কিছু না হলেও অসহায় লাগে মাঝে মাঝে । মনে হলো সারা পৃথিবীর করোনা পজিটিভ মানুষগুলোর কতটা অসহায় অনুভূতি পার করছে ।

এমনকি আমাদের যাদের ঠান্ডা, হাঁচি, কাশি, এলার্জি বা অন্য সমস্যা আছে; তারাও কি ভয়ঙ্কর সময় পার করছি । একটু গলা ব্যাথা, হাঁচি, কাশি হলেই আশেপাশের মানুষজন ভয়ে অস্থির হয়ে যাচ্ছে । নিজেদের ভয় তো আছেই ।  সবই ঠিক আছে জানি, কিন্তু পরের সাতদিন সবার মাঝে একটা আতঙ্ক, দুশ্চিন্তা কাজ করেছে ।

চলবে

 

তাজনিন মেরিন লোপা

জন্ম রংপুরের এক সাহিত্যানুরাগী পরিবারে। বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র, রংপুরের জনপ্রিয় মুখ। ’যুগের আলো’ পত্রিকায় নিয়মিত লেখক হিসেবে লিখেছেন ছড়া, কবিতা, সায়েন্স ফিকশন, ছোট গল্প, লিখেছেন কলাম। ঢাকায় ‘ছোটদের কাগজ’ এ লেখক হিসাবে সক্রিয় ছিলেন। শিশু-কিশোর সাহিত্য নিয়ে ২০১৯ একুশে বইমেলায় আত্মপ্রকাশ করছেন ‘ডাইনীর ফলবাগান’, ২০২০ এ ‘অস্ট্রেলিয়ার রূপকথা’ বই নিয়ে।  নৃবিজ্ঞানের ছাত্রী হিসাবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে  স্নাতক আর স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। বাংলাদেশে কলেরা হাসপাতালে সামাজিক গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন অনেকদিন। খুব সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল সরকার এর অনুদানে পরিচালিত ’হিপ্পি অস্ট্রেলিয়া’ নামে একটি সংস্থায় টিউটর হিসেবে কাজ শুরু করেছেন। সংস্থাটি  মূলত তাদের নিজেদের কারিকুলামে কমিউনিটির ছোট শিশুদের মানসিক ও ইতিবাচক সামাজিক উন্নতির জন্য কাজ করে। বর্তমান নিবাস আরমিডেল, নিউ সাউথ ওয়েলস, অস্ট্রেলিয়া ।

 

করোনার সময় অস্ট্রেলিয়া

Writter