স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা

জাকির সোহান এর কবিতা

স্বাধীনতার মানে 

তন্ত্রমন্ত্র বুঝিনা, বুঝিনা কায়কারবার

স্বাধীনতার মানে একটাই

রাষ্ট্র পুরাবে মানুষের আদি অধিকার।

এ মন বিশ্বাস করে

রক্ত -প্রাণ গেছে সকলের তরে

বাঁচি আর মরি

‘জয় বাংলা’ বলি সেই অহংকারে!

মাহবুবুল ইসলাম  এর কবিতা

ভালোবাসার বাংলাদেশ

একদিন পাথরে পাথর নয়

জীবনে জীবন ঘষে দাঁড়ালো মানুষ

জ্বলে উঠলো দীপ্র লাল ফুলকি

তার রক্তিম আভা আমাকে বললো মাতৃভাষায় ডাকো ঐ পাখিদের

আমি ডাকলাম,

সব পাখিদের মুখেই গুঞ্জরিত হলো বাংলাদেশ ।

মিনার বসুনীয়া এর কবিতা

ভালোবাসি

তোমাকে ভীষণ ভালোবাসি-

বলা হয়নি বলে কলম ধরেছি আজ, সামনে বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ।

কিষানী মায়ের স্বপ্ন দোলে সবুজ ধানক্ষেতে

যেতে যেতে ফিরে চায় বারবার-

আমার মা!

 

পতাকা আনবে বলে সেই যে গেছে বাবা

আর ফিরে এলো না, আসেনি আজও-

সেই থেকে একটা গাঢ় সবুজ রঙা শাড়ির বড় লোভ তার!

 

বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে

যে শাড়িটা পরেছিলে, জীবনে প্রথমবার, লাল পাড়-

অনভ্যস্ত হাতে খুলে যাওয়া আঁচল

পেছনে লুটিয়ে পড়ে, সবুজে ঢেকে যায় পুরো মাঠ।

 

সহস্র রক্ত গাঁদা দিয়ে মাঝ মাঠে এঁকেছি লাল সূর্য

বৃদ্ধা মায়ের চোখে কিশোরীর হাসি!

সোনার বাংলা-

আমি তোমায় ভালোবাসি।

সোমের কৌমুদী এর কবিতা

প্রিয় স্বাধীনতা

মায়ের আঁচল ভরা সুখ কেন; বলো,

মায়ের বুকে সূর্য কেন দেয় এত আলো?

সবাই জানে সেই কথাটা, সবার প্রিয় তা

স্বাধীনতা দিয়েছে সব, প্রিয় স্বাধীনতা।

 

রাতের বুকে শশী দিল আলোর প্রদীপ জ্বেলে

সুখ দেবতা কেন তুমি মায়ের বুকে এলে?

অতিথি পাখি মায়ের কাছে বলে মনের কথা,

স্বাধীনতা দিয়েছে সব, প্রিয় স্বাধীনতা।

 

নদী সদা ছুটে চলে ঢেউয়ের নৃত্য তুলে

সবুজে সাজে মায়ের বুক হাসে প্রাণ খুলে।

শাখীর ফল রসে ভরা কেন এত মিঠা?

স্বাধীনতা দিয়েছে সব, প্রিয় স্বাধীনতা।

 

হৃদয় ভূমির কানন আজ স্বপ্ন বৃক্ষে ভরা

বাংলা ভাষায় গর্ব করে কেন গোটা ধরা?

মায়ের কোলে পায় না ঠাঁই দুঃখ-কলুষতা,

স্বাধীনতা দিয়েছে সব, প্রিয় স্বাধীনতা।

হাই হাফিজ এর কবিতা

লাল সবুজ পতাকার গল্প 

রাতের নিস্তব্ধতা ভাঙে মুয়াজ্জিনের সুর,

হিমেল সমীরণে দোল খায় পাখির কলকাকলি,

প্রভাতী রবির উষ্ণতা খোঁজে শিশির ভেজা সকাল,

মায়ের বুকের ওমে সদ্যজাত শিশুর অপরূপ হাসি,

আকাশ বাতাস জুড়ে ভেসে আসে সেই সুর, সেই গান –

‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’।

 

বঞ্চনার আকাশ হতে সরে যায় কালো মেঘ,

নক্ষত্ররা খেলা করে রঙিন পাপড়ি মেলে,

হাসে চাঁদ, কাটে রাত, আসে ভোর,

উল্লাসে হাসে সোনালি সুদিন।

মাঠে মাঠে সবুজ নরম ঘাসে সূর্যের অপরূপ হাসি,

কিষাণ-কিষাণী আর রাখাল-মাঝির কণ্ঠে সেই গান –

‘চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস,

আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি—- ‘

 

অবশেষে রক্ত-নদীতে ধুয়ে-মুছে গড়ে ইতিহাস,

সীমাহীন নিপীড়ন, শোষণ-জুলুমের হয় অবসান, 

আসে সুখ, আসে শান্তি, হাসে স্বাধীনতা।

মাঠের সবুজ ক্ষেতে ঊষার লাল সূর্যের হাসি,

যেন সবুজ হৃদয় জুড়ে সুশোভিত ভোর,

আকাশে বাতাসে ওড়ে লাল-সবুজ স্বাধীন পতাকা

সবুজ দেশের বুকে আলোকিত সূর্যের হাসি।

“আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি”।

মজনুর রহমান  এর কবিতা

দেশ

আমার সাধ হলো

তোমার বুকের মধ্যে দীর্ঘতম ঘুম।

ঘুমের নামে যদি মৃত্যু নেমে আসে

থাকবে না কোন ব্যথা আর।

 

দূরের মাঠে ঘাসের বনে বনে

আছড়ে পড়েছে সমস্ত সংসার

তবু সেই ঘাসের শিশির ভেঙে

এই বুক শ্রান্তিতে হামাগুড়ি দেয়-

 

পাখির সাধ হলে ঘুম ভেঙে

ডাক দেয় জননীর ঠোঁট লক্ষ্য করে

হঠাৎ শিকারীর গুলি, মা তবু

খাবার গুঁজে দেয় শিকারের মুখে।

 

পরিচিত দুঃখী লোকের মতো

এভাবেই, আমি আমার নিজস্ব

দেশ রচনা করি।

মুহাম্মদ খালিদ সাইফুল্লাহ্ এর কবিতা

কার কাছে চাইবো স্বাধীনতা?

বুকভাঙা আহত আর্তনাদগুলো

এখন ছুঁয়ে যায় না কারোর হৃদয়ে।

ট্রাকের চাপায় পিষ্ট জীবন, ধর্ষকের

থাবায় অনিরাপদ মায়ের পবিত্র দেহ।

 

আমি কার কাছে চাইবো জীবনের স্বাধীনতা?

 

বেকারত্বের অবসাদে পোড়া এই দেশ

দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতিতে উদ্বিগ্ন মধ্যবিত্তের সংসার-

আর আমি স্বাধীনতার স্বগৌরব নিয়ে

আর কতোদিন কাটাবো এমন জীবন?

 

বলো,

আমি কার কাছে চাইবো জীবনের স্বাধীনতা?

সরকার বাবলু  এর কবিতা

কালো অধ্যায়

কবির ভাষায় কাব্য তুমি

বিশ্বে দুরন্ত মহীয়ান

তুমি বীর দর্পে গর্জে উঠা

বাঙালির জয়গান

 

তুমি সবুজের বুকে দুর্বার

বিস্ময় কলতান

তুমি দ্রোহের উত্তাপ আগ্নেয়গিরি

সাহসী আগুয়ান-

 

তুমি কৃষাণের রাখালিয়া বাঁশির সুর

গরীব দুঃখির প্রাণ

তুমি সকালের সুর্যোদয়

পৌষের শুভ্র ঘ্রাণ।

 

তুমি মমতাময়ী মা জননীর

বীরশ্রেষ্ট সন্তান

তুমি পদ্মা মেঘনা যমুনার

বুকে রবে বহমান-

 

তুমি গড়েছো সোনার বাংলা

রেখেছো প্রতিদান

তুমি সবুজের বুকে লাল পতাকা

রেখেছ অম্লান।

প্রমথ রায় এর কবিতা

স্বাধীনতার সবুজ বাতি

আমি সারারাত ফেসবুকের সবুজ বাতি জ্বেলে রেখে ভাবি

এ রাত আমি কিনেছি স্বাধীনতার দামে,

সারারাত গল্প করে কি আমরা প্যাট্রিয়ট হতে পারি

কিংবা কাঠের বন্দুক হাতে যুদ্ধের অভিনয় করে

প্রথম পুরস্কার পাওয়া আমরা দূর্বলতা।

আমি জিতে যাই বলে দেশ প্রেমিক নই

আমি হেরে যাই বলে দেশপ্রেমিক নই

বরং দেশপ্রেমকে টাইমলাইনে রেখে

আমরা স্বাধীনভাবে গল্প করি; স্বাধীনতার নয়

বরং এক দুই করে গুণতে থাকি আমার দেশপ্রেমে লাইক লাভের সংখ্যা।

অতঃপর আমি আমার দেশকে ভালোবাসি।

রবীন জাকারিয়া এর কবিতা

চেতনা

ভীষণ সাহসী আমি, বিপ্লবী অতি

আছে নজরুল চেতনায়

নিরন্ন জনতার হাহাকারে কেন

কাঁদিব না বেদনায়?

এখনো কত কাজ পড়ে আছে বাকী

কাঁধে আছে কত দায়

বেকার তবুও ভৃত্য হবো না কভু

লুটেরার সেরেস্তায়

পুরোনো কফিন ভেঙ্গে আসে বারবার

হারামির বাচ্চার দল

মেহনতি মানুষকে বানাচ্ছে লাশে

তালা দিয়ে শিল্প-কল

মজুরের বধু তবে কি বেশ্যাই হবে

বেচে দিয়ে হাতিয়ার

এসিডে পোড়া, ধর্ষিতা নারী কাঁদে

ধরে কত বাজি আর?

খুবলে খাবে বলে গাঁট বেধেছে শেষে

হারামজাদা কতিপয়

রুখিতেই হবে ওদের, বধিতেই হবে

ওরা ভীরু অতিশয়৷

আবু হানিফ জাকারিয়া এর কবিতা

বিদেশি কালচার

অবলীলায় কয়েকটি ভিনদেশি শব্দ

গেঁথে গেল আমাদের বাঙালিত্বে।

সেই শব্দ গুলির বাংলা ক’জন জানি

জানানোর জন্য কেউ ছিলেন তো দায়িত্বে। 

 

আমরা সহজেই তা মেনেও নিলাম

এটাই এখনকার ট্রেন্ড,

খুব সহজাত আমরা বিদেশি কালচারে

সকলকে বানিয়েছি ফ্রেন্ড। 

 

খুব অভিজাত বাঙালি সাহেবেরা

বাংলায় তাদের নাক সিটকানো, 

চলায় বলায় অফিসের কালচারে

বাংলাটা যেন দম আটকানো। 

 

বিদেশিরা কেউ চেপে ধরেনি কাউকে 

আমরাই রেখেছি সঙ্গ নিরোধে,

মাতৃভাষাকে আজ উপহাস্য বানিয়েছি 

যাব কার সাথে বিরোধে?

 

যে যার মত বিকৃত সুরে গাই বাংলা ভাষা

যেন প্রতিযোগিতায় নেমেছি আজ,

বাহবা আর হাততালি দেই বিদেশি কালচারে

হারিয়েছি যেন কুন্ঠা আর লাজ।

মোস্তারী মিতা এর কবিতা

ইচ্ছের গুড়ে বালি

ছোট্ট একটা ঘর

ছোট্ট একটা জানালা তার,

সদর দরজাটা সবসময় খোলা

কিন্তু সেখানে এক অদৃশ্য দেয়াল

যা পেরোনো দুঃসাধ্য আমার।

আমি তাকিয়ে আকাশ দেখি

দেখি পাখির স্বাধীনতা,

আমি ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখি

কত শত আকুলতা।

আমারতো ইচ্ছে করে

ডানা মেলতে,

ইচ্ছে করে দুপথ হাঁটি

হাতটা রেখে তোমার হাতে।

পদ্মজলে পা ভেজাতে

ভীষণ রকম ইচ্ছে করে,

সেই পদ্মই খোঁপায় গুঁজে

দিতেই পারো চুপ আদরে।

চাইলে কি আর হয়রে পাওয়া

তবু চাওয়া, কত চাওয়া,

দিন শেষে বুক খালি

ইচ্ছেতে গুড়ে বালি।।

আহসান লাবিব এর কবিতা

স্বাধীনতা আমার কাছে 

স্বাধীনতা আমার কাছে,

ফুটপাত, রাস্তায় জীর্ণশীর্ণ শরীরে চিৎ হয়ে শুয়ে থাকা।

 

স্বাধীনতা আমার কাছে

শহীদ মিনারের দোরগোড়ায় উলঙ্গ হয়ে রাত্রি যাপন।

 

স্বাধীনতা আমার কাছে,

ময়লার ডাস্টবিন থেকে পাওয়া আহার,

খেয়ে ফেলি নির্দ্বিধায়; বুঝতে পারি না বাসি পঁচা গন্ধ।

 

স্বাধীনতা আমার কাছে,

১০ঃ৬ অনুপাতের পতাকার বদলে

বিকৃত লাল সবুজের গোলক ধাঁধাঁ।

 

স্বাধীনতা আমার কাছে,

নির্বাক জনতার বিদ্রোহহীন ক্ষীণ কণ্ঠ।

 

স্বাধীনতা আমার কাছে,

ব্যর্থ যুকের ক্ষয়ে যাওয়া পায়ের স্যান্ডেল__

বুক পকেট ভর্তি শূন্য আশা।

 

স্বাধীনতা আমার কাছে,

ছাত্রদের কাঁধে চেপে দেওয়া এক ব্যাগ নিশ্চুপ ক্রন্দন।

 

স্বাধীনতা আমার কাছে,

ধর্মীয় দাঙ্গা ফাসাদ, হানাহানি, খুন

রাজপথ ভেজা রক্ত।

 

স্বাধীনতা আমার কাছে,

ঝুপড়ির দোকানে চায়ে চুমুক,

সিগারেটের ধোঁয়ায় রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব।

 

স্বাধীনতা আমার কাছে,

মায়ের কোলের ক্ষুধার্ত শিশুর

ছটপটানো পেট ভর্তি জেদ।

 

স্বাধীনতা আমার কাছে,

অন্যায়ের বিরুদ্ধে অন্তরে নিভে থাকা ঝাঁঝালো মিছিল।

 

স্বাধীনতা আমার কাছে,

দলীয় স্লোগানের ভিড়ে আটকে পরা

অ্যাম্বুলেন্সের জরুরি বাঁশি।

 

স্বাধীনতা আমার কাছে,

মাঠে ময়দানে প্রেমিকার বিজয় সংলাপ।

 

স্বাধীনতা আমার কাছে,

কৃষকের বস্তায় বস্তায় জমা হয়ে থাকা অভিশাপ।

 

স্বাধীনতা আমার কাছে,

ভণ্ড নেতার কোলাহল মুখর জনসভা।

 

স্বাধীনতা আমার কাছে,

টিভির পর্দায় ভেসে আসা শিহরিত দৃশ্য

বিশেষ সংবাদে শুধু ধর্ষণ মামলা।

 

স্বাধীনতা আমার কাছে,

জায়নামাযে হামাগুড়ি দেওয়া পিতার প্রার্থনা

মায়ের কোল খালি;

আঁচল পেতে বসা অঝর বৃষ্টি কান্না।

 

 

তুমি চেয়ে দেখো দেশমাতা

তোমার স্বাধীনতা আজ আকাশ ছুঁতে চায় না!?

এখন পরাধীনতা আমার কাছে,

লাখো শহীদের স্বাধীনতা নামক বায়না।

নাফিস সাদিক অর্ক এর কবিতা

হে স্বাধীনতা

বাংলার সূর্যডোবা দিগন্তে

কিংবা সূর্যোদয়ের ঊষার আভায়,

রক্তে লেখা বীরগাঁথা তুমি, হে স্বাধীনতা।

লাল সবুজ পতাকার বুকে

অথবা মানচিত্রের প্রতিটি ভাঁজে,

চিরঅমর হয়ে থাকো তুমি, হে স্বাধীনতা।

মিছিলে গর্জে ওঠা প্রতিবাদী স্লোগানে

কিংবা বুলেটবিদ্ধ মৃত্যুঞ্জয়ীদের বুকে,

আগলে রাখা সম্ভ্রম তুমি, হে স্বাধীনতা। 

মুজিবের দ্ব্যর্থহীন বজ্রনিনাদ কণ্ঠে

অথবা ক্র‍্যাকপ্লাটুনের গর্জে ওঠা মেশিনগানে,

চির অমলিন হয়ে থাকো তুমি, হে স্বাধীনতা।

বীর শহীদের জননীর আত্মত্যাগে

কিংবা ধর্ষিতা বীরাঙ্গনার প্রতিশোধের ক্রোধে,

নেমেসিসের অগ্নিধার তলোয়ার তুমি,হে স্বাধীনতা।

বাংলার প্রতিটি ধূলিকণায়,প্রতিটি শস্যদানায়

বাংলার দিগন্তবিস্তৃত সবুজ মাঠে দোলা দেওয়া বাতাসে

মিশে থাকা গৌরব তুমি,হে স্বাধীনতা।

বাঙালির রক্তে মিশে থাকা উদ্দাম আবেগ তুমি-

“হে স্বাধীনতা”।

ফজলে রাব্বী এর কবিতা

ওরাই স্বাধীন

ঠিক কতটা আমরা স্বাধীন

বলতে কি কেউ পারো?

দেশটা জুড়ে চলছে কি সব

আছে হিসেব কারও?

 

স্বাধীন এখন সেসব মানুষ

নয় জননী বোন,

এমন দেশে করছে যারা

শান্তিতে ধর্ষণ।

 

স্বাধীন মানুষ প্রতিদিনই

পকেট ভরায় ঘুষে-

আমজনতার রক্তে গড়া

দেশটাকে খায় চুষে।

 

আজকে দেখো স্বাধীন দেশে

দোষটি করেও যারা-

রাজার বেশে ঘুরছে সুখে

স্বাধীন মানুষ তারা।

অনিরুদ্ধ সরকার প্রথম এর কবিতা

পিতা

আমরা পিতৃহত্যার দায় নিয়ে

বেঁচে আছি প্রভু।

আমাদের ক্ষমা করো।

আমরা আমাদের পরিচয় মুছে ফেলার ঘৃণ্য স্বড়যন্ত্রের

পাপ বয়ে বেড়াচ্ছি প্রভু,

আমাদের ক্ষমা করো।

টুঙ্গিপাড়ার সাদা মার্বেল পাথরের কবর থেকে আওয়াজ আসে,”ওরা আমার সন্তান। আমার কোনো ক্ষতি ওরা করবে না।’’

আমাকে ঘুমের মধ্য ছিড়ে খায় এই দিব্যকন্ঠ,

আমি বারবার অপ্রকৃতিস্থ হয়ে যাই!

হায়েনাদের গুহা থেকে বাংলাদেশ নামের রক্তমাখা আহত হরিণশাবক উদ্ধার করে আনলো যে যোদ্ধা-

আমরা কাপুরষের খোলসে

সেই যোদ্ধাকে খুন করলাম।

আমরা পাপী,আমরা নরপিশাচ প্রভু

আমাদের ক্ষমা  করো।

আমরা শুধু একজন পিতা,

একজন ভাই,একজন হিমালয়,

একজন বাংলাদেশকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হইনি।

তাঁকে নিয়ে ব্যাবসা করেছি,

কাঁদা ছোড়াছুড়ি করেছি রাজনীতির নোংরা নর্দমায়।

তার আদর্শ ছিঁড়ে খেয়েছি

শকুনের মতো।

হ্যাঁ,আমরা পাপী।

আমরা অপরাধী প্রভু।

আমাদের ক্ষমা করো।

আমরা ইতিহাস,তোমার ভালোবাসা,

তোমার বিশ্বাস খুন করেছি।

হে মৃত্যুঞ্জয়ী পুরুষোত্তম পিতা, আমাদের ক্ষমা করো!

এস আই শিমুল  এর কবিতা

উৎপিঞ্জর 

তুমি সেই স্বাধীনতা!তুমি সাত মার্চের বজ্র কন্ঠে,

জেগে ওঠা সাত কোটি জনতা।

তুমি এসেছ এই ভূখন্ডে,

নয় মাসের রক্তের নহরে।

বোনের সম্ভ্রম আর তিরিশ লক্ষ বলিদান শেষে,

প্রস্ফুটন হয়েছে তোমার।

শুভ্র গোধূলির শেষ লগ্নে

নব দিগন্তে উদয় হয়েছ এই বাংলায়।

 

তুমি সেই স্বাধীনতা!

তুমি ছেলে হারা মায়ের চোখের কোনে

উদয়াস্ত অশ্রু জমা অধীর অপেক্ষা।

অনামিশায় প্রজ্জ্বলিত আগুনের দীপশিখা তুমি,

রক্তস্নাত এক বেদনার ইতিহাস।

 

তুমি সেই স্বাধীনতা!

তুমি পরবশ চাদরে মোড়ানো

বিজয়ের রক্তিম উৎপিঞ্জর।

শ্মশানে ঝলসানো প্রতীক্ষার অনল তুমি।

মাড়িয়ে এসেছ বধ্যভূমি, অসংখ্য গণকবর।

সংগ্রাম, তিতিক্ষা শেষে স্বাধীনতা তুমি

চিত্রিত আজ লাল-সবুজের উপর।

মোহাম্মদ সাব্বির হাসান সোহান এর কবিতা

স্বাধীনতার স্বাদ

বাংলার আকাশেতে ওঠেনিকো সূর্য

মানুষের মনে তবু আশা ছিল ধৈর্য।

বিপদের নিশানেতে জ্বালিয়ে আগুন,

বলেছিল বাংলাকে এবার জাগুন।

 

অশ্বত্থের ছায়া ঘেরা বাংলার বুকে

বণ্ঞ্চিত নর-নারী মরেছিল ধুঁকে।

তর্জনী ধরিয়েছে বিজয়ের নেশা,

সবুজ ধানের ক্ষেত খরস্রোতা ঘেঁষা।

 

ভিরুতার আবরণ ছিড়েখুঁড়ে সবে,

তুলেছে অস্ত্র হাতে ডেকেছিলো যবে।

জন্মের পরে তবু নয় মাস ধরে,

উড়াতে নিশান সবে গিয়েছে যে লড়ে।

 

রক্তের তটিনীতে স্বধীনতা হাসে,

এখনো বাতাসময় অধীনতা ভাসে।

অধিকার সরিয়ে, দিয়ে যায় যা-তা,

কবে তবে স্বাদ পাবো মুক্তির,মাতা?

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী বিশেষ সংখ্যা

জাকির সোহান এর কবিতা

স্বাধীনতার মানে 

তন্ত্রমন্ত্র বুঝিনা, বুঝিনা কায়কারবার

স্বাধীনতার মানে একটাই

রাষ্ট্র পুরাবে মানুষের আদি অধিকার।

এ মন বিশ্বাস করে

রক্ত -প্রাণ গেছে সকলের তরে

বাঁচি আর মরি

‘জয় বাংলা’ বলি সেই অহংকারে!

মাহবুবুল ইসলাম  এর কবিতা

ভালোবাসার বাংলাদেশ

একদিন পাথরে পাথর নয়

জীবনে জীবন ঘষে দাঁড়ালো মানুষ

জ্বলে উঠলো দীপ্র লাল ফুলকি

তার রক্তিম আভা আমাকে বললো মাতৃভাষায় ডাকো ঐ পাখিদের

আমি ডাকলাম,

সব পাখিদের মুখেই গুঞ্জরিত হলো বাংলাদেশ ।

মিনার বসুনীয়া এর কবিতা

ভালোবাসি

তোমাকে ভীষণ ভালোবাসি-

বলা হয়নি বলে কলম ধরেছি আজ, সামনে বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ।

কিষানী মায়ের স্বপ্ন দোলে সবুজ ধানক্ষেতে

যেতে যেতে ফিরে চায় বারবার-

আমার মা!

 

পতাকা আনবে বলে সেই যে গেছে বাবা

আর ফিরে এলো না, আসেনি আজও-

সেই থেকে একটা গাঢ় সবুজ রঙা শাড়ির বড় লোভ তার!

 

বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে

যে শাড়িটা পরেছিলে, জীবনে প্রথমবার, লাল পাড়-

অনভ্যস্ত হাতে খুলে যাওয়া আঁচল

পেছনে লুটিয়ে পড়ে, সবুজে ঢেকে যায় পুরো মাঠ।

 

সহস্র রক্ত গাঁদা দিয়ে মাঝ মাঠে এঁকেছি লাল সূর্য

বৃদ্ধা মায়ের চোখে কিশোরীর হাসি!

সোনার বাংলা-

আমি তোমায় ভালোবাসি।

সোমের কৌমুদী এর কবিতা

প্রিয় স্বাধীনতা

মায়ের আঁচল ভরা সুখ কেন; বলো,

মায়ের বুকে সূর্য কেন দেয় এত আলো?

সবাই জানে সেই কথাটা, সবার প্রিয় তা

স্বাধীনতা দিয়েছে সব, প্রিয় স্বাধীনতা।

 

রাতের বুকে শশী দিল আলোর প্রদীপ জ্বেলে

সুখ দেবতা কেন তুমি মায়ের বুকে এলে?

অতিথি পাখি মায়ের কাছে বলে মনের কথা,

স্বাধীনতা দিয়েছে সব, প্রিয় স্বাধীনতা।

 

নদী সদা ছুটে চলে ঢেউয়ের নৃত্য তুলে

সবুজে সাজে মায়ের বুক হাসে প্রাণ খুলে।

শাখীর ফল রসে ভরা কেন এত মিঠা?

স্বাধীনতা দিয়েছে সব, প্রিয় স্বাধীনতা।

 

হৃদয় ভূমির কানন আজ স্বপ্ন বৃক্ষে ভরা

বাংলা ভাষায় গর্ব করে কেন গোটা ধরা?

মায়ের কোলে পায় না ঠাঁই দুঃখ-কলুষতা,

স্বাধীনতা দিয়েছে সব, প্রিয় স্বাধীনতা।

হাই হাফিজ এর কবিতা

লাল সবুজ পতাকার গল্প 

রাতের নিস্তব্ধতা ভাঙে মুয়াজ্জিনের সুর,

হিমেল সমীরণে দোল খায় পাখির কলকাকলি,

প্রভাতী রবির উষ্ণতা খোঁজে শিশির ভেজা সকাল,

মায়ের বুকের ওমে সদ্যজাত শিশুর অপরূপ হাসি,

আকাশ বাতাস জুড়ে ভেসে আসে সেই সুর, সেই গান –

‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’।

 

বঞ্চনার আকাশ হতে সরে যায় কালো মেঘ,

নক্ষত্ররা খেলা করে রঙিন পাপড়ি মেলে,

হাসে চাঁদ, কাটে রাত, আসে ভোর,

উল্লাসে হাসে সোনালি সুদিন।

মাঠে মাঠে সবুজ নরম ঘাসে সূর্যের অপরূপ হাসি,

কিষাণ-কিষাণী আর রাখাল-মাঝির কণ্ঠে সেই গান –

‘চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস,

আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি—- ‘

 

অবশেষে রক্ত-নদীতে ধুয়ে-মুছে গড়ে ইতিহাস,

সীমাহীন নিপীড়ন, শোষণ-জুলুমের হয় অবসান, 

আসে সুখ, আসে শান্তি, হাসে স্বাধীনতা।

মাঠের সবুজ ক্ষেতে ঊষার লাল সূর্যের হাসি,

যেন সবুজ হৃদয় জুড়ে সুশোভিত ভোর,

আকাশে বাতাসে ওড়ে লাল-সবুজ স্বাধীন পতাকা

সবুজ দেশের বুকে আলোকিত সূর্যের হাসি।

“আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি”।

মজনুর রহমান  এর কবিতা

দেশ

আমার সাধ হলো

তোমার বুকের মধ্যে দীর্ঘতম ঘুম।

ঘুমের নামে যদি মৃত্যু নেমে আসে

থাকবে না কোন ব্যথা আর।

 

দূরের মাঠে ঘাসের বনে বনে

আছড়ে পড়েছে সমস্ত সংসার

তবু সেই ঘাসের শিশির ভেঙে

এই বুক শ্রান্তিতে হামাগুড়ি দেয়-

 

পাখির সাধ হলে ঘুম ভেঙে

ডাক দেয় জননীর ঠোঁট লক্ষ্য করে

হঠাৎ শিকারীর গুলি, মা তবু

খাবার গুঁজে দেয় শিকারের মুখে।

 

পরিচিত দুঃখী লোকের মতো

এভাবেই, আমি আমার নিজস্ব

দেশ রচনা করি।

মুহাম্মদ খালিদ সাইফুল্লাহ্ এর কবিতা

কার কাছে চাইবো স্বাধীনতা?

বুকভাঙা আহত আর্তনাদগুলো

এখন ছুঁয়ে যায় না কারোর হৃদয়ে।

ট্রাকের চাপায় পিষ্ট জীবন, ধর্ষকের

থাবায় অনিরাপদ মায়ের পবিত্র দেহ।

 

আমি কার কাছে চাইবো জীবনের স্বাধীনতা?

 

বেকারত্বের অবসাদে পোড়া এই দেশ

দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতিতে উদ্বিগ্ন মধ্যবিত্তের সংসার-

আর আমি স্বাধীনতার স্বগৌরব নিয়ে

আর কতোদিন কাটাবো এমন জীবন?

 

বলো,

আমি কার কাছে চাইবো জীবনের স্বাধীনতা?

সরকার বাবলু  এর কবিতা

কালো অধ্যায়

কবির ভাষায় কাব্য তুমি

বিশ্বে দুরন্ত মহীয়ান

তুমি বীর দর্পে গর্জে উঠা

বাঙালির জয়গান

 

তুমি সবুজের বুকে দুর্বার

বিস্ময় কলতান

তুমি দ্রোহের উত্তাপ আগ্নেয়গিরি

সাহসী আগুয়ান-

 

তুমি কৃষাণের রাখালিয়া বাঁশির সুর

গরীব দুঃখির প্রাণ

তুমি সকালের সুর্যোদয়

পৌষের শুভ্র ঘ্রাণ।

 

তুমি মমতাময়ী মা জননীর

বীরশ্রেষ্ট সন্তান

তুমি পদ্মা মেঘনা যমুনার

বুকে রবে বহমান-

 

তুমি গড়েছো সোনার বাংলা

রেখেছো প্রতিদান

তুমি সবুজের বুকে লাল পতাকা

রেখেছ অম্লান।

প্রমথ রায় এর কবিতা

স্বাধীনতার সবুজ বাতি

আমি সারারাত ফেসবুকের সবুজ বাতি জ্বেলে রেখে ভাবি

এ রাত আমি কিনেছি স্বাধীনতার দামে,

সারারাত গল্প করে কি আমরা প্যাট্রিয়ট হতে পারি

কিংবা কাঠের বন্দুক হাতে যুদ্ধের অভিনয় করে

প্রথম পুরস্কার পাওয়া আমরা দূর্বলতা।

আমি জিতে যাই বলে দেশ প্রেমিক নই

আমি হেরে যাই বলে দেশপ্রেমিক নই

বরং দেশপ্রেমকে টাইমলাইনে রেখে

আমরা স্বাধীনভাবে গল্প করি; স্বাধীনতার নয়

বরং এক দুই করে গুণতে থাকি আমার দেশপ্রেমে লাইক লাভের সংখ্যা।

অতঃপর আমি আমার দেশকে ভালোবাসি।

রবীন জাকারিয়া এর কবিতা

চেতনা

ভীষণ সাহসী আমি, বিপ্লবী অতি

আছে নজরুল চেতনায়

নিরন্ন জনতার হাহাকারে কেন

কাঁদিব না বেদনায়?

এখনো কত কাজ পড়ে আছে বাকী

কাঁধে আছে কত দায়

বেকার তবুও ভৃত্য হবো না কভু

লুটেরার সেরেস্তায়

পুরোনো কফিন ভেঙ্গে আসে বারবার

হারামির বাচ্চার দল

মেহনতি মানুষকে বানাচ্ছে লাশে

তালা দিয়ে শিল্প-কল

মজুরের বধু তবে কি বেশ্যাই হবে

বেচে দিয়ে হাতিয়ার

এসিডে পোড়া, ধর্ষিতা নারী কাঁদে

ধরে কত বাজি আর?

খুবলে খাবে বলে গাঁট বেধেছে শেষে

হারামজাদা কতিপয়

রুখিতেই হবে ওদের, বধিতেই হবে

ওরা ভীরু অতিশয়৷

আবু হানিফ জাকারিয়া এর কবিতা

বিদেশি কালচার

অবলীলায় কয়েকটি ভিনদেশি শব্দ

গেঁথে গেল আমাদের বাঙালিত্বে।

সেই শব্দ গুলির বাংলা ক’জন জানি

জানানোর জন্য কেউ ছিলেন তো দায়িত্বে। 

 

আমরা সহজেই তা মেনেও নিলাম

এটাই এখনকার ট্রেন্ড,

খুব সহজাত আমরা বিদেশি কালচারে

সকলকে বানিয়েছি ফ্রেন্ড। 

 

খুব অভিজাত বাঙালি সাহেবেরা

বাংলায় তাদের নাক সিটকানো, 

চলায় বলায় অফিসের কালচারে

বাংলাটা যেন দম আটকানো। 

 

বিদেশিরা কেউ চেপে ধরেনি কাউকে 

আমরাই রেখেছি সঙ্গ নিরোধে,

মাতৃভাষাকে আজ উপহাস্য বানিয়েছি 

যাব কার সাথে বিরোধে?

 

যে যার মত বিকৃত সুরে গাই বাংলা ভাষা

যেন প্রতিযোগিতায় নেমেছি আজ,

বাহবা আর হাততালি দেই বিদেশি কালচারে

হারিয়েছি যেন কুন্ঠা আর লাজ।

মোস্তারী মিতা এর কবিতা

ইচ্ছের গুড়ে বালি

ছোট্ট একটা ঘর

ছোট্ট একটা জানালা তার,

সদর দরজাটা সবসময় খোলা

কিন্তু সেখানে এক অদৃশ্য দেয়াল

যা পেরোনো দুঃসাধ্য আমার।

আমি তাকিয়ে আকাশ দেখি

দেখি পাখির স্বাধীনতা,

আমি ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখি

কত শত আকুলতা।

আমারতো ইচ্ছে করে

ডানা মেলতে,

ইচ্ছে করে দুপথ হাঁটি

হাতটা রেখে তোমার হাতে।

পদ্মজলে পা ভেজাতে

ভীষণ রকম ইচ্ছে করে,

সেই পদ্মই খোঁপায় গুঁজে

দিতেই পারো চুপ আদরে।

চাইলে কি আর হয়রে পাওয়া

তবু চাওয়া, কত চাওয়া,

দিন শেষে বুক খালি

ইচ্ছেতে গুড়ে বালি।।

আহসান লাবিব এর কবিতা

স্বাধীনতা আমার কাছে 

স্বাধীনতা আমার কাছে,

ফুটপাত, রাস্তায় জীর্ণশীর্ণ শরীরে চিৎ হয়ে শুয়ে থাকা।

 

স্বাধীনতা আমার কাছে

শহীদ মিনারের দোরগোড়ায় উলঙ্গ হয়ে রাত্রি যাপন।

 

স্বাধীনতা আমার কাছে,

ময়লার ডাস্টবিন থেকে পাওয়া আহার,

খেয়ে ফেলি নির্দ্বিধায়; বুঝতে পারি না বাসি পঁচা গন্ধ।

 

স্বাধীনতা আমার কাছে,

১০ঃ৬ অনুপাতের পতাকার বদলে

বিকৃত লাল সবুজের গোলক ধাঁধাঁ।

 

স্বাধীনতা আমার কাছে,

নির্বাক জনতার বিদ্রোহহীন ক্ষীণ কণ্ঠ।

 

স্বাধীনতা আমার কাছে,

ব্যর্থ যুকের ক্ষয়ে যাওয়া পায়ের স্যান্ডেল__

বুক পকেট ভর্তি শূন্য আশা।

 

স্বাধীনতা আমার কাছে,

ছাত্রদের কাঁধে চেপে দেওয়া এক ব্যাগ নিশ্চুপ ক্রন্দন।

 

স্বাধীনতা আমার কাছে,

ধর্মীয় দাঙ্গা ফাসাদ, হানাহানি, খুন

রাজপথ ভেজা রক্ত।

 

স্বাধীনতা আমার কাছে,

ঝুপড়ির দোকানে চায়ে চুমুক,

সিগারেটের ধোঁয়ায় রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব।

 

স্বাধীনতা আমার কাছে,

মায়ের কোলের ক্ষুধার্ত শিশুর

ছটপটানো পেট ভর্তি জেদ।

 

স্বাধীনতা আমার কাছে,

অন্যায়ের বিরুদ্ধে অন্তরে নিভে থাকা ঝাঁঝালো মিছিল।

 

স্বাধীনতা আমার কাছে,

দলীয় স্লোগানের ভিড়ে আটকে পরা

অ্যাম্বুলেন্সের জরুরি বাঁশি।

 

স্বাধীনতা আমার কাছে,

মাঠে ময়দানে প্রেমিকার বিজয় সংলাপ।

 

স্বাধীনতা আমার কাছে,

কৃষকের বস্তায় বস্তায় জমা হয়ে থাকা অভিশাপ।

 

স্বাধীনতা আমার কাছে,

ভণ্ড নেতার কোলাহল মুখর জনসভা।

 

স্বাধীনতা আমার কাছে,

টিভির পর্দায় ভেসে আসা শিহরিত দৃশ্য

বিশেষ সংবাদে শুধু ধর্ষণ মামলা।

 

স্বাধীনতা আমার কাছে,

জায়নামাযে হামাগুড়ি দেওয়া পিতার প্রার্থনা

মায়ের কোল খালি;

আঁচল পেতে বসা অঝর বৃষ্টি কান্না।

 

 

তুমি চেয়ে দেখো দেশমাতা

তোমার স্বাধীনতা আজ আকাশ ছুঁতে চায় না!?

এখন পরাধীনতা আমার কাছে,

লাখো শহীদের স্বাধীনতা নামক বায়না।

নাফিস সাদিক অর্ক এর কবিতা

হে স্বাধীনতা

বাংলার সূর্যডোবা দিগন্তে

কিংবা সূর্যোদয়ের ঊষার আভায়,

রক্তে লেখা বীরগাঁথা তুমি, হে স্বাধীনতা।

লাল সবুজ পতাকার বুকে

অথবা মানচিত্রের প্রতিটি ভাঁজে,

চিরঅমর হয়ে থাকো তুমি, হে স্বাধীনতা।

মিছিলে গর্জে ওঠা প্রতিবাদী স্লোগানে

কিংবা বুলেটবিদ্ধ মৃত্যুঞ্জয়ীদের বুকে,

আগলে রাখা সম্ভ্রম তুমি, হে স্বাধীনতা। 

মুজিবের দ্ব্যর্থহীন বজ্রনিনাদ কণ্ঠে

অথবা ক্র‍্যাকপ্লাটুনের গর্জে ওঠা মেশিনগানে,

চির অমলিন হয়ে থাকো তুমি, হে স্বাধীনতা।

বীর শহীদের জননীর আত্মত্যাগে

কিংবা ধর্ষিতা বীরাঙ্গনার প্রতিশোধের ক্রোধে,

নেমেসিসের অগ্নিধার তলোয়ার তুমি,হে স্বাধীনতা।

বাংলার প্রতিটি ধূলিকণায়,প্রতিটি শস্যদানায়

বাংলার দিগন্তবিস্তৃত সবুজ মাঠে দোলা দেওয়া বাতাসে

মিশে থাকা গৌরব তুমি,হে স্বাধীনতা।

বাঙালির রক্তে মিশে থাকা উদ্দাম আবেগ তুমি-

“হে স্বাধীনতা”।

ফজলে রাব্বী এর কবিতা

ওরাই স্বাধীন

ঠিক কতটা আমরা স্বাধীন

বলতে কি কেউ পারো?

দেশটা জুড়ে চলছে কি সব

আছে হিসেব কারও?

 

স্বাধীন এখন সেসব মানুষ

নয় জননী বোন,

এমন দেশে করছে যারা

শান্তিতে ধর্ষণ।

 

স্বাধীন মানুষ প্রতিদিনই

পকেট ভরায় ঘুষে-

আমজনতার রক্তে গড়া

দেশটাকে খায় চুষে।

 

আজকে দেখো স্বাধীন দেশে

দোষটি করেও যারা-

রাজার বেশে ঘুরছে সুখে

স্বাধীন মানুষ তারা।

অনিরুদ্ধ সরকার প্রথম এর কবিতা

পিতা

আমরা পিতৃহত্যার দায় নিয়ে

বেঁচে আছি প্রভু।

আমাদের ক্ষমা করো।

আমরা আমাদের পরিচয় মুছে ফেলার ঘৃণ্য স্বড়যন্ত্রের

পাপ বয়ে বেড়াচ্ছি প্রভু,

আমাদের ক্ষমা করো।

টুঙ্গিপাড়ার সাদা মার্বেল পাথরের কবর থেকে আওয়াজ আসে,”ওরা আমার সন্তান। আমার কোনো ক্ষতি ওরা করবে না।’’

আমাকে ঘুমের মধ্য ছিড়ে খায় এই দিব্যকন্ঠ,

আমি বারবার অপ্রকৃতিস্থ হয়ে যাই!

হায়েনাদের গুহা থেকে বাংলাদেশ নামের রক্তমাখা আহত হরিণশাবক উদ্ধার করে আনলো যে যোদ্ধা-

আমরা কাপুরষের খোলসে

সেই যোদ্ধাকে খুন করলাম।

আমরা পাপী,আমরা নরপিশাচ প্রভু

আমাদের ক্ষমা  করো।

আমরা শুধু একজন পিতা,

একজন ভাই,একজন হিমালয়,

একজন বাংলাদেশকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হইনি।

তাঁকে নিয়ে ব্যাবসা করেছি,

কাঁদা ছোড়াছুড়ি করেছি রাজনীতির নোংরা নর্দমায়।

তার আদর্শ ছিঁড়ে খেয়েছি

শকুনের মতো।

হ্যাঁ,আমরা পাপী।

আমরা অপরাধী প্রভু।

আমাদের ক্ষমা করো।

আমরা ইতিহাস,তোমার ভালোবাসা,

তোমার বিশ্বাস খুন করেছি।

হে মৃত্যুঞ্জয়ী পুরুষোত্তম পিতা, আমাদের ক্ষমা করো!

এস আই শিমুল  এর কবিতা

উৎপিঞ্জর 

তুমি সেই স্বাধীনতা!তুমি সাত মার্চের বজ্র কন্ঠে,

জেগে ওঠা সাত কোটি জনতা।

তুমি এসেছ এই ভূখন্ডে,

নয় মাসের রক্তের নহরে।

বোনের সম্ভ্রম আর তিরিশ লক্ষ বলিদান শেষে,

প্রস্ফুটন হয়েছে তোমার।

শুভ্র গোধূলির শেষ লগ্নে

নব দিগন্তে উদয় হয়েছ এই বাংলায়।

 

তুমি সেই স্বাধীনতা!

তুমি ছেলে হারা মায়ের চোখের কোনে

উদয়াস্ত অশ্রু জমা অধীর অপেক্ষা।

অনামিশায় প্রজ্জ্বলিত আগুনের দীপশিখা তুমি,

রক্তস্নাত এক বেদনার ইতিহাস।

 

তুমি সেই স্বাধীনতা!

তুমি পরবশ চাদরে মোড়ানো

বিজয়ের রক্তিম উৎপিঞ্জর।

শ্মশানে ঝলসানো প্রতীক্ষার অনল তুমি।

মাড়িয়ে এসেছ বধ্যভূমি, অসংখ্য গণকবর।

সংগ্রাম, তিতিক্ষা শেষে স্বাধীনতা তুমি

চিত্রিত আজ লাল-সবুজের উপর।

মোহাম্মদ সাব্বির হাসান সোহান এর কবিতা

স্বাধীনতার স্বাদ

বাংলার আকাশেতে ওঠেনিকো সূর্য

মানুষের মনে তবু আশা ছিল ধৈর্য।

বিপদের নিশানেতে জ্বালিয়ে আগুন,

বলেছিল বাংলাকে এবার জাগুন।

 

অশ্বত্থের ছায়া ঘেরা বাংলার বুকে

বণ্ঞ্চিত নর-নারী মরেছিল ধুঁকে।

তর্জনী ধরিয়েছে বিজয়ের নেশা,

সবুজ ধানের ক্ষেত খরস্রোতা ঘেঁষা।

 

ভিরুতার আবরণ ছিড়েখুঁড়ে সবে,

তুলেছে অস্ত্র হাতে ডেকেছিলো যবে।

জন্মের পরে তবু নয় মাস ধরে,

উড়াতে নিশান সবে গিয়েছে যে লড়ে।

 

রক্তের তটিনীতে স্বধীনতা হাসে,

এখনো বাতাসময় অধীনতা ভাসে।

অধিকার সরিয়ে, দিয়ে যায় যা-তা,

কবে তবে স্বাদ পাবো মুক্তির,মাতা?