উপভাষা, ভালোবাসা

জব্বারের মায়ের দিনলিপি

খলিল ইমতিয়াজ 

১ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ , ৬:৪০ অপরাহ্ণ ; 218 Views

ফির বাতাস শুরু হইলো, আউলা ঝাউলা বাতাস

কয়দিনের কাইতান বিষ্টি পইত্তোয়ছে, পইত্তোয়ছে

এবার তাড়াতাড়ি জার পইড়বে,

এবার আর বাইচপ্যার দিবান্নয়।

গত বছর যে জার পইল্লো, ছেঁড়া খ্যাতা গাওদদিয়া আইত পার করা নাগে,

কই কাঁইওতো একনা কম্বল দিলো না

ভোটেস সময় এক একজনের ফটর ফটর, কতাত্ পানি ওশ্যেনা

চেয়ারমেনের বাড়িত কয়দিন যায়া ঘুরি আনু

এতদূর ঘাটা হাইটপ্যারে মোনায় না

ভোট পার হয়্যা গেইলে নাউয়্যার ব্যাটারা কারও খোঁজ থাকেনা

প্যাটও চলে না, ঠ্যাঙও চলে না, মোর কি আর সেই বয়স আছে!

 

খালি শোনোম অমপুরোত বোলে ঢাকা হাতে কতো লোক আসি কম্বল দেয়,

হামারগুলাক কারো চোকোতে পড়েনা

শীতেদদিন আইলে ময়না মোর মরণ!

এবার বোদায় আজরাইল আর ঘুরি যাবান্নোয়।

 

কাঁয়রে ওটা! মেম্বারের ব্যাটা না ওটা?

চোখেও আর ভালো করি দেখোম না।

হায়রে, মোর দিন কি এইদ্যান আছিল!

কপালটা পুল্লো এই স্বাধীনের সময়।

জব্বারের বাপ যদি বাঁচি থাইকলো হয়

তাইলে কি আর ভিক্ষ্যার ঝোলা হাতোত নেওয়া নাগে!

মরার গণ্ডগোলে মোর কপালটা খাইলো।

ব্যাটা একনা আছিল তাঁইও খোঁজ নাই,

ঢাকাত গেছিল্ এশকা চলাবার, তাও পোনোরো বিশ বছর হইবে

কাঁই জানে বাবা মইচ্চে না বাঁচি আছে!

বাঁচি থাইকলে এ্যাগবারও আইসলো না হয়?

 

হায়রে! দ্যাশ তো স্বাধীন হইল্ কিন্তু মোর দুঃখ দুদ্দশাত তো শ্যাষ হইল্ না!

 

শরীল আর চলে না ময়না,

কি দিয়া যে কি করি, জিনিসপত্তরের দাম একেবারে আকাশোত উঠি গেইছে,

আগে মুলা-বাইগোন গরুও খায় না, এ্যালা মাইনশে পায়না

এখন এইগল্যায় হইছে সোনাদ দাম।

মোর মরণও হয়না!

মন্তব্য করুন