ভ্রমন-গল্প

ভ্রমন-গল্প

মুগ্ধতা.কম

৩০ আগস্ট, ২০২০ , ৭:৪৯ অপরাহ্ণ

ডুয়ার্সের গল্প ৪

ব্রেকফাস্ট করে তিনজন যথারীতি রওনা করেছি লালঝামেলার দিকে। মাঝামাঝি পথে খবর পেলাম গৌতমদা’রা নিউ মাল এ নেমে পড়েছেন। মনটা আনচান করে উঠলো। ফিরে যাবো? তপু বলল, সারা রাত জার্নি করে সবাই ট্রেন থেকে নেমে ক্লান্ত থাকবে, আগে ফ্রেশ হয়ে নিক. ততক্ষণে আমরাও ঘুরে আসি।

ডুয়ার্সের গল্প ৪ 18

(কীসের ফ্রেশ! ফেরার সময় খেয়াল করলাম জঙ্গলের আশে পাশে নদী ঘিরে একদল মানুষ দারুণ ঔৎসুক্য নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। লাঞ্চের টাইমে বুঝেছি, এরাই আসলে তারা…)

লালঝামেলা বস্তিতে একটা ব্রিজ আছে ভুটানের। পাহাড়ে হেঁটে উঠতে উঠতে দারুণ একটা গোল পাথর পেয়ে গেলাম। পাথরের একপাশে ভারত আর অন্য পাশে ভুটান লেখা। সীমান্ত!

ডুয়ার্সের গল্প

লালঝামেলায়, পাহাড়ে ওঠার পথে

আমার কাছে সীমান্ত মানেই সন্দেহ। ছোট্ট একটা পিঁপড়া নির্দ্বিধায় বর্ডার ক্রস করে ভুটানে ঢুকে গেল, দেখলাম। কিন্তু আমি দ্বিধাকে ক্রস করতে পারলাম না। যেখানে আমার যাওয়া নিষেধ, সেখানে অগোচরে চলে যাওয়াটা অপমানজনক মনে হল। আমরা জানি একদিন পাথরটা এই নিষেধাজ্ঞা প্রচারের আরোপিত ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে। তখন পাথর শুধুই পাথর। আমাকে অসম্মান করার বিন্দুমাত্র ক্ষমতা থাকবে না তার। কিন্তু তখন, হয়তো, আমি থাকবো না!

পাহাড় থেকে নামার সময় কেন যে কী মনে করে, শামসুল বলতে লাগলো, ভাই রসগোল্লা খেতে হবে। রসগোল্লার সন্ধান দিল ড্রাইভার, সেই ধুপঝোরা বাজারে।

যখন ফিরে আসছি, গুগলে সার্চ দিলাম ‘লালঝামেলা’। জানতে চেয়েছিলাম এটার পর্যটন সংক্রান্ত তথ্যাদি। একটা তথ্যই শুধু ঘুরে ফিরে আসছে- ‘বাইসনের আক্রমণে লালঝামেলায় তিন যুবক নিহত।’ পুরনো খবর। লালঝামেলা তো দেখি আসলেই ঝামেলার! বাইসন আমাদের দেখতে পেয়ে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে ফেললে কী হতো, এই ভেবে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে এসে পৌঁছলাম উত্তর ধূপঝোরা বাজারে, রসগোল্লার খোঁজে।

ডুয়ার্সের গল্প ৪ 19

মূর্তি ব্রিজ পেরিয়ে যখন বাজারের দিকে যাচ্ছিলাম, দেখলাম একদল মানুষ হেঁটে চলে বেড়াচ্ছে নদীর আশেপাশে। কামানের মতো ক্যামেরা তাক করে যিনি ফটো শুট করছেন, পরে জেনেছি তিনিই রাজর্ষিদা’। তার পাশে মুখ ভর্তি দাড়ি নিয়ে শামীম, দেখা মাত্রই চিনে ফেললাম ফেসবুকের সুবাদে। এখানে বেড়াতে আসার ব্যাপারে পরবর্তীতে গৌতমদা’র চেয়ে শামীমের সাথেই যোগাযোগ হয়েছিল আমার বেশি। ওই দলে আর কারা ছিল পরে ঠিকমতো মনে করতে পারি নি।

 

[ভ্রমণ বিষয়ক গ্রুপ গন্তব্য তে যুক্ত হোন]

 

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ডুয়ার্সের গল্প ৪  - শাহীন মোমতাজ

মুগ্ধতা.কম

২৭ আগস্ট, ২০২০ , ১১:১৪ অপরাহ্ণ

ডুয়ার্সের গল্প ৩

ইমিগ্রেশন পার হয়ে কবিরের গাড়িতে যখন আমরা উঠে বসলাম, আর গাড়িটাও স্টার্ট নিলো বাতাবাড়ি হয়ে উত্তর ধূপঝোরা বাজার পার হয়ে মূর্তি নদীর তীরে আমাদের নামিয়ে দিতে, তখন সুখের একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো – যাচ্ছি তাহলে!

কোচবিহার আর রংপুরের ভূপ্রকৃতিতে কোন অমিলই চোখে পড়ে না। এমনকি ড্রাইভার কবির যখন মোবাইল ফোনে কাউকে “মুই এলায় আইতোছো” বলে আশ্বস্ত করে, আমরা রংপুরের রাস্তায় চলে ফিরে বেড়াচ্ছি কি না এই নিয়ে ধন্দে পড়ে যাই। তপু চকিতে একবার আমার দিকে তাকিয়ে হেসে ফেলে। কেবল ময়নাগুড়ি আর মৌলানি হয়ে যখন গাড়িটা লাটাগুড়ির দিকে যেতে শুরু করে, তখনই বুঝতে পারি সভ্য সমাজের নোংরা জামাকাপড়গুলি সাময়িকভাবে খুলে ফেলবার সময় এসে গেছে।

ডুয়ার্সের গল্প ৩ 20

চেনাজানা প্রকৃতি ছেড়ে ঢুকে পড়ছি ডুয়ার্সের জঙ্গলে।

শামসুল এর কাছে ডুয়ার্স নতুন জায়গা। চোখের পলক না ফেলে সামান্য সৌন্দর্যটুকুও গিলে নিতে চাইছে, বুঝতে পারছি। কেউ কাউকে বিরক্ত করি না। এমনকি কবিরও আপন মনে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছে আমাদের সৌন্দর্যানুভূতিকে কোনভাবে আহত না করে।

গৌতমদা’ এর মধ্যে ডুয়ার্স রেসিডেন্সি রিসোর্টের রাজাদা’র নম্বরটা আমাকে দিয়ে দিয়েছেন। আগে থেকে কেন যেন ফোন করা হল না।

উত্তর ধূপঝোরা বাজারে দাঁড়িয়ে ভারতীয় সিমগুলি রিচার্জ করে নিতে নিতে, রিচার্জ করে নিচ্ছিলাম আমাদের মন, যার সৌন্দর্য-পিপাসা সপ্তম রিপু হিসেবে গণ্য হবার সমূহ যোগ্যতা রাখে।

ডুয়ার্সের গল্প ৩ 21

পথ খুঁজে নিয়ে গাড়িটা যখন রিসোর্টের দরজা দিয়ে প্রবেশ করছে, দেখি দূরে ঋজু একটা মানুষের হাস্যোজ্জ্বল দেহাবয়ব আমাদের স্বাগত জানানোর ভঙ্গিতে দাঁড়ানো। উনিই রাজাদা’। ভারতীয় সময় তখন বিকাল সোয়া পাঁচ।

গৌতমদা’ দের আসতে আসতে পরদিন সকাল। ফাঁকা রিসোর্টে কেবল আমরাই অতিথি। পাড়ে বসে নদীর প্রবহমানতা অনুভব করা ছাড়া বিকালে আর কোন কাজ নাই বলে তিনজন মৃদুস্বরে হৈ হৈ করতে করতে নদীপাড়ে গিয়ে উপস্থিত হলাম। বর্ষায় মূর্তি এরকম ভয়ঙ্কর রূপ ধরে আছে, ভাবাই যায় না। আমরা উপভোগ করি। একদৃষ্টিতে স্রোতের দিকে তাকিয়ে থাকলে মাথা চক্কর দিয়ে ওঠে। গতিময় স্রোত নদীর পরিপার্শ্বকে ধীর করে দিয়ে বয়ে চলে যাচ্ছে আরও অনেক নদীর সাথে মিলেমিশে বাংলাদেশের দিকে।

ডুয়ার্সের গল্প ৩ 22

রাতে রাজাদা’কে পেয়ে গেলাম বন্ধু হিসেবে। আসর জমে উঠল আমাদের চারজনের। পরবর্তী তিন দিন কী ঘটতে চলেছে তার আঁচ যেন খানিকটা অনুভব করা গেল। গল্পে গল্পে জানলাম মূর্তি থেকে ৪০/৫০ কিলো দূরে ভুটানের সীমান্তে একটা পাহাড়ি গ্রাম আছে- ‘লালঝামেলা বস্তি’। ডায়না নদীর তীরে লালঝামেলার সৌন্দর্যও নাকি কম নয়। রাজাদা’ই গাড়ির ব্যবস্থা করে দিলেন সকালে।

(আগস্ট ২৮ – সেপ্টেম্বর ২, ২০১৮)

[ভ্রমণ বিষয়ক গ্রুপ গন্তব্য তে যুক্ত হোন]

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ডুয়ার্সের গল্প ৩ -  শাহীন মোমতাজ

মুগ্ধতা.কম

২৪ আগস্ট, ২০২০ , ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ

ডুয়ার্সের গল্প ২

তিনজন তিনটা আলাদা রুট ব্যবহার করে বুড়িমারি সীমান্তে পৌঁছবো এইরকমই সিদ্ধান্ত হয়েছিল। নিজস্ব পদ্ধতিতে এডভেঞ্চার তৈরি করার একটা চেষ্টা আর কি। সেই মতো ব্যাকপ্যাক পিঠে ফেলে ২৮ তারিখ সকাল সাড়ে ছয়টায় আমি একা বাড়ি থেকে বেরিয়ে স্টেশনের দিকে হাঁটা দিলাম। ট্রেনে মাত্র ষাট টাকায় রংপুর থেকে যে বুড়িমারি পৌঁছানো যায়, আমার জানা ছিল না।

ভ্রমণগল্প

ঝালং ভিউপয়েন্ট থেকে তোলা জলঢাকা নদী। ওপারে ভুটান। ছবি: লেখক

শামসুল মোটর বাইকে প্রায় অর্ধেক রাস্তা পেরিয়ে গিয়ে হাতিবান্ধা স্টেশন থেকে ট্রেনে আমার সঙ্গী হল। তপু বাস ফেল করে শেষে প্রাইভেট গাড়িতে এসে পৌঁছল প্রায় দেড় ঘণ্টা পর । দুপুরবেলা প্রখর রৌদ্রে বুড়ির হোটেলের সামনে পরিচ্ছন্ন চায়ের দোকানে বসে কাপে চুমুক দিতে দিতে তখনো আমরা ভাবতেই পারি নি, সীমান্ত থেকে মাত্র ষাট কিলোমিটার দূরে কতখানি বিস্ময়, কতটা আনন্দ নিয়ে অপেক্ষা করে আছে মূর্তি নদীর তীর, তীর সংলগ্ন জঙ্গলের হাতছানি, চাপ চাপ সবুজ অন্ধকার, আর একটা ভৌতিক ব্রিজ- প্রত্যেক সন্ধ্যায় যার অস্তিত্ব নিয়ে আমার মনে বিস্তর সন্দেহের উদ্রেক হতো।

প্রায়ই, শেষরাতে, ঘুমের আরও ভিতরে ঢুকে যেত চাপরামারির বন্য আহ্বান, সকালে বিহ্বলতা নিয়ে ঘুম ভাঙত সকলের।

মাথার ভিতরে আরেক রকম একটা ব্রিজের অস্তিত্ব টের পেতে শুরু করেছি ততক্ষণে সবাই। সেটাও পরের গল্প।

(আগস্ট ২৮ – সেপ্টেম্বর ২, ২০১৮)

 

শাহীন মোমতাজ: কবি

 

[ভ্রমণ বিষয়ক ফেসবুক গ্রুপ গন্তব্য তে যুক্ত হোন ]

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ডুয়ার্সের গল্প ২ - শাহীন মোমতাজ 

মুগ্ধতা.কম

২১ আগস্ট, ২০২০ , ৭:১৬ অপরাহ্ণ

ডুয়ার্সের গল্প ১ 

২০১৭ সালে ডুয়ার্সের গরুমারা জঙ্গলে একটা ট্যুর পরিকল্পনা করেছিলেন গৌতমদা, মানে গৌতম চক্রবর্তী, ভারতের। যদিও সেটা শেষ পর্যন্ত ডুয়ার্সের বদলে ভারতের সুন্দরবনে হয়েছিল। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও যেতে পারি নি সেবার। ডুয়ার্সের ভূপ্রকৃতি আমার খুবই প্রিয়। বারেবারে যেতে চেয়েছি সেখানে। ২০১৮ তে নানা কারণে বিক্ষিপ্ত হয়েছিল মন। তাকে শান্ত করবার জন্য জঙ্গল আর পাহাড়ের বিকল্প কী হতে পারে? ভেবে, কোনোদিন দেখা না হওয়া ফেসবুক বন্ধু গৌতমদাকে একটা মেসেজ দিলাম ২০১৮ এর শুরুতে, যে, যেতে চাই। নতুন করে পরিকল্পনা শুরু করলেন তিনি। আগস্ট মাসের শেষে ট্যুর প্রোগ্রাম।

ভ্রমণগল্প

ঝালং ভিউপয়েন্ট থেকে তোলা জলঢাকা নদী। ওপারে ভুটান। ছবি: লেখক

জঙ্গলে যাবার জন্য কাতর হয়ে বসে আছি। মাঝে ঠাকুরগাঁও এর সিংড়া ফরেস্টে, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের নামমাত্র জঙ্গলে ঢুঁ মেরে এসেছি ঘণ্টা ক’য়েকের জন্য। আর অপেক্ষা করে আছি।

কথা ছিল ঝুম বৃষ্টির মধ্যে দেখা হবে ডুয়ার্সের মোহনীয় রূপ। কিন্তু আবহাওয়া দপ্তরের বৃষ্টিহীনতার রিপোর্ট মন ভেঙ্গে দিল। সে বছর বাংলাদেশে, রংপুরে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খুবই কম, সেটা যে ডুয়ার্সকেও আক্রান্ত করে বসে আছে, জানা ছিল না। (অবশ্য শেষমেশ মুহুর্মুহু বৃষ্টি এসে আনন্দে ভরিয়ে দিয়ে গিয়েছিল আমাদের ট্যুর। সেটা পরের গল্প)

website

আমার ব্যক্তিগত প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল গৌতম দার প্রথম ঘোষণার পরপরই। তারপর যুক্ত হল তপু আর শামসুল। আগস্টের শুরু থেকেই মিটিং করি, তিনজন মিলে রংপুরের রাস্তায় ঘুরি- আর প্ল্যান বানাই। পরিকল্পনা জমে উঠতে না উঠতেই নিজেরা সেটা ভেস্তেও দিই। কোথাও বেড়াতে যাবার আগে এটা হল আমাদের সাধারণ অসুস্থতা। ওদিকে ট্যুরের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর একটা লিস্ট গৌতম দা হাতে ধরিয়ে দিয়েছেন, টর্চ, চার্জারের সাথে সাথে আরও দুইটা জিনিষ, শৈশব আর শালীনতা। তার মধ্যে শৈশবকে তো সঙ্গে নিয়ে ঘুরি, আমার দুশ্চিন্তা, শালীনতা পাবো কোথায়? বাজারে যদি পেয়েও যাই, আমার শরীরের মাপে মিলে যাবে তো?

(আগস্ট ২৮ – সেপ্টেম্বর ২, ২০১৮)

 

শাহীন মোমতাজ : কবি 

 

[ভ্রমণ বিষয়ক গ্রুপ গন্তব্য তে যুক্ত হোন]

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ডুয়ার্সের গল্প ১ - শাহীন মোমতাজ