মুগ্ধতা.কম

৩১ আগস্ট, ২০২০ , ১১:৫৬ অপরাহ্ণ

বর্তমান কোভিড ১৯ পরিস্থিতিতে  পরীক্ষা বনাম পড়াশোনা। 

বর্তমান কোভিড ১৯ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা বনাম পড়াশোনা।

সেই ছোট্ট বেলায় যখন একটু আধটু বুঝতে শিখেছি, তখন থেকে দেখছি পড়াশোনা মানেই পরীক্ষা, সার্টিফকেট অর্জন, একটা ভাল চাকুরী ইত্যাদি ইত্যাদি। আমরা যখন লেখাপড়া শিখেছি, তখন পরীক্ষায় ভাল নম্বর পাওয়ার জন্য, পরীক্ষায় প্রশ্ন কমন পাওয়ার জন্য অধ্যায় বেছে বেছে বা পরীক্ষায় আসার মত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বেছে বেছে পড়তাম। আর চাকুরীর পরীক্ষার জন্য বড় বড় গাইড মুখস্ত করতাম। এমনকি বাংলা বর্ণমালায় কতটি মাত্রাযুক্ত বর্ণ, কতটি মাত্রাবিহীন বর্ণ এসবও মুখস্থ করেছি গাইড থেকে। “ছাত্রজীবন”, “আমার জীবনের লক্ষ্য”, “আমাদের বিদ্যালয়” -এসব রচনা অনেকেই মুখস্থ করে লিখেছি।

আমার জন্ম শিক্ষক পরিবারে। বাবা ছিলেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। আমার চাচা, মামাসহ পরিবারে নিজেদের মধ্যে অনেকেই শিক্ষক ছিলেন ও আছেন। তারপরও পরিবার থেকে কিংবা ছাত্রজীবনের কোন পর্যায়ে জানা হয়নি যে- শিক্ষা কী,  শিক্ষার লক্ষ্য কী, কিংবা কেনইবা লেখাপড়া শিখব অর্থাৎ শিক্ষার উদ্দেশ্য কী?

বর্তমান কোভিড ১৯ পরিস্থিতিতে  পরীক্ষা বনাম পড়াশোনা।  4

বিভিন্ন যুগের বিভিন্ন চিন্তাবিদগণ শিক্ষাকে নানাভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। যেমনঃ

সক্রেটিস বলেছেন, “শিক্ষা হলো মিথ্যার অপনোদন এবং সত্যের আবিষ্কার।“

জন ফেডারিক হারবার্ট বলেছেন, “ শিক্ষা হচ্ছে মানুষের নৈতিক চরিত্রের বিকাশ সাধন।“

পার্সিনান বলেছেন, শিক্ষা বলতে শিশুর ব্যক্তিসত্ত্বার পরিপূর্ণ বিকাশকে বোঝায়, যার সাহায্যে সে নিজের সর্বোত্তম ক্ষমতা অনুযায়ী মানুষের কল্যাণে স্বকীয় অবদান রাখতে পারে।

এভাবে শিক্ষা চিন্তাবিদদের সংজ্ঞা লিখলে পাতার পর পাতা লিখা যাবে। যা পুঁথিগত বিদ্যার সাথে কোনই মিল নেই। এসব কিছুই জানলাম শিক্ষকতা পেশায় এসে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে । জানলাম যে, “পরীক্ষার জন্য পড়াশুনা নয়, কে কতটুকু শিখেছে তা যাচাই করার জন্য পরীক্ষা”।

কিন্তু জেনে খুব বেশি লাভ হয়েছে বলে তো মনে হয় না। যতটুকু লাভ হয়েছে তা হল- শেখানোর সময় শিক্ষার্থীদের পরিবেশের সাথে, সমাজের সাথে, বাস্তবতার সাথে সমন্বয় ঘটিয়ে শেখানো। অথচ শিক্ষার্থী, অভিভাবক আমরা সকলেই ছুটছি একটা ভাল ফলাফলের পিছনে। তাইতো বোর্ডবই পড়া ছেড়ে দিয়ে, নিজের চিন্তাশক্তিকে কাজে না লাগিয়ে, প্রাইভেট, কোচিং, গাইড বই ইত্যাদির আশ্রয় নিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। কীভাবে বৃত্তি পাওয়া যাবে, কীভাবে এ+ হবে, কত পয়েণ্ট পেলে কোথায় ভর্তি পরীক্ষা দেয়া যাবে এসব টার্গেট নিয়েই পড়াশোনা করছে শিক্ষার্থীরা। এছাড়া আর উপায়ই বা কি? একটি পরীক্ষার ফলাফলই একটি শিশুর স্বপ্নকে ভেঙে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

আজ কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে এসে দেখছি, শিশুরা কত অসহায়। যারা স্কুল, কোচিং, প্রাইভেট, বিভিন্ন একাডেমি, খেলাধুলা ইত্যাদি নিয়ে সারাদিন বাড়ির বাইরে থাকত, ব্যস্তও থাকত ভীষণ।  পড়াশোনা আর অভিভাবকদের চাপে দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম। তারা আজ বাড়িতে বন্দি। প্রথমত ভেবেছিলাম শিশুদের জন্য ভালই হয়েছে। এত চাপ…………। এই পরিস্থিতিতে তারা অন্তত দম ফেলার সুযোগ পাচ্ছে। প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নিচ্ছে। সুযোগ পাচ্ছে বাবা – মায়ের সাথে থাকার ।

কিন্তু না, প্রথম দিকে ভাল থাকলেও দিন যতই যাচ্ছে, শিশুরা ততই মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। সংসদ টিভির ক্লাস, অনলাইনে ভিডিও/অডিও ক্লাস কিছুই ভাল লাগছে না তাদের। প্রত্যেকের মনে ২টি প্রশ্ন ১) পরীক্ষা কি হবে? ২) স্কুল কবে খুলবে? যে সকল প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব এ মুহুর্তে নেই।

শিশুরা বলছে, পরীক্ষা যদি না-ই হয়, তাহলে পড়ব কেন?

ভাবছি এখনই সময়, তাদেরকে এই সীমাবদ্ধতা থেকে বাইরে বের করে আনার। আমরা শিক্ষকরা ফোন করে কথা বলছি শিশুদের সাথে। সত্যি কথা বলতে কি, শিশুরা যে কি পরিমাণ খুশি হচ্ছে স্যার- আপাদের সাথে কথা বলতে পারায় তা হয়ত বলে প্রকাশ করা যাবে না। এ সময় আমরা যদি সরাসরি পাঠের কথা না বলে গল্পের ছলে পড়াশোনার গুরুত্ব সম্পর্কে বলি, আমরা যদি মাঝে মাঝে নৈতিকতার গল্প শোনাই, আমরা যদি বাবা – মা’কে বিভিন্ন কাজে সহযোগিতার কথা বলি, কিংবা পাঠ সংশ্লিষ্ঠ গল্প শুনিয়ে ঐ পাঠটি পড়তে বলি, তাহলে মন্দ হয় না। মাঝে মাঝে কোভিড-১৯ সম্পর্কেও আলোচনা করতে পারি। একদিনে অনেক শিশুকে ২/১ মিনিট করে সময় না দিয়ে অল্প কয়েকজন শিশুকে একটু বেশি সময় দেয়া যেতে পারে। এতে শিক্ষকদের হয়ত খরচ টা একটু বেশিই হবে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের অন্তত একঘেয়েমিটা দূর হবে।

আমার মনে হয় বর্তমান পরিস্থিতিতে পরীক্ষার টেনশন মাথা থেকে ঝেরে ফেলা দরকার। কেননা পরীক্ষার জন্য পড়াশোনা নয়, শিক্ষার মান যাচাইয়ের জন্য পড়াশোনা। তবে পড়াশোনা থেকে শিক্ষার্থীরা যেন মুখ ফিরিয়ে না নেয়, তার জন্য সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসলেই কেবল পরীক্ষা নেয়া সম্ভব। শুধুমাত্র পাবলিক পরীক্ষা ছাড়া সকল শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নমনীয় প্রমোশন দেয়া যেতে পারে। এমনকি বর্তমান পরিস্থিতিতে পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা এবং অষ্টম শ্রেণির জেএসসি পরীক্ষারও প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্তৃক বাছাইকৃত কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদানের নিমিত্তে মেধা মূল্যায়নের জন্য  সীমিত আকারে একটা পরীক্ষা নেয়া যেতে পারে।

সর্বোপরি বলতে চাই, আমাদের সকলের উচিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বোঝানো যে, “কেবল পড়াশোনার মান যাচাইয়ের জন্যই পরীক্ষা। কাজেই পরীক্ষা হোক আর না ই হোক শেখার জন্য, জানার জন্য লেখাপড়া অব্যাহত রাখতে হবে”।

 

লেখকঃ প্রধান শিক্ষক,
পূর্ব গিলাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
রংপুর মহানগর, রংপুর।

বর্তমান কোভিড ১৯ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা বনাম পড়াশোনা।

আবু হানিফ জাকারিয়া

৩০ জুন, ২০২০ , ১১:১৮ অপরাহ্ণ

প্রসঙ্গকথা : প্রতিভা নাকি সাহিত্য  সাধনা

বাংলা ভাষায় রচিত সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্য নামে পরিচিত। আনুমানিক খ্রিষ্টীয় নবম শতাব্দীতে বাংলা ভাষায় সাহিত্য  রচনার সূত্রপাত হয়। বহুবিধ রূপ পরিবর্তনের পরেও অদ্যাবধি ইহার চর্চা চলিতেছে বরং অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় সাহিত্যের প্রকাশ এক্ষণে বহুগুণ বাড়িয়াছে।

সাহিত্য বলিতে শুধু কবিতা বা ছড়া নহে। প্রবন্ধ, নিবন্ধ, গল্প, ছোটগল্প,  অনুগল্প, উপন্যাস,  নাটক, নাটিকা, প্রহসন সকল কিছুই সাহিত্যের অংশ। মিল অমিল দিয়া দু’চার খানা কবিতা বা কিছু লাইন লিখিয়া আমরা যাহারা নিজেদের অনেক বড় কবি বা সাহিত্যিক মনে করিতেছি তাহারা অত্যন্ত ভুল করিয়া ফেলিতেছি। এই ভুলের মাশুল অবশ্যই আমাদিগকে দিতে হইবে।  যখন দেখা যাইবে বাংলা ভাষাভাষী লেখকবৃন্দের কাছে আমাদের মোটেও গ্রহণযোগ্যতা নাই বা সমগ্র দেশের মানুষের নিকট আমাদের কোন পরিচিতি নাই তখন উপলব্ধি হইবে যে এতদিন ধরিয়া কবিতা লিখিয়া তাহলে কী লাভ হইল?

লাভ একটা হইবে বটে, তাহা হইল আমাদিগের আত্ম অহংকার হঠাৎ করিয়া ধুলিস্মাৎ হইয়া যাইবে এবং আমরা নিজদিগের অবস্থান জানিতে পারিব। তখন আর সাধ্য সাধনা করিবার সময় থাকিবে না। লজ্জায় মুখ ঢাকিতে ইচ্ছা করিবে কিন্তু সেই উপায়ও হয়ত থাকিবে না। তখন আফসোস না করিয়া যদি এখন হইতে আমরা সাধ্যমত সাধনা করিতে লাগিয়া যাই তাহা হইলে ঐদিন আর লজ্জা পাইতে হইবে না।

বাংলা ভাষাভাষী কিছু মানুষের কাছে কিছুটা হইলেও পরিচিতি তৈরি হইবে। হয়ত কেউ ছড়াকার, কেউ কবি, কেউ উপন্যাসিক,  কেউ নাট্যকার,  কেউ গল্পকার,  কেউ কথাসাহিত্যিক হিসাবে অল্পবিস্তর সম্মানও লাভ করিতে পারিব। সব সাধনার বড় সাধনা হইল প্রচুর পড়িতে হইবে।  সব ধরনের সাহিত্যের স্বাদ আস্বাদন করিতে হইবে।

বাংলা সাহিত্যের যে বিশাল সম্ভার তাহার সম্পর্কে বিস্তারিত না হইলেও অল্পবিস্তর ধারণা কমপক্ষে রাখিতে হইবে। নিজের সুবিধার জন্যই বাংলা একাডেমি প্রণীত অভিধান বা ডিকশনারি নিজেকেই সংগ্রহ করিয়া লইতে হইবে তাহা হইলে অনেক লজ্জাজনক পরিস্থিতির হাত হইতে নিজেকে রক্ষা করিতে পারিব।

ভাল লেখকদিগের জীবনী ও তাহাদের সংগ্রামী জীবন সম্পর্কে ধারণা রাখিতে হইবে। নিজের চর্চাটুকু অব্যাহত রাখিতে হইবে এবং অন্যের সহিত আলোচনা করিয়া নিজের ভুলগুলি সংশোধন করিবার মানসিকতা লালন করিতে হইবে। এইসব জায়গায় লজ্জাহীন হইতে পারিলে পরবর্তীকালে লজ্জায় পড়িবার সম্ভাবনা অনেকাংশেই কমিয়া যাইবে।

সাহিত্য প্রতিভা কমবেশি অনেকের ভিতরেই কিছু থাকে কারোটা প্রকাশিত হয় কারোটা তেমন একটা প্রকাশিত হয় না। ইদানীংকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সস্তা ও জনপ্রিয় হইবার কারণে মানুষের সাহিত্যিক হিসাবে নিজেদেরকে তুলিয়া ধরিবার প্রবণতা যেমন বাড়িয়াছে তেমনি অনেক সুযোগ ও আমাদের জন্য উন্মুক্ত হইয়া গিয়াছে। কিন্তু কথা হইল আমরা এই সুযোগগুলি কতখানি নিজের উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করিলাম নাকি নিজেকে শুধুই প্রদর্শনের জন্যই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করিলাম।

একটা বহুল প্রচলিত সত্য কথা হইল প্রত্যেক কর্মেরই ফল ভোগ করিতে হইবে, দুইদিন আগে অথবা দুইদিন পরে। আমি যতখানি প্রতিভার অধিকারী হইনা কেন আমার চর্চা যদি না থাকে, আমার নিজেকে মেলিয়া ধরিবার বাসনা যদি না থাকে কিংবা অন্যের ভাল লেখা পড়িবার ধৈর্য বা সময় যদি আমার না থাকে তাহা হইলে বড় সাহিত্যিক হইবার সুপ্ত বাসনা আমার তুলিয়া রাখাই সমীচীন। তথাপি প্রত্যাশা করি অন্যরা কঠোর সাধনার মাধ্যমে নিজেদেরকে বাংলাদেশের সেরা সাহিত্যিক হিসাবে প্রতিষ্ঠা করিতে সক্ষম হউক। সত্যিকারের সাহিত্যিক হিসাবে আমাদের মধ্য হইতেও কেউ কেউ পরিচিতি পাক কালজয়ী সাহিত্যিক হিসাবে।

 

প্রসঙ্গকথা : প্রতিভা নাকি সাহিত্য  সাধনা

মুগ্ধতা.কম

৩ এপ্রিল, ২০২০ , ৭:২৮ পূর্বাহ্ণ

করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব ও বন্ধ চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্রাক্টিস

করোনা মহামারী ঠেকাতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী গত ২৬ তারিখ থেকে সব অফিস আদালত গণপরিবহণ বন্ধ রয়েছে এবং প্রশাসন ও সশস্ত্র বাহিনী কঠোরভাবে সামাজিক দূরত্ব রক্ষায় মাঠে কাজ করছেন।

সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালসমূহে রোগীর চাপ কমে গিয়েছে।তবে জরুরী রোগীদের চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রয়েছে। এর সাথে সারাদেশব্যাপী চিকিৎসকগণ তাদের প্রাইভেট প্রাকটিস বন্ধ রেখেছেন। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে আলোচনা সমালোচনা চলছে। তাই এই প্রসংগে কিছু বলার প্রয়োজনবোধ করছি।

প্রাইভেট প্রাকটিসে যত রোগী আসেন তার ৯০-৯৫ % রোগী সাধারণ রোগী।

পৃথিবীর সকল দেশেই যেখানে লকডাউন চলছে, সেখানে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। কারণ, এসময় সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রেখে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করা সম্ভব নয়।

আমি রংপুরে প্রাকটিস করি। রংপুর উত্তরাঞ্চলের একটি চিকিৎসা নগরী হিসেবে খ্যাত। রংপুর শহরে প্রতিদিন যত মানুষ বাহির থেকে আসেন তার ৬০-৭০% আসেন চিকিৎসার প্রয়োজনে। আজ রংপুরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে, তার প্রধানতম কারণ হচ্ছে চিকিৎসকগণ তাদের প্রাইভেট প্রাকটিস বন্ধ রেখেছেন।

অনেকেই বলছেন চিকিৎসকগণ তাদের সুরক্ষা পোষাক পড়ে প্রাকটিস করতে পারেন। এতে চিকিতসকদের হয়তো সুরক্ষা হবে। কিন্তু তাদের চেম্বারের বাইরে রোগীদের যে ভিড় হবে সেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে তাদের অপেক্ষা করানো রংপুরের কোন কনসাল্টেশন সেন্টারের নেই।

এখানে প্রতি রোগীর সাথে কমপক্ষে দুজন স্বজন থাকেন, তাই এক একটি কনসাল্টেশন সেন্টারে যে জনসমাগম ঘটে, সেখানে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করা প্রায় অসম্ভব। সুতরাং চিকিৎসকগণ শুধু নিজেদের সুরক্ষার জন্যে নয়, বরং রোগীদের বৃহত্তর স্বার্থে তাদের প্রাইভেট প্রাকটিস বন্ধ রেখেছেন।

এখানে সকলের বোঝা উচিত, চিকিৎসকগণ হাসপাতালে তাদের চিকিতসা সেবা অব্যাহত রেখেছেন এবং ঝুঁকি নিয়ে করোনা রোগী ও সন্দেহভাজনদের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু প্রাইভেট প্রাকটিস বন্ধ রেখেছেন (যেখানে তাদের অতিরিক্ত আয় হয়)।

নিজেদের অতিরিক্ত আয়ের পথ বন্ধ রেখেছেন শুধুমাত্র নিজেদের সুরক্ষার জন্যে নয়(যদিও চিকিতসকদের নিজেদের সুরক্ষাও রোগীদেরই স্বার্থে), বরং সারাদেশে করোনা বিস্তাররোধে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার মত বৃহত্তর স্বার্থে।

এখানে উল্লেখ্য যে বেশীরভাগ চিকিৎসক এখন বিনামূল্যে টেলিফোনে তাদের রোগীদের সেবা অব্যাহত রেখেছেন।আর জরুরী রোগীদের সরকারি হাসপাতালে আসার পরামর্শ দিচ্ছেন, আর ক্লিনিকসমূহে জরুরী অপারেশন অব্যাহত রয়েছে।

 

ডা. মঞ্জুরুল করিম প্রিন্স

সহযোগী অধ্যাপক, চর্ম ও যৌন বিভাগ

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

 

করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব ও বন্ধ চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্রাক্টিস

মুগ্ধতা.কম

২৬ মার্চ, ২০২০ , ৩:১৮ অপরাহ্ণ

এ লড়াই শুধুই জয়ের জন্য

আজ যে যুগে বাস করছি, সেটাকে তথ্য ও সংবাদের যুগ বললে অত্যুক্তি হবে না। তথ্য ও খবর কোনও শ্রেণিবিশেষেরও কুক্ষিগত নয়। অন্তত সাধারণ তথ্য ও খবর এখন রীতিমতাে সার্বজনীন। তাই আমাদের জানতে দেরি হয়নি গত ডিসেম্বরে সুদূর চীন দেশের হুবেই প্রদেশের উহান শিল্প-শহরে কী ভয়ানক কাণ্ড ঘটেছিল।

তাদের সরকারের প্রাথমিক গাফিলতির কারণে করােনা ভাইরাস কীভাবে ওই দেশময় ছড়িয়ে পড়েছিল। বিপদটাকে চীনের একার ভেবে যারা উটপাখির মতাে বালিতে মুখ গুঁজে ছিল, ভুল ভাঙতে দেরি হয়নি তাদেরও।

পরিতাপের সঙ্গে এটাও দেখা গেল যে, কোভিড-১৯ এমন একটা রােগ যে ভুলের মাশুল আদায় করে নেয় কড়ায়-গণ্ডায়, সুদে-আসলে। করােনার খাতায় সুদের হিসেবটা আবার কষা হয় গুণােত্তর প্রগতির (জিপি) নিয়মে।

গণিতের জটিলতা ছেড়েও অনুমান করা যায় যে বিপদটা ১ থেকে ১১, তার থেকে ১১১, তার থেকে ১১১১. হতে দীর্ঘ সময় নেয় না। রােগটা মাত্র দু-আড়াই মাসের ভিতরে ছুঁয়ে ফেলেছে এই গ্রহের প্রায় সবকটি অঞ্চল ও দেশকে।

এখন পর্যন্ত আক্রান্ত দেশের সংখ্যা ১৯০! আক্রান্ত নরনারীর সংখ্যা প্রায় চার লক্ষ।

মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়ে গিয়েছে সাড়ে ১৬ হাজার! সুখবর এই যে, চীন অনেকটাই সামলে উঠেছে।

আপাতত লকডাউনের মাধ্যমে সামাজিক ব্যবধান বা দূরত্ব তৈরি করে নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ। বস্তুত আমাদের সরকারের সময়ের সিদ্ধান্ত সময়ে নেয়ার জন্য স্বাগত। আরও স্বস্তির বিষয় হল, মাঠে সেনাবাহিনী।

সকল ধরনের বিমান এবং দূরপাল্লার ট্রেন ও বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত আমাদের দেশে করােনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৯। এ জন্য আমরা নিজেরাই দায়ী।

আমরা এই ভাইরাসটিকে একেবারে আমলে নিচ্ছি না। আর এর কারণে কী ভয়াবহ ভাবে ছড়াবে এই মহামারি টা আমরা কল্পনা করতে পারছি না। বিপন্মুক্ত হওয়ার, ঘুরে দাঁড়াবার এখনও সময় আছে। এই সুবর্ণ সুযােগ আমরা একজনও নষ্ট না-করি যেন। এটাই আমাদের প্রতি হওয়া দরকার।

ছিদ্রান্বেষণের রাজনীতি নয়। গুজবে কান নয়। কুসংস্কারে মন দেওয়া নয়। শুধু সরকারের স্বাস্থ্যবিষয়ক নির্দেশিকাগুলিই আমরা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলব। আর অবশ্য করে মানব লকডাউনের নিষেধাজ্ঞা। না মানলে গ্রেপ্তার, জেল ও জরিমানার অপ্রীতিকর ব্যবস্থা আছেই। কিন্তু সরকারকে তেমন পদক্ষেপে বাধ্য করাটাও সমীচীন নয়।

এ লজ্জা আমার আপনার আমাদের সকলের। বিপদটা তাতেই অবশ্য সীমায়িত হবে না। বিপদের অনেক আশঙ্কাও ব্যক্ত হয়ে উঠতে পারে। তাই আসুন, আমরা সকলে সকলের সঙ্গে দৈহিক দূরত্ব গড়ে তােলার মাধ্যমে আত্মিক ঐক্য স্থাপনের এক অনন্য নজির গড়ে তুলি।

কলেরা, প্লেগ, গুটি বসন্ত (স্মল পক্স), পােলিও-সহ অনেক কঠিন রােগের বিরুদ্ধে আমরা লড়েছি এবং জিতেছি, বীরের মতােই। এত জয়ের ইতিহাসকে সামনে রেখেই আমাদের এই লড়াইটাও চালিয়ে যেতে হবে, যে-যুদ্ধের শেষে মানুষের পক্ষে জয়’ ছাড়া আর কিছুই লেখা দেখতে পাচ্ছি না আমরা।

 

পল্লব শাহরিয়ার
উদ্যোক্তা ও লেখক

এ লড়াই শুধুই জয়ের জন্য