শিল্প ও সাহিত্য

শিল্প ও সাহিত্য

রবীন জাকারিয়া

১৮ নভেম্বর, ২০২২ , ৯:৩১ অপরাহ্ণ

হুমায়ুন ছিল বলেই

হুমায়ুন ছিল বলেই
সবুজে হলুদ রোগাক্রান্ত সমাজের চিত্র পাল্টানোর জন্য
পকেটহীন হলুদ পানজাবি পরিহিত হিমুরা
নিশিতে পথে বেরুনোর আহ্বান করতো!
হুমায়ুন ছিল বলেই
পৌঢ় মিসির আলি হলুদে ব্যাধির
রহস্য উদঘাটনের জন্য
যুক্তির পর যুক্তি সাজাতো৷
শুভ্ররা কালো টাকা, দূর্ণীতি, ঘুষে ভরা
বিত্ত-বৈভবের মাঝেও শুভ্র-সাদা জীবনের স্বপ্ন দেখতো৷
হুমায়ুন ছিল তাই
প্রকাশনাগুলো বাণিজ্য করতো৷
দর্শনার্থী, পাঠক, লেখক, প্রকাশকে মুখর ছিল
হৃদয়ের বই মেলা৷
হুমায়ুন ছিল বলেই
পাঠক ছিল৷ যুব সমাজ বই পড়তো৷
আজ হুমায়ুন নেই
তাই কিশোর-যুবা বই পড়ে না৷
বাবার অসৎ পয়সায় কেনা
পালসার, হাংক কিংবা এপাচীর পিঠে সওয়ার হয় অধিক ক্ষিপ্রতার আশায়৷
ইয়াবা, সিসা অথবা মারিজুয়ানার নীল ধোঁয়ায়
নীল পর্ণোর বিষাক্ত নীল নট হয়ে যায়৷
হুমায়ুন নেই তাই
বইহীন, পাঠকহীন সমাজ!
ফেসবুকিং, চ্যাটিংএ চিটিং হয় যুবা নারী৷
হুমায়ুন নেই বলেই
জ্যোৎস্নার সরোবরে অবগাহন করেনা কেউ৷
সারাদেহে এত ভাইরাস আর কালিমা
এখনইতো সময় জ্যোৎস্নার সরোবরে অবগাহন করে
হলুদে ব্যাধি ধুয়ে শুভ্র হওয়ার৷

(শুভ জন্মদিন হুমায়ুন আহমেদ)
লেখা: রবীন জাকারিয়া

(লেখক কর্তৃক আপলোডকৃত। অসম্পাদিত)

রবীন জাকারিয়া

১৩ নভেম্বর, ২০২২ , ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ

মৃত্যুপুরী রবীন জাকারিয়া

আজ আমি চলে যাচ্ছি—
বড্ড গুমোট আর খাঁচায় আবদ্ধ
জীব মনে হয় নিজেকে!
এখানে ভরা জ্যোৎস্নার আলো পাল্লা দিতে পারেনা তীব্র বাহারী আলোর সাথে,
রঙধনু এখানে পুরোপুরি বিকশিত হতে পারেনা
ছোট্ট আকাশে,
বৃষ্টির সুর ঝংকার শোনার মানুষ নেই এখানে৷
বিত্ত বৈভবে গড়ে উঠেছে বিলাসবহুল
ছোট ছোট শহর, একই শহরে৷
ডিজে পার্টির কর্কশ সুর আর সুরা পানে মত্ত
নর-নারীর যুগল নৃত্য আর কোলাহলে মুখর৷
পাশের ফ্ল্যাটে প্রবাসী সন্তানের নিঃসঙ্গ
বৃদ্ধ মায়ের মৃতদেহ পরে থাকে
আঞ্জুমানে মফিদুলের দায়ভারে৷
এখানে মানুষে মানুষে সম্পর্ক হয় ক্ষমতায়,
টাকা কিংবা পদবীতে৷
স্থাপত্য শৈলীর নামে প্রত্যেকে বাড়ি নয়
নির্মান করেছে
একেকটি কয়েদখানা,
যা গুয়েন্তেনামা কারাগারের চেয়েও ভয়ংকর৷
আমিতো অপরাধী নই!
আমি কারাগারে থাকতে চাইনা কখনো৷
অপরুপ এই বিশাল পৃথিবী দেখে যেতে চাই
আমৃত্যু, মুক্ত পাখির মত৷
তাই বিবর্ণ, মেকি এই মৃত্যুপুরী থেকে
পালাতে চাই আজ, এখনই৷

(লেখক কর্তৃক আপলোডকৃত। অসম্পাদিত)

মৃত্যুপুরী রবীন জাকারিয়া

রবীন জাকারিয়া

১২ নভেম্বর, ২০২২ , ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ

মেনোপেজকালীন প্রেম

মেয়েটি প্রতি বছর বার্ষিক পরীক্ষার শেষে দাদা বাড়িতে বেড়াতে আসতো৷ সে আমার ছোট বোনের প্রিয় বান্ধবি৷ দু’বছরের ছোট৷ নাম জবা৷ ওর বাবা একটা স্কুলের শিক্ষক৷ নদী পরিবেষ্টিত পাশের জেলা শহরে থাকলেও যোগাযোগ জটীলতায় সর্বদা যাতায়াত করা যেত না৷ ওরা বেড়াতে আসলে একটানা এক-দেড়মাস থাকতো৷ ছোট বোনের বান্ধবি আবার বাড়ি লাগোয়া৷ যার কারণে ও দিনের প্রায় বেশিরভাগ সময় আমাদের বাড়িতেই কাটায়৷ আমরা ছোট মানুষ৷ তাই সকলে একসঙ্গে খেলি৷ ছেলে-মেয়ের বিভেদ নেই৷ অবশ্য সে সময় এটাই প্রচলিত ছিল৷ ওর সাথে আমার সখ্যতা ছিল বেশ৷ সবসময় কেয়ার করতো৷ খেলতে গিয়ে আমি একটু ব্যাথা পেলে ও কান্নাকাটি করতো৷ সবাই ক্ষ্যাপাতো! কিন্ত আমরা ওসব পরোয়া করতাম না৷ আবার সারাদিন ঝগড়া, মান-অভিমানও চলতো সমান তালে৷ ঝগড়া লাগলে আড়ি দিতাম৷ আবার কিছুক্ষণ পর আড়ি খুলে ফেলতাম৷ আড়ি দেয়া এবং খোলার পদ্ধতিটাও ছিলো বেশ! দুজনের কনিষ্ঠ আঙ্গুল বাঁকা করে লাগালে আড়ি বলবৎ আর বৃদ্ধাঙ্গুল লাগালে আড়ি রদ৷ দিনে পাঁচ-সাতবার তো হতোই৷

এভাবেই সময় চলে যায় তার নিজস্ব গতিতে৷ পরবর্তিতে সে এসএসসি পাশ করে শহরেই কলেজে ভর্তি হলো৷ হোস্টেলে না থেকে দাদা বাড়ি থেকেই কলেজ করতো৷ হোস্টেলে থাকবেই বা কেন নিজের বাড়ি থাকতে?
ও যখন ফার্স্ট ইয়ারে ভর্তি হলো৷ আমি তখন অনার্স ফার্স্ট ইয়ারে৷ একই কলেজ৷ ইচ্ছে করলে একই সাথে যাতায়াত করা যায়৷ কিন্ত সামাজিক কারণে সেটা সম্ভব হয়নি৷ ও রিক্সায় যেতো৷ বাবা আমাকে একটা সাইকেল কিনে দিয়েছে৷ ফনিক্স সাইকেল৷ ডুপ্লিকেট ফনিক্স নয়৷ চায়না ফনিক্স৷ তখন এই সাইকেল ছিল একটা এসেট৷ একটা স্ট্যাটাস৷ আমি রাজকীয়ভাবে সেটাতে করে যাতায়াত করি৷ কলেজে দেখা করি৷ কথা বলি৷ কিন্ত ফরম্যাল৷ অন্যরা বিশেষ করে কলেজে পড়ুয়া পাড়ার অন্য প্রতিবেশিরা কী চোখে দেখে! তাছাড়া এখনতো আর সেই ছোট্টটি নেই৷ কিন্ত বাড়িতে ফিরলে আর ফরম্যালিটির কোন বালাই নাই৷ টোকা-টুকি, কিল-ঘুসি, মান-অভিমান সবই চলে৷ জবা প্রচন্ড অভিমানী আর সাহসি টাইপের মেয়ে৷ যার কারণে এতো বড় হয়েছি তবুও দুষ্টুমি করতো খুব৷ একদিন আমি গোসলখানায় গোসল করতে গেছি৷ আগে গোসলখানাতো এতো বাহারি আর নিরাপদ ছিল না৷ চারিদিকে তিন ইঞ্চি ইটের গাঁথুনি দেয়া প্লাস্টার বিহীন ওয়াল৷ উপরে কোন ছাদ নেই৷ দরজাও নেই৷ গোসলখানার ঠিক পাশেই নলকুপ৷ পুরো জায়গাটা বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরা৷ ব্যাস! গোসলের কাপড় রাখতে হয় ওয়ালের উপর৷ সেদিনও আমি গোসল শেষে ওয়ালের দিকে হাত দিয়ে দেখি কোন কাপড় নেই! ফাপড়ের মধ্যে পড়লাম৷ বিব্রতকর অবস্থা! এখন বেড়াই কী করে? কাপড়গুলোই বা কোথায় গেল? এমন সময় কলের পাড় থেকে জবা হেসে বলতে থাকলো এখন তুমি নেংটু হয়ে বের হও৷ আমার সাথে মাতব্বরির শাস্তি! অনেক অনুরোধ করলাম৷ শুনলো না৷ বরং বলে উঠলো তুমি সবকিছু ঠিকঠাক ঢেকে রাখো আমি ভেতরে যাচ্ছি৷ কোন মানাই সে শুনলো না৷ গেটহীন গোসলখানায় ঢুকে পড়লো৷ নিজের দুহাত দিয়ে যতটুকু গুরুত্বপূর্ণ স্থান ঢেকে রাখা যায় শুধু সেটাই চেপে ধরে নিজেকে আবিষ্কার করলাম এক সুন্দরী তরুনীর সামনে দন্ডায়মান গুহা যুগের এক আদিম পুরুষ (Caveman). নিমিষের ভেতরে আদিম প্রবৃত্তি মাথা চাড়া দিয়ে উঠলো৷ নিয়ন্ত্রন হারিয়ে জবার হাতটাকে ধরে এক ঝটকায় কাছে টেনে আনলাম৷ শক্ত করে চেপে ধরলাম বুকের ভেতর৷ ওর ঠোঁটে এঁকে দিলাম ভালোবাসার উষ্ণ চুম্বন৷ লজ্জায় ও পালিয়ে গেল তখনই৷ প্রথম উপলদ্ধি হলো আমরা একে অপরকে ভালোবাসি৷ এই ঘটনার পর ও দিন দুয়েক আমার সাথে দেখা করেনি৷ না কলেজে আর নাতো বাড়িতে৷

সময় থেকে থাকে না৷ সময়ের সাথে সাথে আমাদের ভালোবাসার শেকড় প্রোথিত হয় আরো গভীরে৷ দুই পরিবারও ইচ্ছুক যেন আমাদের বিয়েটা দিয়ে সম্পর্কটাকে আরো দৃঢ় করে৷ দিনে দিনে আমরা হয়ে গেলাম আরো সাহসি৷ এখন প্রায় প্রতিদিনই পাড়ার মোড়ে দুজনে নাস্তা খেতে যাই৷ মাঝে মাঝে আমার ছোট বোন থাকে৷ কখনো দুজনেই যাই৷ পাড়ার মোড়ের দোকানে আর কী পাওয়া যায়? পিয়াজু, বেগুনি কিংবা আলু চপ৷ জবার ওগুলোই পছন্দ৷ তাছাড়া তখনো এতো থাই-চাইনিজ রেস্তোরার প্রচলন খুব বেশি হয়নি৷

সবই ঠিক ছিল৷ কিন্ত জবার এক চাচা যিনি খাদ্য অধিদপ্তরে কেরানি পোস্টে চাকুরী করার কারণে অবৈধ টাকার মালিক বনে গেলেন৷ টাকার গরমে আস্তে আস্তে তিনি এবং পরিবারকে প্রতিবেশি থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেললেন৷ বাড়ির কাঠামো, লাইফ স্টাইল সবই পরিবর্তিত হলো৷ বন্ধ হয়ে গেল জবার সাথে আমার অবাধ যোগাযোগ৷ কিছুদিন আমরা কলেজেই মেলামেশা করতাম৷ তা-ও বন্ধ হয়ে গেল এক সময়৷ কথায় বলে যে অর্থ আর ক্ষমতা মানুষকে নেগেটিভ আর উচ্চাভিলাশী করে৷ জবার ক্ষেত্রেও তাই হলো৷

বেশ কিছুদিন কথা বলতে না পারাতে একদিন এক সন্ধ্যায় জবাকে বাড়ির সামনের রাস্তায় জাম গাছটার নীচে আসতে বললাম৷ কথা রাখলো৷ ও যখন আসলো তখন রাস্তাটা ফাঁকা৷ কেউ নেই৷ নেই কোন শব্দ৷ শুধু গাছ থেকে দু’একটা জাম পরার টুপ টুপ আর আমার বুকের ঢিপ ঢিপ শব্দ ছাড়া নীরব চারিদিক৷ ও আসা মাত্রই ওর হাতটা শক্ত করে ধরে বললাম তুমি কি আমাকে চাওনা? নাকি আর ভালোবাসো না! কেন আমাকে দূরে ঠেলে দিচ্ছ? সে খুব স্বাভাবিক আর শান্ত স্বরে জানালো আমাদের সম্পর্ক আর রাখা সম্ভব নয়৷ কেননা বড় চাচা আমার বিয়ে ঠিক করেছেন৷ ছেলে সরকারি চাকুরে৷ আমাকে ক্ষমা কোরো৷ বলে চলে গেল৷ আমি কিছুটা সময় দাঁড়িয়ে ছিলাম৷ একাকী৷ কষ্ট পেয়েছি কিন্ত কাঁদিনি৷ বরং কেন যেন প্রচন্ড শব্দে হেসেছি৷

এরপর সময় বয়ে যায় তার নিজস্ব গতিতে৷ হঠাৎ বাবার মৃত্যু! সংসারের দায়িত্ব, ভাই বোন ও নিজের লেখাপড়া৷ বোনের পাত্রস্থ৷ নিজের একটা চাকুরী৷ সব মিলে একটা ঘোরের মধ্যে সময় চলে গেল৷ সব কিছু গুছিয়ে উঠে যখন বিয়ে করবো দেখি বয়স অনেক হয়ে গেছে৷ কেউ পাশে নেই৷ একা৷ ভীষণ একা৷ শুধু কাঁধে যার প্রেরণার হাত পেয়েছিলাম৷ সে হলো রত্না৷ আমার কাজিন৷ অনেক ছোট৷ কিন্ত ও আমাকে পাগলের মতো ভালোবাসে৷ রত্না আমার দ্বিতীয় প্রেম৷ জীবনের সবচেয়ে কঠিনতম সময়ে ওর হাত দুটি ছিলো আমার শক্তি৷ অন্ধের ষষ্ঠি৷ অনেক স্বপ্নের জাদুকর৷ জীবন সঙ্গীনী৷ দুটি সন্তান নিয়ে আমাদের ছোট্ট সংসার৷

আমি একটা মার্কিটিং ডিপার্টমেন্টে জব করি৷ পেশাগত কারণে আমাকে বিভিন্ন জেলাতে থাকতে হয়৷ বাড়িতে থাকা হয় কম৷

জবা মাঝে মাঝে এখনো স্বামী সন্তানসহ এখানে আসে৷ শরীর ভর্তি গহনা৷ রঙ বেরঙের পোষাক৷ কিছু নারীর মধ্যে এই পাগলামো দেখা যায়৷ গহনা আর পোষাক প্রদর্শন করে প্রমাণ করতে চায় যে তারা কত সুখী৷ ওর দুটি মেয়ে৷ বিয়ে দিয়ে দিয়েছে৷ এখন জবার আনাগোনা আরো বাড়তে লাগলো৷

প্রায় মাস খানেক পর বাড়ি ফিরলাম৷ সপ্তাহ খানেক ছুটি নিয়েছি৷ রত্না আর সন্তানদের মতো আমিও ভীষণ খুশি৷ কটা দিন আনন্দে কাটানো যাবে৷ সেদিন শুক্রবার বিকেলে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বের হয়েছি৷ একটু ঘুরবো বলে৷ বাড়ির গেটে হঠাৎ দেখা হয়ে গেলো জবার সাথে৷ বুকটা ধক্ করে উঠলো৷ বিশ্রী একটা পরিস্থিতি৷ ঘামতে থাকলাম৷ কেমন আছো? বলে জবা পরিবেশটা স্বাভাবিক করলো৷ বললাম ভালো আছি, ধন্যবাদ৷ তুমি? ও মাথা উপর নীচ করে জানালো ভালো আছে৷ আচ্ছা দেখা হবে বলে আমরা বেরিয়ে পরলাম৷ রিক্সায় রত্না বারবার আড় চোখে আমার দিকে তাকাচ্ছে৷ কারণ আমার আর জবার বিষয়টা ও জানে৷

পরেরদিন সন্ধ্যায় জবা আমাকে সেই জাম গাছটার নীচে দেখা করতে বললো৷ আমি জানালাম এর কোন প্রয়োজন নেই৷ কিন্ত ওর অনুরোধে দেখা করতে গেলাম৷

দুজনে মুখোমুখি৷ দামি পোষাক আর গহনায় মোড়া সামনে দন্ডায়মান জবাকে মনে হচ্ছে যেন শপিং মলে দাঁড়ানো “ডেমো পুতুল”৷ হঠাৎ জবা আমার হাত দুটো ধরে বলে উঠলো তুমি কি আমাকে এখনো ভালোবাস? চলো আমরা নতুন করে জীবন শুরু করি৷ আমি বিশ্মিত! কিছু বলবার আগেই কাঁদো কাঁদো স্বরে ও বলতে শুরু করলো৷ জানো জীবনে আমি কিছুই পেলাম না৷ টাকাওয়ালা ঐ অসৎ বুড়োকে বিয়ে করে জীবনটাই শেষ করে দিলাম৷ তুমি কি আমাকে আগের মতো গ্রহণ করবে? বিশ্ময়ের ধাক্কা সামলে নিয়ে আমি একবার জবা আর একবার ওর হাত দুটোর দিকে তাকাতে লাগলাম৷ আধো আলো আর আধো অন্ধকারে ওকে কেন যেন রাক্ষুসে মনে হচ্ছে৷ চামড়া কুচকানো আর বলিরেখা ভরা হাত দুটো যেন আমার গলা টিপে ধরবে৷ ভয় নয় বরং ঘৃণায় পিছু হটতে লাগলাম৷ যে নারী একদিন নিজের ইচ্ছায় পছন্দের বিত্তবান মানুষটাকে বিয়ে করলো৷ হোক বৈধ কিংবা অবৈধ উপায়ে যার উপার্জিত অর্থে নিজের স্বপ্নগুলো পূরণ করলো৷ সংসার করলো৷ আজ তাকেই অপবাদ দিচ্ছে৷ আর বিশ্বাস ঘাতকতা করে অন্যের ঘরনী হতে চায়৷ ৫০ পেরুনো মেনোপেজে পৌঁছানো এক বিকারগ্রস্থ নারীর পরকীয়ার প্রস্তাব আমাকে রত্না’র প্রতি ভালোবাসাকে তীব্র করে তুললো৷ এত কিছুর পরও রাক্ষুসেটাকে কৃতজ্ঞতা জানালাম মনে মনে৷ কেননা ওর প্রত্যাখানের জন্যই রত্না’র মতো রত্ন আমি পেয়েছি জীবনে৷

এখানে এক মূহুর্ত থাকতে ইচ্ছে করছে না৷ রত্না’র স্যাক্রিফাইজ আর ভালোবাসা ভীষণভাবে উপলদ্ধি করলাম৷ ফিরে যেতে চাই সেই মানুষটার কাছে৷ যে শত বিপদের মাঝে আমাকে দিয়েছে সাহস৷ দিয়েছে নতুন ভাবে বাঁচবার প্রেরণা৷ সেই রত্নার কাছে৷ যেমনটি আগেও ছিলাম৷

আমি দৌড়াতে থাকলাম বাড়ির দিকে৷ অল্প দূরত্ব৷ আমি ঘেমে যাচ্ছি৷ দম কমে যাচ্ছে৷ কিন্ত কোন ভাবেই জবা’র থেকে দূরত্ব বাড়াতে পারছি না৷ সেই মেনোপেজকালীন ডাইনী থেকে যে এই বয়সে এসেও পরকীয়া প্রেমের প্রস্তাব দেয়৷

(লেখক কর্তৃক আপলোডকৃত। অসম্পাদিত)

গল্প-মেনোপেজকালীন প্রেম রবীন জাকারিয়া
35 Views

রবীন জাকারিয়া

১৯ অক্টোবর, ২০২২ , ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ

ইমাম

মসজিদটা দৃষ্টি নন্দন,
ছাদে ঝুলে আছে অসংখ্য দামি ঝাড়বাতি
আর সিলিং ফ্যানের বাহুল্য উপস্থিতি৷
ইটালিয়ান টাইলসের ঝকঝকে মেঝেতে
পা ফেলার আগে নিজের পদযুগল দেখে নেই পুনর্বার৷
সেন্ট্রাল এসির এ ঘরটাকে নিজের বলে
মনে হয়না এতটুকু৷
সবুজ কার্পেটে বিছানো নামাজের স্থান,
একেবারে সামনের কাতারে তবুও স্থান পায়
গুটি কয়েক মখমলের পুরু জায়নামাজ,
আর ভার্জিন ওয়াটার বোটল৷
আমাদের বোঝানো হয়
মসজিদও এখন আর সাম্যতার স্থান নয়৷
এখানে সময় কিংবা ওয়াক্ত নির্ধারণ হয়
সভাপতির আগমনের উপর৷
এক দিন মজুর নামাজি আমি৷
ভীত মনে বসে পরি শেষের কোন কাতারে৷
সবুজ কাপের্টের উপর মখমলের জায়নামাজেও
সম্মানিতদের চলেনা বলেই,
তাঁরা প্রত্যেকে বগলদাবা করে আনেন
আরো বাহারী জায়নামাজ৷
ছুটন্ত গতিতে একজন খাদেম এসে অফুরাণ যত্নে
বিছিয়ে দেন তৃতীয় জায়নামাজ৷
সারা মসজিদে আমি খুঁজে পাইনি ইমামকে৷
শুধু নামাজের সময় চমকে উঠি!
ইমামের স্থানে দাঁড়িয়ে আছেন সেই খাদেম৷
তবে কি এখন আর মসজিদে ইমাম থাকে না?
হয়তো তাই!
থাকে শুধু নামাজ পড়ানোর বেতনভূক কর্মচারী!

(লেখক কর্তৃক আপলোডকৃত। অসম্পাদিত)

ইমাম - রবীন জাকারিয়া

রবীন জাকারিয়া

১৯ অক্টোবর, ২০২২ , ১১:১১ পূর্বাহ্ণ

বড্ড ভাঙ্গচুড়ে আমি

ভীষণ ভাংচুরে আমি—
ছেলে বেলায় প্রিয় খেলনাগুলো ভেঙ্গে ফেলতাম,
পুতুল, পিস্তল কিংবা গাড়ি ভেঙ্গে গভীরের সন্ধান করেছি প্রতিনিয়ত৷
ভেঙ্গে ভেঙ্গে অবশিষ্ট থেকে যেতো একটা স্ক্রু অথবা বল্টু৷
এরপর আর বিভাজিত না করার যাতনা অস্থির করতো আমায়৷
তখন বুঝিনি এর চেয়ে বিভাজ্য হয়না কিছুই
যেমন পদার্থকে ভেঙ্গে ভেঙ্গে অণু, পরমাণু কিংবা ইলেক্ট্রন, নিউট্রন, প্রোটন-এ থেমে যায় পদার্থবিদ;
বায়োলজিস্টরা থেমে যায় প্রাণের উৎস প্রোটোপ্লাজমে এসে৷
তবুও আরো ভাঙ্গতে চাই ভাঙ্গচুড়ে আমি—
প্রথা ভাঙ্গি, সমাজ, বিধান, ধর্মীয় মূল্যবোধ বাদ দেইনা কিছুই৷
নারীর হিজাব থেকে ব্লাউজ, তারপর শাড়ি
অথবা বানাতে চাই টপলেস;
প্রথা ভাঙ্গবোই বলে—
ভাঙ্গচুড়ে আমি ভেঙ্গে ফেলি
কবিতার পংক্তিমালা, শব্দ চয়ন,
আবৃত অঙ্গের বাহুল্য ব্যবহার৷
আমি মানি না শ্লীল-অশ্লীলতার কাঠামো!
অতপর আফ্রিকার গহীন অরণ্যে বসবাসরত গোষ্ঠীভিত্তিক টপলেস সমাজের ছবি দেখে
আঁতকে ওঠা আমি বলে উঠি অসভ্য.,.
মনের অজান্তেই নিজেকে দৈতস্বত্ত্বার অধিকারী মনে হয়৷
যে মানদন্ডে কাউকে অসভ্য বলছি অথচ আমি সভ্যকে অসভ্যতার আবরণে আবৃত করছি নিত্য৷
জেগে ওঠে স্বাশত সত্য, মানবিক চেতনা৷
ভাঙ্গার শেষ বিন্দুতে গিয়ে আর
ভাঙ্গা যায়না কিছুই৷
ইচ্ছে করলেও নয়৷
নিজেকে ভাঙ্গচুড়ে বানালেও
সমাজ ভাঙ্গচুড়ে নয় কখনো৷

(লেখক কর্তৃক আপলোডকৃত। অসম্পাদিত)

বড্ড ভাঙ্গচুড়ে আমি - রবীন জাকারিয়া

রবীন জাকারিয়া

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২ , ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

জুমার নামাজের সূচনা

সূচনা:

আমরা সাধারণ: সকলেই মনে করি জুম্মা বার আর শুক্রবার একই কথা৷ আসলে তা কিন্ত নয়৷ এই বিশ্লেষণের পূর্বে জানা প্রয়োজন বর্ষ কত প্রকারের৷ সাধারণভাবে এর উত্তর হলো দুই প্রকার৷ সৌর বর্ষ ও চন্দ্র বর্ষ৷ ইংরেজি ও বাংলা বর্ষপঞ্জি সৌর বর্ষের আর হিজরি সন হলো চন্দ্র বর্ষের উপর নির্ভরশীল৷ তাই বলা যায় বৃহষ্পতিবার মাগরিবের পর থেকে শুক্রবারের মাগরিবের পূর্ব পর্যন্ত জুম্মাবার৷

জুমার নামাজের সূচনা হল যেভাবে:

ইসলাম ধর্ম মতে মুসলমানদের সপ্তাহের সেরা দিন শুক্রবার অর্থাৎ জুমার দিন। জুমা নামে পবিত্র কোরআনে একটি সূরা আছে। ইসলাম ধর্ম মতে এইদিনে মহান আল্লাহতায়ালা জগৎ সৃষ্টির পূর্ণতা দান করেছিলেন।

মুসলিম উম্মাহরা শুক্রবারকে সাপ্তাহিক ঈদ হিসেবে মনে করেন। কারণ সারা সপ্তাহ ব্যস্ততার জন্য নিজেদের মতো করে নামাজ আদায় করলেও এ দিন মুসল্লিরা মসজিদে একত্রিত হয়ে নামাজ আদায় করেন। এ কারণে দিনটাকে ইয়াওমুল জুমাআ বা জুমার দিন বলা হয়।

জুমার নামাজ ফরজ হয় প্রথম হিজরিতে। রাসূলুল্লাহ (সা.) হিজরতকালে কুবাতে অবস্থান শেষে শুক্রবার দিনে মদিনা পৌঁছেন এবং বনি সালেম গোত্রের উপত্যকায় পৌঁছে জোহরের ওয়াক্ত হলে সেখানেই তিনি জুমার নামাজ আদায় করেন। এটাই ইতিহাসের প্রথম জুমার নামাজ।

হিজরতের পরে জুমার নামাজ ফরজ হওয়ার আগে নবুওয়তের দ্বাদশ বর্ষে মদিনায় নাকীউল খাজিমাতে হজরত আসআদ বিন যুরারাহ (রা.)-এর ইমামতিতে সম্মিলিতভাবে শুক্রবারে দুই রাকাত নামাজ আদায়ের প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে সেটা ছিল নফল নামাজ।

জুমার নামাজের গুরুত্ব:

শুক্রবারের দিন জোহরের নামাজের পরিবর্তে জুমার নামাজকে ফরজ করা হয়েছে। জুমার দুই রাকাত ফরজ নামাজ ও ইমামের খুতবাকে জোহরের চার রাকাত ফরজ নামাজের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। সপ্তাহের এদিনে জুমার খতিব উম্মতের যাবতীয় প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোরআন ও হাদিসের আলোকে নির্দেশনা ও সমাধানমূলক উপদেশ দেবেন তাঁর খুতবায়।

হজরত তারেক ইবনে শিহাব (রা.) থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ক্রীতদাস, মহিলা, নাবালক বাচ্চা ও অসুস্থ ব্যক্তি—এই চার প্রকার মানুষ ছাড়া সকল মুসলমানের ওপর জুমার নামাজ জামাতে আদায় করা অপরিহার্য কর্তব্য (ফরজ)। (আবু দাউদ : ১০৬৭, মুসতাদরেকে হাকেম : ১০৬২ , আস্-সুনানুল কাবীর : ৫৫৮৭)

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে এ মর্মে হাদিস বর্ণিত হয়েছে যে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো শরীয়তসম্মত কারণ ছাড়া জুমার নামাজ বর্জন করবে, তার নাম মুনাফিক হিসেবে এমন দপ্তরে লিপিবদ্ধ হবে, যা মুছে ফেলা হবে না এবং পরিবর্তন ও করা যাবে না। (তাফসিরে মাজহারি, খণ্ড : ৯, পৃষ্ঠা : ২৮৩)।

আবু হুরাইরা (রা:) থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আমরা শেষে এসেছি কিন্তু কেয়ামতের দিন সবার আগে থাকবো। যদিও অন্য সব জাতিগুলোকে (ইহুদী ও খৃষ্টান) গ্রন্থ দেওয়া হয়েছে আমাদের পূর্বে, আমাদের গ্রন্থ দেওয়া হয়েছে তাদের পরে। অত:পর জেনে রাখো এই (জুমার) দিনটি আল্লাহ আমাদের দান করেছেন।

তিনি এ ব্যাপারে আমাদের সঠিক পথের দিশা দিয়েছেন। আর অন্য লোকেরা এ ব্যাপারে আমাদের পেছনে আছে। ইহুদীরা জুমার পরের দিন (শনিবার) উদযাপন করে আর খৃস্টানরা তার পরের দিন (রবিবার) উদযাপন করে। (বর্ণনায়: বুখারী ও মুসলিম)

জুমার নামাজের সূচনা জুমার নামাজ ফরজ হয় প্রথম হিজরিতে। রাসূলুল্লাহ (সা.) হিজরতকালে কুবাতে অবস্থান শেষে শুক্রবার দিনে মদিনা পৌঁছেন এবং বনি সালেম গোত্রের উপত্যকায় পৌঁছে জোহরের ওয়াক্ত হলে সেখানেই তিনি জুমার নামাজ আদায় করেন। এটাই ইতিহাসের প্রথম জুমার নামাজ।

হিজরতের পরে জুমার নামাজ ফরজ হওয়ার আগে নবুওয়তের দ্বাদশ বর্ষে মদিনায় নাকীউল খাজিমাতে হজরত আসআদ বিন যুরারাহ (রা.)-এর ইমামতিতে সম্মিলিতভাবে শুক্রবারে দুই রাকাত নামাজ আদায়ের প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে সেটা ছিল নফল নামাজ।

হজরত তারেক ইবনে শিহাব (রা.) থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ক্রীতদাস, মহিলা, নাবালেগ বাচ্চা ও অসুস্থ ব্যক্তি—এই চার প্রকার মানুষ ছাড়া সকল মুসলমানের ওপর জুমার নামাজ জামাতে আদায় করা অপরিহার্য কর্তব্য (ফরজ)। (আবু দাউদ : ১০৬৭, মুসতাদরেকে হাকেম : ১০৬২ , আস্-সুনানুল কাবীর : ৫৫৮৭)

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে এ মর্মে হাদিস বর্ণিত হয়েছে যে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো শরীয়তসম্মত কারণ ছাড়া জুমার নামাজ বর্জন করবে, তার নাম মুনাফিক হিসেবে এমন দপ্তরে লিপিবদ্ধ হবে, যা মুছে ফেলা হবে না এবং পরিবর্তন ও করা যাবে না। (তাফসিরে মাজহারি ,খণ্ড : ৯ , পৃষ্ঠা : ২৮৩)

জুমাবারের ফজিলতের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকটি হলো, এই দিনে এমন একটা সময় আছে, যখন মুমিন বান্দা কোনো দোয়া করলে মহান আল্লাহ তার দোয়া কবুল করেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। (সহীহ মুসলিম : ৮৫২, মুসনাদে আহমাদ : ৭১৫১, আস্-সুনানুল কুবরা : ১০২৩৪)

জুমার দিনে দোয়া কবুল হওয়ার সে মহামূল্যবান সময় কোনটা? এ সম্পর্কে ৪৫টা মতামত পাওয়া যায়। তবে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ মত হলো, আসরের নামাজের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময় দোয়া কবুলের সময়। হজরত আনাস (রা.) থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিনের কাঙ্ক্ষিত সময়টা হলো আসরের পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত। (মুসনাদে ইবনে আবি শাইবা : ৫৪৬০ , তিরমিজি : ৪৮৯)

উপসংহার:

মুসলমানদের কাছে জুম্মাবার হলো একটি অত্যন্ত পবিত্রতম দিন৷ অন্যভাবে এটাকে বলা হয়েছে গরীবদের হজ্ব৷ তাই আমরা সকলে এই পবিত্রতম দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করে আল্লাহ্কে রাজি-খুশি করি এবং ইহ-পারলৌকিক শান্তি অর্জন করতে পারি৷ আমীন৷

তথ্যসূত্র:
– আল কুরআন
– আল হাদিস
– সময় সংবাদ
– বাংলাদেশ জার্ণাল
– ফেসবুক পোস্ট
– উইকিপিডিয়া

(লেখক কর্তৃক আপলোডকৃত। অসম্পাদিত)

জুমার নামাজের সূচনা-প্রবন্ধ রবীন জাকারিয়া

রবীন জাকারিয়া

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশের লোক সাহিত্য

ভূমিকা:

বাংলাদেশের লোক সাহিত্য বাংলা সাহিত্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। যদিও এর সৃষ্টি ঘটেছে গ্রমীণ জনগোষ্ঠির মাধ্যমে এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রসার ঘটেছে মৌখিকভাবে, তথাপি বাংলা সাহিত্যকে এ লোক সাহিত্য ব্যাপ্তি প্রদান করেছে, করেছে সমৃদ্ধ। পৃথক পৃথক ব্যক্তি-বিশেষের সৃষ্টি পরিণত হয়েছে জনগোষ্ঠির ঐতিহ্যে যার মাধ্যমে প্রকাশ ঘটেছে ভালোবাসা, আবেগ, অনুভূতি ও চিন্তা চেতনার।

লোকসাহিত্য

লোকসাহিত্য মৌখিক ধারার সাহিত্য যা অতীত ঐতিহ্য ও বর্তমান অভিজ্ঞতাকে আশ্রয় করে রচিত হয়। একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক পরিমন্ডলে একটি সংহত সমাজমানস থেকে এর উদ্ভব। সাধারণত অক্ষরজ্ঞানহীন পল্লিবাসীরা স্মৃতি ও শ্রুতির ওপর নির্ভর করে এর লালন করে। মূলে ব্যক্তিবিশেষের রচনা হলেও সমষ্টির চর্চায় তা পুষ্টি ও পরিপক্কতা লাভ করে। এজন্য লোকসাহিত্য সমষ্টির ঐতিহ্য, আবেগ, চিন্তা ও মূল্যবোধকে ধারণ করে। বিষয়, ভাষা ও রীতির ক্ষেত্রে প্রচলিত ধারাই এতে অনুসৃত হয়। কল্পনাশক্তি, উদ্ভাবন-ক্ষমতা ও পরিশীলিত চিন্তার অভাব থাকলেও লোকসাহিত্যে শিল্পসৌন্দর্য, রস ও আনন্দবোধের অভাব থাকে না।

লোকসাহিত্য লোকসংস্কৃতির একটি জীবন্ত ধারা; এর মধ্য দিয়ে জাতির আত্মার স্পন্দন শোনা যায়। তাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ‘জনপদের হূদয়-কলরব’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। লোকসাহিত্যকে প্রধানত লোকসঙ্গীত, গীতিকা, লোককাহিনী, লোকনাট্য, ছড়া, মন্ত্র, ধাঁধা ও প্রবাদ এই আটটি শাখায় ভাগ করা যায়।

লোকসঙ্গীত ঐতিহ্যগতভাবে বিশেষ সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীর মধ্যে প্রচলিত গান; সাধারণত পল্লীর অনক্ষর জনগণ এর প্রধান ধারক। বিষয়, কাল ও উপলক্ষভেদে এ গানের অবয়ব ছোট-বড় হয়। ধুয়া, অন্তরা, অস্থায়ী ও আভোগ সম্বলিত দশ-বারো চরণের লোকসঙ্গীত আছে; আবার ব্রতগান, মেয়েলী গীত, মাগনের গান, জারি গান, গম্ভীরা গান ইত্যাদি আকারে অপেক্ষাকৃত বড় হয়। কবির লড়াই, আলকাপ গান, লেটো গান এবং যাত্রাগান হয় আরও দীর্ঘ, কারণ সারারাত ধরে এগুলি পরিবেশিত হয়।

লোকসঙ্গীতের গায়করা পেশাদার ও অপেশাদার উভয়ই হতে পারে। পেশাদার কোনো গায়েন বা বয়াতি দল গঠন করে অর্থের বিনিময়ে গান গায়; কবিয়াল দলবল নিয়ে কবির লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করে। আলকাপ গানের ছোকরা এবং ঘাটু গানের ঘাটু পেশাদার নটী ও গায়ক; উদাস বাউল নিজেই গান করে তার অধ্যাত্মপিপাসা নিবৃত্ত করে। বৈরাগী-বৈরাগিণী বা বোষ্টম-বোষ্টমী গান গেয়ে ভিক্ষা করে। বিবাহাদি অনুষ্ঠানে মেয়েলি গীত গাওয়ার জন্য পেশাদার গিদাল থাকে; তবে সাধারণ মেয়েরাও গান গায়। ক্ষেত-খামারে কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষ, মাঠে-ঘাটে রাখাল এবং নদী-হাওরে মাঝি-মাল্লারাও চিত্তবিনোদন, অবসরযাপন বা শ্রম লাঘবের জন্য গান গায়।

বাংলা লোকসঙ্গীত নাম ও প্রকারভেদে বিচিত্র; অঞ্চলভেদে এর প্রায় শতাধিক নাম রয়েছে এবং প্রকারভেদে প্রায় পঞ্চাশোর্ধ্ব শ্রেণির গান চিহ্নিত করা যায়। কেউ কেউ আঞ্চলিক ও সর্বাঞ্চলীয়, আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক, সাধারণ ও তত্ত্বপ্রধান, তালযুক্ত ও তালহীন এরূপ স্থূলভাবে ভাগ করে সেগুলির আবার নানা উপবিভাগ করেছেন। আশুতোষ ভট্টাচার্য লোকসঙ্গীতকে আঞ্চলিক, ব্যবহারিক, আনুষ্ঠানিক (ritual), কর্মমূলক ও প্রেমমূলক এই পাঁচটি ভাগে ভাগ করেছেন। বিষয়গত দিক থেকে একে প্রেম, ধর্ম-আচার-সংস্কার, তত্ত্ব ও ভক্তি, কর্ম ও শ্রম, পেশা ও বৃত্তি, ব্যঙ্গ ও হাস্যকৌতুক এবং মিশ্র এরূপ সাতটি ভাগ করা যায়।

বিস্তৃতি

বাংলাদেশের লোক সাহিত্য লোক সাহিত্যের প্রচলিত সকল শাখায় নিজেকে বিস্তার করেছে। এগুলো হচ্ছে গল্প, সংগীত, ধাঁধা, প্রবাদ বাক্য, কুসংস্কার ও মিথ।

লোকগীতি

বাংলাদেশের সংগীত মূলত কাব্যধর্মী। এদেশীয় সংগীতে বাদ্যযন্ত্রের চেয়ে মৌখিক সুরের দক্ষতার উপর অধিক নির্ভরশীলতা লক্ষ করা যায়। লোকগীতিকে আমরা সাতটি শ্রেণীতে বিন্যস্ত করতে পারি। এগুলো হচ্ছেঃ প্রেম, ধর্মীয় বিষয়, দর্শন ও ভক্তি, কর্ম ও পরিশ্রম, পেশা ও জীবিকা, ব্যাঙ্গ ও কৌতুক এবং এসবের মিশ্রণ। অন্যদিকে এদেশীয় লোকসাহিত্যে আমরা গানের বিভিন্ন শাখা দেখতে পাই। এগুলো হচ্ছেঃ বাউল গান, ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালি, গম্ভীরা, কবিগান, জারিগান, সারিগান, ঘাটু গান,যাত্রা গান ,ঝুমুর গান, জাগের গান প্রভৃতি।

বাউল গান

বাউল শব্দটির উৎপত্তি নিয়ে মতান্তর রয়েছে।ইতিহাসবিদদের মতে, সতেরো শতকে বাংলাদেশে বাউল মতের উদ্ভব হয়। এ মতের প্রবর্তক হলেন আউল চাঁদ ও মাধববিবি। বীরভদ্র নামে এক বৈষ্ণব মহাজন সেই সময়ে একে জনপ্রিয় করে তোলেন। লালন সাঁইয়ের গানের মধ্য দিয়ে বাউল ব্যাপক পরিচতি লাভ করে। ২০০৫ সালে ইউনেস্কো বিশ্বের মৌখিক এবং দৃশ্যমান ঐতিহ্যসমূহের মাঝে বাউল গানকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করে।

সিলেটের মরমী সাহিত্য

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন লোকঐতিহ্যের অনবদ্য ফসল মরমী সঙ্গীত বা মরমীবাদের গান। প্রাচীন লোকসাহিত্য বা লোকঐতিহ্যের একাংশের রুপান্তর মরমী সাহিত্য। উল্লেখ্য যে, মরমী সঙ্গীত ও বাউল গানকে অধুনা যুগে যদিও এক করে ভাব হয়, কিন্তু এর ইতিহাস সন্ধানি সৈয়দ মোস্তফা কামাল ও অন্যান্যদের কাছে এর ভাবধারায় ভিন্নতা রয়েছে বলে অভিমত পাওয়া যায়।

ভাওয়াইয়া

ভাওয়াইয়া গানের আকরভূমি রংপুর। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের নদী-নালা কম থাকায় গরুর গাড়িতে চলাচলের প্রচলন ছিল। আর গরুর গাড়ির গাড়োয়ান রাত্রে গাড়ি চলাবস্থায় বিরহ ভাবাবেগে কাতর হয়ে আপন মনে গান ধরে। উঁচু-নিচু রাস্তায় গাড়ির চাকা পড়লে তার গানের সুরে আধো-ভাঙ্গা বা ভাঁজ পড়ে। এই রকম সুরে ভাঙ্গা বা ভাঁজ পড়া গীতরীতিই ‘ভাওয়াইয়া’ গানে লক্ষণীয়। এসকল গানে স্থানীয় সংস্কৃতি, জনপদের জীবনযাত্রা, তাদের কর্মক্ষেত্র, পারিবারিক ঘটনাবলী ইত্যাদি পরিলক্ষিত হয়।

ভাটিয়ালি

ভাটিয়ালী বাংলাদেশের ভাটি অঞ্চলের জনপ্রিয় লোকগীতি। বিশেষ করে নদ-নদী পূর্ণ ময়মনসিংহ অঞ্চলের ব্রহ্মপুত্র নদের উত্তর-পূর্ব দিকের অঞ্চলগুলোতেই ভাটিয়ালী গানের মূল সৃষ্টি, চর্চাস্থল এবং সেখানে এ গানের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। বাউলদের মতে ভাটিয়ালী গান হলো তাদের প্রকৃতিতত্ত্ব ভাগের গান। ভাটিয়ালী গানের মূল বৈশিষ্টা হলো এ গানগুলো রচিত হয় মূলত মাঝি, নৌকা, দাড়, গুন ইত্যাদি বিষয়ে।

গম্ভীরা

বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ও পশ্চিমবঙ্গের মালদহ অঞ্চলে গম্ভীরার প্রচলন রয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা অঞ্চলের গম্ভীরার মুখ্য চরিত্রে নানা-নাতি খুব জনপ্রিয়।সনাতন ধর্মালম্বীদের অন্যতম দেবতা শিব। শিবের অপর এক নাম‘গম্ভীর’। শিবের উৎসবে শিবের বন্দনা করে যে গান গাওয়া হত- সেই গানের নামই কালক্রমে হয়ে যায়‘গম্ভীরা’। শিব> গম্ভীর> গম্ভীরা। পালা-গম্ভীরায় অভিনয়ের মাধ্যমে এক একটা সমস্য তুলে ধরা হত। চৈত্র-সংক্রান্তিতে পালা-গম্ভীরা পরিবেশন করা হত।

কবিগান

কবিগান বাংলা লোকসংগীতের একটি বিশেষ ধারা। এই ধারায় লোককবিরা প্রতিযোগিতামূলক গানের আসরে অংশগ্রহণ করে থাকেন। কবিগান সাধারণত দুটি দলের দ্বারা গীত হয়। প্রত্যেকটি দলের নেতৃত্বে থাকেন একজন “কবিয়াল” বা “সরকার”। তার সহকারী গায়কদের বলা হয় “দোহার”। এঁরা সাধারণত নেতার কথাগুলিই পুণরাবৃত্তি করেন।

জারিগান

জারি শব্দটির অর্থ বিলাপ বা ক্রন্দন। এ শব্দটির উৎস-মূল ফার্সি ভাষা। তবে, বাংলায় এসে শব্দটি অর্থ ব্যাপকতা লাভ করেছে। বাংলাদেশে মহররমের বিশেষ দিনে কারবালার শোকাবহ ঘটনা অবলম্বনে নৃত্যগীত সহকারে যে কাহিনী পরিবেশিত হয় তা সাধারণভাবে জারিগান বলে পরিচিত। ১৭শ শতক থেকে বাংলায় এই গানের ধারা প্রচলিত।

মৈমনসিংহ গীতিকা

ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত পালাগানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়। এই গানগুলো প্রাচীন কাল থেকে মানুষের মুখে মুখে প্রচারিত হয়ে আসছে। তবে ১৯২৩-৩২ সালে ডক্টর দীনেশচন্দ্র সেন এই গানগুলো সম্পাদনা করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে প্রকাশ করেন। বর্তমান নেত্রকোণা জেলার আইথর নামক স্থানের আধিবাসী চন্দ্রকুমার দে এসব গাঁথা সংগ্রহ করছিলেন।

পূর্ববঙ্গ-গীতিকা

পূর্ববঙ্গ অঞ্চলের প্রচলিত লোকসাহিত্যকে একত্রে পূর্ববঙ্গ গীতিকা বলা হয়। প্রাচীন কাল থেকে মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত হয়ে আসা পালাগুলি বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। ১৯২৬ সালে ডক্টর দীনেশচন্দ্র সেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ সাহায্যে পালাগুলো সম্পাদনা করে প্রকাশ করেন। পরে ১৯৭১-১৯৭৫ সালে ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক ও সাত খণ্ডে প্রাচীন পূর্ববঙ্গ গীতিকা প্রকাশ করেন।

সিলেট গীতিকা

সিলেটের লোকমানুষের রচিত মৌখিক কেচ্ছা, কাহিনী, যাত্রা-পালা ইত্যাদি লোকভাণ্ডারকে এক সাথে সিলেট গীতিকা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। সিলেট অঞ্চলের প্রাচীন লোকমানুষের দৈনন্দিন জীবনধারা, আদিবাসী মানুষের জীবন-জীবিকা, সামন্ততান্ত্রিক শাসন প্রণালী, গ্রামীণ লোকচার, আবেগ অনুভূতি, প্রেম-বিরহ, যুদ্ধ-বিগ্রহ এবং মানবিকতা সম্মেলিত গাঁথাকেই সিলেট গীতিকার উৎস বলে ধরা হয়। অধ্যাপক আসদ্দর আলীর পদত্ত তালিকা অনুসারে ১২০টি লোকগাথাকে সিলেট গীতিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে [৯] এছাড়া চৌধুরী গোলাম আকবর সাহিত্যভূষণ ১৯৬৮ সালে বাংলা একাডেমী থেকে ১০ টি গীতিকা নির্বাচন করে একত্রে সিলেট গীতিকা নাম দিয়ে প্রকাশ করেন।

লোকগল্প

লোকগল্প হচ্ছে সেসমস্ত গল্প মানুষের মুখে মুখে প্রজন্মের পর প্রজন্ম পাড়ি দিচ্ছে। এগুলো গদ্য আকারে রচিত এবং সরল কিংবা জটিল হতে পারে। বিষয়, অর্থ এবং গঠনের উপর ভিত্তি করে লোকগল্প হতে পারে রূপকথা, মিথ, অ্যাডভেঞ্চার গল্প, বীরত্বের গল্প, ঐতিহাসিক গল্প, মনীষীদের গল্প। এদেশীয় গল্পের চরিত্রগুলো মূলত ভাগ্যনির্ভর এবং গল্পগুলোতে জ্ঞান, বুদ্ধির বদলে জাদুকরী শক্তির প্রাধান্য দেখা যায়।

উপসংহার:

বিশ্বায়নের ফলে আজ মানুষ বিদেশি বিশেষ করে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের জীবনাচরণে অভ্যস্থ হয়ে পড়ছে৷ কিংবা এটাই এখন স্টাইল হিসেবে উপস্থাপন করছে৷ যার ফলে আমরা ভুলে যাচ্ছি নিজেদের অতীত৷ অরিজিন৷ এখনই সময় সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে আমাদের লোক সাহিত্য রক্ষা করা৷ পাশাপাশি প্রাত্যাহিক জীবনে তার প্রয়োগ করা৷

তথ্যসূত্র:

– উইকিপিডিয়া৷
– বাংলাপিডিয়া৷
– www.myallgarbage.com
– ফেসবুক
– অন্যান্য

(লেখক কর্তৃক আপলোডকৃত। অসম্পাদিত)

বাংলাদেশের লোক সাহিত্য-প্রবন্ধ রবীন জাকারিয়া

আবু হানিফ জাকারিয়া

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২ , ৬:৪১ অপরাহ্ণ

প্রত্যাবর্তনের পথ চেয়ে

গহীন অরন্যের বুক চিরে হেটে যাবার কথা ছিল
সেই সুযোগ আজো হয়ে ওঠেনি।
গভীর সাগরের বুক চিরে চলে যাবার কথা ছিল
এই পৃথিবীর অন্য কোন মহাদেশে।
স্বপ্ন অবিরাম দেখে যাই শুধু, স্বপ্ন পুরনের বাধা
পেরিয়ে উঠতে পারিনি আজো।
নিত্যদিনের ছুটে চলা বেড়েই চলেছে ক্রমশ জোটেনি গণ্ডির বাইরে যাবার ফুরসৎ।

এই ছোট ছোট ইচ্ছেগুলো নিয়ে একদিন হয়ত
মিশে যাব মাটির গভীরে, অন্ধকারে।
স্বপ্নগুলো হারিয়ে যাবে কোন সুদুর অজানায়
ফিরে আর আসবেনা এই হৃদয়ে।
অন্তিম শয়ানে শায়িত আমার শেষ ইচ্ছেগুলো
হয়ত জানতে চাবে কোন প্রিয়জন।
আকুল হৃদয়ে ব্যস্ত হয়ে উঠবে পরিবারের লোক
মেটাতে সেই অপূর্ণ ইচ্ছের ডালি।

শরীর ও মন আর দিতে চায়না কিছুতেই সায়
দৃষ্টি এখন শুধু অনন্ত সময়ের দিকে।
অধীর অপেক্ষা এখন প্রত্যাবর্তনের পথ চেয়ে
সেই পথ আর সময় হয়ত সন্নিকটে।
কি ছিল আর কি নেই সেই হিসাবের দরকার কি?
ভবিষ্যৎের সম্বল মেলানোটাই জরুরি।
পৃথিবীজোড়া খ্যাতি কাজে আসবে কি কারো
অনন্তকালের সম্বল যদি না থাকে?

(লেখক কর্তৃক আপলোডকৃত। অসম্পাদিত)