কবিতা

কবিতা

আবু হানিফ জাকারিয়া

১৬ জানুয়ারি, ২০২৩ , ১০:১১ অপরাহ্ণ

বিভ্রান্ত পথিক

ক্লান্তিহীন চলছি পথ থেকে পথে,

ছুটছি প্রান্তর থেকে প্রান্তর।

খুঁজে পাইনি আজো গন্তব্য।

নগর থেকে নগর, স্টেশন থেকে স্টেশন,

পাহাড়-পর্বত, জঙ্গল, নদী ও সমুদ্র,

কোন বন্দর ঘুরে আবার এক বন্দর,

তবুও কাংখিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারিনি আজো।

অলি-গলি, সড়ক-মহাসড়ক,লেন বাইলেন

কত নাম কত আকৃতি কত বিচিত্র রকমফের,

কত বিচিত্র অভিজ্ঞতা; আমি চলছি ক্লান্তিহীন।

আগুনের পাশে দাঁড়িয়ে দেখেছি, লেলিহান শিখা

জ্বলছে অবিরাম, কিন্তু সারাক্ষণ জ্বলে না,

নিভে একসময়; নেভে না আমার মনের আগুন।

রংবেরঙ এর মানুষ দেখি, দেখি নানা রকমের

খেলা খেলে চলছে যারা এই সময়ের খেলারাম।

বিভ্রান্তি ভর করে আমার মগজ বিকল করে দেয়, আমি ভুলে যাই আমার গন্তব্য, আমার শেষ ঠিকানা। আমি লোভী হয়ে যাই, থেমে যাই;

খেলা দেখে আনন্দ পাই, অপার আনন্দ আমার।

গন্তব্যে পৌঁছাতে পারিনা আমি বিভ্রান্ত পথিক।

বিভ্রান্ত পথিক

মুগ্ধতা.কম

২৮ ডিসেম্বর, ২০২২ , ১০:৩৫ অপরাহ্ণ

পল লরেন্স ডানবারের দুটি কবিতা

অনুবাদ : আকিব শিকদার

আমেরিকার কবি পল লরেন্স ডানবার এর জন্ম ১৮৭২ খ্রিষ্টাব্দে। পলের পিতামাতা ছিলেন ক্রীতদাস। কঠিন দারিদ্রতা আর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তার শৈশব কেটেছে। দাসত্বের পীড়া নিয়ে বহু লেখা লিখেছেন তিনি। রূপকতা তার লেখার গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ঠ্য। লিখেছেন অল্প, তবে প্রতিটি সৃষ্টিই যেন তাঁর সেরা সৃষ্টি। ১৯০৬ খ্রিষ্টাব্দে মাত্র ৩৪ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। স্বল্পায়ু এই কবি আমেরিকার প্রথম সার্থক নিগ্রো কবি হিসেবে স্বীকৃত।

পল লরেন্স ডানবার এর বেশ কিছু কবিতা ইংরেজিতে রূপান্তর করেছিলেন আলবেরিক উডনি।

উদীয়মান সূর্য

সোনার থালার মতো একটি চাকতি

রোজ উঁকি দেয় পূর্ব নীলিমায়

জ্বলন্ত পয়সার মতো সেই চাকতিটি

পশ্চিমা গাছের আড়ালে রোজ ডুবে যায়।

প্রভাতে উঠে সে মৃদু তাপে

দুপুরে খড়তাপ পুড়িয়ে দেয় প্রান্তর

গোধূলিতে পুনরায় মৃদু তাপ।

মানব জীবন সেই সূর্যেরই মতো

যৌবনে তেজোদীপ্ত, কৈশোরে বার্ধক্যে নিস্তাপ।

সহানুভূতি

আমি জানি বন্দি পাখিটি কী ভাবছে একাকী!

যখন রোদ আলো ছড়ায় উপত্যকা ঢালে;

যখন বায়ু নাচে সুলম্ব ঘাসের ডগায়,

এবং নদীটি প্রবাহিত হয় চলমান কাঁচের মতো,

যখন প্রথম পাখিটি ডাকে এবং প্রথম কুঁড়িটি জাগে,

এবং যখন পবিত্র পাত্র থেকে সুগন্ধ লুট হয়ে যায়—

আমি জানি বন্দি পাখিটি কী ভাবছে একাকী!

আমি জানি বন্দি পাখিটি কেন পাখা ঝাপটায়

নিষ্ঠুর শিকগুলো তার রক্তে লাল হওয়া পর্যন্ত;

কারন তাকে ফিরে যেতে হবে তার ঠিকানায়,

সে ঝুলন্ত পাতার মতো আনন্দে সেঁটে যাবে শাখায়;

এখন দুঃখগুলো চিহ্নিত এক সফেদ পুরাতন ক্ষতে,

তা আরো স্পন্দিত হয় তীক্ষ্মতর হুলের আঘাতে—

আমি জানি বন্দি পাখিটি কেন পাখা ঝাপটায়!

আমি জানি বন্দি পাখিটি কেন শিস দিয়ে ওঠে,

ওহ্! যখন ডানায় তার রক্তছাপ, অন্তরে বেদনা,—

যখন আঘাত করে শিকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষায়;

সে তো গায় না কোনো আনন্দ-সংগীত,

এ যে হৃদয় নিংড়ানো কোনো প্রার্থনার বাণী,

এ যে অভিশাপ ছুঁড়ে দেওয়া বিধাতার কাছে—

আমি জানি বন্দি পাখিটি কেন শিস দিয়ে ওঠে!

পল লরেন্স ডানবারের দুটি কবিতা

শারমিন সুলতানা কেয়া

২৮ ডিসেম্বর, ২০২২ , ৭:৫২ অপরাহ্ণ

বন্ধু এবং কয়েক টুকরো মেঘ

সহজ কথার সহজ অর্থ 

কখনো বোঝনি তুমি।

শেষ রাতের শিশির ঝরে পড়ার মতোই,

দূরত্ব ছিল তোমার আর আমার।

অথচ—

হৃদপিণ্ডের খুব কাছে ছিলে তুমি।

২.

আমি বললাম—

“আমার একটা ছোট্ট  ঘাসফড়িং চাই”।

আর তুমি—

রঙিন প্রজাপতি খোঁজার ব্যার্থ চেষ্টা করে যাচ্ছ।

৩.

প্রাপ্তির হিসেব মেলাতে গিয়ে কতদুরে সরে গেছ নিজের অজান্তেই।

অথচ, প্রত্যাশার খাতাটা পূর্ণই ছিল তোমার।

৪.

তুমি শেষ বৃষ্টির, শেষ বিন্দু হয়ে ঝরে পড়ো যেকোনো দিন, যেকোনো সময়।

আমি উদার জমিন হয়ে,

পথচেয়ে আছি 

এবং থাকব।

৫.

অতঃপর 

নির্ভরতার নীড়ে

নিশিদিন যাপনে

পারস্পারিক সমঝোতা, বিশ্বাস

আর মায়ার আলিঙ্গনে

বেঁচে থাকুক ভালোবাসা।

৬.

বন্ধু,

ঝিনুকের দিকে তাকিয়ে বলেছিলে—

ঝিনুক আর মুক্তো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বন্ধু।

বৃষ্টির পানি ছুঁয়ে বলেছিলে—

মেঘের জলে আজ পাহাড় সিক্ত হবে।

বন্ধু,

তোমার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আমাকে,

কখনো কি চোখ মেলে দেখেছ?

কখনো কি জানতে চেয়েছ?

কতখানি ভালোবাসি তোমাকে?

বন্ধু,

শুধু একবার ফিরে এসো—

শুধু একবার ছুঁয়ে দেখো,

কী নিদারুন যন্ত্রণা আমার বুকে।

বন্ধু,

শুধু একবার চোখ মেলে দেখো,

তোমার বন্ধুত্বের লড়াইয়ে 

আমিই হবো শ্রেষ্ঠ সৈনিক।

বন্ধু এবং কয়েক টুকরো মেঘ

মজনুর রহমান

২২ ডিসেম্বর, ২০২২ , ১০:১৯ অপরাহ্ণ

মজনুর রহমানের দুটি কবিতা 

নিঃসঙ্গতা 

মায়ের চোখ থেকে নিঃসঙ্গতা নিয়ে এসে

শহরে বাড়ি বানাচ্ছে মানুষ,

এখন দুপুরের ভাতঘুমে সে দেখতে পায়

বাড়ির ছাদে বৃষ্টি পড়ছে-

টিপটিপ টিপটিপ টিপটিপ টিপটিপ অনবরত 

বৃষ্টির ছাঁটে জানালা ভিজে যাচ্ছে,

অদূরে কসাইখানায় দাঁড়িয়ে কাঁদছে লাল ষাঁড় 

আজ তার শেষ দিন পৃথিবীর বুকে।

নিচতলায় মজুরি নিয়ে চলে যাচ্ছে কারিগর 

সারাদিন সেও অবাক হয়ে ভাবে,

এমন নিঃসঙ্গতা দিয়ে মানুষ কী করে বাড়ি বানায়

যেখানে সঠিক পরিমাণে কান্না মেশানো নাই?

বৃষ্টি সাক্ষী

শেষবার আপনি বলেছিলেন, এই তুমুল বৃষ্টি সাক্ষী,

আমাদের আবার দেখা হবে।

বহুকাল আমি সাক্ষীকে হাজির করে বসে আছি,

যেখানে ঝড়ের কোতোয়াল চিৎকার করে ডাকে

অথচ আসামী পলাতক!

জানি বৃষ্টি আপনার জমিনেও হয়;

আপনিও তবে সাক্ষীকে সাথে নিয়ে ভিজতে থাকেন?

যেখানে বিচার আপনার কথামতো ঝরে?

মজনুর রহমানের দুটি কবিতা 

রবীন জাকারিয়া

১৮ নভেম্বর, ২০২২ , ৯:৩১ অপরাহ্ণ

হুমায়ুন ছিল বলেই

হুমায়ুন ছিল বলেই
সবুজে হলুদ রোগাক্রান্ত সমাজের চিত্র পাল্টানোর জন্য
পকেটহীন হলুদ পানজাবি পরিহিত হিমুরা
নিশিতে পথে বেরুনোর আহ্বান করতো!
হুমায়ুন ছিল বলেই
পৌঢ় মিসির আলি হলুদে ব্যাধির
রহস্য উদঘাটনের জন্য
যুক্তির পর যুক্তি সাজাতো৷
শুভ্ররা কালো টাকা, দূর্ণীতি, ঘুষে ভরা
বিত্ত-বৈভবের মাঝেও শুভ্র-সাদা জীবনের স্বপ্ন দেখতো৷
হুমায়ুন ছিল তাই
প্রকাশনাগুলো বাণিজ্য করতো৷
দর্শনার্থী, পাঠক, লেখক, প্রকাশকে মুখর ছিল
হৃদয়ের বই মেলা৷
হুমায়ুন ছিল বলেই
পাঠক ছিল৷ যুব সমাজ বই পড়তো৷
আজ হুমায়ুন নেই
তাই কিশোর-যুবা বই পড়ে না৷
বাবার অসৎ পয়সায় কেনা
পালসার, হাংক কিংবা এপাচীর পিঠে সওয়ার হয় অধিক ক্ষিপ্রতার আশায়৷
ইয়াবা, সিসা অথবা মারিজুয়ানার নীল ধোঁয়ায়
নীল পর্ণোর বিষাক্ত নীল নট হয়ে যায়৷
হুমায়ুন নেই তাই
বইহীন, পাঠকহীন সমাজ!
ফেসবুকিং, চ্যাটিংএ চিটিং হয় যুবা নারী৷
হুমায়ুন নেই বলেই
জ্যোৎস্নার সরোবরে অবগাহন করেনা কেউ৷
সারাদেহে এত ভাইরাস আর কালিমা
এখনইতো সময় জ্যোৎস্নার সরোবরে অবগাহন করে
হলুদে ব্যাধি ধুয়ে শুভ্র হওয়ার৷

(শুভ জন্মদিন হুমায়ুন আহমেদ)
লেখা: রবীন জাকারিয়া

(লেখক কর্তৃক আপলোডকৃত। অসম্পাদিত)

রবীন জাকারিয়া

১৩ নভেম্বর, ২০২২ , ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ

মৃত্যুপুরী রবীন জাকারিয়া

আজ আমি চলে যাচ্ছি—
বড্ড গুমোট আর খাঁচায় আবদ্ধ
জীব মনে হয় নিজেকে!
এখানে ভরা জ্যোৎস্নার আলো পাল্লা দিতে পারেনা তীব্র বাহারী আলোর সাথে,
রঙধনু এখানে পুরোপুরি বিকশিত হতে পারেনা
ছোট্ট আকাশে,
বৃষ্টির সুর ঝংকার শোনার মানুষ নেই এখানে৷
বিত্ত বৈভবে গড়ে উঠেছে বিলাসবহুল
ছোট ছোট শহর, একই শহরে৷
ডিজে পার্টির কর্কশ সুর আর সুরা পানে মত্ত
নর-নারীর যুগল নৃত্য আর কোলাহলে মুখর৷
পাশের ফ্ল্যাটে প্রবাসী সন্তানের নিঃসঙ্গ
বৃদ্ধ মায়ের মৃতদেহ পরে থাকে
আঞ্জুমানে মফিদুলের দায়ভারে৷
এখানে মানুষে মানুষে সম্পর্ক হয় ক্ষমতায়,
টাকা কিংবা পদবীতে৷
স্থাপত্য শৈলীর নামে প্রত্যেকে বাড়ি নয়
নির্মান করেছে
একেকটি কয়েদখানা,
যা গুয়েন্তেনামা কারাগারের চেয়েও ভয়ংকর৷
আমিতো অপরাধী নই!
আমি কারাগারে থাকতে চাইনা কখনো৷
অপরুপ এই বিশাল পৃথিবী দেখে যেতে চাই
আমৃত্যু, মুক্ত পাখির মত৷
তাই বিবর্ণ, মেকি এই মৃত্যুপুরী থেকে
পালাতে চাই আজ, এখনই৷

(লেখক কর্তৃক আপলোডকৃত। অসম্পাদিত)

মৃত্যুপুরী রবীন জাকারিয়া