কবিতা

কবিতা

প্রমথ রায়

১৪ মার্চ, ২০২১ , ১২:০২ অপরাহ্ণ

প্রমথ রায়ের দুটি কবিতা

কবি আমি অপভ্রংশ

আমি জিন্স পাঞ্জাবি পড়ে কবিতা লেখা শিখে গেছি 

ক্ষয়ে যাওয়া স্যান্ডেল শব্দ তৈরি করে না

                 বরং বেদনাকে জাগিয়ে তোলে,

ডাইরির ভাঁজপাতায় লুকিয়ে রাখা লুকোচুরি 

ভুলে যাওয়া সংখ্যার মতো আর্তনাদ করে

তোমার জমিয়ে রাখা জলসা ঘর শ্যাওলা বন্দি,

আমি রাত জেগে জেগে ভাবি তোমার ইনবক্সের ইতিহাস

তবু একমুঠো রাত আমাকে দিও

আমি সাইকেলের বেলের শব্দ শুনে ভাবি

রাস্তা এখনও রাতের প্রহরীদের প্রলাপ শোনে,

আমি রাতের কারফিউ জেনে ভেবেছিলাম

আবার কি দুমুঠো শব্দে ফুঁ দিয়ে ভাবতে হবে

সব কথা পকেটের ভাঁজে জমা থাকে না

কেউ কেউ অকারণে ভালোবাসে

                                     রাত নয় আমাকে

আমি রাত হতে চাই, অন্ধকারে লুকিয়ে রাখা জোনাকি

তবুও তোমার দেওয়া শর্তমালা বিনাশর্তে চুরি হলে ভাবি

এসব কবিতা নয়, বরং চুরিরই এক অনভ্যেস গাঁথা ।

——————————————————————

শহর নামক ছেঁড়া  পাতা

শহর নামক ছেঁড়া পাতা আমার বাতুলতার মূল্যহ্রাস

আমি কাঠগোলাপ দিয়ে কিনতে চেয়েছি

তোমার হাত বদলানোর ভুভুজেলা

হর্ষধ্বনি হ্রাস করো, আমিও জুতোর রং বদলে নিয়েছি

চামড়া কাটতে কাটতে আমি এখন চামড়াজাত বস্তু

এ কথা লিখে রাখো রাতের নিয়ন বাতির বিলবোর্ডে

আমিও জোনাকীর আলো জমিয়ে রেখে ভেবেছি

তোমার কাছে ছিড়ে নিবো এক টুকরো শহর

তারপর……

তারপর আমরা এ শহরেরই আদিম অ্যাডাম এবং ঈভ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

প্রমথ রায়ের দুটি কবিতা 23

মজনুর রহমান

১০ মার্চ, ২০২১ , ১:১৩ পূর্বাহ্ণ

মজনুর রহমানের কবিতা: টেলিফোন

আপনাকে বলা হচ্ছে না
আপনি ভুল করে বৃষ্টি ফেলে গেছেন আমাদের বাড়িতে,
ফেরত দেবো দেবো করেও ওদিকে যাওয়া হচ্ছে না।
বাড়িতে অনেক কাজ,
পোষা মেঘগুলো বাচ্চা দিতে শুরু করেছে
গ্রাম থেকে অসুস্থ ঝড়েরা আসে ডাক্তার দেখাতে
দুটো অসুস্থ নদী বিছানায় পড়ে আছে
তাদের সবাইকে সামলাতে হয় একা।

এদিকে আমাদের বুড়ো পাহাড়টা প্রতিবেশীর চাঁদকে আছাড় মেরেছে
সেই প্রতিবেশী মামলা করেছে
মামলার কাজে মাঝে মাঝে আকাশে ছুটতে হয়।

তবু সময় করে আপনার বৃষ্টিকে নাওয়া-খাওয়া করাচ্ছি
উঠানে ছেড়ে দিলে ওরা মেঘের বাচ্চাদের সাথে খেলে,
দেখতে বড় ভালো লাগে
একেক সময় মনে হয়, রেখে দিই।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মজনুর রহমানের কবিতা: টেলিফোন 24