মুগ্ধতা.কম

১৩ মার্চ, ২০২০ , ১২:৩৩ অপরাহ্ণ

শিশুদের সর্দি কাশি

ফাগুন আকাশে বাতাসে। রং এ সেজেছে প্রকৃতি। শীত চলে যেতে গিয়েও ফিরে তাকাচ্ছে শীতল পরশ নিয়ে। দিনে মৃদু গরম রাতে শীত। আবহাওয়া পরিবতনের সাথে সাথে শরীরে বিভিন্ন রোগ দেখা যায়। বড়রা আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারলেও শিশুরা পারে না। আবহাওয়া পরিবর্তন জনিত একটি রোগ হলো শিশুদের সর্দি কাশি। যদিও সারাবছর ভাইরাসজনিত এ রোগ হয় তবুও বসন্তের শুরুতে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশুদের বাবা-মা ডাক্তারের চেম্বারে ভীড় করে। আর বর্তমানে করনা আতংকে সবাই আতংকিত। তবে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে করনায় সাধারণতঃ সর্দি হয় না। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস দ্বারা যদি শিশু আক্রান্ত হয় তবে শুরুতে জ্বর সাথে নাক দিয়ে পানি পরে কাশি হয়। অনেকসময় জ্বর-সর্দি কাশি একসাথেই চলতে থাকে। জ্বর অনেকসময় ১০৩ডিগ্রী পযন্ত হয়। শিশু খেতে চায় না। সারাক্ষণ বিরক্ত আর কান্না করে। মায়েরা এসে বলে আমার বাবু কাশির জন্য সারারাত ঘুমাতে পারে না। কাশতে কাশতে দম বন্ধ হয়ে আসে।

চিকিৎসা :
সাধারণ সর্দি কাশির জন্য তেমন কোন চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। ভাইরাসজনিত এ কাশি ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই ভালো হয়ে যায়। শিশুরর জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল সিরাপ খাওয়াতে হবে,জ্বর বেশী হলে কুসুম গরম পানিদ্বারা শরীর মুছিয়ে দিতে হবে।সর্দির জন্য নাক পরিস্কার রাখার জন্য বাজারে solo,norsol নামক নাকের ড্রপ পাওয়া যায়,যা দ্বারা কটনবাডের সাহায্যে নাক পরিস্কার করে দিতে হয়। কাশির জন্য লাল চা,আদা চা,মধু,তুলসীপাতার রস বেশ উপকার দেয়। মনে রাখতে হবে, সাধারণ সর্দি কাশির জন্য অযথা এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করে কোন লাভ নেই। বাজারে কাশির সিরাপ পাওয়া যায় সেসব কখনই দেয়া যাবে না। এসব কাশির সিরাপ শিশুর মৃত্যুও ডেকে আনতে পারে। ঘরের সাধারণ যত্নই শিশুকে সুস্হ্য করে তোলে।

 

ডা. ফেরদৌস রহমান পলাশ

সহযোগী অধ্যাপক, প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর।

চেম্বার: প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর। সিরিয়াল: 01723672651

বদরগঞ্জ চেম্বার: হেলথ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বদরগঞ্জ, রংপুর।

 

শিশুদের সর্দি কাশি 9

মুগ্ধতা.কম

৮ মার্চ, ২০২০ , ২:৫৮ অপরাহ্ণ

শিশুর খাদ্যে অনিহা

মিতুর বয়স ৩ বছর। বাবা – মায়ের একমাত্র সন্তান। মা সারাক্ষণ মিতুর খাবার নিয়ে চিন্তিত।

খাবার নিয়ে সকালবিকাল, রাত ছুটাছুটি। চোর পুলিশ খেলা। খাবারের বাটি দেখলেই মিতু পালিয়ে যায়, পিছু পিছু মিতুর মা।প্রতিদিনের রুটিন কাজ।

মিতুর না খাওয়া পরিবারে অশান্তি ডেকে এনেছে।

শুধু মিতুর মা না,বেশিরভাগ মায়েদের একই অভিযোগ, আমার বাবুটা কিছুই খায় না।

এর সমাধান করতে হলে প্রথমে আমাদের বুঝতে হবে, আমরা খাই কেন? উত্তর সহজ, ক্ষিধা লাগে তাই খাই।

তাই যদি হয় তাহলে শিশুদেরও ক্ষিধা লাগে বলেই খায়। ক্ষিধা না লাগলে খাবে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো,শিশুদের ক্ষিধে লাগার সময়টুকুও দেওয়া হয় না।

প্রতি ঘন্টায় ঘন্টায় মা শিশুকে কিছু না কিছু খাওয়াচ্ছে, এর ফলে শিশুর ক্ষিধা আর পায় না। ফলে পেট ভরে খায় না।

একবার খাওয়ানোর পর অন্যবার খাওয়ানোর জন্য ন্যুনতম ব্যবধান ৪-৬ ঘন্টা হওয়া উচিত। এতে করে শিশু আগ্রহ করে খাবে।

আর একটা বড় সমস্যা হলো জাংক ফুডের সহজলভ্যতা। এখন রাস্তার পাশে ছোট দোকানে দোকানে ঝুলছে চিপসের প্যাকেট, চানাচুর, বিস্কুট। শহরজুড়ে ফাস্ট ফুডের দোকান।

মা- বাবা, আত্মীয় স্বজনরাও খুশি মনে শিশুকে চিপস, কোল্ড ড্রিংক কিনে দিচ্ছেন। আমরাও কারো বাড়িতে বেড়াতে গেলে চিপস নিয়ে যাচ্ছি। এসব খেয়ে শিশু কিছুটা এনার্জি পেলেও পুষ্টি পাচ্ছে না। ফলে শিশুর খাদ্যে অনিহা দেখা দিচ্ছে, ফলে শিশুর স্বাস্থ্য খারাপ ও মেজাজ খিটমিটে হয়ে যাচ্ছে।

করণীয়:
১. শিশুকে পুষ্টিকর বাড়ির তৈরি হাঁড়ির খাবার খাওয়াতে হবে।

২. বাইরের চিপস, চানাচুর, বিস্কুট খাওয়ানো যাবে না।

৩. প্রতিদিন একই খাবার না খাইয়ে, একেকদিন ভিন্ন স্বাদের খাবার খাওয়াতে হবে।

৪. খাবার নিয়ে জোরাজুরি করা যাবে না।

৫. প্রতিদিন কিছু ফল খাওয়ানো অভ্যাস করুন।

৬. প্রতি ৬ মাস অন্তর অন্তর চিকিৎসকের পরামর্শমতো কৃমির ঔষধ খাওয়াবেন।

এরপরও যদি অবস্থার উন্নতি না হয় তবে শিশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

 

ডাঃ ফেরদৌস রহমান পলাশ

সহযোগী অধ্যাপক (শিশু বিভাগ), প্রাইম মেডিকেল কলেজ, রংপুর।
★ রংপুর চেম্বার: প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর। সিরিয়াল: 01723672651
★ বদরগন্জ চেম্বার: হেলথ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বদরগঞ্জ, রংপুর

শিশুর খাদ্যে অনিহা 10