মজনুর রহমান

২ মে, ২০২১ , ৩:১৫ পূর্বাহ্ণ

করোনা পরবর্তী শারীরিক ও মানসিক জটিলতা

করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ থেকে সেরে উঠলেও অনেকের শরীরে ও মনে নানারকম জটিলতা দেখা যাচ্ছে। ব্যক্তি বিশেষে এগুলো বিভিন্ন রকম হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা একে বলছেন ‘পোস্ট কোভিড-১৯’ সিনড্রোম বা

করোনা পরবর্তী শারীরিক ও মানসিক জটিলতা

ডা.ফেরদৌস রহমান পলাশ

৯ মার্চ, ২০২০ , ৫:৫৫ অপরাহ্ণ

করোনা ভাইরাস: রক্ষা কবচ নিজের কাছে

সহযোগী অধ্যাপক (শিশু বিভাগ)
প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর
ডা.ফেরদৌস রহমান পলাশ
Latest posts by ডা.ফেরদৌস রহমান পলাশ (see all)

বর্তমানে যে রোগ নিয়ে বিশ্ব আলোড়িত তা হলো করোনা ভাইরাস, এখন যাকে বলা হচ্ছে COVID-19. চীন থেকে উৎপত্তি হয়ে এ রোগ ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপি। বিশ্বের ১০৩ টি দেশে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসে এখন...

corona virus
করোনা পরবর্তী শারীরিক ও মানসিক জটিলতা

করোনা পরবর্তী শারীরিক ও মানসিক জটিলতা

করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ থেকে সেরে উঠলেও অনেকের শরীরে ও মনে নানারকম জটিলতা দেখা...

corona virus

করোনা ভাইরাস: রক্ষা কবচ নিজের কাছে

সহযোগী অধ্যাপক (শিশু বিভাগ)
প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর
ডা.ফেরদৌস রহমান পলাশ
Latest posts by ডা.ফেরদৌস রহমান পলাশ (see all)
বর্তমানে যে রোগ নিয়ে বিশ্ব আলোড়িত তা হলো করোনা ভাইরাস, এখন যাকে বলা হচ্ছে...

মজনুর রহমান

২ মে, ২০২১ , ৩:১৫ পূর্বাহ্ণ

করোনা পরবর্তী শারীরিক ও মানসিক জটিলতা

করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ থেকে সেরে উঠলেও অনেকের শরীরে ও মনে নানারকম জটিলতা দেখা যাচ্ছে। ব্যক্তি বিশেষে এগুলো বিভিন্ন...

ডা.ফেরদৌস রহমান পলাশ

৯ মার্চ, ২০২০ , ৫:৫৫ অপরাহ্ণ

করোনা ভাইরাস: রক্ষা কবচ নিজের কাছে

সহযোগী অধ্যাপক (শিশু বিভাগ)
প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর
ডা.ফেরদৌস রহমান পলাশ
Latest posts by ডা.ফেরদৌস রহমান পলাশ (see all)
বর্তমানে যে রোগ নিয়ে বিশ্ব আলোড়িত তা হলো করোনা ভাইরাস, এখন যাকে বলা হচ্ছে COVID-19. চীন থেকে উৎপত্তি হয়ে...

মজনুর রহমান

২ মে, ২০২১ , ৩:১৫ পূর্বাহ্ণ

করোনা পরবর্তী শারীরিক ও মানসিক জটিলতা

করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ থেকে সেরে উঠলেও অনেকের শরীরে ও মনে নানারকম জটিলতা দেখা যাচ্ছে। ব্যক্তি বিশেষে এগুলো বিভিন্ন রকম হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা একে বলছেন ‘পোস্ট কোভিড-১৯’ সিনড্রোম বা (more…)

করোনা পরবর্তী শারীরিক ও মানসিক জটিলতা

মুগ্ধতা.কম

২ জুলাই, ২০২০ , ৭:৪৬ অপরাহ্ণ

ডিমেনশিয়া কী?

ভুলে যাওয়া রোগ

ডিমেনশিয়া নিয়ে আমাদের দেশে আলোচনা খুবই কম হয়। যদিও বর্তমানে সরকার ও বেশকিছু বেসরকারি সংস্থা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। ফলে কিছু কিছু সচেতনতা বাড়ছে।এই অবস্থায় অনেকেই জানতে চান ডিমেনশিয়া আসলে কী? তাদের জন্য আজকের এই বিষয়।

ডিমেনশিয়া ল্যাটিন শব্দ dementare, যার অর্থ পাগল করে দেয়া-হতে উদ্ভূত। স্মৃতিভ্রংশ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির বুদ্ধি, স্মৃতি ও ব্যক্তিত্ব লোপ পাওয়া এবং রোগ ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকার অবস্থাকে ডিমেনশিয়া বলা হয়। সাধারণত, প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা এ রোগে আক্রান্ত হয় এবং হঠাৎ করেই অনেক কিছুই মনে করতে পারেন না। ফলে তার আচরণে কিছুটা অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হয়।

মস্তিষ্কের কোষ সংখ্যা (নিউরন) বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্দিষ্ট হারে কমতে থাকে। বয়সের সঙ্গে শারীরিক রোগব্যাধি মস্তিষ্কের ক্ষতি করে যদি স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ভন্ডুল করে দেয়, একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ডিমেনশিয়া বলে। ডিমেনশিয়ার সবচাইতে প্রচলিত রূপ হল আলঝেইমার রোগ ।

ডিমেনশিয়ার কারণ

বিভিন্ন রোগের কারণে ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ রোগ হতে পারে, যেমন, এইডস, দীর্ঘমেয়াদী ধূমপান ও মদ্যপান, আলঝেইমার, ভিটামিন বি’এর অভাব, কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়া, মস্তিষ্কের রোগ এবং অনৈতিক জীবনযাপন ইত্যাদি।

লক্ষণ

ডিমেনশিয়ার প্রাথমিক বিস্তার খুবই ধীরে হয়, এমনকি মাস কিংবা বছর ধরেও হতে পারে। ভুলে যাওয়ার কারণে রোগী হতাশা, নিদ্রাহীনতা ও অন্যান্য সমস্যায় ভোগে এবং আস্তে আস্তে অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।

রোগের হার

মূলত প্রবীণ ব্যক্তিরাই এ রোগে ভোগেন। ৬০ বছরের কম রোগীদের হার ০.১ শতাংশ, ৬০-৬৪ বছর বয়সী রোগীদের মধ্যে এ রোগের হার ১ শতাংশ, ৬৫-৮৪ বছর বয়সী রোগীদের মধ্যে এ রোগের হার ৩ থেকে ১১ শতাংশ এবং ৮৫ বছরের বেশি বয়সী রোগীদের মধ্যে এ রোগের হার ২৫ থেকে ৪৭ শতাংশ।

রোগের চিকিৎসা

কিছু কিছু ওষুধ যেমন donepezil, nemantidine, এবং tacrine রোগীর চিন্তাশীলতা ও শনাক্তকরণ ক্ষমতা বাড়ায়। এসব ওষুধ ডিমেনশিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। যদিও এসব চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করা উচিত নয়। ডিমেনশিয়া রোগটি জটিল হয়ে গেলে রোগীর সেরে ওঠার আর কোনো সম্ভাবনা থাকে না।

ডিমেনশিয়া রোগীর যত্ন

ডিমেনশিয়া রোগটি শনাক্ত হওয়ার পরপরই চিকিৎসা সেবা শুরু করা দরকার। রোগীর প্রত্যহিক জীবনের মান বাড়ানো, তাকে যথাযথ সন্মান, সঙ্গ এবং সেবা দেয়া, রোগী ও তার স্বজনদের প্রাত্যহিক কর্মতালিকার সমন্বয়- রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি-পাওয়াকে কমাতে পারে। এখন পাশ্চাত্যের দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও এসব রোগীর সেবা দেয়ার জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কেয়ারগিভার সরবরাহ করে থাকে।

সচেতনতা

রোগটি নিয়ে মুশকিল হলো, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ ভুলে যাবেন—এমনটি ধরেই নেওয়া হয়। ফলে ডিমেনশিয়া রোগটি সম্পর্কে বেশির ভাগ মানুষ সচেতন থাকেন না। এখন এমন অনেক ওষুধ আবিষ্কার হয়েছে, যেগুলো সেবন করলে ডিমেনশিয়া তীব্র হওয়া রোধ করা যায়। কিন্তু বেশির ভাগ রোগী আসেন একেবারে শেষ পর্যায়ে। বিভিন্ন রোগ থেকে ডিমেনশিয়ার উৎপত্তি। তাই ধূমপান থেকে বিরত থাকা ও সুস্থ জীবনযাপন করাটা জরুরি।

সূত্র: উইকিপিডিয়া ও পত্রপত্রিকা

 

ডিমেনশিয়া ভুলে যাওয়া রোগ

মুগ্ধতা.কম

১০ জুন, ২০২০ , ১১:৩৮ অপরাহ্ণ

কি করে ভালো একটি ঘুম ঘুমাবেন?

কি করে ভালো একটি ঘুম ঘুমাবেন

জীবনের এক তৃতীয়াংশ কাটে ঘুমে। আর ঘুম হয় একটি রাসায়নিক উপাদানের কারণে। নাম : মেলাটোনিন। মাথার ভেতর পিনিয়াল নামের একটি গ্ল্যান্ড থেকে এটি বের হয়। উপাদানটি বেরিয়ে আসে অন্ধকার পেলে। কমে যায় আলো দেখলে। অনেকে তাই মেলাটোনিনকে অন্ধকারের হরমোন বলে।

ঘুমের স্টেজ দুটি। শুরুতে ঘুম ঘুম ভাব, তারপর পুরো ঘুমের ভাব। বিজ্ঞানের ভাষায় ঘুম ঘুম ভাবকে বলে non REM এবং পুরো ঘুমকে বলে REM।

REM মানে হলো Rapid Eye Movement

জেগে থাকলে চোখের বল এদিক-ওদিক ঘুরে। ঘুম ঘুম ভাবের সময় চোখ বন্ধ করলে চোখের বল ঘোরা থেমে যায়। ঘুম ঘুম ভাবের সময় এই চোখ না ঘোরাকে বলে non REM। এই সময় ঘুম হয় না, ঘুমের চেষ্টা করা হয়। একবার এপাশ ঘুরে তো আরেকবার ওপাশে ফিরে। একবার কোলবালিশ পেঁচিয়ে ধরে, আরেকবার গালে হাত দিয়ে একপাশে চেপে মরে। এই করতে করতে হঠাৎ মনে হয় যেন কোথায় ঢুকে যাচ্ছে। এপাশ-ওপাশ ঘোরা বন্ধ হয়ে যায়। ঠিক তখন চোখের বল ঘুরতে থাকে। এই জন্যে এই স্টেজকে বলে REM। আর এই স্টেজটাই ঘুম। আসল ঘুম। এই সময়ে শরীর ঘুরে না, কিন্তু চোখ ঘুরে। কারণ হলো, এই সময়ে মস্তিষ্কের ভেতর যা ঘটতে থাকে কাণ্ড, চোখ তাকে দেখতে থাকে। আর এই মস্তিষ্কের কাণ্ডটি হলো স্বপ্ন। জাগ্রত অবস্থায় চোখ যেমন ঘোরে, ঘুমন্ত অবস্থায় তেমনি স্বপ্ন দেখতে চোখ ঘোরে। আর যখন স্বপ্ন দেখতে থাকে, তখনই বাস্তব থেকে সরে গেছে বলে সেটিকে পুরো ঘুম বলে।

দেখা গেছে ঘুমের এই দুই স্টেজের মধ্যে পঁচাত্তর ভাগ হলো ঘুম ঘুম ভাবের non REM। বাকি পুরো ঘুমের REM হলো মাত্র ২৫ ভাগ। তাই লোকে অনেকক্ষণ ঘুমালেও বেশিক্ষণ স্বপ্ন দেখে না।

পুরো দুই স্টেজের সাইকেলটি একবার শেষ হতে দুই ঘন্টা লাগে। আট ঘন্টা ঘুমোলে চার বার এমন সাইকেল ঘটে। তারমানে – আট ঘন্টা ঘুমের মাত্র দুই ঘন্টা প্রকৃত ঘুমে কাটে।

আর এই দুই ঘন্টা ঘুম ঠিক মতো দেওয়াও অনেকের জন্যে কঠিন হয়ে যায়! অথচ বিছানায় আট ঘন্টা শুয়ে থেকে চ্যাপ্টা হবার উপক্রম হয়।

তাহলে কি করে ভালো একটি ঘুম দিতে পারবেন?

এক. সন্ধ্যের পর ঘরের আলো যত কম রাখা যায়। বারান্দার লাইট জ্বালালে সিটিং রুমে টেবিল ল্যাম্প জ্বালান। তৈরী করুন একটি আলো আঁধারির পরিবেশ। কারণটি ঘুমের প্রসেসের মধ্যেই আছে। বলেছিলাম শুরুতে – ঘুম হয় মেলাটোনিন সিক্রেট হলে। যত বেশি মেলাটোনিন, তত তাড়াতাড়ি ঘুম। মেলাটোনিন অন্ধকারের হরমোন।

দুই. সন্ধ্যায় চা-কফি খাবেন না। চা কিংবা কফি খাবেন সকালে কিংবা দুপুরে। রাতে নয়। এক কাপ কফির এফেক্ট শরীরে থাকে দশ থেকে বারো ঘন্টা। বিকেল পাঁচটায় কফি খেলে শরীরে তার ইফেক্ট যেতে হয়ে যাবে রাত দুটা!

তিন. রাতে পেট পুরে খাবেন না। গলা পর্যন্ত খাবেন না। এমন খান, যাতে মনে হয় আশি ভাগ পেট পুরেছে। বেশি খেলে শরীর ব্যস্ত থাকে অধিক সময় নিয়ে পরিপাক করতে। যতো বেশি সময় নেবে, ততো দেরিতে ঘুম হবে।

চার. বিছানায় যাবার তিন ঘন্টা আগে রাতের খাবার খাবেন। শরীরে খাদ্য পরিপাকের গড় সময় দুই ঘন্টা। দেশের লোকজন রাত দশটায় খায়। বিছানায় যায় এগারোটায়। তারপর হয়তো সোশ্যাল মিডিয়ায় উঁকি ঝুঁকি দিয়ে ঘুম আসে দুটায়! রাতের খাবার খাবেন আটটা থেকে নয়টায়। দেখবেন – বারোটার আগেই ঘুম চলে আসবে।

পাঁচ. রাতে মাংস খাবেন না। পরিপাক হতে সময় নেয়। মাছ, শাক-সবজি, ডাল খাবেন। সাথে সালাদ। মিষ্টি না খেয়ে দই খাবেন। ফল খাবেন দিনের বেলায়।

ছয়. বিছানায় যাওয়ার এক ঘন্টা আগে টিভি এবং মোবাইল ফোন দুটোই বন্ধ রাখবেন। যে কোনো স্ক্রিন থেকে বের হওয়া আলো মস্তিষ্ক থেকে মেলাটোনিন বের হতে বাধা দেয়।

সাত. বিছানায় উত্তেজনাকর কিছু পড়বেন না! পত্রিকা হোক, সোশ্যাল মিডিয়ার হোক, কিংবা উষ্ণ কিছু! কবিতা – মন এবং মস্তিষ্ককে সুস্থির করে। ছোট ছোট অনুপ্রেরণার কথাও মনকে ধীর এবং গভীর করে তুলে।

আট. বিছানায় যাবার আগে দাঁত ব্রাশ করুন, হাত, মুখ এবং পা ধুয়ে নিন। যারা নামাজ অথবা পুজো করেন, প্রার্থনা করুন। ঘুমের আগে প্রার্থনা কিংবা মেডিটেশন – শরীর এবং মনকে সুস্থির করে।

নয়. ঘুমের আগে বিছানায় বা রুমে কোনো সুগন্ধি স্প্রে করুন। নিজের প্রিয় কোনো গন্ধ মস্তিষ্ককে রিলাক্স করে।

দশ. সর্বশেষ, ঘুমের আগে এলকোহল খাবেন না। এলকোহল ঘুম আনায় না, উল্টো ঘুম হরণ করে।

ডা. অপূর্ব চৌধুরী
চিকিৎসক এবং লেখক
জন্ম বাংলাদেশ, বসবাসইংল্যান্ড
গ্রন্থ ৭
উল্লেখযোগ্য বই: অনুকথা, জীবন গদ্য, বৃত্ত

কি করে ভালো একটি ঘুম ঘুমাবেন - ডা. অপূর্ব চৌধুরী

মুগ্ধতা.কম

৩১ মার্চ, ২০২০ , ৩:৫২ অপরাহ্ণ

করোনা ভাইরাস: গর্ভবতী ‍ও দুগ্ধদানকারী মায়েদের করণীয়

গর্ভাবস্থায় থাকা নারীরা শারিরীক ও মানসিকভাবে এমনিতেই নানা ধরণের জটিলতায় থাকেন। একইসাথে এসব নারীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কম থাকে। ফলে করোনাসহ যে কোন ধরণের ভাইরাল ইনফেকশন সহজেই তাদের কাবু করতে পারে।

তবে শুধু গর্ভবতী হলেই যে তাকে ভাইরাস আক্রমন করবে এরকম কোন প্রমাণ পাওয়া যায় নি।

এ সময়ে গর্ভবতী নারীর করণীয় কী কী?

১. সব রকম পরিচ্ছন্নতার নিয়ম কানুন বজায় রাখা।

২. যারা বাইরে যায় বা যারা বাইরে থেকে আসা লোকজনের সংস্পর্শে আসে তাদের সংস্পর্শে না আসা।

৩. বাইরে ভ্রমণ না করা। এটা এসময় অত্যন্ত দরকারি

৪. পদক্ষেপ।রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং গর্ভস্থ শিশুর সুস্বাস্থ্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় সকল ডাক্তারি পরামর্শ মেনে চলা।

মায়ের শরীরে ভাইরাস থাকলে গর্ভস্থ শিশু কি আক্রান্ত হতে পারে?

এর উত্তর হলো, আপাতত না। কারণ এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত গবেষণার ফল বলছে মায়ের শরীরে ভাইরাস বাসা বাঁধলে সেটি গর্ভস্থ শিশুর শরীরে যায় না।একটি গবেষণায় ১০৯ টি নবজাতক শিশুর উপর গবেষণায় চালানো হয় যাদের মা কোভিড-১৯ এর দ্বারা আক্রান্ত কিন্তু শিশুদের শরীরে এমন কিছু পাওয়া যায় নি।

নবজাতককে বুকের দুধ খাওয়াতে সমস্যা আছে কি?

না। বুকের দুধে সমস্যা নেই। তবে এসময় যা খেয়াল রাখতে হবে তা হলো:

১. যখন দুধ পান করাবেন তখন যেন আপনার হাত ও স্তন পরিপূর্ণ পরিস্কার থাকে।

২. একই সময়ে আপনি মাস্ক পরে নেবেন যাতে আপনার হাঁচি-কাশির ড্রপলেট, মুখের লালা ইত্যাদি শিশুর গায়ে-মুখে না লাগে।

৩. যদি কোন কারণে বাইরের দুধ খাওয়ান তাহলে সেই পাত্র যথাযথ পরিচ্ছন্ন কি না তা খেয়াল করুন।

সর্বোপরি, করোনা ভাইরাস বারবার তার চরিত্র পাল্টাতে চায়। এবং এসব বিষয় নিয়ে গবেষণাও বিস্তর নেই। কাজেই এসব ক্ষেত্রে গর্ভবতী এবং দুগ্ধদানকারী মায়েরা অত্যন্ত সতর্ক থাকবেন এটাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ।

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, দ্যা গার্ডিয়ান এবং ভারতের মাদারহুড হাসপাতাল-এর ওয়েবসাইট অবলম্বনে।

 

করোনা ভাইরাস: গর্ভবতী ‍ও দুগ্ধদানকারী মায়েদের করণীয়

মুগ্ধতা.কম

৩০ মার্চ, ২০২০ , ৪:৩৯ অপরাহ্ণ

করোনা আতঙ্ক : আপনি কি যৌন সংসর্গে আসতে পারবেন?

এটা খুবই স্বাভাবিক একটি প্রশ্ন যে, করোনা ভাইরাস আতঙ্কের সময়ে যখন মানুষ দিনের পর দিন ঘরের ভেতর সময় কাটাচ্ছেন তারা সঙ্গীর সাথে যৌন সংসর্গে যেতে পারবেন কি না। এর উত্তর গুগলে শত শতবার খোঁজা হচ্ছে। বাংলায় কিছু আধা চটি পত্রিকা এ সম্পর্কে রগরগে ছবি দিয়ে কেউ বলছে পারবেন কেউ বলছে পারবেন না।

কিন্তু এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ মতামত আসলে কী? মুগ্ধতা ডট কমের পক্ষ থেকে পাঠকের সুবিধার্থে এর উত্তর দুই ভাবে সাজিয়ে লেখা যায়:

১. কখন যৌন সংসর্গে মিলিত হতে পারবেন?

এর উত্তর হলো, আপনারা দুজনেই কমপক্ষে দুই সপ্তাহ পরিপূর্ণ হোম কোয়ারান্টাইনে ছিলেন, বাইরে একবারও যান নি, বাইরের কেউ একবারও আপনাদের কারও সংস্পর্শে আসে নি কিংবা বাইরে থেকে আসা ব্যক্তির সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তির সংস্পর্শে আসেন নি এবং এই সময় পর্যন্ত আপনারা কেউ সর্দি, কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা এ জাতীয় উপসর্গে ভোগেন নি- তাহলে আপনারা দুই সপ্তাহ পর যৌন সংসর্গ বা সহবাসের জন্য নিরাপদ।

২. কখন যৌন সংসর্গে আসতে পারবেন না?

এর উত্তর হলো, এক নম্বর প্রশ্নের উত্তরের কোন ব্যতিক্রম বা নড়াচড়া হলে আপনাদের জন্য এখন যৌন মিলন অনিরাপদ। এর কারণ হলো:

ক. সর্দি, কাশি থেকে নিঃসৃত ড্রপলেট ভাইরাস ছড়ায়।

খ. মুখের লালা, রস ইত্যাদি থেকে ভাইরাস ছড়ায়।

গ. আপনার হাত সঙ্গীর মুখে পড়লে সেখান থেকে ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে।

ঘ. মোট কথা, করোনা ভাইরাস ছড়ানো রোধে যে সামাজিক দূরত্বের কথা বলা হচ্ছে, আপনার সহবাসের দ্বারা সেই শর্ত লঙ্ঘিত হচ্ছে। কাজেই আপনারা এখন অনিরাপদ।

ফোর্বস সাময়িকী এ প্রসঙ্গে একটি মজার বিষয়ের অবতারণা করেছে তা হলো, আপনার যৌন মিলনের মাধ্যমে যে শুক্রাণু-ডিম্বাণুর মিলন হচ্ছে তাতে ভাইরাস ছড়ায় না। কিন্তু চুমুরস বা লালার মাধ্যমে ছড়ায়। তাহলে আপনি কি তিন ফুট দূরে থেকে চুমু বিনিময় না করে সহবাস করতে পারবেন? যদি পারেন তাহলে আপনি নিরাপদ!

এ কথা বলা যায় যে, কোভিড-১৯ একটি ভয়ংকর রকমের চরিত্র পাল্টে ফেলতে সক্ষম ভাইরাস, কাজেই এর সম্পর্কে অনেক কিছুই এখনও চূড়ান্তভাবে বলা যায় না। গবেষকেরা এখনও এর চরিত্র সম্পর্কে পরস্পরবিরোধী বা স্ববিরোধী কথা বলছেন এর এই বৈশিষ্টের কারণেই। সুতরাং সাবধান থাকতে দোষ কী! কিছুদিন না হয় ধৈর্য ধারণ করলেন।

 

তথ্য সহায়তা :
দ্যা নিউইয়র্ক টাইমস, দ্যা ফোর্বস, নিউইয়র্ক সিটি হেল্থ গাইডলাইন।

 

করোনা আতঙ্ক : আপনি কি যৌন সংসর্গে আসতে পারবেন?

মুগ্ধতা.কম

১১ মার্চ, ২০২০ , ৬:২৩ অপরাহ্ণ

করোনা ভাইরাস: যা জানতেই হবে

আমাদের দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে এটা প্রায় সকলেই জেনে গেছেন। এখন প্রশ্ন হলো এটা নিয়ে আমাদের কতটুকু চিন্তিত হওয়া উচিত এবং প্রতিরোধ করার জন্য কী ব্যবস্থা নেয়া দরকার এবং আমাদের লাইফস্টাইলটা কেমন হলে আমরা করোনা ভাইরাসকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম হব ইন শা আল্লাহ্ঃ

১. আমাদের প্রথম কাজ হলো এটা নিয়ে গুজব না ছড়ানো, অতিরিক্ত আতংকিত না হওয়া। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর মধ্যে মৃত্যুর হার মাত্র ১-২%। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অন্যান্য অনেক রোগ আছে যেসবের মৃত্যুর হার করোনার চেয়ে বেশি। সুতরাং উল্টোপাল্টা গুজব না ছড়িয়ে ধৈর্য ধরে ব্যবস্থা নিতে হবে।

২. করোনা ভাইরাস আকৃতিতে বড়। এটা সাধারণত বাতাসে ভাসে না৷ তাই বাতাসের মাধ্যমে ছড়ানোর সম্ভাবনা কম৷ এটা মূলত ছড়ায় Droplet তথা হাঁচি, কাশি, সর্দির মাধ্যমে। এ কারণে আমাদের যতটা না মাস্ক ব্যবহার করা দরকার তার চেয়ে বেশি দরকার হাত ধোয়া। মাস্ক ব্যবহার করতে গিয়ে আবার হিতে বিপরীত হতে পারে৷ কারণ বেশিরভাগ মানুষই মাস্ক সঠিকভাবে ব্যবহার করতে জানে না। আমাদের উচিত বারবার হাত ধোয়া, খাবার আগে, টয়লেটের পরে, সন্দেহজনক কিছু ধরার পরে। মোট কথা যত বেশি পারা যায় হাত ধোয়া।

৩. বেশি বেশি ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খাওয়া যেমনঃ আমলকি, লেবু, কাঁচা মরিচ ইত্যাদি। চায়নাতে করোনা ভাইরাসের চিকিৎসা করার জন্য শিরাপথে ভিটামিন সি ব্যবহার করে বেশ ভালো রেজাল্ট পাওয়া গেছে।
রেফারেন্সঃ
https://clinicaltrials.gov/ct2/show/NCT04264533

ভিটামিন সি শরীরে প্রদাহ কমায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, এতে প্রচুর এন্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে৷ তাই বেশি করে ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খান।

৪. ফাস্টিং তথা না খেয়ে থাকা। আমরা অনেকেই জানি ফাস্টিং আমাদের ইমিউনিটি তথা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আমাদের উচিত বেশি বেশি ফাস্টিং করা এতে করোনা ভাইরাস আমাদের আক্রমণ করার সুযোগ পাবে না ইন শা আল্লাহ্।

৫. যাদের অন্য রোগ আছে যেমনঃ ডায়াবেটিস, হার্টের সমস্যা, শ্বাসকষ্ট, এজমা ইত্যাদি এবং যারা বয়স্ক তাদের অধিক সতর্ক থাকতে হবে। করোনা সাধারণত এনাদেরই বেশি আক্রমণ করে৷ কারণ তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। তাই যারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত, খুব সতর্ক থাকবেন।

আরো পড়ুনঃ করোনা ভাইরাস: রক্ষা কবচ নিজের কাছে

৬. রোগ দেয়ার মালিক আল্লাহ্, সুস্থ করার মালিকও তিনিই৷ তাই আমাদের সবচেয়ে জরুরী যে কাজ তা হলো আল্লাহর কাছে দুয়া করা৷ তিনি যেন এই মহামারী থেকে আমাদের রক্ষা করেন।

করোনা ভাইরাসের লক্ষণগুলো সাধারণ ফ্লু গুলার মতই। জ্বর, সর্দি, কাশি ইত্যাদি। এই লক্ষণগুলো যদি দেখা দেয় তাহলে প্রথমে ধৈর্য ধরে সাধারণ ব্যবস্থাগুলো নিতে হবে। ৭-১০ দিন পরেও যদি ভাল না হয় এবং যদি শ্বাসকষ্ট সহ রোগের অবনতি হয় তবে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশে পরীক্ষা করার জন্য IEDCR এ যোগাযোগ করতে হবে। রোগীগণ নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

মাস্ক ব্যবহার প্রসঙ্গে

করোনা ভাইরাস বাংলাদেশে আসার পর হুট করে মাস্কের দাম বেড়ে গেছে। ১৫০ টাকায় যে বক্স বিক্রি হত তা এখন ১৫০০-২০০০ টাকা! কিন্তু করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে আসলেই কি মাস্ক পরার প্রয়োজন আছে?

করোনা ভাইরাস একটি বড় আকৃতির ভাইরাস। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে এটি বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় না। এটা ছড়ায় respiratory droplets অর্থাৎ হাঁচি, কাশি, সর্দি ইত্যাদির মাধ্যমে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কারো এই ড্রপলেটগুলোর সাথে আপনারা যদি সরাসরি কন্টাক্টে আসেন তথা স্পর্শ করেন তখন আপনার শরীরে এই ভাইরাস ঢুকতে পারে।

World Health Organisation (WHO) এর গাইডলাইন অনুযায়ী কোনো সুস্থ মানুষের করোনা ভাইরাসের আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য কোনো মাস্ক ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। তাহলে মাস্ক কারা ব্যবহার করবে? যারা অসুস্থ হয়েছেন তারা। যাদের সর্দি, কাশি, হাঁচি হচ্ছে তারা মাস্ক পরে থাকবেন যেন এগুলো বাইরে না ছড়ায়৷ হাঁচি বা কাশি দেয়ার সময় টিস্যু ব্যবহার করা উচিত৷

কিন্তু টিস্যু যদি না থাকে তখন কী করবেন? আপনার হাতের কনুই ব্যবহার করবেন। হাত ভাঁজ করে কনুইটা মুখের কাছে এনে তারপর হাঁচি বা কাশি দিবেন। হাতের মধ্যে দিবেন না কিন্তু!

সুতরাং করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচার জন্য মাস্ক পরার প্রয়োজন নেই৷ বরং পরিষ্কার পানি দিয়ে বারবার হাত ধুয়ে নিন ও প্রচুর ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খান।

এছাড়া আরও কিছু নরমাল এটিকেট মেনে চলা দরকারঃ

১. কারো জ্বর, সর্দি, কাশি হলে সেটা সাধারণ ফ্লু ই হোক না কেন সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত বাসা থেকে বের হবেন না।
২. কোনো ব্যক্তির যদি হাঁচি, কাশি থাকে তার থেকে তিন ফিট বা ১ মিটার দূরত্ব বজায় রাখুন।
৩. যত বেশি পারা যায় হাত ধুয়ে নিন। প্রতিবার নামাজ পড়ার আগে ওযু করার চেষ্টা করুন।
৪. কোনো রকম গুজবে কান দিবেন না। কোনো জড় পদার্থের উপর করোনা ভাইরাস বেঁচে থাকতে পারে না৷ তাই চীন বা করোনা আক্রান্ত বিভিন্ন দেশ থেকে আনা কোনো জিনিস ব্যবহার করাতে কোনো সমস্যা নেই। রসুন খাওয়া শরীরের জন্য ভালো। তবে রসুন, করোনা প্রতিরোধে তেমন কিছু করতে পারে না।

নিজে জানুন, অন্যকে জানান। ভয় পাবেন না, ভরসা রাখুন আল্লাহর উপর।

আল্লাহ্ তা’আলা আমাদের করোনার আক্রমণ থেকে বেঁচে থাকার তৌফিক দিন।

 

প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন আইইইডিসিআর এর সাথে

IEEDCR

 

ডা. শাফায়াত হোসেন লিমন

চিকিৎসক, লাইফ স্টাইল মডিফায়ার।

ফেসবুক পেজ: fb.com/dr.shafayat.hossen.limon

করোনা ভাইরাস: যা জানতেই হবে

মুগ্ধতা.কম

১১ মার্চ, ২০২০ , ৫:৫৯ অপরাহ্ণ

করোনা ভাইরাস: যা জানতেই হবে

আমাদের দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে এটা প্রায় সকলেই জেনে গেছেন। এখন প্রশ্ন হলো এটা নিয়ে আমাদের কতটুকু চিন্তিত হওয়া উচিত এবং প্রতিরোধ করার জন্য কী ব্যবস্থা নেয়া দরকার এবং আমাদের লাইফস্টাইলটা কেমন হলে আমরা করোনা ভাইরাসকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম হব ইন শা আল্লাহ্ঃ

১. আমাদের প্রথম কাজ হলো এটা নিয়ে গুজব না ছড়ানো, অতিরিক্ত আতংকিত না হওয়া। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর মধ্যে মৃত্যুর হার মাত্র ১-২%। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অন্যান্য অনেক রোগ আছে যেসবের মৃত্যুর হার করোনার চেয়ে বেশি। সুতরাং উল্টোপাল্টা গুজব না ছড়িয়ে ধৈর্য ধরে ব্যবস্থা নিতে হবে।

২. করোনা ভাইরাস আকৃতিতে বড়। এটা সাধারণত বাতাসে ভাসে না৷ তাই বাতাসের মাধ্যমে ছড়ানোর সম্ভাবনা কম৷ এটা মূলত ছড়ায় Droplet তথা হাঁচি, কাশি, সর্দির মাধ্যমে। এ কারণে আমাদের যতটা না মাস্ক ব্যবহার করা দরকার তার চেয়ে বেশি দরকার হাত ধোয়া। মাস্ক ব্যবহার করতে গিয়ে আবার হিতে বিপরীত হতে পারে৷ কারণ বেশিরভাগ মানুষই মাস্ক সঠিকভাবে ব্যবহার করতে জানে না। আমাদের উচিত বারবার হাত ধোয়া, খাবার আগে, টয়লেটের পরে, সন্দেহজনক কিছু ধরার পরে। মোট কথা যত বেশি পারা যায় হাত ধোয়া।

৩. বেশি বেশি ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খাওয়া যেমনঃ আমলকি, লেবু, কাঁচা মরিচ ইত্যাদি। চায়নাতে করোনা ভাইরাসের চিকিৎসা করার জন্য শিরাপথে ভিটামিন সি ব্যবহার করে বেশ ভালো রেজাল্ট পাওয়া গেছে।
রেফারেন্সঃ
https://clinicaltrials.gov/ct2/show/NCT04264533

ভিটামিন সি শরীরে প্রদাহ কমায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, এতে প্রচুর এন্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে৷ তাই বেশি করে ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খান।

৪. ফাস্টিং তথা না খেয়ে থাকা। আমরা অনেকেই জানি ফাস্টিং আমাদের ইমিউনিটি তথা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আমাদের উচিত বেশি বেশি ফাস্টিং করা এতে করোনা ভাইরাস আমাদের আক্রমণ করার সুযোগ পাবে না ইন শা আল্লাহ্।

৫. যাদের অন্য রোগ আছে যেমনঃ ডায়াবেটিস, হার্টের সমস্যা, শ্বাসকষ্ট, এজমা ইত্যাদি এবং যারা বয়স্ক তাদের অধিক সতর্ক থাকতে হবে। করোনা সাধারণত এনাদেরই বেশি আক্রমণ করে৷ কারণ তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। তাই যারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত, খুব সতর্ক থাকবেন।

আরো পড়ুনঃ করোনা ভাইরাস: রক্ষা কবচ নিজের কাছে

৬. রোগ দেয়ার মালিক আল্লাহ্, সুস্থ করার মালিকও তিনিই৷ তাই আমাদের সবচেয়ে জরুরী যে কাজ তা হলো আল্লাহর কাছে দুয়া করা৷ তিনি যেন এই মহামারী থেকে আমাদের রক্ষা করেন।

করোনা ভাইরাসের লক্ষণগুলো সাধারণ ফ্লু গুলার মতই। জ্বর, সর্দি, কাশি ইত্যাদি। এই লক্ষণগুলো যদি দেখা দেয় তাহলে প্রথমে ধৈর্য ধরে সাধারণ ব্যবস্থাগুলো নিতে হবে। ৭-১০ দিন পরেও যদি ভাল না হয় এবং যদি শ্বাসকষ্ট সহ রোগের অবনতি হয় তবে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশে পরীক্ষা করার জন্য IEDCR এ যোগাযোগ করতে হবে। রোগীগণ নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

মাস্ক ব্যবহার প্রসঙ্গে

করোনা ভাইরাস বাংলাদেশে আসার পর হুট করে মাস্কের দাম বেড়ে গেছে। ১৫০ টাকায় যে বক্স বিক্রি হত তা এখন ১৫০০-২০০০ টাকা! কিন্তু করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে আসলেই কি মাস্ক পরার প্রয়োজন আছে?

করোনা ভাইরাস একটি বড় আকৃতির ভাইরাস। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে এটি বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় না। এটা ছড়ায় respiratory droplets অর্থাৎ হাঁচি, কাশি, সর্দি ইত্যাদির মাধ্যমে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কারো এই ড্রপলেটগুলোর সাথে আপনারা যদি সরাসরি কন্টাক্টে আসেন তথা স্পর্শ করেন তখন আপনার শরীরে এই ভাইরাস ঢুকতে পারে।

World Health Organisation (WHO) এর গাইডলাইন অনুযায়ী কোনো সুস্থ মানুষের করোনা ভাইরাসের আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য কোনো মাস্ক ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। তাহলে মাস্ক কারা ব্যবহার করবে? যারা অসুস্থ হয়েছেন তারা। যাদের সর্দি, কাশি, হাঁচি হচ্ছে তারা মাস্ক পরে থাকবেন যেন এগুলো বাইরে না ছড়ায়৷ হাঁচি বা কাশি দেয়ার সময় টিস্যু ব্যবহার করা উচিত৷

কিন্তু টিস্যু যদি না থাকে তখন কী করবেন? আপনার হাতের কনুই ব্যবহার করবেন। হাত ভাঁজ করে কনুইটা মুখের কাছে এনে তারপর হাঁচি বা কাশি দিবেন। হাতের মধ্যে দিবেন না কিন্তু!

সুতরাং করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচার জন্য মাস্ক পরার প্রয়োজন নেই৷ বরং পরিষ্কার পানি দিয়ে বারবার হাত ধুয়ে নিন ও প্রচুর ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খান।

এছাড়া আরও কিছু নরমাল এটিকেট মেনে চলা দরকারঃ

১. কারো জ্বর, সর্দি, কাশি হলে সেটা সাধারণ ফ্লু ই হোক না কেন সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত বাসা থেকে বের হবেন না।
২. কোনো ব্যক্তির যদি হাঁচি, কাশি থাকে তার থেকে তিন ফিট বা ১ মিটার দূরত্ব বজায় রাখুন।
৩. যত বেশি পারা যায় হাত ধুয়ে নিন। প্রতিবার নামাজ পড়ার আগে ওযু করার চেষ্টা করুন।
৪. কোনো রকম গুজবে কান দিবেন না। কোনো জড় পদার্থের উপর করোনা ভাইরাস বেঁচে থাকতে পারে না৷ তাই চীন বা করোনা আক্রান্ত বিভিন্ন দেশ থেকে আনা কোনো জিনিস ব্যবহার করাতে কোনো সমস্যা নেই। রসুন খাওয়া শরীরের জন্য ভালো। তবে রসুন, করোনা প্রতিরোধে তেমন কিছু করতে পারে না।

নিজে জানুন, অন্যকে জানান। ভয় পাবেন না, ভরসা রাখুন আল্লাহর উপর।

আল্লাহ্ তা’আলা আমাদের করোনার আক্রমণ থেকে বেঁচে থাকার তৌফিক দিন।

 

প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন আইইইডিসিআর এর সাথে

IEEDCR

 

ডা. শাফায়াত হোসেন লিমন

চিকিৎসক, লাইফ স্টাইল মডিফায়ার।

ফেসবুক পেজ: fb.com/dr.shafayat.hossen.limon

করোনা ভাইরাস: যা জানতেই হবে

ডা.ফেরদৌস রহমান পলাশ

৯ মার্চ, ২০২০ , ৫:৫৫ অপরাহ্ণ

করোনা ভাইরাস: রক্ষা কবচ নিজের কাছে

সহযোগী অধ্যাপক (শিশু বিভাগ)
প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর
ডা.ফেরদৌস রহমান পলাশ
Latest posts by ডা.ফেরদৌস রহমান পলাশ (see all)

বর্তমানে যে রোগ নিয়ে বিশ্ব আলোড়িত তা হলো করোনা ভাইরাস, এখন যাকে বলা হচ্ছে COVID-19. চীন থেকে উৎপত্তি হয়ে এ রোগ ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপি।

বিশ্বের ১০৩ টি দেশে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসে এখন পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৭০ জনই মারা গেছে চীনে। অন্য ১০ টি দেশে এ পর্যন্ত মারা গেছে ৪২১ জন।

ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ১ লাখেরও বেশি মানুষ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা ভাইরাস সম্পর্কে উচ্চ মাত্রার সতর্কতাও জারি করেছে। দেশে দেশে হাসপাতাল, হোটেল, বিমানবন্দর এমনকি পুরো প্রদেশকে কোয়ারেন্টাইন করা হচ্ছে। অচল হয়ে পড়ছে দেশগুলো।

মিডিয়ায় বিষয়টি থাকছে লিড আইটেমর। ফলে মানুষজন দরকারের চেয়ে বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে। এরই মধ্যে আমাদের দেশে তিনজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রুগীর সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি গড়ে অন্য আড়াইজন লোককে সংক্রামিত করতে পারে।

গত বছর শেষের দিকে চীনের মধ্যাঞ্চলীয় হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে এ ভাইরাসটি ছড়িয়েছে বলে ধারণা করা হয়। চীন এ রোগ সীমাবদ্ধ রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে সাংহাই, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, মালয়েশিয়া, নেপাল, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইরান, ইতালি এবং কানাডায়। বন্য পশুপাখি আর সামুদ্রিক মাছের মাধ্যমেও এ রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।

লক্ষ্মণগুলো কী কী?

১.জ্বর ১০০ ডিগ্রি বা তার বেশি

২. কাশি

৩. সর্দি

৪. গলাব্যাথা

৫. মাংসপেশী বা গাঁটের ব্যথা

৬. মাথা ব্যথা

৭. যেসব দেশে এ রোগ দেখা দিয়েছে সেখান থেকে ১৪ দিনের মধ্যে আসার তথ্য।

৮. বয়স্ক ব্যক্তিরা এবং যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ অন্য দীর্ঘমেয়াদি রোগ আছে তাদের আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশী।

COVID-19

কীভাবে ছড়ায়?

কোভিড-১৯ করোনাভাইরাস যার শরীরে আছে অর্থাৎ রোগে আক্রান্ত তার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সুস্থ মানুষের শরীরে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি-কাশি দিলে সেই জীবাণু সুস্থ মানুষের শরীরে প্রবেশ করে।

মৃত্যুঝুঁকি কতখানি?

শিশুদের যাদের বয়স ১০ থেকে ৩৯ বছর তাদের কম মাত্র ০.২%, মধ্যবয়সে ৪০ থেকে ৪৯ বছর মাত্র ০.৪%। ৮০ বছর বা তার বেশী হলে মৃত্যঝুঁকি ১৪.৮%।

সব জ্বরই করোনা নয়

জ্বর কোন রোগ নয়। রোগের লক্ষ্মণ। সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জা জ্বর হলে সর্দিকাশি থাকবে কিন্ত করোনাভাইরাস জ্বরে সর্দি হয় না। জ্বর ১০৩ /১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট হতে পারে সাথে কাশি। শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থাগুলোর একটি হলো এই জ্বর। সাধারণত মানব শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট। এরচেয়ে বেশী তাপমাত্রাকে জ্বর বলে। যেহেতু জ্বর শরীরের রোগ প্রতিরোধের একটা অংশ তাই জ্বর আসলেই আতংকিত হবেন না।

যা করণীয়

১. ভালোভাবে ঘনঘন সাবান পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে।

২. করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে নাকে, মুখে আঙ্গুল বা হাত দেয়ার অভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে। কারণ, মানব শরীরে জীবাণু ঢোকার সদর দরজা হলো নাক-মুখ-চোখ। ৩. জনসমাগমস্থল এড়িয়ে চলতে হবে।

৪. হাঁচি-কাশির সময় টিসু পেপার বা রুমাল ব্যবহার করতে হবে।

৫. মাস্ক পরা জরুরী তবে আমরা যে পাতলা মাস্ক ব্যবহার করছি এটা দিয়ে হবে না। লাগবে বিশেষ ধরণের মাস্ক। যার কোড N95

৬. হাত মেলানো(হ্যান্ডশেক), কোলাকুলি থেকে বিরত থাকতে হবে।

৭.হাত না ধুয়ে চোখ, মুখ ও নাক স্পর্শ করা যাবে না।

চিকিৎসা কী?

ভাইরাসজনিত রোগ বলেই এর তেমন কোন চিকিৎসা নেই। জ্বর, সর্দি কাশি হলে আপনার নিকটস্থ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আতংকিত না হয়ে চিকিৎসা সেবা নিন ভালো থাকুন।

ভয় নাই, ওরে ভয় নাই

করোনাকে যতটা আত্মঘাতী বলে প্রচার করা হচ্ছে বাস্তবে তা কিন্ত নয়। এরচেয়ে প্রাণঘাতি ছিল ইবোলা ভাইরাস, নিপা ভাইরাস, মার্স ভাইরাস। আমরা কিন্তু সেসব ভাইরাসকে মোকাবেলা করেছি, অতএব অযথা আতংকিত হবেন না।

এ প্রসঙ্গে বলে রাখি, এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের প্রায় ৬২ শতাংশ মানুষ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে চলে গিয়েছে। বাকি আক্রান্ত লোকেরাও চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরার অপেক্ষায়। কথা পরিস্কার, শিশুরা এই রোগ থেকে অনেকটাই ঝুঁকিমুক্ত এবং যারা মারা গেছে তাদের প্রায় সবারই অন্য রোগের ইতিহাস ছিলো অথবা তারা বয়স্ক মানুষ। সুতরাং অযথা আতঙ্কিত না হয়ে বা গুজব না ছড়িয়ে সতর্ক হোন।

প্রয়োজনে সাহায্য নিন:

নিজের অথবা পরিবারের কারো করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ দেখা দিলে বাংলাদেশ সরকারের ‘ইনস্টিটিউট অব এপিডেমোলোজি ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড রিসার্চ’ বা আইইডিসিআরের হটলাইনে যোগাযোগ করুন।

IEEDCR

এছাড়াও প্রতিটি হাসপাতালে আলাদা আইসোলেটেড ওয়ার্ড প্রস্তুত আছে। সাধারণ জ্বর সর্দি হলে সুস্থ তো হবেনই, এমনকি করোনায়ও যদি আক্রান্ত হয়ে যান তবুও ভয়ের কিছু নেই। সাধারণ চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ শেষে বাড়ি যেতে পারবেন।

 

ডা. ফেরদৌস রহমান পলাশ

সহযোগী অধ্যাপক, প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর।

চেম্বার: প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর। সিরিয়াল: 01723672651

বদরগঞ্জ চেম্বার: হেলথ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বদরগঞ্জ, রংপুর।

 

corona virus

মুগ্ধতা.কম

৫ মার্চ, ২০২০ , ৭:১৫ অপরাহ্ণ

কিটোডায়েটের মূল কথা

ডায়াবেটিস, হাই প্রেশারের ওষুধ খেয়ে ভালো আছেন? মনে করছেন ভালোই তো আছি কোনো পরিবর্তনের দরকার কী? ভাবছেন ভাত ছাড়া কি থাকা যায়? কোনো ডাক্তারই তো ভাত খেতে মানা করে না, ভাত ছাড়া চলবো কিভাবে?

আপনাদের জ্ঞাতার্থে বলছি, আমরা প্রচুর পেশেন্ট দেখেছি, দেখছি যারা ওষুধ ঠিকমত খেয়েও অসুস্থ হচ্ছেন। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নেই, কিডনির সমস্যা, হার্টের সমস্যা, লিভারের সমস্যা হয়ে গেছে। নিয়মিত প্রেশারের ওষুধ খেয়ে ও স্ট্রোক করছে! এগুলোর কারণ কী? কারণ হলো যে ওষুধগুলো দেয়া হয় সেগুলো কিন্তু রোগের আসল চিকিৎসা না। জাস্ট লক্ষণগুলো দমিয়ে রাখার ব্যবস্থা করা৷ ডায়াবেটিস (টাইপ টু), হাই প্রেশার, ফ্যাটি লিভার এগুলো সবগুলোকে আমরা একসাথে বলি মেটাবোলিক সিন্ড্রোম এবং এই রোগগুলো হওয়ার জন্য প্রধানত দায়ী আমাদের খাদ্যাভ্যাস। আমরা অধিক পরিমাণে ইনসুলিনোজেনিক অর্থাৎ শর্করা জাতীয় খাদ্য খাওয়ার ফলে আমাদের শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়েছে। এই ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সই মেটাবোলিক সিন্ড্রোমের মূল কারণ। আপনি যদি ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ঠিক করতে পারেন তবে আপনার রোগ ঠিক হয়ে যাবে ইন শা আল্লাহ্।

এখন প্রশ্ন হলো ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কি ঠিক করা সম্ভব? জ্বী সম্ভব ইন শা আল্লাহ্। আপনি খাবার পরিবর্তন করার মাধ্যমে এবং না খেয়ে থাকার মাধ্যমে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স থেকে মুক্তি পেতে পারেন। আপনাকে শর্করা জাতীয় খাবার অর্থাৎ ভাত, রুটি, আলু, চিনি, নুডুলস, পাস্তা, ছোলা, সিরিয়ালস, ওটস, মিষ্টি ফল ইত্যাদি এগুলো বাদ দিতে হবে এবং এর বদলে ভালো চর্বিযুক্ত খাবার খেতে হবে যেমনঃ বাদাম, ঘি, মাখন, নারকেলের তেল, ডিম, মাছ, মাংশ ইত্যাদি খেতে হবে। সাথে প্রচুর পরিামাণে সবুজ শাক-সবজি আপনাকে খেতে হবে। এটাকে আমরা বলছি কিটোডায়েট। আপনি যখন কিটোডায়েট এবং সাথে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং (একটি লম্বা সময় যেমনঃ ১৬ ঘন্টা না খেয়ে থাকা) করবেন তখন আস্তে আস্তে আপনার ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ঠিক হওয়া শুরু করবে, আপনার শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমে যাবে। আপনি অনেক এনার্জেটিক এবং ভালো অনুভব করবেন ইন শা আল্লাহ্।

তাই দেরি না করে প্রকৃত সমাধানের জন্য কাজে নামুন৷ তবে অবশ্যই একজন ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী করার চেষ্টা করবেন। যিনি আপনাকে কিটোডায়েট এবং ফাস্টিংয়ের একটা প্ল্যান দিতে পারবেন এবং আপনাকে নিয়মিত ফলোআপে রাখতে পারবেন৷

আমাদের অনলাইন কন্সাল্টেন্সি নিতে চাইলে ইনবক্স করতে পারেন।

 

ডা. শাফায়াত হোসেন লিমন

চিকিৎসক, লাইফ স্টাইল মডিফায়ার।

ফেসবুক পেজ: fb.com/dr.shafayat.hossen.limon

 

কিটোডায়েটের মূল কথা 5

মুগ্ধতা.কম

৪ মার্চ, ২০২০ , ৩:৪৬ অপরাহ্ণ

নভেল করোনা ভাইরাসঃ নিজেকে ও অন্যকে সুরক্ষিত রাখার উপায়

২০১৯-এনকোভি – যা নভেল করোনা ভাইরাস নামে পরিচিত – সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমের শিরোনামে প্রাধান্য বিস্তার করেছে। এশিয়ার বিভিন্ন অংশ এবং এর বাইরেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এই ভাইরাস। সাধারণ সতর্কতা অবলম্বন করে আপনি এই ভাইরাসটির সংক্রমণ ও বিস্তারের ঝুঁকি কমিয়ে আনতে পারেন।

কতটা ভয়ংকর এই ভাইরাস?

শ্বাসতন্ত্রের অন্যান্য অসুস্থতার মতো নাক দিয়ে পানি পরা, গলা ব্যথা, কাশি এবং জ্বরসহ হালকা লক্ষণ সৃষ্টি করতে পারে এই ভাইরাস। কিছু মানুষের জন্য এই ভাইরাসের সংক্রমণ মারাত্মক হতে পারে। এর ফলে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট এবং অর্গান বিপর্যয়ের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। খুব কম ক্ষেত্রেই এই রোগ মারাত্মক হয়। তবে, এই ভাইরাস সংক্রমণের ফলে বয়স্ক ও আগে থেকে অসুস্থ ব্যক্তিদের মারাত্মকভাবে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

আমার কি মেডিক্যাল মাস্ক পরা উচিত?

করোনা ভাইরাসসহ অন্যান্য রোগের বিস্তার সীমিত পর্যায়ে রাখতে মেডিক্যল মাস্ক সাহায্য করে। তবে এটার ব্যবহারই এককভাবে সংক্রমণ বন্ধ করতে যথেষ্ঠ নয়। নিয়মিত হাত ধোয়া এবং সম্ভাব্য সংক্রামিত ব্যক্তির সাথে মেলামেশা না করা এই ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি হ্রাস করার সর্বোত্তম উপায়।

শিশুরা কি ঝুঁকিতে?

যে কোন বয়সের মানুষই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। তবে একটি বিষয় লক্ষ্যণীয় যে, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। প্রধানত: আগে থেকে অসুস্থ বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ভাইরাস মারাত্মক হতে পারে। তবে শহরাঞ্চলের দরিদ্র শিশুদের ক্ষেত্রে এই ভাইরাসের পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে। এসব প্রভাবের মধ্যে রয়েছে বিদ্যালয় বন্ধ থাকা, যা সম্প্রতি মঙ্গোলিয়ায় দেখা গেছে। এ ব্যাপারে ইউনিসেফ নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর বলেন- “এই করোনাভাইরাসটি ভয়াবহ গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। এটি বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। শিশুদের উপর এই ভাইরাসের প্রভাব বা এতে কতজন আক্রান্ত হতে পারে- সে সম্পর্কে আমরা বেশি কিছু জানি না। কিন্তু নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও প্রতিরোধ এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়। সময় আমাদের সাথে নেই।”

ইউনিসেফ এক্ষেত্রে কি করছে?

নভেল করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকানোর ক্ষেত্রে চীনকে সহযোগিতা করতে প্রতিরোধক মাস্ক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য প্রতিরক্ষামূলক স্যুট নিয়ে ইউনিসেফের একটি চালান জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে চীনের সাংহাইয়ে পৌঁছেছে। ছয় মেট্রিকটনের এই চালানটি কোপেনহেগেনে ইউনিসেফের বৈশ্বিক সরবরাহ হাব থেকে পাঠানো হয়েছে এবং এটি চীনের ইউহানে প্রেরণ করা হবে। আগামী দিনগুলিতে ইউনিসেফ আরও জরুরী সরবরাহ পাঠাবে। এই ভাইরাস সম্পর্কে আরও তথ্যের জন্য অনুগ্রহ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইট WHO website ভিটিজ করুন।

[সূত্র: ইউনিসেফ এর ওয়েবসাইট]

coronavirus

মুগ্ধতা.কম

৩ মার্চ, ২০২০ , ৭:৩৬ অপরাহ্ণ

লাইফস্টাইল বদলান, ডায়াবেটিস থেকে বাঁচুন

ডায়াবেটিস একটি মারাত্মক রোগ। এই রোগ ভার্চুয়ালি যেকোনো অঙ্গকে ইফেক্ট করতে পারে। তবে এটি প্রধানত চারটি অঙ্গের জন্য খুব ক্ষতিকরঃ

১. ব্রেইন

২. কিডনি

৩. চোখ

৫. হার্ট ও রক্তনালী

প্রতিদিন অনেক ডায়াবেটিস রোগী দেখা হয়, হার্টের পেশেন্ট ও দেখি। ডায়াবেটিসের কারণে অন্যান্য রোগ হচ্ছে এমনও দেখা হয়৷ দেখি আর আফসোস করি! ইশ, তারা যদি একটা প্রোপার গাইডলাইন পেত তাহলে আল্লাহর ইচ্ছায় অনেক ক্ষতি থেকে বেঁচে যেত। ডায়াবেটিস একটি রিভার্সিবল, কিউরেবল ডিজিজ৷ এটা ভাল হয়৷ টাইপ টু ডায়াবেটিস (যা একটু বেশি বয়সে হয়) পুরোটাই এবং টাইপ ১ ডায়াবেটিস (২০ এর আগে হয়) অনেকটাই ঠিক করা সম্ভব। এর জন্য কোনো ওষুধের প্রয়োজন নেই। শুধু খাবার এবং লাইফস্টাইল পরিবর্তনের মাধ্যমে এই রোগ ঠিক করা যায়। কিটোজেনিক ডায়েট করার মাধ্যমে এই রোগ ভাল করা যায়। অসংখ্য মানুষ কিটোডায়েট ফলো করে ভালো হয়েছেন।

ডায়াবেটিসের কারণে তাদের যে ক্ষতিগুলো হয়েছিল সেগুলো থেকে বেঁচে ফিরছেন৷ অনেক পরিসংখ্যান আছে৷ দৈনিক ১০০ ইউনিটের বেশি ইনসুলিন নিতেন এমন রোগীও ডায়াবেটিস থেকে মুক্তি পেয়েছেন কেবল ডায়েট ও এক্সারসাইজ এর মাধ্যমে।

বিষয়টা কিন্তু খুব জটিল কিছু না। ডায়াবেটিস একটি diatery disease. যে রোগ খাবারের মাধ্যমে হয় সেটাকে খাবারের মাধ্যমেই চিকিৎসা করতে হবে। যেটা বেশি খাওয়ার কারণে এই রোগ হচ্ছে সেটা বাদ দিয়ে দিতে হবে। As simple as that. তবে একজন ডাক্তারের গাইডলাইনে থেকেই ধাপে ধাপে চেষ্টা করা উচিত।

দুটো বিষয় নিয়ে খুব কাজ করতে ইচ্ছা হয়ঃ

১. মানুষকে ধরে ধরে নামাজের কথা বলি।

২. মানুষকে ধরে ধরে মেটাবোলিক সিন্ড্রোম (ডায়াবেটিস, হাই প্রেশার, হাই কোলেস্টেরল, ফ্যাটি লিভার ইত্যাদি) থেকে বাঁচার উপায় বলি৷

আপনাদের প্রতি অনুরোধ আপনারা এই মেসেজগুলো, ইনফরমেশনগুলো শেয়ার করুন। আপনার নিকটাত্মীয়, পরিজনদের বলুন। তাদের সচেতন করুন৷ সঠিক গাইডলাইন ফলো করে তারা যেন এসব রোগ থেকে মুক্তি পায় সে পথ তাদের দেখিয়ে দিন।

 

ডা. শাফায়াত হোসেন লিমন

লেখক: লাইফ স্টাইল মডিফায়ার,

ফেসবুক পেইজ : https://www.facebook.com/dr.shafayat.hossen.limon/